22/06/2021
❤️সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল যোগ্য পোস্ট❤️
একের ভেতর ৫ এবারের বিষয়ঃ
শির্ক✅
আল্লাহ শিরককারীকে ক্ষমা করবেন না বলে পবিত্র কোরআনে ঘোষণা দিয়েছেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তার সঙ্গে শরিক করা ক্ষমা করেন না। ইহা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন; এবং যে কেহ আল্লাহর শরিক করে, সে এক মহাপাপ করে।
(সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ৪৮)
(শিরক অমার্জনীয় অপরাধ ও মহাপাপ)
✅মিথ্যা
থচ থচ মিথ্যা বলা ছেড়ে দিলে প্রায় সব সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়। বাঁচা যায় পরকালের কঠিন শাস্তি থেকে। মিথ্যা বলার চেয়ে নিকৃষ্ট গুনা আর নেই।
✅তাই মিথ্যাবাদীকে আল্লাহ প্রচণ্ড ঘৃণা করেন। আল কোরআন ও হাদিসে মিথ্যুক এবং মিথ্যাবাদীর ভয়ানক পরিণতির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ কর না।
(সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩৬)
রাসূল (সা.) বলেন, ‘মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা মিথ্যাবাদী থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়।’ (তিরমিজি : ১৯৭২)
✅ হিংসা
হিংসাপরায়ণ হয়ে মিথ্যা বলা, মন্দ ধারণা থেকে মিথ্যা বলা, বিদ্বেষী মনোভাব থেকে মিথ্যা বলা, বিরুদ্ধাচরণ করতে গিয়ে মিথ্যা বলছি অহরহ। আল্লাহতায়ালা মিথ্যাবাদীকে ঘৃণা করেন এবং এদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। আল্লাহ আল কোরআনে হুশিয়ার করে বলেন, ‘সুতরাং পরিণামে তিনি তাদের অন্তরে নিফাক (দ্বিমুখিতা) রেখে দিলেন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তারা আল্লাহকে যে ওয়াদা দিয়েছে তা ভঙ্গ করার কারণে এবং তারা যে মিথ্যা বলেছিল তার কারণে। (সূরা তওবা, আয়াত : ৭৭)
✅গীবত
পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক এরশাদ করেছেন, আর তোমরা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না’।
(সূরা আল-হুজুরাত,আয়াত-১২)
✅গীবতের সবচেয়ে উত্তম সংজ্ঞা দিয়েছেন রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস থেকে জানা যায়, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জান গীবত কাকে বলে? সাহাবিরা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ভালো জানেন।
✅তিনি বলেন, তোমার কোনো ভাই (দীনি) সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তাই গীবত। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি যে দোষের কথা বলি সেটা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলেও কি গীবত হবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তুমি যে দোষের কথা বল, তা যদি তোমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তবে তুমি অবশ্যই গীবত করলে আর তুমি যা বলছো তা যদি তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছো।
(মুসলিম)
✅যিনা
লুত সম্প্রদায়ের ধ্বংসের দশটি কারণের অন্যতম একটি কারণ ছিল সমকামীতা যা তাদের আগে কোনো সম্প্রদায় করেনি। মহান আল্লাহ পাক পবিত্র আল কোরআনে বলেন, ‘লুত তার সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা যা করছ এমন অশ্লীল কাজ তোমাদের পূর্বে পৃথিবীর কেউ করেনি, তোমরা নারীদের পরিবর্তে পুরুষদের দ্বারা যৌনবাসনা পূরণ কর; রাহাজানী কর এবং নিজ মজলিসে গর্হিত কাজ কর? জওয়াবে তার সম্প্রদায় কেবল এ কথাই বলল, যদি তুমি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহর আযাব আন।’
(সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত -২৯)
স্বমেহন বা হস্তমৈথুনকারী, মুখমৈথুনকারী এরা আরেক শ্রেনীর যিনাকারী। এই শ্রেনীর লোকদের ওপর রাসূলের লানত রয়েছে। হাত, পা, জিহ্বা ইত্যাদি অঙ্গের মাধ্যমে এসব গর্হিত কাজ এবং বিভিন্ন খারাপ কাজ করার ফল সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘যেদিন তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও পা সাক্ষী দিবে।’ (সূরা আন নূর, আয়াত-২৪)
যিনা করা কবিরা গুনাহ যে গুনাহ তাওবা ছাড়া মাফ হয় না। যিনা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
‘তোমরা যিনার কাছেও যেও না। কেননা তা অত্যন্ত অশ্লীল এবং খারাপ কাজ।’ (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত-৩২)
এছাড়াও বিভিন্ন সহীহ হাদীসে নবীজীর বক্তব্য এভাবে এসেছে যে, ‘কোনো পরনারীর প্রতি নজর দেয়া চোখের যিনা, যৌনতা সম্পর্কিত অশ্লীল কথাবার্তা জিহ্বার যিনা, অবৈধ সম্পর্কের কাউকে স্পর্শ করা হচ্ছে হাতের যিনা, ব্যভিচার করার উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ অশ্লীল কথা শোনা কানের যিনা এবং মনের মাধ্যমে কল্পনা ও আকাংখা করা মনের যিনা। অত:পর লজ্জাস্থান এই চাহিদার পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়।’
(সহীহ বুখারী শরীফ,
সহীহ মুসলিম শরীফ,
সুনানে আবু দাউদ,
সুনানে আন-নাসায়ী)