21/06/2024
'ঐতিহাসিক জন ডব্লিউ ড্রেপার বলেন,
অষ্টম শতাব্দীতে যখন কর্ডোভার রাস্তায় বাতি জ্বলতো, এই সময়ের সাতশ (৭০০) বছর পর লন্ডন শহরে সে রকম একটি বাতিও ছিল না এবং পরবর্তী বহু শতাব্দীর পর প্যারিসে বর্ষার দিনে যে তার বাড়ির দ্বার থেকে বাইরে পা বাড়াত তার পায়ের গুলফ পর্যন্ত কাদায় ডুবে যেত।'
(History of The Intellectual Development of Europe, VOL 2,London, 1910,P -230_31)
মুসলিম শাসনামলে আন্দালুস ছিলো শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে ইউরোপের তীর্থস্থান। তখনকার সময়ের শিক্ষার্থীরা পাড়ি জমাতো কর্ডোভায়। দশম শতাব্দীতে ক্যাথোলিক চার্চের নেতা, পোপ সিলভেস্টার দ্বিতীয় পড়ালেখা করার জন্য যান আন্দালুসে। এখন মুসলিম দেশের নাগরিকরা যেমন পড়তে পশ্চিমে যায়!
কিন্তু ঠিক কোন কারণে কর্ডোভা এত উন্নত ছিল?
কেন বিশ্ববাসী ভিড় করতো আন্দালুসে?
কোন কারণে মুসলিম স্পেনকে বলা হতো বিশ্বের রত্ন-অলংকার?
উত্তর খোঁজে পাবেন নিম্নোক্ত তথ্যে। চলুন জেনে আসি,
'তৎকালীন কর্ডোভা নগরীতে এমন কোন বাড়ি ছিল না যাতে ব্যক্তিগত লাইব্রেরী গড়ে ওঠেনি। যাদের প্রকৃতিতে গ্রন্থের প্রতি ঝোঁক থাকতো না, সমাজে তাদের ভালো চোখে দেখা হত না। তাই অনেকেই শুধু ফ্যাশন ও সাজ-সজ্জার জন্য ঘরে গ্রন্থের আলমারি সাজিয়ে রাখত।
'কর্ডোভার গ্রন্থাগার ছিল বিশ্বব্যাপী প্রবাদস্বরূপ। শিক্ষা ও সাহিত্যের প্রতি জনমনে এত আগ্রহ ছিল ও এর এত ব্যাপক চর্চা হতো যে,কর্ডোভা নগরীতে এমন কোন বাড়ি ছিল না যাতে ব্যক্তিগত লাইব্রেরী গড়ে ওঠেনি। কর্ডোভার তদানীন্তন মুসলিম সমাজ কারো কাছে দুষ্প্রাপ্য কোন গ্রন্থের পান্ডুলিপি থাকাটাকে সবচেয়ে গৌরবের এবং উল্লেখযোগ্য বিষয় বলে মনে করা হতো। যাদের প্রকৃতিতে গ্রন্থের প্রতি ঝোঁক থাকতো না, সমাজে তাদের ভালো চোখে দেখা হত না। তাই অনেকেই শুধু ফ্যাশন ও সাজ-সজ্জার জন্য ঘরে গ্রন্থের আলমারি সাজিয়ে রাখত।
(বইঃ স্পেনের কান্না, লেখকঃ তাকি উসমানী)
এস. পি. স্কটের ভাষায়— ❝যে অঞ্চলে জ্ঞানের বালাই ছিলো না, সে অঞ্চল হলো ক্যাথলিক ইউরোপ। আমরা এমন এক সময়ের কথা বলছি, যখন ইউরোপের রাজা-সম্রাটরাও লেখতে বা পড়তে জানতো না। সে সময় এক মুসলিম শাসকের একান্ত ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বইসংখ্যা ছিলো ছয় লাখ। ম্যূর আমলের কর্ডোভায় ছিলো আটশ কলেজ আর সাম্রাজ্যের এমন কোনো গ্রাম ছিলো না, যেখানে সবচে গরিব চাষীর সন্তানরাও লেখাপড়া জানতো না। অশিক্ষিত কোনো চাষীরও খোঁজ পাওয়া যেতো না।❞
(বইঃ সহস্রাব্দের ঋণ, লেখকঃ মুসা আল হাফিজ)
ইউরোপের খ্রিস্টান লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা ছিলো যখন মাত্র ৬০০ টি, মুসলিম শাসিত কর্ডোভায়ই তখন ছিলো ৬০০ টি পাবলিক লাইব্রেরি। তারমধ্যে সবচেয়ে বড়ো লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা ছিলো প্রায় ৪,০০,০০০।
তাই নিজেকে গড়তে, জাতিকে গড়তে, উম্মাহকে জাগাতে হলে অবশ্যই বইমুখী হতে হবে। লাইব্রেরিকে বাড়ি বানাতে হবে, সঙ্গী বানাতে হবে বইকে। আমাদের গৌরবময় অতীত, হাজার বছরের সোনালী দিন নিয়ে হাহুতাশ না করে নিজেদের বানাতে হবে সোনার মানুষ। অন্তত চিনতে জানতে হবে সোনালী সেই যুগকে। তাহলেই আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পাবো।