10/03/2025
বিষয়টি অতিব জরুরী! সকল মৌসউবিয়ান'রা মনোযোগের সহিত পড়বেন।
আমাদের বিদ্যালয়ের মর্নিং শিফটের গণিত এবং আইসিটি বিষয়ের সুদক্ষ শিক্ষক জনাব মো: মোস্তাক আহমদ স্যার যিনি এতবছর যাবত এই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন তাকে কোন অভিযোগের ভিত্তিতে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হচ্ছে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক উর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তারা৷ কারণ বিষয়টি "কনফিডেনসিয়াল"।
গত ৪ মার্চ, আমাদের স্কুলের দুইজন শিক্ষকের একজনকে পার্বত্য খাগড়াছড়ির একটি স্কুলে এবং অন্যজনকে শ্রীমঙ্গলে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। সাধারণত, শিক্ষকদের বদলির পেছনে দুটি প্রধান কারণ থাকে।
প্রথমত, যদি কোনো শিক্ষক পারিবারিক কারণে কিংবা অন্য যেকোনো কারণে নিজে বদলির জন্য আবেদন করেন। দ্বিতীয়ত, যদি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে একই রিজনের অন্য স্কুলে কিংবা অন্য রিজনের কোনো স্কুলে বদলি করা হয় (যা উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উক্ত জেলার জেলা প্রশাসক করতে পারবেন)। তন্মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে বদলি হওয়াকে অন্যতম শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটা শুধু ঐ সকল অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা এক্সট্রিম লেভেলে কোনো খারাপ কাজ করেছেন।
যখন একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে তার ফলাফল ডিরেক্ট বদলি নয়! কিছু ধারাবাহিকতা রয়েছে৷ প্রথমত সুযোগ প্রদান৷ একজন কর্মকর্তার ভুল ত্রুটির জন্য তাকে তিনবার পর্যন্ত সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে৷ যখন তিনি তিন বারের পরেও নিজেকে পরিশোধন করতে ব্যার্থ হন, তখন তার বদলির জন্য অভিযোগ করা যেতে পারে। অভিযোগেরও বেশ কিছু ধারাবাহিকতা রয়েছে। প্রথমত অভিযুক্তের বদলির জন্য বিভাগীয় পরিচালকের সঙ্গে কথা বলা। এবং এর সমাধান সরূপ তিনি অভিযুক্তকে একই রিজনের (বিভাগ) অন্য কোনো উপজেলায়/জেলায় ট্রান্সফার করে দেন। অভিযোগ বেশি গুরুতর হলে এবং তা "সুষ্ঠু তদন্তের" পর প্রমাণিত হলে, তখন এরূপ ডিফারেন্ট রিজনে ট্রান্সফার করার মতো গুরুতর শাস্তি প্রদান করা যেতে পারে।
অর্থাৎ দেখেন, আপনি কমপ্লেইন্ট করবেন, তার সুষ্ঠু তদন্ত হবে, জবাবদিহিতা করতে হবে তারপর ডিসিশন। জাস্ট কমপ্লেইন্ট এর উপর ভিত্তি করেই ডিসিশন নেওয়ার কোনো বিধি নেই।
এখন বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে লক্ষ্য করা যাক! ৫৭ জন শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যা কেবল ৪২! গণিতের শিক্ষক দুই শিফটে কেবল চারজন! এই প্রেক্ষাপটে এই বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষকের বদলির আদেশ কিভাবে আসতে পারে? গত ৪ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও এই পাঁচ দিনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহোদয় কেনো বদলি স্থগিত করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেননি? আর প্রধান শিক্ষক কর্তৃক কোনো কমপ্লেইন্ট না করা হলে এরূপ আদেশের বিরোধিতা তিনি কেনো করেননি?
আমরা সত্য জানতে চাই! এবং এই বৈষম্য আমরা কোনো ভাবেই মেনে নিব না!
আমরা আগামীকাল এই স্কুলের শিক্ষার্থী হিসেবে, মোস্তাক স্যারের স্টুডেন্ট হিসেবে ন্যায়ের পক্ষে লড়ব! আগামীকাল ১১ই মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় আপনারা সবাই বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন। আমরা একসাথে ডিসি স্যারের নিকট স্মারক লিপি জমা দিব। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সকল মৌসউবিয়ানকে দাড়াতে হবে!
©️