হিকমাহ্

হিকমাহ্ Beauty is not in the face,beauty is light in the mind. Character is wealth and power.

রোদে না যাওয়া মানে শুধু ভিটামিন D-এর অভাব না, বরং পুরো শরীরের বায়োলজিক্যাল ব্যালান্সের ভাঙন! রোদে না গেলে যেসব সমস্যা হয়...
17/10/2025

রোদে না যাওয়া মানে শুধু ভিটামিন D-এর অভাব না, বরং পুরো শরীরের বায়োলজিক্যাল ব্যালান্সের ভাঙন!
রোদে না গেলে যেসব সমস্যা হয় তার লিস্ট করতে গেলে বহু পাতা বিশিষ্ট বই লিখতে হবে!
রোদ হলো ফ্রি মেডিসিন, ফ্রি ভ্যাকসিন, ফ্রি এনার্জি সোর্স।
তবুও আমরা একে ভয় পাই, কারণ আধুনিক প্রোপাগান্ডা আমাদের ব্রেইনওয়াশ করে প্রকৃতিবিরুদ্ধ জীবনযাপনে ঠেলে দিয়েছে।
অথচ ১৯২০-৩০ এর দিকে ইউরোপেই এমন ক্লিনিক ছিলো যেখানে মানুষকে ভর্তি করার পর রোদ পোহানোর জন্য বেড ছিলো! একে বলা হতো হেলিওথেরাপি।
সূর্যের আলো মানুষের সার্কাডিয়ান রিদমের সবচেয়ে শক্তিশালী জাইটগিবার (Zeitgeber)। জাইটগিবার বলতে বোঝায় এমনসব বাহ্যিক সংকেত যা আমাদের শরীরের biological clock বা circadian rhythm-কে সময়ের সঙ্গে সিংক বা রিসেট করে।
কখন ঘুমাতে হবে, কখন উঠতে হবে, কখন ক্ষুধা লাগবে -এ সবই নিয়ন্ত্রিত হয় অন্তর্নিহিত ঘড়ি দ্বারা, আর সেই ঘড়িকে সময়মতো চালাতে সাহায্য করে বাহ্যিক জাইটগিবার-রা।

সূর্যের আলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাইটগিবার! আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীর এই সূর্যালোক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার জন্য ডিজাইন করা।
সূর্যের আলো মস্তিষ্কের সুপ্রাচিয়াসমেটিক নিউক্লিয়াস (SCN)-এর উপর প্রভাব বিস্তার করে। SCN হলো সার্কাডিয়ান রিদমের প্রধান নিয়ন্ত্রক।
সূর্যের আলো যখন চোখের উপর পড়ে তখন একটি সংকেত SCN-এর অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সময়সূচী সমন্বয় করে। এরই নাম- সার্কাডিয়ান রিদম সিনক্রোনাইজ। এর ফলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক কার্যকারিতা সঠিক ও সবচেয়ে উত্তম হয়, যার মধ্যে রয়েছে ঘুম-জাগরণ চক্র, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হরমোন নিঃসরণ, খাদ্যগ্রহণ ও বিপাক ইত্যাদি।

সার্কাডিয়ান রিদমের প্রকৃত দৈর্ঘ্য গড়ে ২৪ ঘন্টা ১১ মিনিট অর্থাৎ পৃথিবীর দিন থেকে কিছুটা বেশী। তাই এটি প্রতিদিন কিছুটা দেরিতে চলতে চায়। সকালে সূর্যের আলো এটিকে সঠিক ২৪ ঘণ্টার চক্রে ফিরিয়ে আনে।
কিন্তু যদি সকালে সূর্যের আলো না পাওয়া যায় তবে দেহঘড়ি তার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দেরিতে চলতে শুরু করে। দিনের পর দিন এভাবে ঘটতে থাকলে একসময় সার্কাডিয়ান রিদমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়! যাকে বলে ‘সার্কাডিয়ান ডিসরাপশন’!

ধরুন, আপনার ঘড়ি দিনে ১১ মিনিট এগিয়ে বা পিছিয়ে যায়। অবশ্যই প্রতিদিন সকালে এই ঘড়িটিকে ১১ মিনিট পিছিয়ে বা এগিয়ে দিতে হবে। যদি সপ্তাহ বা মাস ধরে ঘড়িটিকে সিনক্রোনাইজ না করেন তবে আপনার সিডিউলের যে পরিণতি হবে— প্রতিদিন সকালে সূর্যের আলোতে যেয়ে দেহের সার্কাডিয়ান রিদম সিনক্রোনাইজ না করলে আপনার স্বাস্থ্যেরও একই অবস্থাই হবে!
আর বর্তমানে আমরা সেটাই দেখতে পাচ্ছি মানব জাতির সার্বিক হেলথ ম্যানেজমেন্টে! সামনে আরো দেখতে পাবো- যখন বিশ্বে প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত সদস্য বা একজন ডিজএ্যাবল সদস্য থাকবে!
যেমন, বর্তমান বিশ্বে এমন পরিবার পাওয়া বিরল, যে পরিবারে অন্তত একজন ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশন বা কার্ডিও রোগী নেই!

সার্কাডিয়ান রিদম প্রতিদিন সঠিকভাবে সিনক্রোনাইজ হলে রাতের শুরুতেই ঘুম আসার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং ঘুমের মান উন্নত হয়। যারা বিভিন্ন ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য পিল বা সাপ্লিমেন্ট কোনো সমাধান নয়। বরং নিয়মিত সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় সূর্যের আলোতে এক্সপোজ হওয়া এবং রাতে সবধরনের কৃত্রিম আলো থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকার মধ্যেই তাদের জন্য স্থায়ী সমাধান ও প্রকৃত উপকার রয়েছে।
রোদে যাওয়ার ব্যাপারটা মানুষ ফ্রিতেই পায়, তাই কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজম রোদকে ভিলেন বানিয়েছে। কসমেটিকস ইন্ডাস্ট্রি, স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ও ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটিং রোদকে ক্ষতিকর হিসেবে প্রচার করেছে, যেন মানুষ ভিটামিন D-এর জন্য বাইরে না যেয়ে সানস্ক্রিন, সাপ্লিমেন্ট ও ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে!
এতে মানুষ নিত্যনতুন লাইফস্টাইল ডিজিজেও আক্রান্ত হচ্ছে!

রোদে না গেলে যা হয়—
- ভিটামিন D ঘাটতি
- ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (যেমন আর্থ্রাইটিস, অটোইমিউন সমস্যা)
- ঘুমের ব্যাঘাত (কারণ মেলাটোনিন উৎপাদন ব্যাহত হয়)
- মেটাবলিক সিনড্রোম (ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা)
- চোখের দুর্বলতা
- মানসিক ক্লান্তি
- এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি

ভিটামিন D মূলত সূর্যের আলো থেকেই প্রাপ্ত হয়, খাদ্য থেকে নয়।দেহে ভিটামিন D তৈরি হয় UV-B রশ্মির মাধ্যমে। UV লাইট ছাড়া দেহে ভিটামিন D তৈরি হয় না।
যখন সূর্যের আলো ত্বকে পড়ে, তখন ত্বকের 7-ডিহাইড্রোকোলেস্টেরল রূপান্তরিত হয়ে প্রোভিটামিন D3 হয়, যা পরে লিভার ও কিডনিতে প্রসেস হয়ে ভিটামিন D-তে পরিণত হয়।
এই ভিটামিন D ছাড়া কোনো সুস্থ-সবল মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব না! এটি হাড়, ইমিউন সিস্টেম, হরমোন, মুড, মেটাবলিজম -সবকিছুর সঙ্গে জড়িত। যাদের ভিটামিন D ঘাটতি আছে তাদের শরীরটা হলো নানান রোগের বাসা!

এই ভিটামিন D ছাড়া—
- হাড় দুর্বল হয়ে যায়
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়
- মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়
- হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট হয়
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

বাজারের বেশিরভাগ কৃত্রিম সানস্ক্রিনে থাকে অক্সিবেনজোন (Oxybenzone), অ্যাভোবেনজোন (Avobenzone), অক্টিনক্সেট (Octinoxate) ইত্যাদি কেমিক্যাল! এগুলো ত্বকের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টর হিসেবে কাজ করে! এই কেমিক্যালস জলজ প্রাণীর জন্যও বি/ষা/ক্ত। সবচেয়ে ভয়ংকর যেটা- এগুলো সূর্যের আলোতে অক্সিডাইজ হয়ে ত্বকেই ফ্রি র‍্যাডিকেল তৈরি করতে পারে! অর্থাৎ তথাকথিত যে সুরক্ষা দিতে এসেছে, সেটাই শেষমেশ ক্ষতি করে।
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে রোদের অপকার নেই বললেই চলে। এখানে রোদের তীব্রতা কখনোই ইউরোপ বা আমেরিকার মতো ক্ষতিকর হয় না। রোদের অপকার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুষ্টি বা লাইফস্টাইলজনিত। সূর্যের আলো নিজে ক্ষতিকর নয়; অতিরিক্ত এক্সপোজার, পানিশূন্যতা এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ঘাটতির কারণে ক্ষতি হয়।

সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সূর্যস্নান করলে ভিটামিন D উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ মাত্রায় এবং কোনো ক্ষতি ছাড়াই।
বাকী সময়ের রোদে না গেলে ভাল, কারণ কালো হয়ে যাবেন! তবে এটা ক্ষতিকর কিছু না।
রোদে গেলে ত্বক কালো হয়, কারণ যখন রোদের UV-B রশ্মি ত্বকে পড়ে, তখন ত্বকের মেলানোসাইটস কোষগুলো বেশি করে মেলানিন উৎপন্ন করে। এই ত্বক কালো হওয়া কোনো ক্ষতি না, বরং বডির ইন্টেলিজেন্ট সেল ডিফেন্স সিস্টেম!
মেলানিন হলো এক প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন, এটা সূর্যের ক্ষতিকর UV রশ্মি শোষণ করে ত্বককে পোড়া, ক্যান্সার ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

এদেশে যারা সারাদিন সারাজীবন মাঠের কড়া রোদে কাজ করে তাদের কি কখনো স্কিন ক্যান্সার হইতে শুনেছেন? স্কিন ক্যান্সার হয় কাদের সেটা একটু খোঁজ নেন।
বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, জেলেরা বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন। তাদের ত্বক প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যে ভিটামিন D লেভেল বেশি এবং ত্বকে মেলানিনের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় UV তাদের ক্ষতি করতে পারে না। তাদের মধ্যে স্কিন ক্যান্সারের হার প্রায় শূন্য! তারা সুস্থ, শক্তিশালী ও সাধারণত হাড়-গোড়ের রোগে কম ভোগেন!

গবেষণায় দেখা গেছে, স্কিন ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি হয় ফর্সা চামড়ার, ঠান্ডা আবহাওয়ার মানুষদের মধ্যে, যেমন ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার জনগোষ্ঠী।
এর কারণ তাদের মেলানিন কম, ফলে ত্বক UV রশ্মি প্রতিরোধ করতে পারে না। শীতের দেশে রোদের কোণ কম থাকে, তাই হঠাৎ করে গ্রীষ্মের রোদে গেলে ত্বক সহজে পুড়ে যায়।

বাংলাদেশ, ভারত, আফ্রিকার মতো দেশে, যেখানে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই রোদে থাকে এবং সবার ত্বক গাঢ় মেলানিনে সুরক্ষিত, সেখানে স্কিন ক্যান্সার অতি বিরল ঘটনা।
তবে এমনিতে অবশ্যই দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টার প্রখর রোদে দীর্ঘক্ষণ না থাকা ভালো। কারণ এই সময় অস্বস্তি, পানিশূন্যতা বা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই সানস্ক্রিন দেয়া আছে। কৃত্রিম বি/ষা/ক্ত কেমিক্যাল লাগানোর কোনো দরকার নেই। সেই প্রাকৃতিক সানস্ক্রিনটি হলো মেলানিন (Melanin)। মেলানিন হলো আমাদের শরীরের বিল্ট-ইন অ্যান্টি-ইউভি সিস্টেম!
ত্বকের মেলানোসাইট কোষগুলো মেলানিন তৈরি করে। UV রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে এটা ত্বক, চোখ, এমনকি মস্তিষ্ক পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। UV রশ্মি ত্বকে পড়লে মেলানিন তা শোষণ করে এবং এর ক্ষতিকর শক্তিকে তাপে রূপান্তরিত করে ছড়িয়ে দেয়। ফলে DNA ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, কোষে ক্যান্সার সৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়।
UV রশ্মি ছাড়াও রোদের প্রায় ৫৪% হলো Near Infrared Light (NIR), যা চোখে দেখা যায়না, কিন্তু শরীরের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এটি শরীরের ইনফ্লামেশন কমায়, মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়ায়, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে, গাট মাইক্রোবায়োম ভাল রাখে, চোখ ও হাড়গোড় সুস্থ রাখে। এটি প্রকৃতির একটি বিনামূল্যের থেরাপি!
NIR রশ্মি ইমিউন সিস্টেমকে এমনভাবে শক্তিশালী করে যে, এটি সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক টিকার মতো কাজ করে!

এর উপকারিতাগুলো হলো—
- ইনফ্লামেশন (সোয়েলিং/জ্বালাভাব) কমায়
- সেলুলার মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়ায়। যা ঘুম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে
- মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা বাড়ায়, ফলে শক্তি উৎপাদন ভালো হয়
- ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে
- গাট মাইক্রোবায়োম সুস্থ রাখে। পরিপাকতন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে
- চোখ, ত্বক ও হাড়ের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে
- সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় করে।
- ডিপ্রেশন ও মানসিক চাপ কমায়

ক্যাপ্টেন গ্রিন

ইয়া‘কূব ইবনু বুখতান বলেন—وُلِدَ لي سَبْعُ بناتٍ، فكنتُ كلَّما وُلِدَ لي ابنةٌ دخلتُ على أَحْمَدَ بنِ حَنْبَل فيقول لي: ...
13/10/2025

ইয়া‘কূব ইবনু বুখতান বলেন—

وُلِدَ لي سَبْعُ بناتٍ، فكنتُ كلَّما وُلِدَ لي ابنةٌ دخلتُ على أَحْمَدَ بنِ حَنْبَل فيقول لي: يا أبا يوسفَ! الأنبياءُ آباءُ بناتٍ. فكان يُذهِبُ قولُهُ همِّي.

আমার সাতটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। যখনই আমার কোনো কন্যা সন্তান জন্ম নিত, আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলের কাছে যেতাম, তখন তিনি আমাকে বলতেন, 'হে আবূ ইউসুফ! নবীগণ তো ছিলেন কন্যাদের পিতা।' তখন তাঁর এই কথা আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিত।

[ তারীখে দিমাশক, ইবন আসাকির ৩/১০৩ ]

শাইখুল ইসলাম ইবনুল কাইয়্যিম (৭৫১ হি.) বলেন—

قد يكون للعبد فيهنَّ خيرٌ في الدنيا والآخرة، ويكفي في قُبْح كَرَاهَتِهنَّ أن يَكْرهَ ما رَضِيَهُ اللهُ وأعطاهُ عَبْدَهُ.

'বান্দার জন্য ঐ কন্যাদের মাঝে দুনিয়া ও আখিরাতের অনেক কল্যাণ থাকতে পারে। আর কন্যাদেরকে অপছন্দ করার খারাপ দিক বোঝানোর জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে এমন জিনিসকে অপছন্দ করছে যা আল্লাহ্ নিজে পছন্দ করে তাঁর বান্দাকে দিয়েছেন।'

[ তুহফাতুল মাওদুদ বি আহকামিল মাওলূদ ১/৩১ ]

09/10/2025
পারস্যের প্রেম ও বিরহের কবি ওমর খৈয়ামরুটি মদ ফুরিয়ে যাবেপ্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবেবই, সেতো অনন্ত যৌবনা।’বিখ্যাত এ...
09/10/2025

পারস্যের প্রেম ও বিরহের কবি ওমর খৈয়াম
রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে
প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে
বই, সেতো অনন্ত যৌবনা।’
বিখ্যাত এই কবিতার চরণের স্রষ্ট্রা পারস্যের প্রেম ও বিরহের কবি ওমর খৈয়ামের। তার পুরো নাম গিয়াসউদিন আবুল‌ ফাতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-খৈয়াম নিশাপুরি। তিনি শুধুমাত্র একজন বিখ্যাত কবিই ছিলেন না। কবির পাশাপাশি তিনি ছিলেন গণিতবিদ, দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ।আজ তার ৮৯৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী।

কবি ওমর খৈয়াম
(১৮ মে, ১০৪৮ - ৪ ডিসেম্বর, ১১৩১)

১০৪৮ সালের ১৮ মে ইরানের নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন তাঁবুর কারিগর ও মৃৎশিল্পী। ছোটবেলায় তিনি বালি শহরে সে সময়কার বিখ্যাত পণ্ডিত শেখ মুহাম্মদ মানসুরীর তত্ত্বাবধানে শিক্ষাগ্রহণ করেন। যুবক বয়সেই তিনি সমরখন্দে চলে যান এবং সেখানে শিক্ষা সমাপ্ত করেন। এর পর বুখারায় নিজেকে মধ্যযুগের একজন প্রধান গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার বীজগণিতের গুরুত্বপূর্ণ ‘Treatise on Demonstration of Problems of Algebra’ গ্রন্থে তিনি ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানের একটি পদ্ধতি বর্ণনা করেন। এই পদ্ধতিতে একটি পরাবৃত্তকে বৃত্তের ছেদক বানিয়ে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান করা হয়। ইসলামি বর্ষপঞ্জি সংস্কারেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তার কবিতা সমগ্র ওমর খৈয়ামের রূবাইয়াত নামে পরিচিত। তার কাব্য-প্রতিভার আড়ালে তার গাণিতিক ও দার্শনিক ভূমিকা অনেকখানি ঢাকা পড়েছে। ধারণা করা হয়, রনে দেকার্তের আগে তিনি বিশ্লেষণী জ্যামিতি আবিষ্কার করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গণিতের দ্বিপদী উপপাদ্য আবিষ্কার করেন। বীজগণিতে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান তিনিই প্রথম করেন। বহুমুখী প্রতিভার দৃষ্টান্ত দিতে বলা হলে বিশ্বসাহিত্য কিংবা ইতিহাসে যাদের নাম উপেক্ষা করা কঠিন ওমর খৈয়াম তাদের মধ্যে অন্যতম ও শীর্ষস্থানীয়। মধ্যযুগের মুসলিম মনীষা জামাখশারি ওমর খৈয়ামকে “বিশ্ব দার্শনিক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরান ও পারস্যের বাইরে ওমরের বড় পরিচয় কবি হিসাবে। এর কারণ তার কবিতা বা রুবাই এর অনুবাদ এবং তার প্রচারের কারণে। ইংরেজী ভাষী দেশগুলোতে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যায়। ইংরেজ মনিষী টমাস হাইড প্রথম অ-পারস্য ব্যক্তিত্ব যিনি প্রথম ওমরের কাজ সম্পর্কে গবেষণা করেন। তবে, বহির্বিশ্বে তাকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় করেন এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড। তিনি খৈয়ামের ছোট ছোট কবিতা বা রুবাই অনুবাদ করে তা রুবাইয়্যাতে ওমর খৈয়াম নামে প্রকাশ করেন।
ওমর খৈয়ামের শৈশবের কিছু সময় কেটেছে অধুনা আফগানিস্তানের বালক্ শহরে। সেখানে তিনি বিখ্যাত মনীষী মহাম্মদ মনসুরীর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে তিনি খোরাসানের অন্যতম সেরা শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত ইমাম মোয়াফ্ফেক নিশাপুরির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। জীবনের পুরো সময় জুড়ে ওমর তার সব কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করেছেন। দিনের বেলায় জ্যামিতি ও বীজগণিত পড়ানো, সন্ধ্যায় মালিক-শাহের দরবারে পরামর্শ প্রদান এবং রাতে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চ্চার পাশাপাশি জালালি বর্ষপঞ্জি সংশোধন! সবটাতে তার নিষ্ঠার কোন কমতি ছিল না।
ইসফাহান শহরে ওমরের দিনগুলি খুবই কার্যকর ছিল। কিন্তু আততায়ীর হাতে সুলতান মালিক শাহের মৃত্যুর পর তার বিধবা পত্নী ওমরের ওপর রুষ্ঠ হলে ওমর হজ্ব করার জন্য মক্কা ও মদীনায় চলে যান। পরে তাকে নিশাপুরে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। নিশাপুরে ওমর গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিষয়ক তার বিখ্যাত কাজগুলো সম্পন্ন করেন।

গণিতচর্চা
জীবদ্দশায় ওমরের খ্যাতি ছিল গণিতবিদ হিসাবে। ইসলামী সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞানের সোনালী যুগে তথা এখন থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগে বীজগণিতের যেসব উপপাদ্য এবং জ্যোতির্বিদ্যার তত্ত্ব ওমর খৈয়াম দিয়ে গেছেন সেগুলো এখনও গণিতবিদ এবং মহাকাশ গবেষক বা জ্যোতির্বিদদের গবেষণায় যথাযথ সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি পরাবৃত্ত ও বৃত্তের ছেদকের সাহায্যে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান করেন। এছাড়া তিনি দ্বি-পদী রাশিমালার বিস্তার করেন। ওমরের আর একটি বড় অবদান হলো ইউক্লিডের সমান্তরাল স্বীকার্যের সমালোচনা যা পরবর্তী সময়ে অ-ইউক্লিডীয় জ্যামিতির সূচনা করে।
১০৭০ খ্রিস্টাব্দে তার পুস্তক মাকালাত ফি আল জাবর্ আল মুকাবিলা প্রকাশিত হয়। এই পুস্তকে তিনি ঘাত হিসাবে সমীকরণের শ্রেণীকরণ করেন এবং দ্বিঘাত সমীকরণের সমাধানের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেন। এই পুস্তকে তিনি কোনিক সেকশনের বিভিন্ন ছেদকের সাহায্যে নানারকম ত্রিঘাত সমীকরণ সমাধান করেন।

জ্যোতির্বিদ্যা
ওমর খৈয়াম জ্যোতির্বিদ হিসাবেও সমধিক পরিচিত ছিলেন। সেলজুকের বাদশাহ মালিক শাহ ১০৭৩ সালে আরও কয়েকজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে ওমরকেও আমন্ত্রণ জানান একটি মানমিন্দর নির্মাণের জন্য। ওমর তখন অত্যন্ত সফলভাবে (দশমিকের পর ছয় ঘর পর্যন্ত) সৌর বছরের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করেন। তার হিসাবে এটি ছিল ৩৬৫.২৪২১৯৮৫৮১৫৬ দিন। এই ক্যালেন্ডারের হিসাবে প্রতি ৫ হাজার ৫০০ বছরে এক ঘণ্টার গড়মিল হয়ে থাকে। আমরা যে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করি তাতে প্রতি ৩ হাজার ৩০০ বছরে একদিন গোলমাল হয়ে থাকে। কীভাবে পারস্য পঞ্জিকা সংশোধন করতে হবে তাও তিনি হিসাব করেন। ১০৭৯ সালের ১৫ মার্চ সুলতান জালাল আল-‌দিন মালিক শাহ সালজুক ওমরের সংশোধিত বর্ষপঞ্জী চালু করেন। ওমর একটি তারাচিত্র বা খ‌ন্ড চিত্রও তৈরি করেন তবে সেটি এখন আর পাওয়া যায় না।

ওমরের রুবাই
মার্কিন কবি জেমস রাসেল লোয়েল ওমর খৈয়ামের রুবাই বা চতুষ্পদী কবিতাগুলোকে ‘পারস্য উপসাগরের মনিমুক্তা’ বলে অভিহিত করেছেন। ওমর খৈয়ামের রুবাই বা চারপংক্তির কবিতাগুলো প্রথমবারের মত ইংরেজিতে অনূদিত হয় খৃষ্টীয় ১৮৫৯ সালে। এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ডের এই অনূবাদের সুবাদেই ওমর খৈয়াম বিশ্বব্যাপী কবি হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। এ অনুবাদের মাধ্যমে ফিটজেরাল্ড নিজেও খ্যাতিমান হয়েছেন। তার এই অনুবাদ গ্রন্থ দশ বার মুদ্রিত হয়েছে এবং ওমর খৈয়াম সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার প্রবন্ধ ও বই লিখিত হয়েছে।
ফার্সি কাব্য-জগতে ওমর খৈয়াম এক বিশেষ চিন্তাধারা ও বিশ্বদৃষ্টির পথিকৃৎ। তিনি এমন সব চিন্তাবিদ ও নীরব কবিদের মনের কথা বলেছেন যারা সেসব বিষয়ে কথা বলতে চেয়েও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা চেপে গেছেন। কেউ কেউ ওমর খৈয়ামের কবিতার নামে বা তার কবিতার অনুবাদের নামে নিজেদের কথাই প্রচার করেছেন। আবার কেউ কেউ ওমর খৈয়ামের কবিতার মধ্যে নিজের অনুসন্ধিৎসু মনের জন্য সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছেন।
অসাধারণ জ্ঞানী ওমর খৈয়াম জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতের অনেক কঠিন রহস্য বা প্রশ্নের সমাধান দিয়ে গেলেও অনেক অজানা বা রহস্যময় বিষয়গুলোর সমাধান জানতে না পারায় আক্ষেপ করে গেছেন। তিনি জীবন এবং জগতের ও পারলৌকিক জীবনের রহস্য বা দর্শন সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এসব প্রশ্ন শুধু তার মনেই নয়, যুগে যুগে জ্ঞান-তৃষ্ণার্ত বা অনুসন্ধানী মানুষের মনের প্রশান্ত সাগরেও তুলেছে অশান্ত ঝড়।
দর্শন বা বিজ্ঞান দিয়ে যে ভাব তুলে ধরা যায় না খৈয়াম তা কবিতার অবয়বে তুলে ধরতে চেয়েছেন। আর তাই যুক্তি ও আবেগের করুণ রসের প্রভাবে ওমর খৈয়ামের চার-লাইন বিশিষ্ট কবিতাগুলো কবিতা জগতে হয়ে উঠেছে অনন্য। দার্শনিকরা একটি বই লিখেও যে ভাব পুরোপুরি হৃদয়গ্রাহী করতে পারেন না, গভীর অর্থবহ চার-লাইনের একটি কবিতার মধ্য দিয়ে ওমর খৈয়াম তা সহজেই তুলে ধরেছেন।

নাবিক কলম্বাসের কথা সকলেই জানে। ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা। কিন্তু সত্য কোনদিন চাপা থাকেনা!ইতিহাস বড়ই নির্মম ----...
08/10/2025

নাবিক কলম্বাসের কথা সকলেই জানে। ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা। কিন্তু সত্য কোনদিন চাপা থাকেনা!
ইতিহাস বড়ই নির্মম ------
কলম্বাসের নির্মমতার প্রতিকী বিচার শুরু: --------------------------------

১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী তিনটি জাহাজে চড়ে আমেরিকার বাহামাস দ্বীপে পৌঁছান । সরলমনা স্থানীয় আদিবাসীরা তাদেরকে অতিথি হিসেবে স্বাগত জানান। কলম্বাসের একটি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ মেরামতও করে দেন তারা।

অভ্যর্থনা জানাতে আসা আদিবাসীদের দেহে স্বর্ণের অলঙ্কার দেখে কলম্বাস অনুমান করেন আশেপাশের কোথাও স্বর্ণের খনি রয়েছে। আদিবাসীদের সরলতা কলম্বাসকে মুগ্ধ করে এ জন্য যে, তিনি খুবই কম পরিশ্রমে ওই ভূখণ্ডের সব কিছু নিজের দখলে নিতে পারবেন। তিনি আমেরিকার মূল মালিক আদিবাসীদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা পাকাপোক্ত করেন এবং স্পেনে গিয়ে আরও এক হাজার দুইশ’ ইউরোপীয়কে সঙ্গে নিয়ে আসেন।

শুরু হয় নির্মমতা, চলে গণহত্যা।
কলম্বাস বাহিনী হিস্পানিওলা দ্বীপের একটি প্রদেশে ১৪ বছরের উপরের সব আদিবাসীকে তিন মাস পরপর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন। এই নির্দেশ মানতে যারাই ব্যর্থ হতো তাদেরই দুই হাত কেটে ফেলা হতো। হাত কাটার পর তারা রক্তপাতে মারা যেত। অনেকে বাঁচার জন্য পালানোর চেষ্টা করতো। তাদেরকে হিংস্র কুকুর দিয়ে খুঁজে বের করে নির্মম অত্যাচারের মাধ্যমে মেরে ফেলা হতো। অনেক আদিবাসীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

হিস্পানিওলা দ্বীপে বসবাসকারীরা ছিল আরাওয়াক গোত্রের। অনেক ঐতিহাসিকের মতে,কলম্বাসের নেতৃত্বাধীন ইউরোপীয় বাহিনীর নির্মমতা সইতে না পেরে ৫০ হাজার আদিবাসী বিষ খেয়ে গণ-আত্মহত্যা করেছিলেন। মায়েরা তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতেন যাতে ইউরোপীয়রা ওই বাচ্চাদেরকে কুকুরের খাবারে পরিণত করতে না পারে। এরপরও যারা বেঁচে ছিলেন তাদেরকে দাসে পরিণত করেন কলম্বাস।

কলম্বাসের সময়ের কিছু নির্মমতার ইতিহাস উঠে এসেছে তার নিজস্ব জার্নাল ও চিঠিতে। আরও তথ্য পাওয়া যায় স্পেনের ঐতিহাসিক বার্তোলমে দা লাস কাসাস এর লেখা ‘হিস্টোরি অব দ্য ইন্ডিজ’ গ্রন্থে। তিনি লিখেছেন,কলম্বাস বাহিনী তাদের ছুরি ও তলোয়ারের ধার পরীক্ষা করার জন্যও আদিবাসীদের টুকরো টুকরো করে কাটতো, নিষ্পাপ শিশুদের শিরচ্ছেদ করতো।

কলম্বাস যাদেরকে রেড ইন্ডিয়ান বলে নামকরণ করেছিলেন সেই আদিবাসীদের একটা বড় অংশকে নিশ্চিহ্ন করার পর ইউরোপীয়রা নিজেদের বিলাসী জীবন নিশ্চিত করতে একদল সেবকের প্রয়োজন বোধ করে। তারা আফ্রিকা মহাদেশে গিয়ে মানুষ ধরে আনতে শুরু করে। এভাবেই আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের আগমন। তারা স্বেচ্ছায় আমেরিকায় আসেননি, তাদেরকে জোর করে ধরে আনা হয়েছে।

বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ লেখক অ্যালেক্স হেলি আমেরিকায় তার নিজের প্রথম পূর্বপুরুষের অনুসন্ধানে ব্যাপক গবেষণা চালিয়েছিলেন। সেই গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে লেখা ‘রুট্স: দ্য সাগা অফ এন অ্যামেরিকান ফ্যামিলি’ বইয়ে আফ্রিকা থেকে মানুষ ধরে আনার কিছু ঘটনার প্রামাণ্য বর্ণনা রয়েছে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণার পর জানতে পারেন আমেরিকায় তার প্রথম পূর্বপুরুষের নাম কুন্তা কিন্তে।

‘দ্যা রুটস’ নামে দীর্ঘ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। আমাদের স্বাধীনতার পরে বিটিভিতেও সেটি ধারাবাহিক ভাবে দেখানো হয়েছিল। গাম্বিয়া থেকে কুন্তা কিন্তে-কে ধরে নিয়ে আসে ইউরোপীয়রা। কুন্তা কিন্তে’র আমেরিকায় পৌঁছার খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন অ্যালেক্স হেলি।
কুন্তা কিন্তে জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়ে ইউরোপীয়দের অনুচরদের মাধ্যমে অপহৃত হন।

এরপর তার আত্মীয় স্বজনেরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। ১৭৬৭ সালে এক ইউরোপীয় দাস ব্যবসায়ী অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে গাম্বিয়ার যে ১৪০ জন মানুষকে জাহাজে করে আমেরিকায় নিয়ে এসেছিল তার মধ্যে কুন্তা কিন্তেও ছিলেন। জাহাজটি অ্যানাপোলিসের বন্দরে এসে থামে। অ্যানাপোলিস বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। আমেরিকায় পৌঁছার আগেই পথে নির্মমতায় মারা যায় ৪২ জন গাম্বিয়ান। বেঁচে যাওয়া ৯৮ জনের একজন হলেন কুন্তা কিন্তে। তিনি ছিলেন মুসলমান।

অথচ কলম্বাসের আগেও অনেকে আমেরিকা গিয়েছিলেন। অনেক মুসলিম নাবিকও আমেরিকা গিয়েছিলেন তার প্রমান রয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান কয়েক বছর আগে নতুন করে এই প্রসঙ্গটি সামনে আনলে এ নিয়ে গবেষনা শুরু হয়। কিন্তু তাদের কারো চিন্তায়ই কলম্বাসের মতো এমন বর্বরতা ঢোকেনি।

কিন্তু ইতিহাস কত নির্মম। ৫০০ বছর পরে হলেও ইতিহাসে মহাবীর হিসেবে জায়গা করে নেয়া কলম্বাস আজকে বর্বর, নির্মম, পাষণ্ড হিসেবে তার চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জায়গা নেয়া তার ভাষ্কর্য আজকে অপসারিত হচ্ছে, ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে, ভাষ্কর্যের গায়ে লাল রঙ মেখে তার রক্ত পিপাসু চরিত্র উন্মোচন করা হচ্ছে।

#জনবিরোধী, #স্বৈরাচার_ #বর্বরদের_ইতিহাস_কখনো_ক্ষমা_করে_না। া_হোক_কাল, #মৃত্যুর_পরে_হলেও_জনগণ_তাদের_গলায়_দড়ি_বেধে_ইতিহাসের_কাঠগড়ায়_হাজির_করবে। #ক্রিস্টোফার_কলম্বাস_তার_জ্বলন্ত_উদাহরণ।

Courtesy: Ruhul Amin Imam.

হ্যাঁ, *পানি উপচানোর (ওভারফ্লো) পাইপ* দিয়ে *পোকামাকড়, টিকটিকি বা এমনকি ছোট সাপ*ও *ট্যাংকের ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে*, যদি সে...
05/10/2025

হ্যাঁ, *পানি উপচানোর (ওভারফ্লো) পাইপ* দিয়ে *পোকামাকড়, টিকটিকি বা এমনকি ছোট সাপ*ও *ট্যাংকের ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে*, যদি সেই পাইপ খোলা থাকে এবং সঠিকভাবে সুরক্ষিত না হয়।
সাপ মরে পঁচে গিয়ে জীবাণুও ছড়াতে পারে
---

⚠️ *কারণ:*
- ওভারফ্লো পাইপ সাধারণত *সরাসরি বাইরের পরিবেশের সঙ্গে সংযুক্ত*
- এর মুখে যদি *জাল/ফিল্টার বা ক্লোজার* না থাকে, তবে
➤ *পোকা, টিকটিকি, এমনকি ব্যাকটেরিয়া ও ধুলাও* প্রবেশ করতে পারে
➤ এসব থেকে *পানির মান নষ্ট হতে পারে, রোগ ছড়াতে পারে*

---

✅ *করণীয়:*
1. *পাইপের মুখে মশারি বা ফাইন মেটাল স্ক্রিন* লাগানো
2. *একমুখী (non-return) ভালভ* ব্যবহার করা
3. *নিয়মিত ট্যাংক পরিষ্কার ও নজরদারি রাখা*

---

*➤ উপসংহার:*
হ্যাঁ, ওভারফ্লো পাইপ দিয়ে পোকা-টিকটিকি প্রবেশ করতে পারে — তাই *সঠিকভাবে বন্ধ বা ঢেকে রাখা জরুরি।*

01/10/2025

রুকইয়াহ এর বিনিময়ে মজুরি (উজরাহ) নেয়া জায়েজ নেই, জায়েজ রয়েছে কেবল ফলভিত্তিক পারিশ্রমিক (জু'ল) নেয়া।
আমাদের যামানায় হাম্বলী মাযহাবের শ্রেষ্ঠ বিদ্বানদের একজন শায়েখ আব্দুস সালাম আশ-শুয়াইঈর আল-হাম্বলী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন,

"আমার আলোচনার সমাপ্তি ঘটাব সর্বশেষ যে বিষয়টি দিয়ে তা হলো: সেই ভুলটির ব্যাপারে যা সচরাচর সংঘটিত হয়, বলা যায় দ্বিতীয় একটি গুরুতর ভুল; আর তা হলো রুকইয়াহ এর জন্য মজুরি গ্রহণ করা। আপনি আমার কথা বিশ্বাস করুন, যদি প্রত্যেক রুকইয়াকারীই মজুরি গ্রহণ না করতো, তাহলে এ সমস্ত রুকইয়াকারীদের তিন অথবা নয় শতাংশ নয়, বরং নিরানব্বই শতাংশই এই পেশা থেকে সড়ে যেতো। একদল আলিমগণ ইজমা বা ঐকমত্যের উল্লেখ করেছেন যে, সকল প্রকার ইবাদত-কর্মের জন্য মজুরি গ্রহণ করা জায়েয নয়। আর একদল আলিমের বর্ণনা মতে - যাদের মধ্যে শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনু তাইমিয়্যাহও রয়েছেন তারা বলেন: রুকইয়াহও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এর জন্য মজুরি গ্রহণ কিভাবে জায়েয হতে পারে? কারণ যে ব্যক্তি কোনো ইবাদত-কর্মের জন্য মজুরি গ্রহণ করে, তার অংশীদারিত্ব ওই মজুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে; ফলে সে এর জন্য কোনো সওয়াব লাভ করতে পারে না।

এবং যেহেতু তার জন্য কোনো সওয়াব নেই, ফলে সে নিজেও এ থেকে উপকৃত হয় না, অন্যদেরকেও একইভাবে কোনো উপকারে আসে না। তাই এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করা হয়েছে যে, রুকইয়াকারীর পক্ষে উজরাহ গ্রহণ করা জায়েয নয়। আর আমি রিয়াদে একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে একজন রুকইয়াকারীর একটি চুক্তির দলিল দেখেছি, যেখানে সে বলেছে: আমি অমুকের সাথে চুক্তি করেছিলাম যে রিয়াদে সে রুকইয়ার বদলে পনেরো মিলিয়ন রিয়াল মজুরি গ্রহণ করেছিল। আর এটি ছিল এক বা দুই বছর আগের কথা, খুবই সাম্প্রতিক সময়ে, একজন ব্যক্তির উপর কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে পনেরো মিলিয়ন রিয়াল নিয়েছে। এই লোকের সওয়াব কীভাবে হবে? আর আমি আপনাকে বলেছি যে, যদি এ ব্যাপারে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয় যে এটি জায়েয নয়, তবে যদি আপনি এর বিপরীতে বলেন: আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে রয়েছে যে, আবু সাঈদ ও তাঁর সাথীরা দংশিত ব্যক্তি ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: আমাদের জন্য একটি পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দাও, ফলে তারা তাদের জন্য একটি পারিশ্রমিক নির্ধারণ করল এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে আহার করেন এবং বলেন, হ্যাঁ, এটি জায়েয।

কারণ এটি সাব্যস্ত সত্য যে, ইবাদত-কর্মের বিনিময়ে 'জু'ল' বা ফলভিত্তিক পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েয, কিন্তু 'উজরাত' বা কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট মজুরি গ্রহণ জায়েয নয়। জু'ল ও উজরাতের মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, উজরাত বা মজুরি কাজের উপর নির্ধারিত হয়, অন্যদিকে জু'ল বা পারিশ্রমিক ফলাফলের উপর নির্ভরশীল হয়। তাই আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, আল্লাহ যদি তোমার রোগীকে সুস্থ করে দেন, অর্থাৎ তিনি পারিশ্রমিককে সুস্থতা শর্তের সাথে সম্পৃক্ত করেছিলেন। কিন্তু এরা বলে, আমি তোমাকে পাঁচশত টাকার বিনিময়ে কুরআন তিলাওয়াত শোনাব। বরং এই বছরেই তাদের একজন বলেছে, বারোটার পর তিলাওয়াতের জন্য এক হাজার টাকা, আমি বারোটায় বাড়িতে আসব আর দুপুর দুটোর আগে তিলাওয়াত করলে পাঁচশত টাকা। এই ঘটনাগুলো খুবই সাম্প্রতিক, এক বছরেরও কম সময় আগের। তাই এটিকে আয়ের উৎস বানানো প্রমাণ করে যে, এর মাধ্যমে তারা নিজেরা কোনো আধ্যাত্মিক উপকার লাভ করে না।

আর যারা এ থেকে উপকৃত হয়, সম্ভবত তা তাদের হৃদয়ের গভীর ব্যাকুলতার কারণেই, তারা সেই অসহায় ব্যক্তির ন্যায় যে আল্লাহর কাছে তখন আকুল আবেদন জানায়। আর উপকার লাভ তো ঠিক সেভাবেই হয় যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"তোমাদের মধ্যে যে তার ভাইকে উপকার করতে সক্ষম, সে যেন তা করে।"

সুতরাং সে যেন তাকে উপকারের বদলে মজুরি না দেয়, যেন এটাকে ব্যবসায় পরিণত না করে। আর এজন্যই যখন এটা ব্যবসায় পরিণত হয়, তখন সে এটাকে কিছু রীতিনীতি ও বাড়িয়ে চড়িয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করে যাতে অধিকাংশ মানুষ এটাকে কঠিন মনে করে। ফলে সে বলে, আমার কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে, কিছু বিশেষ রীতিনীতি আছে, যাতে কেউই বলতে না পারে যে, "আমিও তোমার মতোই রুকইয়াহ করতে সক্ষম"। এভাবে আল্লাহর দীনে সে এক ভয়ানক বিষয়ের সৃষ্টি করে। আর ইমাম দারিমী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে, শেষ যুগের এক ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করবে আর বলবে, কেউ আমার অনুসরণ করল না, আমি কুরআন পড়লাম কিন্তু কেউ আমার অনুসারী হল না। বর্ণনায় এসেছে, তখন সে লোকদেরকে অনুসরণ করানোর জন্য বিদআত সৃষ্টি করবে। আর এই বিষয়ে কতই না নতুন বিদআতের সৃষ্টি হচ্ছে।"

আরবি:

الأمر الأخير أختتم به حديثي تماماً، وهو قضية أن مما يتحقق به أو الخطأ العظيم الثاني، وهو قضية أخذ الأجرة. وصدقني، لو أن كل راقٍ لا يأخذ أجرة لذهب ثلاثة بل تسعة بل ربما تسعة وتسعون بالمئة من هؤلاء الرقاة. وقد ذكر جمع من أهل العلم الإجماع على أن أعمال القرب لا يجوز أخذ الأجرة عليها. ومن أعمال القرب كما قرره جماعة من هو الشيخ تقي الدين: الرقية. وكيف أنه لا يجوز أخذ الأجرة عليها، لأن من أخذ أجرة على عمل قربة فإن حظه منها الأجرة، وليس له أجر. وحيث لم يكن له أجر فلا ينتفع هو بها، ولا ينتفع غيره كذلك بها. ولذلك حكي إجماع على أن الراقي لا يجوز له أن يأخذ الأجرة. وقد وقفت على محضر هنا في أحد الجهات الرسمية في الرياض لأحد الرقاة، وهو يقول: عاقدت فلاناً أنه أخذ على الرقية خمسة عشر مليوناً هنا في الرياض. وهذه قبل سنة أو سنتين قريب جداً، خمسة عشر مليوناً على قراءة شخص واحد. هذا الرجل كيف يكون أجره؟ وقد قلت لك أنه إن عقد الإجماع على أنه لا يجوز، فإن قلت: إن حديث أبي سعيد فيه أن أبا سعيد وأصحابه قالوا للديغ وقومه: اجعلوا لنا جعلاً، فجعلوا لهم جعلاً وأكل منه النبي صلى الله عليه وسلم يقول نعم يجوز. لأنه متقرر أن أعمال القرب يجوز أخذ الجعل عليها، ولا يجوز أخذ الأجرة. والفرق بين الجعل والأجرة: أن الأجرة على العمل، وأما الجعل فيكون على النتيجة. فأبو سعيد قال: انشف الله مريضك، فجعله معلقاً على الشفاء. وأما هؤلاء فيقول: أقرأ عليك القراءة بخمسمائة. بل إن أحدهم في هذه السنة يقول: القراءة بعد الساعة اثنتي عشرة بألف، آتيك البيت باثنتي عشرة وقبل الساعة الثانية بعشر بخمسمائة. هذه هذه الأشهر القريبة أقل من سنة. ولذلك فإن جعلها وسيلة للكسب يدل على عدم انتفاع صاحبها بها. ومن انتفع بها فربما بسبب الاضطرار الذي يقع في قلبه، ذلك المضطر الذي دعا الله عز وجل عندها. وأن النفع إنما يكون كما قال صلى الله عليه وسلم: من استطاع منكم أن ينفع أخاه فليفعل. فلينفعه ما قال ليعاوضه، يجعلها تجارة. ولذلك إذا كانت تجارة فإنه يريد أن يجعل من الطقوس، ومن يجعل من الهالة على هذا الفعل ما يستصعبه كثير من الناس. فيقول: أنا لي طريقة معينة من الطقوس لكي لا يقول أي واحد: استطيع أن أفعل مثل ما فعلت. فيحدث في دين الله عز وجل شيئاً عظيماً. وقد جاء عند الدارمي أن الرجل في آخر الزمان يقرأ القرآن فيقول: لم أتبع، قرأت القرآن ما أحد اتبعني. قال: فيحدث للناس حدثاً ليتبع. وما أكثر ما يحدث في هذا الباب.

অনুবাদ ও ট্রান্সক্রাইব: সাফিন চৌধুরী

Telegram: t(.)me/ideologyofsalaf

🚨কপি করলে অনুবাদকের নাম মুছে প্রচার করা নিষেধ। অবশ্যই কার্টেসি সহ পোস্ট করতে হবে।

~~ দয়া ও সুযোগের অপব্যহার ~~ আমরা ‘আর-রাহমান’, ‘আর-রাহীম’ নিয়ে আলোচনা করছিলাম। চলুন আরেকটু আগাই। আমার কর্মজীবনের একটা হা...
29/09/2025

~~ দয়া ও সুযোগের অপব্যহার ~~

আমরা ‘আর-রাহমান’, ‘আর-রাহীম’ নিয়ে আলোচনা করছিলাম। চলুন আরেকটু আগাই। আমার কর্মজীবনের একটা হাস্যকর উদাহরণ বলছি আপনাদের।

আমি যেই স্কুলে পড়াতাম সেখানে আমিই সবচেয়ে অল্পবয়স্ক শিক্ষক ছিলাম। অন্যসব নারী শিক্ষিকারা আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড় ছিলেন। তারা বাচ্চাদের সাথে খুব শক্ত আচরণ করতেন। তারা ক্লাসে ঢুকলে বাচ্চাদের মনে আল্লাহর ভয় ঢুকিয়ে দিতেন।

আমি হাস্যরসপ্রিয় একজন মানুষ। যখন শিক্ষক হিসেবে চাকরিটা পেলাম, প্রথমদিন আমরা ক্লাস শুরু করলাম। আমি তাদের কৌতুক শুনাচ্ছি, আজগুবি খেলা দেখাচ্ছি, যেমন, এক কানে পেন্সিল ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করা। এই ধরণের দুষ্টুমি, গল্প শুনানো চলল। আমার এখনো মনে আছে, প্রথমদিন যখন ক্লাস থেকে চলে যাচ্ছিলাম, সবাই বলে উঠলো, “না, আপনি যাবেন না!” আমি ভেবেছিলাম তারা আমাকে ভালোবাসে, কিন্তু আসল কারণ হচ্ছে অন্য শিক্ষিকা আন্টি আসছিলেন। তারা আমার ক্লাস খুবই পছন্দ করতো যেহেতু তাদের সাথে দুষ্টুমি ও খেলাধুলা করছিলাম।

আমি ভাবতাম, এই শিক্ষিকারা এতো জাঁদরেল কেন? বাচ্চাদের ক্লাসে ভালো সময় কাটানোকে তারা কেন এতো কঠিন করে তুলেন? তারা কেন বাচ্চাদের বন্ধু হতে পারে না? এরপর অন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকরা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,

—আজকে ক্লাস কেমন হল?

বললাম, আমরা অনেক মজা করেছি! হেসেছি, খেলেছি...।

তারা বললেন, আপনি কি কিছু পড়িয়েছেন?

—না, পড়াশোনা পরে করবো। প্রথমে আমি তাদের বন্ধু হতে চাই।

তারা সবাই হা হা করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বললেন, “পরে বুঝবেন!”

আমিতো ভাবছি, আরে নাহ! এরকম কখনই হবে না। কিছুদিন পর আমি আবারও ক্লাসে ঢুকে পড়াতে লাগলাম। কিন্তু ওরা কেউ আর চেয়ারে বসে থাকতে চায় না!

“আমাদের গল্প বল! ওই কানের সেই খেলাটা দেখাও!"

তারা মারামারি করছে, একজন আরেকজনের পেন্সিল নিয়ে নিচ্ছে, আঁকাআঁকি করছে। আরেকজনতো পিছনের দেয়ালে গিয়ে নিজের নাম লিখছে, তাও আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে! ওর বন্ধু ওকে বলে, “অ্যাই, স্যার মনে হয় তোমাকে দেখছে।" সেই ছেলে বলে, “আরে কিচ্ছু হবে না! উনি খুব ভালো মানুষ!” সে লিখেই চলল! তখন আমি একটা বিষয় বুঝতে পারলাম।

যখন আপনি শুধুই ভালোবাসা ও দয়া দেখাতেই থাকবেন, , তখন সম্ভাবনা আছে যে মানুষ এর সুযোগ নিতে চাইবে।

কিছু কিছু ছাত্র এমন ছিল, তাদের দুষ্টমি উল্লেখ করে যদি বলতাম তোমার বাবাকে কল দিয়ে সব বলে দিব কিন্তু।

সে তৎক্ষণাৎ বলত—এই নিন বাবার নাম্বার!

শুধু দয়া ও ভালোবাসা পেয়ে কেউ কেউ এর অপব্যবহার করতে পারে, সুযোগ নিতে পারে। সৎ সুযোগকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।

আমরা সূরা ফাতিহা নিয়ে কথা বলছিলাম। তো, আল্লাহ কেমন রব? প্রচন্ড প্রেমময়, অতি দয়ালু। সার্বক্ষণিক, এই মুহুর্তে। তিনি আমাদের অনেক বেশি ভালোবাসেন। অনেকের তখন ভাবনা আসে, তাহলে উনি নিশ্চয় আমাদের কিছু করবেন না! কারণ তিনি অনেক দয়ালু।
❛গতকাল একটা হারাম করেছি, কিছুই হয়নি। আল্লাহ অনেক দয়ালু। কিচ্ছু হবে না।❜ সে এসব কাজকে ওপেন লাইসেন্স বানিয়ে নিয়েছে। যেন সে যা খুশি তাই করতে পারে, কোনো সমস্যা হচ্ছে না, হবেও না!

তাহলে, আর-রাহমান আর-রাহীম অসাধারণ বিষয়, তবে এটা অনেকের অপব্যবহারের কারণে তাদের সমস্যারও কারণ হতে পারে।

আরেকটা উদাহরণ দিচ্ছি। এটা হাস্যকর কিন্তু তাও ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিবে। ধরুন, একজন মালিক আর একজন দাস। মালিকের কিছু কাজ আছে যেগুলো দাস করবে, তাকে মেনে চলবে। দাসের কাজই মালিকের হুকুম মানা। তো মালিক বলল,

❝শুনো, তুমি আমার দাস। কিন্তু আমি চাই না তুমি সব ধরণের কাজ করো। আমার চাহিদা খুবই অল্প। আমি তোমার থেকে শুধু একটা জিনিসই চাই। এই যে চক দিয়ে টানা একটা রেখা, লাইন। শুধু এই লাইনের অন্যপাশে যাবে না। এই লাইনের মধ্যে থাকবে। এর ভেতরে যা ইচ্ছা করো। কিন্তু দাগের বাহিরে যাবে না। বাইরে গেলে শাস্তি পাবে।” আমি শুধু এটাই দাবি করলাম।❞

তো, সেই দাস তো আসলে মুক্তই কিন্তু ওই গোলাকার রেখার ভিতর, তাই না?

গোলাকার রেখাটা বেশ চওড়া, কয়েক একর। সে এর ভিতর থেকে যা ইচ্ছা করতে পারে। তো, একদিন লাইনের কাছ দিয়ে যাচ্ছে, আর সে হোঁচট খেল। হোঁচট খেয়ে লাইনের অন্যপাশে পড়ে গেলো। মালিক চেয়ার নিয়ে উঠানে বসে সব দেখছেন। দাস পড়ে গিয়ে সর্বপ্রথম কোথায় তাকাল? তার বসের দিকে, তার মালিক তাকে দেখছে নাকি লক্ষ্য করল। মালিক তো চেয়ারে বসে, দাস ভাবছে কিছু হয়নি। মালিক কোনো কথা বলেননি। শুধু সেখানে বসে আছেন। তো, দাস উঠে দাঁড়ালো, কাপড় ঝেরে মুছে আবার লাইনের ভিতর গেলো।

পরদিন, দাস লাইনের কাছে, এইবার সে পড়ে যাওয়ার ভান করলো। সে মালিকের দিকে তাকাল, দেখল মালিক এখনও চেয়ারে বসে আছে। কিছু বলছেন না। চেয়ার থেকে ওঠছেনও না।

পরদিন সে ভান করাও ছেড়ে দিল। এক পা বাইরে দিয়ে দেখল মালিক কিছুই বলছেন না।
কিছুদিন পর সে এক পা বাইরে আরেক পা ভিতর দিয়ে হাঁটছে।

কয়েক মাস পর সে বেশিরভাগ সময়ই লাইনের বাইরে কাটানো শুরু করল, একটু পর পর আবার মালিকের দিকে দেখে মনে মনে বলে “কেমন আছেন?”

মালিক তো...কোনো সমস্যা না! সুখের জীবন কাটাচ্ছে। বছরের পর বছর চলে গেছে। তারপর একদিন মালিক তাকে ডাকল।

“এখানে আসো।” সে গেলো। মালিক বললেন,

“মনে আছে, প্রথম যেদিন দেখা হয়েছিল তোমাকে বলেছিলাম, ওই লাইনের বাইরে যাবে না?”
সে বলে, “ও হ্যাঁ, হেহে, বলেছিলেন তো। আমার মনে আছে।”

তিনি বললেন, “তো তুমি সেই লাইনের বাইরে যাওয়া শুরু করলে। প্রথমবার ভুলে করেছিলে। তারপর ভান করলে, কিন্তু আমি জানি ইচ্ছে করেই করেছিলে। তারপর তুমি আরও বেশি করে করতে লাগলে। তারপর তুমি বেশিরভাগ সময়ই লাইনের বাইরে কাটাতে লাগলে। তোমাকে কিছু বলিনি কিন্তু সব লিখে রেখেছি। এই সেই রেকর্ড। তুমি সেই লাইন অতিক্রম করেছ ৫৬৮০ বার। আজকে আমি প্রত্যেকবার আমার আদেশ অমান্য করার কারণে তোমাকে চাবুক দিয়ে পিটাবো।”

বলুন তো, এটার মানে কী? এর মানে মালিক বুঝাচ্ছে,

“তুমি আমার দয়ার সুবিধা নিয়েছ। তুমি ভুলে গিয়েছিলে তোমাকে বিচার করার অধিকার আমার আছে। আমি তোমাকে ততক্ষণই দয়া দেখাব যতক্ষণ তুমি আমার দয়ার অপব্যবহার না করো, আমার নির্দেশনাকে তাচ্ছিল্য না করো।”

কিন্তু আমি আসলে এই মালিক, লাইন, উঠান ইত্যাদির ব্যাপারে কথা বলছি না, তাই না? আমি আমাদের ও আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলছি। তো, শুধু আর-রাহমান ও আর-রাহীম থাকলে মানুষ তার অপব্যবহার করবে। তাই আল্লাহ বলেন, শুধু আর-রাহমান ও আর-রাহীম না, তিনি আমাদের সতর্ক করছেন, তিনি مٰلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴾বিচারদিবসের মালিক।﴿ এটা খুব সহজ তর্জমা, বিচারদিনের মালিক। দয়ার অপব্যবহার করে পার পাবে না। ভান করে পার পাবে না। অভিনয় করে মালিককে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। সবকিছুর লিখিত রেকর্ড রয়েছে।

~আমি তোমার মালিক, তুমি আমার দাস। তুমি প্রথমবার ভুল করে লাইন অতিক্রম করেছো। এরপর তওবা ইস্তিগফার করে নিজেকে শুধরে নিলে। সব ক্ষমা করে দিলাম। এরপর একই কাজ বারবার করতে থাকলে। তোমার বন্ধু বলল, 🙶কী সব করছ? এসব ঠিক না।🙷 তুমি শোনলে না। তাকে বললে, জানো না আল্লাহ আর-রাহমান, আর-রাহীম? তিনি প্রচন্ড দয়াশীল, দেখবে আমার কিচ্ছু হবে না। তিনি আমার উপর দয়া করবেন।

অনেক লোক আছে হারাম কামাই করে, ব্যবসায় প্রতারণা করে অনেক টাকার মালিক হয়। এরপর হজ্জ করতে যায়। অনেকে খোলামেলাভাবে হারাম বিজনেস করে। রামাদানে বেশ দান-সাদাকা করে থাকে। এরপর সীমানা লাইনের ওপারে যায়। আর ভাবে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, কোনো সমস্যা হবে না।

আল্লাহ  সূরা ফাতিহায় আমাদের জানাচ্ছেন—❛যদি আল্লাহর সীমাহীন ভালোবাসা ও দয়ায় সিক্ত হতে চাও, তবে আমার দয়া ও ভালোবাসার অপব্যবহার করে আমার আদেশ-নিষেধের সীমানা লাইন ভেঙ্গে অন্যপাশে যেয়ো না।❜ এজন্য তিনি সূরায় আরেকটি বিষয় যোগ করেন যার মাধ্যমে প্রথম অংশকে ভারসাম্যে আনেন। এটাই مٰلِكِ يَوْمِ الدِّينِ।

আচ্ছা, আল্লাহর পরিচয়ে আল্লাহর পর প্রথম পরিচিতিমূলক শব্দ কোনটি ছিল?

~রব্ব। রব্ব মালিককেও অন্তর্ভূক্ত করে।

কিন্তু, রব্ব এর আরও তো অর্থ আছে, যেমন উপহার প্রদানকারী, ইনচার্জ ইত্যাদি। তাহলে এখানে ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দিন’ বলার পরিবর্তে ‘রাব্বি ইয়াওমিদ্দিন’ তো বলতে পারতেন। কিন্তু সেটা করেননি। কারণ, ‘রব্বি ইয়াওমিদ্দিন’ বললে সেদিন রবের উপহার প্রদানকারী দিনকেও বোঝাতে পারে। কিন্তু আল্লাহ এখানে বোঝাতে চাইলেন সেদিন আল্লাহ উপহার প্রদানকারী দয়াশীল হবেন না, আপনাকে বরং এইদিন মালিক হিসেবে দেখুন, তিনিই সমস্ত কিছুর মালিক আর তিনিই সবকিছুর ভারসাম্যের বিচার করবেন সবকিছুর মালিক হিসেবে। যেই রহমত, দয়া ও উপহারের অপব্যবহারের সুযোগ থাকে, সেগুলোর কিছুই আজ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না, আজ কেবল মালিকের বিচারের দিন।

বিষয়টা এখন খুব মারাত্মক দিকে মোড় নিচ্ছে। কিছুটা নেগেটিভ হচ্ছে। লক্ষ্য করলে বুঝবেন আলাপ থেকে রাহমা কিছুটা বাদ পড়ে যাচ্ছে।

এখন পরের আয়াতটি এই ব্যাপারেই।

সোর্স বই : বিস্ময়কর ফাতিহা

মূল : উস্তাদ নোমান আলী খান

Address

Noya Hat নয়া হাট, Https://maps. App. Goo. Gl/gYYAcw1WfqW9TpHA 7
Mithapukur
8308647

Telephone

+8801304622148

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হিকমাহ্ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to হিকমাহ্:

Share