15/05/2026
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
তারিখ: ১৫ মে ২০২৬
সূত্র: থ/২০২৬৬৩
ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ ও পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাইয়ের ওপর অগণতান্ত্রিক বিধিনিষেধ জারির প্রতিবাদ
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্বাচন-উত্তর পরিকল্পিত সহিংসতা এবং সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে সরকার কর্তৃক গরু জবাইবিরোধী অযৌক্তিক শাস্তিমূলক গরু জবাই নিবারণ আইন জারির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ১৫ মে (বৃহস্পতিবার) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার, খাদ্যাভ্যাস ও বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানা হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গঠিত নতুন সরকার কর্তৃক চালু হওয়া গবাদি পশু জবাই নিবারণ আইন কার্যত একটি ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক এজেন্ডার ধারাবাহিকতা, যার মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রাখার একটি বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিশেষ করে সামনে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। এমন সময়ে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ জারি করা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত।”
নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভয়াবহ গুজব-নির্ভর সহিংসতা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা APCR-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী কয়েকদিনে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলমানদের লক্ষ্য করে ৩৫০টিরও বেশি সুপরিকল্পিত সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অসংখ্য মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি পবিত্র মসজিদে বর্বরোচিত হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।”
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ভারতে উগ্রপন্থী শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে মুসলমানদের ওপর গুজব-নির্ভর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আসামে বিতর্কিত এনআরসি ও সিএএ আইনের মাধ্যমে লাখ লাখ মুসলমানকে নাগরিকত্বহীন করার অপচেষ্টা, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া, ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস, বিতর্কিত ‘ওয়াকফ বিল’-এর মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় সম্পদ কেড়ে নেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রাচীন মসজিদ ও উপাসনালয় ভাঙচুর ও দখলের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। ভারতের মাটিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান এই পদ্ধতিগত নির্যাতন এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর চলমান সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান এবং গরু জবাইয়ের ওপর জারি করা বৈষম্যমূলক কালো আইন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তারা বলেন, “ভারতীয় মুসলিমরা আজ একা নয়; বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মুসলিম উম্মাহ তাদের পাশে রয়েছে এবং গভীরভাবে তাদের এই পরিস্থিতির প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে। একই সাথে তারা জাতিসংঘ, ওআইসি (OIC), আরব লীগসহ সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ববিবেককে ভারতের মাটিতে মুসলমানদের ওপর চলমান এই জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর এবং জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।”
বার্তাপ্রেরক
এস এম ফরহাদ
কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির