27/02/2021
এক অল্প বয়স্ক সুন্দরী মেয়েটা একটি হাইওয়ে রোডে
গাড়ী চালাতে চালাতে হঠাৎ করে যান্ত্রিক
গোলযোগে বন্ধ হয়ে গেলো। একে তো সন্ধ্যা, তার
উপর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। একা একটা মেয়েকে গাড়ির
পাশে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এক যুবক এগিয়ে
আসলো তার দিকে।
“ আমার নাম হাসান। আপনার গাড়িতে কি কোনো
প্রবলেম হয়েছে?"
“ হ্যাঁ, হঠাৎ করে ইঞ্জিনটা বন্ধ হয়ে গেল।এখন আর
স্টার্ট নিচ্ছেনা! “
“ আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না, গাড়িতে গিয়ে বসুন
আমি সাহায্য করছি।”
ছেলেটা গাড়ির বনেট খুলে ভিতরটা দেখলো এবং
সমস্যা ধরতে পেরে সেটার সমাধান করে দিলো।
মেয়েটা খুশি হয়ে ছেলেটাকে কিছু টাকা দিতে
চাইলো। কিন্তু ছেলেটা টাকা নিতে অস্বীকার
করলো। “ এটা আমার প্রফেশন নয়। তাই এই টাকা আমি নিতে পারবোনা। কোনো একদিন আমাকেও একজন এভাবে উপকার করেছিলো এবং বলেছিলো সুযোগ আসলে যেন আমিও কারো উপকার করি এবং এই চেইন অফ হ্যাপিনেস টা ধরে রাখি আপনার যদি আমাকে কিছু সম্মানি দিতেই ইচ্ছে হয় তবে কোনোদিন কারো বিপদ দেখে এমন ভাবে সাহায্য করেন এবং চেইন অফ হ্যাপিনেস টা ধরে রাখেন, তাহলেই আমি সবথেকে বেশী খুশী হবো এবং আমার এই উপকারের আসল উদ্দেশ্য সফল হবে। মেয়েটা কিছুটা বিব্রতকর খুশি মনে বিদায় নিলো।
কিছু দিন পরের ঘটনা।
মেয়েটা একটা কফি শপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো।
হঠাৎ লক্ষ্য করলো, প্রায় সাত মাসের এক অন্ত:সত্ত্বা
মেয়ে কফি শপে কাজ করছে। মেয়েটা তাকে ডেকে
কিছু স্ন্যাক্স অর্ডার করলো। অন্ত:স্বত্বা মেয়েটা এত
হাসি খুশি ভাবে কাজ করছে যে মুখ দেখে বোঝার
উপায় নেই সে অন্ত:স্বত্তা! কাজ শেষে মেয়েটা
খামসহ ঘরে ফিরলো। ঘরে ঢুকে দেখলো তার স্বামী
চিন্তিত মুখে বসে আছে। মেয়েটা পেছন থেকে
স্বামীকে জড়িয়ে ধরে বলল, “তোমাকে আর চিন্তা
করতে হবেনা। আমার ডেলিভারির টাকা জোগাড়
হয়ে গেছে।
পরের ঘটনা...
ছেলেটা তার গাড়ী নিয়ে সেদিন রাস্তায় বের
হয়েছিলো বন্ধুদের সাথে। আচমকা একটি গাড়ী এসে
তাদের উপড় চড়াও হলো। মারাত্মক দূর্ঘটনার শিকার
হাসান সহ তাহার বন্ধুরা। নিকটস্থ হাসপাতালে
নিতেই কেউ একজন তাহাদের খুব সেবা দিতে শুরু
করলো। যে সেবার কোন মূল্যই ছিলোনা। ঠিক যেমন
দেয় নিজের আপন জন। সচরাচর নার্সের এ বাড়তি
সেবার জন্য আলাদা ফি দিতে হয় কিন্তু সে নার্সের
বক্তব্য ছিলো "অন্যের হাসিটাই একদিন নিজের
প্রতিদান হয় শুদ্ধতায়" হাসান অবাক হয়ে বললো "আপনায় কে শেখালো এসব!? নার্স বললো "আমাদের ডাক্তার ম্যাম" সে ডাক্তার ম্যামের কাছে যেতেই লক্ষ্য করলো ইনি সেই রাস্তায় উপকার করা মেয়েটি...
যদিও গল্পটা সাধারণ, তবু এই সাধারন একটা গল্পকে
চাইলেই আমরা অসাধারন করে তুলতে পারি। চেইন
অফ হ্যাপিনেস শুরু হোক এখান থেকেই। শেয়ার করুন, এবং ডিসিশন নিন কারো উপকার করে তার থেকে কোনোরকম প্রতিদানের আশা না করে বরং তাকে বলুন এই চেইন অফ হ্যাপিনেস টা ছড়িয়ে দিতে।
বিশ্বাস করুন, যে ভালোবাসা আপনি ছড়িয়ে
দিচ্ছেন ঘুরে ফিরে একদিন তা আপনার কাছেই আবার
ফিরে আসবে। অবশ্যই আসবে। নিশ্চই আসবে। এটাই
শুদ্ধতম প্রতিদান।