31/05/2026
এস আলমের সাথে বিএনপি ও সালাহউদ্দীন আহমেদের একটা সম্পর্ক আছে। এটা মূলত জামাত ও তাদের বিভিন্ন দোকানপাট মিলে গত কয়েকমাস ধরে দেশের মানুষকে মোটামুটি ভালভাবেই খাইয়েছে।
আজ আমরা বিভিন্ন তথ্যের ডট মিলিয়ে দেখবো বিএনপি-সালাহউদ্দীন আহমেদ ও এস আলমের এই সম্পর্ক ঠিক কতটা গভীর।
২০২০ সালের ১৯ জুলাই খুবই নীরবে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ একটি মেমো জারি করে জানায়, ‘সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব গ্রহণের কারণে সাইফুল আলমের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন সরকার মঞ্জুর করেছে’।
এই মেমোই ছিল এস আলমের আসল গেইম প্ল্যান। এর আওতায় তারা নিজেদের বাংলাদেশ নাগরিক নয় দাবী করতে পারে আবার নাগরিক হিসাবে ব্যাংক ঋণের আবেদনও করতে পারে। যার প্রমান দেখা যায়, ২০২৩ সালে পর্যন্ত তার বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে ব্যাংক ঋণ নেয়ার মাধ্যমে।
২০২২ সালের ১০ অক্টোবর এস আলম ও তার পরিবার পাসপোর্ট জমা দেয় এবং সচিবালয়ে সম্পূর্ণ গোপনীয়তায় ও অত্যন্ত দ্রুততায় তাদেরকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি দিয়ে দেয়া হয় তাও কয়েক মাসের জায়গায় মাত্র একদিনের মধ্যেই।
২০২৩ সালে তারা সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। অর্থাৎ একই সময়ে তাদের কাছে সাইপ্রাস, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব থাকে।
সিঙ্গাপুরের সাথে বাংলাদেশের ২০০৪ সালের একটি দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি আছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, একটি দেশের নাগরিক যদি অন্য দেশে বিনিয়োগ করে এবং সেই বিনিয়োগ যদি "ক্ষতিগ্রস্ত" হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা করা যায়।
অর্থাৎ সিঙ্গাপুরের নাগরিক এস আলমের বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি বা বিনিয়োগ বাংলাদেশ সরকার বাজেয়াপ্ত করলে সেই চুক্তির বলে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে পারবে। এবং এতে তাকে কোন অর্থই পরিশোধ করা লাগবে না।
এইভাবে দুই লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার এক দুর্দান্ত মাস্টারপ্ল্যান সাজিয়েছিল এই এস আলম।
২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এস আলম আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করে।
কিন্তু সালাহউদ্দীন আহমেদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবার আর কোন মেমো পাশ করেনি। বরং ৩ এপ্রিল ২০২৬-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দুদক, নির্বাচন কমিশন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর সাতটি সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
সেখানে তিনটি প্রশ্ন ছিল, আবেদন মঞ্জুর করলে সরকারের জন্য কোনো জটিলতা হবে কিনা? পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বিচারাধীন আছে কিনা? এবং তাদের কোম্পানির কোনো বকেয়া ঋণ আছে কিনা?
এই চিঠি ইস্যু করার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এস আলমের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে তাকে আইনি কাঠামোর জালে আটকে ফেলে। যেন তার পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্যে সরকার MLAR ইস্যু করতে পারে।
২১ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী জানান, চারটি দেশ থেকে এস আলম ও বেক্সিমকোর অর্থ ফেরত আনার জন্যে MLAR পাঠানো হয়েছে।
১২ মে ২০২৬, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে চিঠি দিল। পরদিনই অধিদপ্তর জানাল এস আলম, তার স্ত্রী ও ছেলে আসাদুলের পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হলেও ডেটাবেজে এখনো সক্রিয়।
অর্থাৎ আইনের চোখে তারা এখনো বাংলাদেশি নাগরিক।
আর এইভাবেই স্বরাষ্ট্র, আইন ও অর্থমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে MLAR পাঠানোর মাধ্যমে ২০২৬ সালের ১৯ মে নিকোসিয়া ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট পারেক্লিশিয়ার একটি দোতলা বাড়ি সাইপ্রাস সরকার জব্দ করে।
Bangladesh Financial Intelligence Unit (BFIU) ইতিমধ্যে এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ৬৬২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ২২৭টি বিও অ্যাকাউন্টে ৮১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা জব্দ করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ১১টি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
এতকিছুর পরেও আপনারা দেখবেন একটা বিশেষ শ্রেণী নিয়মিতই প্রচার করে যাচ্ছে বিএনপি ও সালাহউদ্দীন আহমেদ নাকি ভারতের হয়ে এস আলমকে বাঁচানোর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
এইটাই প্রপাগান্ডার রাজনীতি, এইটাই অপবাদ আর মিথ্যাচারের রাজনীতি। এবং একটা দল এই রাজনীতিকেই তাদের আদর্শ হিসাবে প্রতিষ্টা করে যাচ্ছে।
© Muhammad Motahar Hossain