29/04/2026
সম্মানিত পৌরবাসী,
আসসালামুয়ালাইকুম।
আমি প্রায় ১.৫ বছর ধরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সরকারি চাকুরির স্বাভাবিক নিয়মে আজ আমার বিদায়ের পালা। গত ১৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করে পৌরসভার সার্বিক অবস্থা দেখে হতবাক হয়েছিলাম। এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মধ্যে দায়িত্ব নেয়া, পৌরসভা নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণের ভার। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, সম্মানিত পৌরবাসী ও আমার সম্মানিত সহকর্মীদের সহযোগিতায় আমি আমার সাধ্যমত দায়িত্ব পালন করেছি। এই দেড় বছরে সব কিছু করা সম্ভব না, তবে কি করেছি, কি করতে পারিনি আপনারা সবই জানেন। আমি আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছি। বিনিময়ে পেয়েছি আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা। এই দেড় বছরে পৌরসভার যা সফলতা তার অংশীদার আপনারা সবাই, আর যা ব্যর্থতা তা আমারই । তবে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি পৌরসভার প্রায় ৫০ বছর অতিক্রমের পর সার্বিক অবস্থা ও নাগরিক সেবার মান প্রত্যাশার অনেক দূরে রয়ে গেছে। আমি আশাবাদী, সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এ ব্যর্থতা অতিক্রম করা যাবে। পৌরসভার রাস্তাঘাট, পানি, স্বাস্থ্য, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পয়নিস্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি নিয়ে অনেক কাজ করার রয়েছে। সেক্ষেত্রে সম্মানিত নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রণিধানযোগ্য। তবে এত অল্প সময়ে সব কাজ সম্ভবপর নয়, এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কাজের এ ধারা অব্যাহত থাকলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভাও একদিন কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে, ইনশাআল্লাহ। চলে যাওয়ার আগে সময়ের স্বল্পতার কারণে অনেকের সাথে দেখা হয়নি, কথা বলতে পারিনি, এজন্য আমি আন্তরিকভাবে
দু: খিত। অনেক কথা হলো, কাজ হলো এবার বিদায়ের পালা - সম্মানিত পৌরবাসী, সম্মানিত সহকর্মীবৃন্দ, সম্মানিত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সকলের প্রতি রইলো আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি চিরকাল মনে রাখবো। আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। ভালো থাকুক লক্ষীপুর পৌরবাসী, এগিয়ে যাক লক্ষীপুর পৌরসভা।
সবার জন্য অফুরন্ত শুভকামনা ও দোয়া।
আন্তরিক কৃতজ্ঞতায়:
মো: জসীম উদ্দিন
বিদায়ী প্রশাসক (উপসচিব)
লক্ষীপুর পৌরসভা
লক্ষীপুর