31/07/2021
সয়াবিনের চাষ করে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব অপরদিকে বাড়ে জমির উর্বরতা, কমে সারের ব্যবহার।
গত কয়েকমাসে ক্রমশ বেড়েই চলেছে ভোজ্যতেলের দাম যার বিশাল অংশের যোগান আসে সয়াবিন থেকে।
আমাদের দেশে যে পরিমান সয়াবিনের চাষ হয় তা চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত যার ফলে এর চাহিদা মেটাতে সয়াবিন আমদানি করতে হয় বিভিন্ন দেশ থেকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এপ্রিল ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে সয়াবিন তেলের বার্ষিক চাহিদা দাড়িয়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ টন তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (২০১২-২০) এর সূত্র মতে, আমাদের দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের পরিমান মাত্র ১ লক্ষ টনের মতো।
আমাদের দেশে যদি এর চাষাবাদ আরো বাড়ানো যায় তাহলে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব অপরদিকে আমদানি খরচও বেঁচে যাবে।
অপরদিকে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নোয়াখালী অঞ্চলের একজন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, সয়াবিনের পাতাসহ অন্যান্য অংশ এবং শেকড় অল্প সময়ের মধ্যে পচে-গলে মাটিতে জৈব সার তৈরি করে। এর ফলে মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অনেক উন্নত হয়।
মাটি হয় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।
সয়াবিন চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরবর্তী ফসলে সারের ব্যবহার অর্ধেক নেমে আসে। উৎপাদন খরচ কমে যায়, ফলনও ভালো হয়।
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে সয়াবিন চাষে আমদানি নির্ভরতা কমানো, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, দারিদ্র দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব।
এ দেশের মাটি এবং আবহাওয়ায় রবি ও খরিপ মৌসুমের সময় উভয় মৌসুমেই সয়াবিন চাষ করা যায়। বেলে দো-আঁশ হতে দো-আঁশ মাটি সয়াবিন চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
খরিপ বা বর্ষা মৌসুমে চাষের জন্য নির্বাচিত জমি অবশ্যই উঁচু ও পানি নিষ্কাশনযোগ্য হতে হবে। রবি মৌসুমে মাঝারি থেকে নিচু জমিতে চাষ করা যায়।
নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, ভোলা, যশোর, রংপুর এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল সয়াবিন চাষের জন্য অধিক উপযোগী।
তথ্য: সংগৃহীত