28/05/2026
যার যা প্রাপ্য।। মেট্রোরেল স্টেশনে পশুর হাট কিংবা চলন্ত সিঁড়িতে কোরবাণীর গরু ওঠানামা দেখে যারা "আহা! দেশটা কোথায় চলে গেল" বলে হা-হুতাশ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলা যায়, বাংলাদেশের মানুষের যা পাবার বা যা হবার কথা ছিল, তারচেয়ে তারা অনেক বেশি পেয়ে গেছে, বেশি কিছু হয়ে গেছে। অখ্যাত এক কবির ভাষায়, "যার যা প্রাপ্য তাকে দেওয়া ভালো সেইটুকু ভালোবাসা/প্রাপ্তি যখনই পূর্ণ করেছে আশার পাত্রখানি/অবহেলা সয়ে পথের ধূলায় লুটায় অমৃতবাণী!
মুড়ির টিন মার্কা বাসের পা-দানিতে ঝুলতে ঝুলতে যাদের মিরপুর-মতিঝিল যাতায়াত করার কথা, তাদের জন্য মেট্রোরেল একটি অপ্রয়োজনীয় অবাস্তব স্বপ্নের বাহন। দক্ষিণ বাংলার মানুষেরা যখন ঈদের সময় লঞ্চের লেজ ধরে ডুবতে ডুবতে ভাসতে ভাসতে বরিশাল পটুয়াখালি কিংবা পিরোজপুর পৌঁছাতেন সেই দিনগুলোর এখন তাদের মনেই পড়ে না। ফেরিঘাটের আট-দশ ঘণ্টার দৃশ্যমান দুর্ভোগের কথা দশ মিনিটে নদী পার হয়েই তারা ভুলে গেছে।
বিদ্যা-বুদ্ধির দৌড়ে বলৎকার ও ধর্ষণে বিশেষ বুৎপত্তি লাভ করে মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ হয়ে যাদের ধর্ম ব্যবসায় নিয়োজিত হবার কথা, তারা যখন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে চরে বেড়ায় তখন বোঝা যায় আমাদের এখনো অনেককিছু শেখার বাকি আছে। ক্যাপ্টেন থেকে কর্নেল পর্যায়ে পদোন্নতি পাবার আগেই যাঁরা অবসরে চলে যেতেন, তাঁরা জেনারেলের তারকা বুকে ঝুলিয়ে সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাকিস্তানি বসের স্বাক্ষরিত ফাইল নিয়ে যাঁদের সচিবালয়ের ভবন থেকে ভবনে ছোটাছুটি করার কথা তাঁরা উপ-সচিব, যুগ্ন সচিব এমন কি সচিবের চেয়ারে বসে পড়েছেন।
একশ নব্বই বছর ব্রিটিশের এবং তেইশ বছর পাকিস্তানের গোলামির পরেও যখন মনে হয় 'আমার সোনার বাংলা...' র চেয়ে 'পাকসার জমিন...' ভালো ছিল, তখন বোঝা যায় স্বাধীনতা আমাদের হজম হয়নি। এইসব পাকিস্তানপ্রেমিক মূর্খেরা জানেই না পাকিস্তানের প্রায় চার কোটি মানুষ এখন দেশে বিদেশে ভিক্ষা করে জীবন ধারণ করে। সৌদি আরব তাদের হজ্জ্বের ভিসাতেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। শেখ মুজিব নামের এক আবেগ্রাশ্রয়ী, স্বপ্নবাজ মানুষ এদেশের বিপুল সংখ্যক নিমকহারামের মনোজগত সম্পর্কে না জেনে, এই মোনাফেকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। আর আমরা সে সময় একদল তরুণ তাঁর আহবানে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই গণ্ডমূর্খদের বিজাতীয় শাসন শোষণ থেকে মুক্তি দিতে যুদ্ধে ঝাঁপ দিয়ে পড়েছিলাম।
বানরের হাতে খন্তা দেওয়ার মতো মানসিকতায় মধ্যযুগীয় এইসব বর্বরের হাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এসে পড়েছে। তাই তারা মেট্রোরেলের স্টেশনে পশুর হাট বসায়, চলন্ত সিঁড়িতে গরু নিয়ে মেট্রোরেলে উঠতে যায়। ফেসবুকের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাত বছরের কন্যা শিশুর বিবাহের পক্ষে প্রচারণা চালায়। প্রতিনিয়ত ভারতের চিকেন নেক আর সেভেন সিস্টার দখলের হুমকি দেয়। এদিকে সবুজ টি-শার্ট পরা একদল জঙ্গি যে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটা অংশ কার্যত দখলে নেয়ার মহড়া দিচ্ছে সে ব্যাপারে তাদের কোনো হুঁশ নেই, কারণ এটি ভারতের সীমান্তে নয়। বাংলাদেশের মানুষ তাদের মেধা-মননের স্তর, শিক্ষা-দীক্ষার হতশ্রী অবস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও মানসিক দৈন্য স্বত্ত্বেও অনেক বেশি পেয়ে গিয়েছে। কাজেই কোনটা সঠিক তা বোঝার আগেই তারা একটি বিভ্রান্তির মধ্যে ঢুকে পড়তে বিবেক বিবেচনা কাজে না লাগিয়ে স্বনির্ধারিত যুক্তি দাঁড় করায়।
যার যা প্রাপ্য তাদের সেইটুকুই পাওয়া উচিৎ। বিশ্ববাটপার ইউনূসের রান্নাঘরের বাবুর্চিরা এখন হাত ধুয়ে ফেলেছেন, তাঁরা কেউই কিছু জানেন না। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরাও যার যা প্রাপ্য সেটুকু নিশ্চয়ই পাবেন।
- মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান