02/12/2022
একটি ঐতিহাসিক ঘটনা
স্থনঃ গ্ৰাম- রামনগর, ইউনিয়ন- গুজাদিয়া, থানা- করিম গঞ্জ, জেলা---কিশোর গঞ্জ।
#গুজাদিয়ার_জ্ঞানদা_সুন্দরীর_সতীদাহ_মঠ!
#কিশোরগঞ্জ জেলা, করিমগঞ্জ উপজেলা, গুজাদিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে নরসুন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ণ আর লতাপাতায় ঘেরা জ্ঞানদা সুন্দরীর সহমরণ মঠ।
প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই মঠের ভাঙা ইটের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে সুন্দরীর আত্মাহুতির করুণগাথা।
জানা যায়, বাংলা ১২৩৪ সনের ২৬শে বৈশাখ গুজাদিয়ার বিখ্যাত জমিদার তালুকদার বাড়ীর একজন বিশ্বস্ত কর্মচারীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জ্ঞানদা সুন্দরী দেবী স্বামীর সাথে একই চিতায় সহমৃতা হয়েছিলেন। তখন সারাদেশে ইংরেজ সরকার ও রাজা রামমোহন রায়ের মতো মহৎপ্রাণ মানুষের সহায়তায় চলছিল সতীদাহ প্রতিরোধের প্রাণপন চেষ্টা।সে সময়ে ময়মনসিংহে অভিযোগ তুলে ধরা হয় যে, জ্ঞানদা সুন্দরীর জ্ঞাতিরা তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বলপূর্বক সহমরণে বাধ্য করেছে। মামলায় জ্ঞাতিদের পক্ষ থেকে বলা হয় জ্ঞানদা সুন্দরী স্বেচ্ছায় সহমৃতা হয়েছেন কাজেই বল প্রয়োগের কোনো প্রশ্নই উঠে না।
তখন সরকার পক্ষ প্রশ্ন রাখেন যে, জ্ঞানদা সুন্দরী যদি স্বেচ্ছায় সহমৃতা হবেন, তবে জ্ঞাতিরা চিতা জ্বালানোর আগেই তার চারপাশে খুঁটি গেড়ে তাতে বাঁশের বের দিয়েছিলেন কেন? জ্ঞাতি পক্ষ এতে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিচারের মামলার রায়ে জ্ঞানদা সুন্দরীর বড় ছেলে গয়ারাম চক্রবর্তীর ছ’মাসের জেল হয়েছিল।
গয়ারাম চক্রবর্তী পরে তার সহমৃতা মায়ের স্মৃতি রক্ষার্থে চিতায়দান তৈরি করেছিলেন জ্ঞানদা সুন্দরী সহমরণ মঠ। মঠটি আজ নরসুন্দার তীরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে কিশোরগঞ্জের বিস্মৃত প্রায় এক করুণ অধ্যায় সতীদাহ প্রথার স্মৃতি বহন করছে।
বর্তমানে জরাজীর্ণ মঠটির একদিকে হেলে পড়েছে। যে কোনো সময় তা ভেঙ্গে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। মঠটির পাশেই জ্ঞানদা সুন্দরীর বাড়িটি অবস্থিত রয়েছে। সে বাড়িটি আজও পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
ইবনে বতুতার দেখা সহমরণের বর্ণনা তো ভয়াবহ , বিধবা কে স্নান করিয়ে তার পরিধেয় অলঙ্কার ব্রাহ্মণদের দান করা হতো, তারপর নেশা র জিনিষ খাইয়ে স্বামী কে কোলে নিয়ে চিতায় বসিয়ে আগুন দিত , আর ধুপ দিত অনেক যেনো ভালো ধোঁয়া হয়, বড় কাঠ ছড়া হতো যেনো চাপা পড়ে পালাতে না পারে , ব্রাহ্মণরা মন্ত্র পড়ত , আর বাদ্যকারেরা জোরে বাজনা বাজাতো যেনো সতীর চিৎকার যেনো কেউ শুনতে না পায়। ইবনে বতুতা এসব দেখে ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। হাজার বছর ধরে বামুনরা ধর্মের দোহাই দিয়ে এসব বিধাত দিত, না মানলে একঘরে করে জাতিচ্যুত করত।
-সংগৃহীত