26/01/2026
১৯৮২ সালের ২ জুলাই। লস অ্যাঞ্জেলেসের ট্রাকচালক ল্যারি ওয়াল্টার্স হঠাৎ করেই এমন এক কাজ করে বসেন, যা শুনলে এখনও মানুষ অবাক হয়।
তার মনে হয়েছিল, আকাশে বিমান উড়তে দেখা আর কতদিন? একদিন নিজেই একটু আকাশে উঠতে হবে। খুব বেশি না। শুধু একটু ওপরে। তারপর আবার নেমে আসা যাবে।
তিনি একটি সস্তা লন চেয়ার নেন। তারপর তার সঙ্গে বেঁধে দেন ৪২টি হেলিয়াম ওয়েদার বেলুন। উদ্দেশ্য ছিল, অল্প একটু ওপরে উঠবেন। বিয়ার খাবেন। দিগন্ত দেখবেন। কয়েকটা বেলুন ফুটিয়ে ধীরে ধীরে নেমে যাবেন।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল একেবারেই অন্যরকম।
চেয়ারটা মাটি ছাড়ার পরই ল্যারি দ্রুতবেগে ওপরের দিকে উঠে যান। থামেনই না। তিনি উঠে যান প্রায় ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায়। উপরে তখন ভয়ানক ঠান্ডা। শরীর জমে যাওয়ার মতো বাতাস। আর তিনি ভেসে চলে যান সরাসরি বাণিজ্যিক বিমানের আকাশপথের ভেতর!
একজন পাইলট অবাক হয়ে টাওয়ারে রেডিও করেন। তিনি বলেন, “আমি এইমাত্র বাগানের চেয়ারে বসা একজন লোককে পাশ কাটিয়ে গেলাম!”
ল্যারি নিজের সঙ্গে অনেক কিছু নিয়েছিলেন। একটা বিবি গান। একটা সিবি রেডিও। স্যান্ডউইচ। মিলার লাইটের ছয়টা ক্যান। একটা ক্যামেরা। যেন ছোট্ট একটা আকাশ ভ্রমণের আয়োজন!
প্রায় ৪৫ মিনিট পর তিনি বেলুন ফুটানো শুরু করেন। কিন্তু সেই সময়ই একটা ভুল হয়। তিনি বন্দুকটা ফেলে দেন। এরপর তিনি নিচের দিকে নামতে থাকেন।
কিন্তু নামার পথটাও সহজ ছিল না। তিনি ভেসে গিয়ে বিদ্যুতের তারে আটকে পড়েন। এতে লং বিচ এলাকায় প্রায় ২০ মিনিট বিদ্যুৎ চলে যায়। চারপাশে হইচই পড়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো বড় আঘাত ছাড়াই নিচে নেমে আসতে সক্ষম হন, অক্ষত অবস্থায়। কিন্তু পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে ১,৫০০ ডলার জরিমানা করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি একটি “অনুপযুক্ত উড়োজাহাজ” চালাচ্ছিলেন।
কিন্তু এমন সাহসিকতার পরিণতি সবসময় এমন হয় না।
২০০৮ সালে ব্রাজিলের এক যাজক, আদেলির আন্তোনিও দে কারলি, দাতব্য কাজের জন্য এমনই এক বেলুনে ওড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি বাতাসে ভেসে সমুদ্রে চলে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি। দুঃখজনকভাবে তার মৃত্যু ঘটে সেখানেই।
©️ ইতিহাসের গল্প