26/09/2025
আলো, নাকি অন্ধকারের ফাঁদ?
মেহেরপুর-গাংনী সড়কের সন্ধ্যার ভোগান্তি
মেহেরপুর থেকে গাংনীগামী সড়কটি এ অঞ্চলের একটি ব্যস্ততম পথ। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এই সড়কে যাত্রীবাহী, মালবাহী, ছোট-বড় নানা ধরনের বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিকভাবে, আলোর ব্যবস্থা চালকের নিরাপদ চলাচলের জন্য সহায়ক হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই উল্টো।
সন্ধ্যা নামতেই এ সড়কে হঠাৎ করেই ‘আলো’ যেন পথের সহায়ক থেকে এক অদৃশ্য শত্রুতে পরিণত হয়। বিভিন্ন পরিবহনে লাগানো অতিরিক্ত ক্ষমতাসম্পন্ন এল.ই.ডি ও ফগ লাইট সরাসরি অন্য চালকদের চোখে এসে পড়ে। নিয়ম মেনে হেডলাইট ব্যবহারকারীদের জন্য এ যেন নিদারুণ এক বিড়ম্বনা। চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল আলোয় সড়কের অবস্থা দেখা যায় না, সামনে কী আসছে তা অনুমান করা যায় না—ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এমন নয় যে বিষয়টি নিয়ে মানুষ অজানা। সবাই জানে, যানবাহনের লাইট মানেই আলোকিত পথ, নিরাপদ যাত্রা। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী ও অসচেতন চালকের বেপরোয়া ব্যবহার সেই আলোকে অন্ধকারের ফাঁদে পরিণত করেছে। যারা নিয়ম মেনে চলতে চায়, তারাই হয়ে যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।
এখনই যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে না দেখে, তাহলে মেহেরপুর-গাংনী সড়কটি ধীরে ধীরে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হতে পারে। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী অননুমোদিত ও অতিরিক্ত ক্ষমতার লাইট ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সবশেষে বলা যায়, আলো পথ দেখানোর জন্য, অন্ধকার নামানোর জন্য নয়। মেহেরপুর-গাংনী সড়কের প্রতিটি যাত্রীই চায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে। তাই এখনই সময়—নিয়ম ভাঙা আলো নয়, নিয়ম মেনে নিরাপত্তার আলো ফিরিয়ে আনার।