11/09/2025
জামায়াতের মুনাফেকি আবারো প্রকাশ্যে, বাংলাদেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে দাবি জামায়াত নেতার
---
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে 'বাংলাদেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়' বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
ক্ষমতায় যেতে নির্বাচন ঘিরে নানা ফন্দি আটছে জামায়াত নেতারা। কিছুদিন আগে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যেও একইভাবে নির্বাচন ও বাংলাদেশি ভোটারদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শনী দেখা গিয়েছে। চলতি বছরের জুনে লন্ডনে বসে এই অবৈধ-অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ টাকা খেয়ে ভোট দেয়।
বলা হয়ে থাকে ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদকে সামনে রেখে প্রশাসন চলছে আসলে জামায়াতের কথাতেই। ক্ষমতায় যেতে তারা নতুন পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়ে বেড়াচ্ছেন। যে পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণের কোন ধারণাই নেই, আচমকা সে পদ্ধতি চাপিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায় জামায়াত। কারণ, জামায়াত জানে যে তাদের জনসমর্থন নেই। কিছু উগ্রবাদী ছাড়া আপামর বাংলাদেশের জনতা এদের চিরকালই বর্জন করবে৷ জামায়াতের সূরে সূর মিলিয়েই ইউনূস গংও তাদের বয়ান তৈরি করে, পিআর কে জায়েজ করতে এ পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিতে প্রয়াস চালায় ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদ।
জনগণের সাথে জামায়াত এখনো মুনাফেকি করছে। জামায়াত নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নাহলেও সম্প্রতি ডাকসুর নির্বাচনে শিবিরের বিজয়কে তারা সুষ্ঠু ভোট হিসেবেই গণ্য করেছে। অর্থাৎ, জামায়াতের একটাই লক্ষ্য যেভাবেই হোক ক্ষমতায় যাওয়া। যেখানে তাদের ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকে সেখানেই জামায়াত ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতে, পিআর পদ্ধতির মত একটি ঘৃণ্য নির্বাচন পদ্ধতির প্রস্তাব সামনে আনে। নির্বাচন ব্যবস্থায় পিআর প্রতিষ্ঠিত হলে জাতি কখনোই একটি পূর্ণ মেয়াদের সরকার পাবে না, বাংলাদেশে সবসময়ই অস্থিতিশীলতা বিরাজ করবে। আর মুনাফেক জামায়াতও দেশের এই অস্থিতিশীলতাই চায়। আর যখনই তারা দেখে যে জনগণ পিআর পদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করছে, তখন জামায়াতের ত্রাতা হয়ে ইউনূস পুরো জাতিকে টাকার বিনিময়ে ভোট প্রদানের মত কলঙ্ক দেয়।
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভোট চুরির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও ইউনূস সরকার এই নির্বাচনগুলোকে মডেল হিসেবে পরিগনিত করছে। এতে করে একই মডেলে জাতীয় নির্বাচনও যদি অনুষ্ঠিত হয়, তবে সে নির্বাচনেও জামায়াত যে শতভাগ ভোট চুরি এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করবে সে নিশ্চয়তা দেয়াই যায়। ফলে যারা আজ বলছে বাংলাদেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব, প্রশাসনের সহায়তায় সেই মুনাফেক জামায়াত নেতাকর্মীরাই জাতীয় নির্বাচনকে কলঙ্কিত করতে মূখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।