13/07/2020
ভাল থাকার ১০ উপায়.....
১. খাদ্যভ্যাস: শরীর সুস্থ সবল প্রাণবন্ত রাখতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। প্রচুর রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল আঁশযুক্ত খাবার খান । ফলের রসের পরিবর্তে গোটা ফল চিবিয়ে খেলে উপকার বেশি হয়। এতে পুষ্টির সাথে ফাইবারও পাওয়া যাবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন দিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস। জাংকফুড, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও মসলা জাতীয় খাবার সরাসরি পরিহার করুন।
২. ভিটামিনস ও মিনারেল: খাদ্যে বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল সুস্থতা সতেজতা আর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ক. ভিটামিন সি: ভিটামিন সি এর প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে টক জাতীয় ফল, যেমন- আমলকি, কাচা পাকা লেবু, কমলা, মাল্টা, আমড়া, জাম্বুরা, কড়মচা ইত্যাদি। এ ছাড়াও বাজারে ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়, যা ফ্লু উপসর্গে আপনি সকাল রাত্রে দুবার চুষে খেতে পারেন। তবে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া ভিটামিন সি বেশি কার্যকরী।
খ. ভিটামিন ডি: ভি ডির প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে সূর্যরশ্মি। যা সকাল ৮/৯ টা থেকে বিকাল ৩/৪ টা পর্যন্ত শরীরের কিছু অংশ খোলা রেখে (যেমন মুখমণ্ডল, হাত বা ঘাড় ইত্যাদি) আপনি গ্রহন করতে পারেন। এ ছাড়াও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ডিমের কুসুম, মাছের তেল, ওমেগা, গরুর কলিজা, চিজ এগুলো খেতে পারেন।
গ. জিংক: ফ্লু বা সর্দি-কাশি উপসর্গে জিংকের বেশ উপকারিতা রয়েছে। জিংক-সমৃদ্ধ খাবারগুলো হচ্ছে আদা, রসুন, ডাল, বিন্স, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ইদ্যাদি। বাজারে লজেন্স আকারে জিংক সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন ২-৩ ঘণ্টা পর পর।
৩. মধু: মধু প্রাকৃতিক প্রতিষেধক। মধুতে এমন কিছু জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান রয়েছে, যেমন হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক অক্সাইড)। তাই ফ্লু উপসর্গে মধু বেশ উপকারী। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সাবধানে খেতে হবে।
৪. অনুঘটক : যেমন দই, চিজ ইত্যাদি খাবারে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৫. চাপমুক্ত মানসিকতার অভ্যেস করুন: হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ বিপদ ডেকে আনতে পারে । তাই মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। টিভি, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে খবরগুলো আপনাকে মানসিক চাপে ফেলছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে ভালো সময় কাটান, বই পড়ুন, কুরআন ও হাদীস পড়ুন বা নতুন কিছু শিখতে মনোনিবেশ করুন।
৬. শরীরচর্চা: শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন অভ্যেস করুন হাঁটাহাটি, সাইক্লিং, ইয়োগা, ওয়েট শিফ্টিং, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, এবং নিয়মিত নামাজ পরাও আপনার শরীর চর্চার প্রাত্যহিক নিয়ম হতে পারে।
৭. ধূমপান ও মাদক পরিহার করা: ধূমপান একটি মারাত্মক বদ অভ্যাস যা সকল রোগের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে বিশেষ করে ধূমপান, সরাসরি আপনার শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর মাদক মদ অন্যান্য অসামাজিক অভ্যেস থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখুন।
৮. ফিট থাকা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা: সুষম খাবার গ্রহন আর শরীর চর্চা করে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে ফিট থাকুন ।
৯. ঘুম: প্রতিদিন ৮ ঘন্টাঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম আমাদের সতেজতা বৃদ্ধি করে।
১০. জীবানুমুক্ত পরিষ্কার: নির্দিষ্ট সময় পর পর হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহার্য জিনিপত্র জীবাণুনাশক পদার্থ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। দরজার হাতল, সুইচ, লিফ্টের বাটন জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখুন ও মাস্ক ব্যবহার করুন।