09/04/2025
আশিক চৌধুরীর প্রেজেন্টেশন: বাংলাদেশের মেধাবী সন্তানদের ফিরিয়ে আনার আহ্বান ও দেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত
একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে আমি আজ, ৯ এপ্রিল ২০২৫, ঢাকায় চলমান ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫-এর একটি অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)-র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর একটি প্রেজেন্টেশন দেখার সুযোগ পেয়েছি। এই প্রেজেন্টেশন দেখে আমি পুরোপুরি মুগ্ধ। এটি শুধু একটি উপস্থাপনা নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি দূরদর্শী রূপরেখা এবং বিশ্বের কাছে দেশের প্রতিশ্রুতির একটি শক্তিশালী বার্তা।
আমার মতো অনেকেই মনে করেন—পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনার আগে আমাদের দেশ থেকে যেসব মেধাবী সন্তান, যেমন আশিক চৌধুরীর মতো প্রতিভাবানরা, বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা আরো জরুরি। এই প্রতিভাধর ব্যক্তিরা আমাদের দেশকে সত্যিকার অর্থে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারেন। আজকের প্রেজেন্টেশন দেখে আমি নিশ্চিত হয়েছি—তাদের ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশ ১০০% উন্নত হবে।
আশিক চৌধুরী পেশায় একজন ব্যাংকার। তিনি সিঙ্গাপুরে বহুজাতিক দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)-এর রিয়েল অ্যাসেট ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন, যা বিশ্বের অনেকেই কামনা করেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার একটি ফোনকলেই তিনি সেই আরামের জীবন ছেড়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) দায়িত্ব নিয়েছেন। এই ত্যাগ এবং দেশের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।
ইনভেস্টমেন্ট সামিটে তার প্রেজেন্টেশন দেখে আমি অবাক হয়ে গেছি। কী অসাধারণ প্ল্যানিং, কী দারুণ আইডিয়া! বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং কৌশলগত পরিকল্পনা সত্যিই বিস্ময়কর। এর আগে এমন পরিকল্পনা বা প্রেজেন্টেশন কখনো দেখা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই, কিংবা এমন কিছু পাবলিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত নই। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার—এই প্রেজেন্টেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে এই প্রেজেন্টেশনের ভিডিওটি যতবার আমার সামনে এসেছে, ততবারই আবার দেখার ইচ্ছা জেগেছে। এটি শুধু একটি উপস্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশ্বের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা। তিনি যেভাবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন, এবং দেশের অবকাঠামোর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন, তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা জাগাতে বাধ্য।
একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, আশিক চৌধুরীর মতো মেধাবী ব্যক্তিরা যদি দেশে ফিরে আসেন, তাহলে আমাদের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পথ অনেক সহজ হয়ে যাবে। তার প্রেজেন্টেশনে যে দূরদর্শিতা ও পরিকল্পনা ফুটে উঠেছে, তা বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে পারে। তিনি যেভাবে বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে দেশের জন্য কাজে নেমেছেন, তা অন্য মেধাবীদের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত।
এই সামিটে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি এবং আশিক চৌধুরীর এই উপস্থাপনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আমি আশা করি, তার এই প্রচেষ্টা শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশের তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করবে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে।
#আশিক_চৌধুরী #ইনভেস্টমেন্ট_সামিট #বাংলাদেশ_অর্থনীতি #মেধার_মূল্যায়ন #বিডা