26/08/2014
কালীগঞ্জ
উপজেলা (ঝিনাইদহ)
বিভাগ
- জেলা
[[ খুলনা বিভাগ]]
- [[ ঝিনাইদহ
জেলা]]
স্থানাঙ্ক ২৩°১০′ উত্তর ৮৯°০১′
পূর্ব / ২৩.১৬° উত্তর
৮৯.০২° পূর্ব
আয়তন ৩১০.১৬ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি
( ইউটিসি+৬ )
জনসংখ্যা
( ২০০১ )
- ঘনত্ব
২,৫২,৪৪৩ জন
- ৮১৪ জন বর্গকিমি
পোস্টকোড ৭৩৫০
মানচিত্র সংযোগ : কালীগঞ্জের
রাজনৈতিক মানচিত্র
কালীগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের
ঝিনাইদহ জেলার অন্তর্গত একটি
উপজেলা প্রশাসনিক এলাকা।
ভৌগোলিক সীমানা
কালীগঞ্জ উপজেলার অবস্থান ২৩.১৬
উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩.২৮ উত্তর
অক্ষাংশ এবং ৮৯.০২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
থেকে ৮৯.১৬ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এর
উত্তরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, দক্ষিণে
যশোর সদর ও চৌগাছা উপজেলা , পূর্বে
শালিখা ও বাঘারপাড়া উপজেলা ,
পশ্চিমে কোটচাঁদপুর ও
চৌগাছা উপজেলা অবস্থিত। [১]
প্রশাসনিক এলাকা
১৮৬৩ সালের পূর্বে কালীগঞ্জ
নলডাঙ্গা রাজবাড়ী প্রসাশনের
অন্র্তভূক্ত ছিল। ১৮৬৩ সালে কালীগঞ্জ
থানার সৃষ্টি হয়। কালীগঞ্জ থানাকে
উপজেলায় রুপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।
[১] এই উপজেলায় ১টি পৌরসভা, ১১ টি
ইউনিয়ন , [২] ১৮৮ টি মৌজা এবং ১৯৮
টি গ্রাম রয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার
ইউনিয়ন ও এর জিও কোড হল-
সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়ন। এর জিও
কোড-৩৩
জামাল ইউনিয়ন। এর জিও কোড-২০
কোলা ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৪৭
নিয়ামতপুর ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৬১
সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়ন। এর জিও
কোড-৮৮
ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন। এর জিও
কোড-৯৪
রায়গ্রাম ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৭৪
মালিয়াট ইউনিয়ন পরিষদ। এর জিও
কোড-৫৪
বারবাজার ইউনিয়ন পরিষদ। এর জিও
কোড-১০
কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন। এর জিও কোড-৪০
রাখালগাছি ইউনিয়ন। এর জিও
কোড-৮১
আয়তন
কালীগঞ্জ উপজেলার মোট আয়তন ৩১০.১৬
বর্গ কিলোমিটার। কালীগঞ্জ পৌরসভার
আয়তন ১৫.৪৮ বর্গ কিলোমিটার।
ইউনিয়নগুলির আয়তন-
কাষ্ঠভাঙ্গা ৬,১৫৪ একর
কোলা ৮,০২৬ একর
জামাল ৬,৩৫৪ একর
ত্রিলোচনপুর ৭,৫৪৮ একর
নিয়ামতপুর ৫,৪৭১ একর
বারোবাজার ৮,৬৮১ একর
মালিয়াট ৫,৭৭১ একর
রাখালগাছি ৮,২৬৭ একর
রায়গ্রাম ৬,৯৭০ একর
সিমলা-রোকনপুর ৪,১৮৬ একর
সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ৫,১২১ একর
জনসংখ্যা
উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২৫২,৪৪৩ জন।
এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৩০,৭১৬ জন
এবং মহিলার সংখ্যা ১২১,৭২৭ জন।[৩]
ধর্মাবলম্বী অনুসারে- * মুসলিম ২১০,৪৪১
জন, * হিন্দু ৪১,২১৪ জন, * বৌদ্ধ ৫৮৭ জন, *
খ্রিস্টান ৩৫ জন, * অন্যান্য ১২৬ জন।
ইতিহাস
মোবারকগঞ্জ চিনিকল
এই গঞ্জ শহর
প্রতিষ্ঠা করে নলডাঙ্গা রাজা প্রমথভূষণ
দেবরায়। এটি নলডাঙ্গা রাজবংশ -এর
তহশীল ভুক্ত ছিল। প্রায় দেড়শ বছর
পূর্বে বর্তমান স্থানে এই শহরের
গোড়াপত্তন। কালী দেবী -এর
নামানুসারে নামকরণ করা হয়
কালীগঞ্জ। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক
জটিলতায় কখনও আলীগঞ্জ, কখনও
মোবারকগঞ্জ, কখনও মধুগঞ্জ নামকরণ
করা হলেও শেষ পর্যন্ত কালীগঞ্জ
নামটি তার
ঐতিহাসিকতা নিয়ে টিকে আছে। ১৯০২
সালে নলডাঙ্গা রাজবাড়ি থেকে
নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক
বিদ্যালয় এখানে স্থানান্তরিত করা হয়।
এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৮২
সালে। ব্রিটিশ আমলে এখানে নদী উপর
ব্রিজ এবং রেল স্টেশন নির্মিত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে ব্রিটিশ
বিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার
হয়ে ওঠে এখানকার গণমানুষ। মুসলিম
লীগের মোবারক আলী (?-১৯৫৯) এই
আন্দোলনে এখানকার অন্যতম
নেতা ছিলেন। পূর্ব-পাকিস্তান
সময়ে মোবারক আলীর
নামে মোবারকগঞ্জ চিনিকল,
মোবারকগঞ্জ স্কুল, মোবারকগঞ্জ
স্টেশনের নামকরণ করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস
যশোর এবং ঝিনাইদহ
সীমান্তে মহিষাহাটি গ্রাম। এই
গ্রামের একটি স্থান মান্দারতলা। ১৯৭১
সালের ১৩ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধাদের
সঙ্গে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর
যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ২০ জন
মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং আনুমানিক
১০০ পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়।
মুক্তিযোদ্ধারা মান্দারতলা থেকে পিছু
হটে আসে। পরদিন ১৪ এপ্রিল
দুলালমুন্দিয়ায় প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।
কিন্তু যশোর ক্যান্টনমেন্ট
পাকিস্তানীদের খুব শক্ত ঘাঁটি ছিল।
ফলে তারা পিছন থেকে আক্রমণ করে।
এইদিনের যুদ্ধে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০
জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৫ ডিসেম্বর
১৯৭১ কালীগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয়।
কালীগঞ্জের ৩১৭ জন
মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের
স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ
নিয়েছিলেন। এই অঞ্চলের
শান্তি বাহিনীর প্রধান ছিলেন রফিকুল
মিয়া (মৃত)। নলডাঙ্গা বোর্ডের
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন
আওয়মী লীগ থেকে নির্বাচিত
গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল (১৯২১-)।
তিনি মুক্তিবাহিনীর প্রধান
সাহায্যকারীও ছিলেন। এজন্য
তাকে পাকিস্থানী ক্যাম্পে আটক
রাখা হয়েছিল। বর্তমানে এই
শহরে একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিচিহ্ন স্তম্ভ
রয়েছে।
জলাশয়
চিত্রা নদী এই উপজেলার বুক
চিরে প্রবাহিত হয়েছে। বেগবতী নদী
জেলা সদর থেকে আলাদা করেছে।
বারোবাজার ইউনিয়নের উপর
দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদী যশোর
জেলা হতে এই
উপজেলাকে আলাদা করেছে।
এছাড়া মর্জাদ, মাজদিয়া, বারফা ও
সিমলা বাওড় রয়েছে। বিলের
মধ্যে সাকোট, উত্তর, দিঘার,
অরুয়া সালভা এবং তেঁতুল বিল
উল্লেখযোগ্য। [৩]
দর্শনীয় স্থান
এখানকার সুইতলা মল্লিকপুর নামক
স্থানে এশিয়ার বৃহত্তম বটগাছ রয়েছে।
বারোবাজার সুলতানী আমলের মসজিদ
এবং নলডাঙ্গা মঠবাড়ী রাজাদের
নির্মিত অনেকগুলো মন্দির।