30/01/2026
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের মাহেন্দ্রক্ষণ। উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতীক বুঝে নিচ্ছে। কিন্তু এই উৎসবের আবহে এক বিষাদময় কালো অধ্যায় রচিত হলো ‘আম জনগণ পার্টি’র সাথে। দলের প্রতীক ‘হ্যান্ডশেফ’ চূড়ান্ত থাকার পরও এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া প্রতিটি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করার পরও, শেষ মুহূর্তে আম জনগণ পার্টিকে নির্বাচনের ময়দান থেকে ছিটকে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, এটি কোন বাংলাদেশ? যে বাংলাদেশে আইন মেনে চললে ললাটে জোটে বঞ্চনা, আর আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালে পাওয়া যায় রাজকীয় সংবর্ধনা!
নুরুল হুদার প্রেতাত্মা কি তবে কমিশন ছাড়েনি? দেশের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিল একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে। কিন্তু আম জনগণ পার্টির প্রতি কমিশনের এই বিমাতাসুলভ আচরণ জনমনে এক গভীর সন্দেহের উদ্রেক করেছে। আমরা কি তবে ধরে নেব, বর্তমান কমিশনও সেই বিতর্কিত নুরুল হুদা কমিশনের পথেই হাঁটছে? যে কমিশন গণতন্ত্রকে বন্দি করেছিল নিজেদের খেয়ালখুশির খাঁচায়। আম জনগণ পার্টি কি এ দেশের নাগরিক নয়? তাদের কি রাজনৈতিক অধিকার নেই? যদি সকল শর্ত পূরণ করার পরও তাদের গেজেটভুক্ত করা না হয়, তবে এই নির্বাচন কি আদৌ অংশগ্রহণমূলক হওয়ার দাবি রাখে?
আইন মানার শাস্তি যখন বঞ্চনা-আম জনগণ পার্টি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রতিটি ধাপ পার করেছে। কিন্তু আজ প্রতীক বরাদ্দের দিনে তাদের শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিয়ে কমিশন প্রমাণ করল, তারা ন্যায়ের চেয়ে অদৃশ্য কোনো ইশারার প্রতি বেশি অনুগত। এটি স্পষ্টত একটি পরিকল্পিত বৈষম্য। জুলাই-আগস্টের বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে যেখানে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সেখানে একটি উদীয়মান রাজনৈতিক দলকে এভাবে টুটি চেপে ধরা কেন? এই চরম অবিচারের দায়ভার কে নেবে?
হ্যান্ডশেফ প্রতীক: জনগণের ঐক্যের পথে বাধা কারা? হ্যান্ডশেফ বা করমর্দন প্রতীকটি ছিল জনগণের সাথে জনগণের সেতুবন্ধনের প্রতীক। সেই প্রতীককে রুখে দিয়ে ইসি কি পরোক্ষভাবে জনমানুষের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে না? যখন একপক্ষকে সব নিয়ম ভেঙে সুবিধা দেওয়া হয় আর আম জনগণ পার্টির মতো দলকে গেজেট থেকে বঞ্চিত রাখা হয়, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে পর্দার আড়ালে কোনো এক মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনকে মনে রাখতে হবে, আপনারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা বিশেষ মহলের আজ্ঞাবহ হওয়া আপনাদের কাজ নয়। আম জনগণ পার্টিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা মানে কেবল একটি দলকে নয়, বরং হাজার হাজার ভোটারের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করা।
এই অবিচার মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে আম জনগণ পার্টিকে তাদের নায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন, নতুবা এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ইতিহাসের পাতায় আরেকটি প্রহসন হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
FeedbackFatema TasnimFoʀʜʌɗ Hossʌɩŋ