08/04/2026
এবং ইরান টিকে আছে। আর টিকে থাকা মানেই জিতে যাওয়া। শুধু টিকে নেই, খুব ভালো ভাবেই টিকে আছে। গত ৩৯ দিন ধরে প্রতিদিন আপনারা যারা আমার ইরান সিরিজ নিয়ে বিশ্লেষণগুলো পড়ছেন। আপনাদের জন্য বলছি- ইরানের বিজয় হয়েছে; কীভাবে বুঝবেন জানেন?
- এই মুহূর্তে ই*জ*রাইলে বিক্ষোভ হচ্ছে। সাধারণ মানুষ জানতে চাইছে, কেন এই যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবে ই*জ*রাইল রাজি হয়েছে? কেন এত ই*জ*রাইলিকে প্রাণ দিতে হলো? কী পেল এই যুদ্ধ থেকে ই*জ*রাইল?
ই*জ*রাইলের বিরোধী দলের নেতা কিছুক্ষণ আগে বলেছে
- এই সিদ্ধান্ত ই*জ*রাইলের জন্য একটি রাজনৈতিক বিপর্যয়।
নে*তা*নিয়াহু আর কয়দিন পর হওয়া নির্বাচনের পর আর থাকতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। যেখানে ই*জ*রাইলিরা আজ বিক্ষোভ করছে। একে-অপরকে দোষারোপ করছে। সেখানে এত আঘাতের পরও ইরানের প্রতিটা রাস্তায় মানুষ নেমে এসেছে আনন্দ মিছিল করতে।
কীভাবে ইরানের বিজয় হয়েছে জানেন?
- অ্যামেরিকার কংগ্রেস এবং সিনেটের সদস্যরা এখন ট্রা*ম্পকে দোষারোপ করছে এবং ওর অপসারণ দাবি করছে।
ট্রা*ম্পের দলেরও নিশ্চিত ভাবে ভরাডুবি হবে এই নভেম্বরের নির্বাচনে।আরও কীভাবে বুঝবেন ইরানের বিজয় হয়েছে? স্রেফ কিছু প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে নিন
- অ্যামেরিকা এই যুদ্ধের প্রথম দিন বলেছিল, ইরানের সরকার উৎখাত করাই এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য। হয়েছে ইরানের সরকার পতন?
উত্তর হচ্ছে - হয় নাই। এক খামেনি গিয়ে আরেক খামেনি এসেছে।
- এরপর না পেরে অ্যামেরিকা-ই*জরাইল বলেছে- না সরকার পতন না । আমরা ওদের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে চাই। হয়েছে ধ্বংস?
উত্তরটা সহজ। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয় নাই। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ঠিকই আছে।
- কোন কিছু না পেরে এরপর অ্যামেরিকা বলেছে, আমাদের শর্ত না মানলে ইরানকে প্রস্তর যুগে নিয়ে যাওয়া হবে। ওদের সভ্যতাই ধ্বংস করে দেয়া হবে । হয়েছে?
হয় নাই । ইরান আগের চাইতেও শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরানের রাস্তায় রাস্তায় এখন মিছিল হচ্ছে। সব কিছুই চলছে আগের মত।
অনেক আগে থেকেই বলে এসছি- এই যুদ্ধের টার্ম এখন ঠিক করছে ইরান। হয়েছেও সেটাই। ট্রা*ম্পের গতকাল বেঁধে দেয়া টাইম-লাইন শেষ হবার ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে সে যখন দেখেছে - ইরান তো শর্ত মানবে না। তখন সে ঘোষণা করেছে
- আমরা দুই সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতিতে যাচ্ছি।
আপনাদের জানিয়ে রাখি এই সকল কিছুই আমি লাইভে দেখেছি । ইরানের টেলিভিশনে যখন ঘোষণা করা হয়; সেই ঘোষণায় বলা হয়েছে
- ইরান এই যুদ্ধে জিতে গেছে। অ্যামেরিকা আমাদের দেয়া ১০ দফা শর্ত মেনে নিয়েছে।
এই ১০ দফার সবগুলো আপনাদের না জানলেও চলবে। মূল বিষয়গুলো শুধু জানিয়ে রাখি। এখানে বলা হয়েছে
এক, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। দুই , ইরান আবার আক্রান্ত হবে না, এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।তিন, ইরানের বিরুদ্ধে সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। চার, ইরান এবং ওমান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং টোল নিবে।
অর্থাৎ ইরান আগের চাইতেও সমৃদ্ধ হবে। আগের চাইতে আরও বেশি অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক থেকে এগিয়ে যাবে। কারন ইরানে আর কোন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। অনেকেই হয়ত ভাবছেন- দুই সপ্তাহ পর যদি অ্যামেরিকা আবার আঘাত করে?
আপনাদের সুবিধার জন্য আমার নিজের যুক্তি তুলে না ধরে অ্যামেরিকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মার্সেইমার কিছুক্ষণ আগে আল-জাজিরাকে যা বলেছেন; সেটাই বলি। তিনি বলেছেন
- অ্যামেরিকা যদি দুই সপ্তাহ পর আবার ইরানে আঘাত করে। তাহলে অ্যামেরিকা এখন তো তবুও মুখ দেখাতে পারছে । এরপর আর মুখই দেখাতে পারবে না। কারণ অ্যামেরিকার হাতে এমন কোন ম্যজিক নেই যে, দুই দপ্তাহ পর অ্যামেরিকা আরও শক্তিশালী হয়ে ইরানকে আঘাত করতে পারবে। হরমুজ প্রণালি খুলার সাধ্য পৃথিবীর কোন সামরিক শক্তির নেই।
এটাই বাস্তবতা। একটা জাহাজে যদি আঘাত করা হয়। বাকি জাহাজগুলো আর সে জায়গা দিয়ে যেতে চাইবে না। কারণ ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলো রাজি হবে না। আমি গত ৩৯ দিনে বেশ কয়েকবার লিখেছি
- অ্যামেরিকা ও ই*জ*রাইল মিলিটারি (সামরিক) দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকলেও Strategic (কৌশলগত) দিক থেকে পিছিয়ে। আর একটা যুদ্ধ আপনি কোন দিনও সামরিক ভাবে জিততে পারবেন না। সেটা হলে তো ভিয়েতনাম যুদ্ধেও অ্যামেরিকা জিতে যেত।
অ্যামেরিকার সাম্রাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে আর কাজ করবে না। সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকার সাথে সাথে ই*জ*রাইল এবং ওদের দোসর বুর্জোয়া আরবদেরও আজ পরাজয় হয়েছে।
হ্যাঁ, ইরান এই যুদ্ধে জিতে গেছে। শুধু ইরান না , ইরানের সাথে সাথে আমাদের মত পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানুষদেরও আজ বিজয় হয়েছে।