MD Masud Rana

MD Masud Rana Video Creator

08/04/2026
08/04/2026

এবং ইরান টিকে আছে। আর টিকে থাকা মানেই জিতে যাওয়া। শুধু টিকে নেই, খুব ভালো ভাবেই টিকে আছে। গত ৩৯ দিন ধরে প্রতিদিন আপনারা যারা আমার ইরান সিরিজ নিয়ে বিশ্লেষণগুলো পড়ছেন। আপনাদের জন্য বলছি- ইরানের বিজয় হয়েছে; কীভাবে বুঝবেন জানেন?

- এই মুহূর্তে ই*জ*রাইলে বিক্ষোভ হচ্ছে। সাধারণ মানুষ জানতে চাইছে, কেন এই যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবে ই*জ*রাইল রাজি হয়েছে? কেন এত ই*জ*রাইলিকে প্রাণ দিতে হলো? কী পেল এই যুদ্ধ থেকে ই*জ*রাইল?

ই*জ*রাইলের বিরোধী দলের নেতা কিছুক্ষণ আগে বলেছে

- এই সিদ্ধান্ত ই*জ*রাইলের জন্য একটি রাজনৈতিক বিপর্যয়।

নে*তা*নিয়াহু আর কয়দিন পর হওয়া নির্বাচনের পর আর থাকতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। যেখানে ই*জ*রাইলিরা আজ বিক্ষোভ করছে। একে-অপরকে দোষারোপ করছে। সেখানে এত আঘাতের পরও ইরানের প্রতিটা রাস্তায় মানুষ নেমে এসেছে আনন্দ মিছিল করতে।

কীভাবে ইরানের বিজয় হয়েছে জানেন?

- অ্যামেরিকার কংগ্রেস এবং সিনেটের সদস্যরা এখন ট্রা*ম্পকে দোষারোপ করছে এবং ওর অপসারণ দাবি করছে।

ট্রা*ম্পের দলেরও নিশ্চিত ভাবে ভরাডুবি হবে এই নভেম্বরের নির্বাচনে।আরও কীভাবে বুঝবেন ইরানের বিজয় হয়েছে? স্রেফ কিছু প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে নিন

- অ্যামেরিকা এই যুদ্ধের প্রথম দিন বলেছিল, ইরানের সরকার উৎখাত করাই এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য। হয়েছে ইরানের সরকার পতন?

উত্তর হচ্ছে - হয় নাই। এক খামেনি গিয়ে আরেক খামেনি এসেছে।

- এরপর না পেরে অ্যামেরিকা-ই*জরাইল বলেছে- না সরকার পতন না । আমরা ওদের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে চাই। হয়েছে ধ্বংস?

উত্তরটা সহজ। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয় নাই। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ঠিকই আছে।

- কোন কিছু না পেরে এরপর অ্যামেরিকা বলেছে, আমাদের শর্ত না মানলে ইরানকে প্রস্তর যুগে নিয়ে যাওয়া হবে। ওদের সভ্যতাই ধ্বংস করে দেয়া হবে । হয়েছে?

হয় নাই । ইরান আগের চাইতেও শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরানের রাস্তায় রাস্তায় এখন মিছিল হচ্ছে। সব কিছুই চলছে আগের মত।

অনেক আগে থেকেই বলে এসছি- এই যুদ্ধের টার্ম এখন ঠিক করছে ইরান। হয়েছেও সেটাই। ট্রা*ম্পের গতকাল বেঁধে দেয়া টাইম-লাইন শেষ হবার ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে সে যখন দেখেছে - ইরান তো শর্ত মানবে না। তখন সে ঘোষণা করেছে

- আমরা দুই সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতিতে যাচ্ছি।

আপনাদের জানিয়ে রাখি এই সকল কিছুই আমি লাইভে দেখেছি । ইরানের টেলিভিশনে যখন ঘোষণা করা হয়; সেই ঘোষণায় বলা হয়েছে

- ইরান এই যুদ্ধে জিতে গেছে। অ্যামেরিকা আমাদের দেয়া ১০ দফা শর্ত মেনে নিয়েছে।

এই ১০ দফার সবগুলো আপনাদের না জানলেও চলবে। মূল বিষয়গুলো শুধু জানিয়ে রাখি। এখানে বলা হয়েছে

এক, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। দুই , ইরান আবার আক্রান্ত হবে না, এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।তিন, ইরানের বিরুদ্ধে সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। চার, ইরান এবং ওমান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং টোল নিবে।

অর্থাৎ ইরান আগের চাইতেও সমৃদ্ধ হবে। আগের চাইতে আরও বেশি অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক থেকে এগিয়ে যাবে। কারন ইরানে আর কোন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। অনেকেই হয়ত ভাবছেন- দুই সপ্তাহ পর যদি অ্যামেরিকা আবার আঘাত করে?

আপনাদের সুবিধার জন্য আমার নিজের যুক্তি তুলে না ধরে অ্যামেরিকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মার্সেইমার কিছুক্ষণ আগে আল-জাজিরাকে যা বলেছেন; সেটাই বলি। তিনি বলেছেন

- অ্যামেরিকা যদি দুই সপ্তাহ পর আবার ইরানে আঘাত করে। তাহলে অ্যামেরিকা এখন তো তবুও মুখ দেখাতে পারছে । এরপর আর মুখই দেখাতে পারবে না। কারণ অ্যামেরিকার হাতে এমন কোন ম্যজিক নেই যে, দুই দপ্তাহ পর অ্যামেরিকা আরও শক্তিশালী হয়ে ইরানকে আঘাত করতে পারবে। হরমুজ প্রণালি খুলার সাধ্য পৃথিবীর কোন সামরিক শক্তির নেই।

এটাই বাস্তবতা। একটা জাহাজে যদি আঘাত করা হয়। বাকি জাহাজগুলো আর সে জায়গা দিয়ে যেতে চাইবে না। কারণ ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলো রাজি হবে না। আমি গত ৩৯ দিনে বেশ কয়েকবার লিখেছি

- অ্যামেরিকা ও ই*জ*রাইল মিলিটারি (সামরিক) দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকলেও Strategic (কৌশলগত) দিক থেকে পিছিয়ে। আর একটা যুদ্ধ আপনি কোন দিনও সামরিক ভাবে জিততে পারবেন না। সেটা হলে তো ভিয়েতনাম যুদ্ধেও অ্যামেরিকা জিতে যেত।

অ্যামেরিকার সাম্রাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে আর কাজ করবে না। সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকার সাথে সাথে ই*জ*রাইল এবং ওদের দোসর বুর্জোয়া আরবদেরও আজ পরাজয় হয়েছে।

হ্যাঁ, ইরান এই যুদ্ধে জিতে গেছে। শুধু ইরান না , ইরানের সাথে সাথে আমাদের মত পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানুষদেরও আজ বিজয় হয়েছে।

মেহদি হাসানের সাথে সাক্ষাৎকারে "প্রফেসর" জিয়াং তার তিনটা নতুন ভবিষ্যদ্বাণীর কথা বলেছেন। যদিও এক্সাক্টলি নতুন না, কারণ তা...
30/03/2026

মেহদি হাসানের সাথে সাক্ষাৎকারে "প্রফেসর" জিয়াং তার তিনটা নতুন ভবিষ্যদ্বাণীর কথা বলেছেন। যদিও এক্সাক্টলি নতুন না, কারণ তার ভিডিওগুলোতে তিনি এগুলো আগেই বলেছেন, কিন্তু এখানে আবারও পরিষ্কার করেছেন।

তার আগে বলে রাখি, ২০২৪ সালে তিনি যে তিনটা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেগুলো হচ্ছে:

১। নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভ করবে
২। জয়লাভ করার পর সে ইরান আক্রমণ করবে
৩। ইরান যুদ্ধে সে পরাজিত হবে

১ এবং ২ অলরেডি সত্য হয়েছে। এবং বাস্তবে যদিও ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু অবজেক্টিভ এবং পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজির কথা চিন্তা করলে এই যুদ্ধ থেকে আমেরিকার "জয়ী" হয়ে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং বলা যায় তৃতীয়টাও সত্য হদে যাচ্ছে।

এখন মেহদি হাসানের প্রশ্নের জবাবে ২০২৬ সালের জন্য তিনি নতুন তিনটা ভবিষ্যদ্বাণী করেন। সেগুলো হচ্ছে:

১। আমেরিকা ইরানে স্থল অভিযান চালাবে। যদিও সেই স্থল অভিযানে গিয়ে আমেরিকা ফেঁসে যাবে। এবং তাদেরকে ন্যাশনাল ড্রাফট চালু করতে হবে। ন্যাশনাল ড্রাফট মানে হচ্ছে নাগরিকদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে যুদ্ধে পাঠানো।

২। আমেরিকা বা ইসরায়েল ইরানে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করবে না। পারমাণবিক বোমা সম্পর্কিত যত আলোচনা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো জাস্ট ভয় দেখানোর জন্য।

তবে সবচেয়ে ডেঞ্জারাস হচ্ছে তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী। তিনি বলেছেন:

৩। এই যুদ্ধের কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। 😥😥😥

29/03/2026

ইরানের দুটো মিসাইল আজ সরাসরি ই*জ*রাইলের বারসেবা শহরে আঘাত হেনেছে। এটি ই*জ*রাইলের একটি শিল্পাঞ্চল। প্রথমে ই*জ*রাইলের সেনাবাহিনী ঘটনাটা লুকাতে চেয়েছিল। কিন্তু আগুন আর ধোঁয়া এত পরিমাণ বেড়ে গেছে যে, চাইলেও আর লুকাতে পারেনি।পুরো শহরটি অচল হয়ে গেছে। সেখান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কারণ মুহুর্মুহু কেমিক্যাল বিস্ফোরণ ঘটছে।

ইরান গতকালই জানিয়ে রেখেছিল

- তোমরা যেহেতু আমাদের শিল্পাঞ্চলে আঘাত করছো। আমরাও তোমাদের শিল্প ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেব।

পুরো পৃথিবীকে ইরান তাক লাগিয়ে দিয়েছে ওদের মিসাইল ক্ষমতা দিয়ে। বলে-কয়ে ই*জ*রাইলের একের পর এক শহরের স্থাপনাগুলো ওরা ধ্বংস করে দিচ্ছে। আইরন ডোম কাজই করছে না। ওদের একটা মিসাইল গন্তব্যে পৌঁছে ক্লাস্টার আকারে একাধিক মিসাইলে পরিণত হচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ক্ষয় ক্ষতি করছে। যেমনটা সামরিক বিশেষজ্ঞ ম্যাক গ্রেগর একটু আগে বলেছেন

- Americans don't have any answers against these. (অ্যামেরিকানদের এই মিসাইল ঠেকানোর কোন উত্তর জানা নেই)

শুধু ই*জ*রাইলে নয়। আবুধাবি এবং বাহরাইনে অবস্থিত পৃথিবীর সব চাইতে বড় অ্যালুমেনিয়াম প্ল্যান্ট ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। গতকাল অ্যামেরিকা এবং ই*জ*রাইল মিলে তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আঘাত করেছিল। আজ ইসফাহান শহরে থাকা আরেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আঘাত করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে

- কেন এরা ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে?

উত্তরটা খুব সহজ। অ্যামেরিকার ধারণাও ছিল না- ইরানিরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে কতটা এগিয়ে গেছে। এখন যখন বুঝতে পেরেছে। তাই ওদের জ্ঞান অর্জনের জায়গাগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। তবে ইরান বসে থাকেনি। কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে ঘোষণা এসেছে

- ই*জ*রাইলের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় এখন ইরানের বৈধ টার্গেট।

ধারণা করছি আজ কিংবা আগামীকাল তেল আবিবে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্বলতে দেখা যাবে।

এছাড়া ইরান একটু আগে ঘোষণা করে বলেছে

- মধ্য প্রাচ্যে থাকা অ্যামেরিকান সকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানুষজনকে সরে যেতে হবে।

হয়ত সেখানেও ইরান আঘাত করবে। আপনাদের জানিয়ে রাখি- সৌদি , কাতার এইসব দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই অ্যামেরিকার কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা। এদিকে আল জাজিরাকে দেয়া এক এক্সকুলসিভ ইন্টার্ভিউতে ইরানের মুখপাত্র আজ বলেছেন

- আমরা আমাদের শর্ত জানিয়ে দিয়েছি। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পূরণ দিতে হবে, হরমুজ প্রণালিও আমাদের দখলে থাকবে।নইলে এই যুদ্ধ বন্ধ হবে না।

অর্থাৎ যুদ্ধের টার্ম এখন ইরানের হাতে এটি পরিষ্কার। কিন্তু ট্রা*ম্প তো এটা মানবে বলে মনে হচ্ছে না। আজ এর মাঝেই প্রায় ৫০০০ সৈন্য মধ্য প্রাচ্যে পৌঁছে গেছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি গতকাল রাতে বলেছিলেন

- শনিবার রাতে অ্যামেরিকা ইরানের কয়েকটা দ্বীপ দখলে নিতে পারে।

সেটা হয়নি। যদিও অধ্যাপক মারান্ডি এরপর বলেছেন

- যদি ওরা দখলে নেয়; তাহলে অ্যামেরিকা কষ্ট করে নিজেরাই নিজেদের কবর রচনা করবে।

অর্থাৎ দখল হয়ত করতে পারবে কিন্তু টিকে থাকতে পারবে না। ইরানের মিসাইলগুলো তখন এক সঙ্গে থাকা অনেক অ্যামেরিকার সৈন্যকে খুব সহজে টার্গেট করতে পারবে। আমার ধারণা ম্যানিয়াক ট্রা*ম্প ছোট কয়েকটা দ্বীপ দখল করে দেখাতে চায়

- দেখো আমরা ইরান দখল করেছি। আমরা জিতে গেছি।

কিন্তু এভাবে কি অ্যামেরিকা আদৌ জিততে পারবে? ইরানের প্রেসিডেন্ট আজ আবার বলেছেন

- আমরা জানি অ্যামেরিকা স্থল অভিজান পরিচালনা করবে। আনন্দের সাথে ওদের অপেক্ষায় আছি।

চিন্তা করা যায়! এই যুদ্ধের মাঝেও তিনি বলেছেন- আমরা আনন্দের সাথে ওদের অপেক্ষায় মাছি। অবশ্য এর কারণও আছে। অ্যামেরিকা এবং তাঁদের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলো ১৯৯১ সালে যখন ইরাকে প্রবেশ করে। তখন ওদের মোট সৈন্য সংখ্যা ছিল সাড়ে সাত লাখ। এর মাঝে অ্যামেরিকান সাড়ে পাঁচ লাখ; বাদ বাকিগুলো ব্রিটিশ এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সৈন্য।

মার্কিন অধ্যাপক মার্সেইমার আজ বলেছেন

- ইরাক হচ্ছে ইরানের চার গুণ ছোট একটা দেশ। জনসংখ্যা ইরানের চাইতে অনেক কম। ইরাক ভৌগলিক ভাবে অনেক সহজ দেশ। ইরান অনেক দুর্গম একটা দেশ। ইরাকে আক্রমণ করার আগে ছয় মাস অ্যামেরিকার সৈন্যদের মধ্য প্রাচ্যে বিল্ড-আপ করতে হয়েছে। তারপর প্রবেশ করেছে। এরপরও পারে নাই। ইরানে পারার তো প্রশ্নই আসে না।

আপনাদের জানিয়ে রাখি- ইরাক যুদ্ধে অ্যামেরিকার পরাজয় হয়েছে বলে খোদ ট্রা*ম্প নিজে স্বীকার করেছে। একাধিক বার বলেছে। আর ব্রিটিশরা তো সকাল-বিকাল বলে বেড়ায়

- ইরাকে আক্রমণ করা আমাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

এ জন্যই এবারের যুদ্ধে ইউরোপের কোন দেশ জড়ায়নি। অ্যামেরিকার সাবেক কর্নেল ডেভিস, যিনি নিজেও ইরাক যুদ্ধে গিয়েছেন। তিনি কিছুক্ষণ আগে বলেছেন

- সাড়ে সাত লাখ সৈন্য নিয়ে ইরাকের সাথেই আমরা পেরে উঠি নাই। তখন আমাদের পরিকল্পনা ছিল, লক্ষ্য স্থির ছিল। আর ইরানে তো আমরা শুধু বিমান হামলা করে সরকার উৎখাত করার পরিকল্পনা করেছিলাম। স্থল অভিজানের কোন উদ্দেশ্যই ছিল না। এখন এই ৫/৭ হাজার সৈন্য নিয়ে অ্যামেরিকা কী করবে?

তিনি এরপর প্রশ্ন করেছেন

- আমাদের সৈন্যগুলোকে কেন মরতে পাঠানো হচ্ছে?

এর মাঝেই গতকাল অ্যামেরিকার অনেক শহরে ট্রা*ম্পের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ সমাবেশ করেছে। কঠিন বিধিনিষেধ থাকার পরও কিছু সংখ্যক ই*জ*রাইলিরাও রাস্তায় নেমে মিছিল করা শুরু করেছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি এখনও বন্ধ। আগামীকাল সোমবার (বাংলাদেশে না হলেও পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে সপ্তাহের প্রথম দিন) তেল-গ্যাসের দাম নতুন করে অনেক বেড়ে যাবে বলে প্রায় সকল বোদ্ধারা বলছেন। আজ তো থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের এক চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন

- ইরানের যে কোন শর্ত আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত। তবুও হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমাদের জাহাজ চলাচল করাতে চাই।

এর আগে থাইল্যান্ডের একটা জাহাজ অ্যামেরিকার কথা শুনে পার হতে চেয়েছিল। ওই জাহাজ ইরানের মিসাইলের আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে। তাহলে থাই প্রধানমন্ত্রী এখন অ্যামেরিকাকে ছেড়ে দিয়ে ইরানের শর্ত মানতে চাইছে কেন?

- কারণ আর কিছুই না। থাইল্যান্ডে এর মাঝেই সরকারের বিরুদ্ধে নানান সব আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে ওদের অনেক সমস্যা হবে। অ্যামেরিকা ওদের সরকারকে বাঁচাতে পারবে না। থাইল্যান্ডও এটা বুঝে গেছে।

অ্যামেরিকা আর ই*জ*রাইল যুদ্ধ শুরু করে ঘোষণা দিয়েছিল

- আমরা ইরানের সরকার উৎখাত করতে চাই। এটাই আমাদের যুদ্ধের উদ্দেশ্য।

সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা এখন আর সরকার উৎখাতের কথা মুখেও আনছে না। কারণ ইরানের সরকার উৎখাত করা তো দূরের কথা। এখন ট্রা*ম্প আর নে*তা*নিয়াহু এই যুদ্ধের পর সরকারে টিকে থাকতে পারবে কিনা এটাই একটা বড় প্রশ্ন। ওরা নিজদের গদি বাঁচাতে ব্যস্ত এখন।

ইরান যুদ্ধের ঠিক ৩০ দিন হলো আজ। এই যুদ্ধ নিয়ে আমার নিয়মিত সিরিজ লেখারও ৩০ দিন; মানে এক মাস হলো। ইরান এখনও টিকে আছে। ওদের মিসাইলগুলো এখনও দিব্যি ই*জ*রাইল এবং মধ্য প্রাচ্যে আঘাত করে চলেছে। আপনি কি কোন দিন ভাবতে পেরেছিলেন

- ই*জ*রাইলের শহরগুলো এভাবে মিসাইলের আঘাতে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে?

যারা ভেবেছিল ৩ দিনে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। ৩০ দিন পর এসে সেই অ্যামেরিকা এখন অফ র‍্যাম্প (বের হবার) পথ খুঁজছে।

কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা নিজেদের পথ অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে। এখন যদি পথ খুঁজে পেতে চায়; ওই পথ অ্যামেরিকা নয়; ইরানই তৈরি করবে।

26/03/2026

ইরান, অ্যামেরিকার দেয়া ১৫ দফা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে

- এইসব প্রস্তাব অবাস্তব এবং মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই ১৫ দফা প্রস্তাবে অনেক কিছু আছে; এর মাঝে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে

- হরমুজ প্রণালি ইরান দখলে রাখতে পারবে না।
- ইরানকে তাঁদের মিসাইল প্রযুক্তি থেকেও সরে আসতে হবে!

ইরান কোন দিনই এটা মানবে না। এতে ওদের সর্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই ১৫ দফা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ইরান নিজেদের ৫ দফা প্রস্তাব জানিয়ে দিয়েছে । সেখানে আছে

- যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
- হরমুজ প্রণালি ইরানের দখলে থাকবে।
- দেশগুলোকে গ্যারেন্টর হিসেবে থাকতে হবে এবং
- এই অবৈধ যুদ্ধ শুরু করার জন্য অ্যামেরিকা এবং এর মিত্র দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এদিকে কিছুক্ষণ আগে অ্যামেরিকার হাউজ স্পীকার বলেছেন

- ইরান যুদ্ধ আমরা গুটিয়ে আনছি।

মানেটা কী? তাহলে কি ইরানের প্রস্তাব মেনে নেবে? আমার তো সেটা মনে হয় না। বরং আমার মনে হচ্ছে- ওরা ইরানে শেষ একটা চেষ্টা করবে। কারন মধ্য প্রাচ্যে আজও অ্যামেরিকান দুই হাজারের বেশি সৈন্য পৌঁছেছে। অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলোও পৌঁছে গেছে। কেন এইসব জড় করছে?

শুক্রবার আসতে আর দুই দিন বাকি। তখন সপ্তাহ শেষ হয়ে যাবে। ট্রা*ম্পের বেঁধে দেয়া পাঁচ দিনের আল্টিমেটামও শেষ হবে। ইরান যদি এর মাঝে অ্যামেরিকার দেয়া প্রস্তাব না মানে; তাহলে ট্রা*ম্প হয়ত ইরানে শেষ একটা আঘাত হানবে। কারণ এই মাত্র ট্রা*ম্প বলেছে

- ইরান যদি আমাদের শর্ত মেনে না নেয়; ইরানে নরক নেমে আসবে।

অবশ্য এই কথা এর মাঝে দশবার বলে ফেলেছে ট্রা*ম্প! এদিকে অ্যামেরিকান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ম্যাকগ্রেগর আজ বলেছেন

- আমাদের সৈন্যরা যদি ইরানের কোন দ্বীপ কিংবা প্রপারে নামে। একটাও বেঁচে ফিরতে পারবে না। সবগুলোকে বডি ব্যাগ হয়ে ফেরত আসতে হবে।

আপনাদের জানিয়ে রাখি, এই কর্নেল নিজেই ইরাক যুদ্ধে অ্যামেরিকার হয়ে অংশ নিয়েছে। তিনি বলেছেন

- ইরান যেই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সেটা ওদের সম্পূর্ণ নিজের। পশ্চিমা বিশ্বের কারও ধারণাই ছিল না, ওরা প্রযুক্তিতে এত এগিয়ে থাকতে পারে।

যেই ইরানকে ধ্বংস করে দেয়ার কথা বলে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যেই ইরানের সরকারকে উৎখাত করে দেয়ার কথা বলে ওরা হামলা করেছিল। সেই সরকারের সাথেই এখন ওরা কথা বলছে। এটাও ইরানের জন্য অনেক বিশাল বিজয়। তাহলে অ্যামেরিকা এখন কী করবে?

এই শুক্র-শনিবারটা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইরানে কিন্তু অ্যামেরিকার হামলা অনেক কমে এসেছে। অন্য দিকে ই*জ*রাইলে ইরানের মিসাইল হামলা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই লেখা যখন লিখছি; তখনও তেল আবিব এবং হাইফায় ইরানের মিসাইল সরাসরি আঘাত হেনেছে। এদিকে চীন তাঁদের নাগরিকদের ই*জ*রাইল থেকে সরে যেতে বলেছে। কেন বলেছে?

-কারণ সেখানে এখন আর কারও নিরাপত্তা নাই। ইরানের মিসাইল যে কোন জায়গায় আঘাত করতে পারছে।

এই শুক্র-শনিবার যদি ইরান নিজের শক্তি দেখিয়ে টিকে থাকতে পারে। তাহলে ট্রা*ম্প চাইলেও আর এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না। কারণ অ্যামেরিকায় তেলের দাম এরপর অনেক বেড়ে যাবে। পৃথিবীর অনেক দেশে তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। অনেক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না। তখন ইরানকে আর কিছু করতে হবে না। পৃথিবীর অন্য দেশগুলোই অ্যামেরিকাকে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করবে। ট্রা*ম্পের কিছুই করার থাকবে না। কারন জগতের সকল সামরিক বিশ্লেষক একটা বিষয়ে একমত; সেটা হচ্ছে - অ্যামেরিকা সামরিক শক্তি দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখলে নিতে পারবে না কখনোই।

ইউরোপে এবং এশিয়ার দেশগুলো এর মাঝেই অ্যামেরিকা থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। জার্মানি তো বলে দিয়েছে

- অ্যামেরিকা ইরানে অবৈধ ভাবে যুদ্ধ করছে!

আর এটাই যদি সত্য হয় (অতি অবশ্যই সত্য); তাহলে সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকার প্রভাব পৃথিবীতে সেই অর্থে আর থাকবে না। দেশগুলো এর মাঝেই বুঝে গেছে- অ্যামেরিকা ওদের বাঁচাতে পারবে না। সমস্যার সমাধানও করতে পারবে না। কারণ অ্যামেরিকা নিজেই একটা সমস্যা।

19/03/2026

ট্রা*ম্প এক অর্থে প্রকাশ্য দিবালোকে সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে বলেছে - আমরা হেরে গেছি!

ইরান এমন হামলা করেছে কাতার, সৌদি আরব আর ই*জরা*ইলে যে, এখন ট্রাম্প বলছে- ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি! সে বলছে- ইরানের গ্যাস ফিল্ডে যে বো*মা ফেলা হয়েছে, অ্যামেরিকা নাকি কিছুই জানতো না। এরপর সে বলেছে

- ইরানে আর এমন হামলা হবে না, যদি ইরান আর হামলা না করে।

কথাটা সে ক্যাপিটাল লেটারে লিখেছে। অর্থাৎ খুবই গুরুত্ব দিয়ে লিখেছে। অথচ গতকালই সে বলেছিল

- ইরানের মিসাইল হামলার কোন সক্ষমতা নেই।

আসলে ইরানের গ্যাস ফিল্ডে হামলার কথা সে ঠিকই জানতো। যেটা সে জানতো না, সেটা হচ্ছে- ইরানের সক্ষমতা। এখন হেরে যাচ্ছে বলে, সব দায় ই*জরা*ইলের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

ইরান আজ রাতে বলে-কয়ে, ঘোষণা দিয়ে ওদেরকে মিসাইল হামলা করে উড়িয়ে দিয়েছে। অ্যামেরিকার সাম্রাজ্যবাদের পতনের কথাই খোদ দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রা*ম্প পোস্ট করে এক অর্থে ঘোষণা করেছে।

এই পোস্টের এক লাইনের তর্জমা হচ্ছে - আমরা হেরে গেছি। প্লিজ ইরান, আমাদের আর মেরো না। এখন পুরো যুদ্ধ ইরানের কোর্টে। ওরাই ঠিক করবে এই যুদ্ধের সকল টার্ম।

মেলায় মাছ ধরার অনেক পণ্য 🥰🥰
15/03/2026

মেলায় মাছ ধরার অনেক পণ্য 🥰🥰

সুন্দর আমার গ্রামের মেঠো পথ 🥰🥰
14/03/2026

সুন্দর আমার গ্রামের মেঠো পথ 🥰🥰

Address

Joypur

Telephone

+8801744173499

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MD Masud Rana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to MD Masud Rana:

Share