19/08/2025
প্রকৃতির প্রতিশোধ
একটি শিক্ষণীয় কল্পকাহিনী, সময় করে একবার পড়ুন…
সিনেমা হল থেকে বের হচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো! আমার এক ছাত্রী একজন ছেলের হাত ধরে বের হচ্ছে। চোখাচোখি হতেই মেয়েটা চমকে গেলো। আমি কিছু বললাম না, শুধু মাথা নিচু করে চলে গেলাম।
পরদিন যখন তার বাসায় পড়াতে গিয়েছিলাম, তার বাবা আমার শার্টের কলার চেপে ধরে জিজ্ঞেস করলেন,
— “তুমি এত সাহস কোথায় পাও, আমার মেয়েকে বাজে ইঙ্গিত দেওয়ার?”
আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম,
— “কিন্তু চাচা, এই কথাটা কে বললো?”
উত্তর এলো এক থাপ্পড় দিয়ে। তিনি বললেন,
— “তোমার ছাত্রীই বলেছে।”
আমি নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। শুধু ভাবলাম, শহরের মেয়েরা স্মার্ট হয় জানতাম—but এমন স্মার্ট?
আমার দোষ ছিলো, আমি ওকে হাতে-নাতে এক ছেলের সাথে দেখে ফেলেছিলাম। তাই নিজেকে বাঁচাতে, আমার নামে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে দিলো ওর বাবা-মার কাছে। যাতে আমি কিছু বললেও কেউ যেন আমার কথা বিশ্বাস না করে।
কয়েক মাস পরে সামাজিক মাধ্যমে একটা অনুচিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আমার সেই ছাত্রী এবং তার ‘বন্ধু’ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু একটা শান্ত মুচকি হাসি দিলাম...
আমি যে মেসে থাকতাম, সেখানে সবার অবস্থা ভালো, সবাই দামি মোবাইল ব্যবহার করে। একদিন আমার রুমমেটের ৪ হাজার টাকা হারিয়ে যায়। সবাই সন্দেহ করে আমাকে, কারণ আমি সেদিন একটা সাধারণ স্মার্টফোন কিনেছিলাম।
পাশের রুমের বড়ভাই সবার সামনে বললেন,
— “আমি নিজ চোখে দেখেছি, পিয়াস মামুনের ব্যাগে হাত দিয়েছে!”
আমি চুপচাপ রইলাম। কারণ, আমার পক্ষে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। কেউই শুনবে না।
আমি দোকানে গিয়ে ফোনটা ফেরত দিয়ে সেই টাকা আমার রুমমেটকে দিয়ে দিলাম।
‘চোর’ হয়ে সেই মেস থেকে আমি বের হয়ে আসি…
৫ মাস পরে, হঠাৎ সেই বড়ভাই আমাকে আবার ডেকে মেসে নিয়ে আসে। সবার সামনে তিনি বললেন,
— “পিয়াস, আমাকে ক্ষমা করে দিস ভাই। সেদিন তোর নামে মিথ্যে বলেছিলাম। আসলে টাকাটা আমিই নিয়েছিলাম।”
তাকে দেখে চমকে যাই—তার শরীর অসুস্থ। ক্যান্সার ধরা পড়েছে। মৃত্যু ভয়ের ছাপ মুখে স্পষ্ট।
আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে আবারো শান্তভাবে মুচকি হাসি দিলাম…
একদিন শ্রাবণী আমার মুখে পানি ছুঁড়ে মেরে বলেছিলো,
— “তোর মতো গরীব ছাত্র কীভাবে সাহস পায় আমাকে প্রেমের কথা বলার?”
সে আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল। কিন্তু জানলাম, বন্ধুত্বটা ছিল শুধু আমার কাছ থেকে ভালো নোট পাওয়ার জন্য।
তিন বছর পর, সেই শ্রাবণী এসেছিলো থানায়—আমার সামনে বসে কাঁদছে। কারণ তার স্বামী তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে।
আমি তখন এসআই পিয়াস। তার অভিযোগ আমি নীরবে শুনছিলাম এবং ডায়েরিতে লিখে রাখছিলাম।
এক পর্যায়ে সে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
— “সেদিন যদি তোর ভালোবাসা বুঝতে পারতাম, তাহলে আজ আমার কপালে এত কষ্ট জুটতো না...”
আমি কিছু বললাম না। শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে একটা গভীর অথচ শান্ত হাসি দিলাম।
যে হাসির অর্থ— জীবন কাউকে ছেড়ে দেয় না, প্রকৃতি সবার হিসাব জানে…
আজ খুব মনে পড়ছে—
মানুষ মানুষকে ভুল বুঝে ফেলে, মিথ্যে অপবাদ দেয়, অনেক সময় অন্যায়ের বিচার হয় না তখনই। কিন্তু প্রকৃতি সব দেখে… সময় হলে সে-ই একদিন প্রতিটা অন্যায়ের জবাব দিয়ে দেয়।
প্রকৃতির প্রতিশোধ থেকে কেউ রেহাই পায় না,
প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না।
আপনার চোখে যদি কখনো অন্যায়ের শিকার কেউ পড়ে, আগে নিশ্চিত হোন… কারণ সময় একদিন সত্যের পাশেই দাঁড়ায়।
#সংগৃহীত
#শিক্ষণীয়_গল্প
゚ ゚