কর্জে হাসানা সুদ মুক্ত ঋণ দানকারী সামাজিক সংগঠন। সুদমুক্ত সমাজ গড়া আমাদের লক্ষ্য।
করযে হাসানা ফাউন্ডেশন একটি অলাভজক সামাজিক সংগঠন যা ইসলামিক বিধী-বিধান দ্বারা পরিচালিত। এই সংগঠনের সদস্য হওয়ার আহব্বান করছি।
আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশঃ
১। সুধ মুক্ত সমাজ ও জাতি গঠন
২। দুস্থ,অসহায় ও সাধারন অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য প্রধান ও অর্থনৈতিক কাঠামো উন্নয়ন।
আমরা উন্নয়নশীল দেশের মানুষ তা
ই বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত। এই মানুষগুলো প্রায় সময়ই বিভিন্ন টানা পোড়ানে থাকে যার ফলে হঠাৎ কোন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপদে পড়লে প্রায় সময়ই টাকা পয়সা যোগান দেওয়া সম্ভব হয়না । এতে অনেক সময় আমরা প্রয়োজনের তাগিদে সুদ এর বিনিময়ে টাকা ধার নিয়ে আসি এবং বিভিন্ন সমস্যার সন্মুখীন হই ঠিক এর বিপরীতেই আমাদের সংগঠনের কাজ। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'এমন কে আছে যে আল্লাহকে করজ দেবে উত্তম করজ? অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাকে দ্বিগুণ ও বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন আবার তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।' (বাকারা : ২৪৫)। অন্যত্র এরশাদ করেন, 'তোমরা আল্লাহকে উত্তম পন্থায় ঋণ দিতে থাক, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের গোনাহ দূর করে দেব এবং অবশ্যই তোমাদের উদ্যানগুলোতে প্রবিষ্ট করব, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত।' (মায়িদা : ১২)। আরও এরশাদ করেন, 'নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদের দেয়া হবে বহুগুণ এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।' (হাদিদ : ১৮)। আল্লাহ তায়ালা অমুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত্বেও কেন ঋণ চাইলেন? বান্দাদের করজে হাসানা প্রদানের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমস্যার শিকার ব্যক্তিকে ঋণ প্রদান করা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাকে ঋণ দেয়ার মতো। মহানবী (সা.) এর ভাষ্য অনুযায়ী, দানের চেয়ে ঋণ প্রদানের গুরুত্ব বেশি। দানের সওয়াব ১০ গুণ আর ঋণ প্রদানের সওয়ার ১৮ গুণ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যখন কর্জে হাসানা সম্পর্কে কোরআন কারিমে আয়াত নাজিল হলো তখন হজরত আবু দারদা আনসারি (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দরবারে হাজির হয়ে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ তায়ালা কি আমাদের কাছে ঋণ চান? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ, তখন আনসারি সাহাবি বললেন, হুজুর! আপনার হস্ত মোবারক সামনে বাড়িয়ে দিন, আপনার হাতে হাত রেখে আমি একটি অঙ্গীকার করব। রাসুল (সা.) হাত বাড়িয়ে দিলেন। তখন হজরত আবুদ্দারদা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর হাত ধরে অঙ্গীকার করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আমার বাগান আল্লাহ তায়ালাকে করজ হিসেবে দিয়ে দিলাম। ওই বাগানে ৬০০ খেজুর গাছ ছিল এবং ওই বাগানে তার স্ত্রী-সন্তানও থাকত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দরবার থেকে উঠে নিজ বাগানে চলে গেলেন এবং স্বীয় স্ত্রীকে আওয়াজ দিয়ে বললেন, চল এই বাগান থেকে বের হয়ে এসো; এই বাগান আমি আমার রবকে করজ দিয়ে দিয়েছি। (তাফসিরে ইবনে কাসির)। আবু দারদা (রা.) এর দুইটি বাগান ছিল। তন্মধ্যে বাগানটিই ছিল তার নিকট খুব প্রিয়। যে বাগানে ৬০০ খেজুর গাছ ছিল এবং ওই বাগানে তার স্ত্রী-সন্তানও থাকত। এটিই তিনি স্বীয় রবকে করজ হিসেবে দিয়ে দিলেন। এসব ব্যক্তির প্রশংসায় আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তারা নিজেদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দেয়।' (সূরা হাশর : ৯)।
'কর্জে হাসানা' নামক আর্থিক ইবাদতটি সম্পাদন করলে সমাজের অবহেলিত ও দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষগুলো নিজ পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। জাতীয় উৎপাদনে তারা তাদের কর্মশক্তি নিয়োগ করতে পারবে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়েপড়া পরিবারগুলো শক্তি অর্জন করে অভাবের তাড়না থেকে মুক্তি পেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে যারা অসহায়ত্বের শিকার হয়ে সুদি ঋণ গ্রহণ করে তাদের সুদ নামক ভয়ানক অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে।