23/08/2026
তাং:২৩/০৮/২০২৬
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন এবং সর্বজনীন গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন।
আজ ২৩ আগস্ট ২০২৬ রবিবার জাতীয় ছাত্রদলের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে জেলা কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কামরুল হক লিকু। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির জেলা সভাপতি ফরিদা পারভীন, জাতীয় ছাত্রদলের জেলার যুগ্ম-আহ্বায়ক মধুমঙ্গল বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক সেঁজুতি শাকিলা, সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান টিটুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তরা বলেন, এ বছর জাতীয় ছাত্রদলের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে। জাতীয় মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের স্লোগান নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২৩ আগস্ট জাতীয় ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের উত্তরসূরী হিসেবে মোহাম্মদ সুলতান এবং শহীদ আসাদদের বিপ্লবী ধারার ছাত্ররাজনীতির উত্তরাধিকারী হিসেবে জাতীয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা হয়। সর্বজনীন গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা কায়েম করার জন্য প্রয়োজন শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা। সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালালপুঁজিপতি- এই তিন শত্রুদের উচ্ছেদ ছাড়া এ ধরণের জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাই জাতীয় ছাত্রদল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই তিন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইকে উর্দ্ধে তুলে ধরে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে জাতীয় মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্লোগান নিয়ে অগ্রসর হয়েছে।
সংগঠনের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা এমন এক সময়ে উদযাপন করছি, যখন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দখলদারিত্ব নিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও পেশিশক্তির মহড়া চলছে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ধ্বংস করে কিছু কিছু শিক্ষার্থীদের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা নতুন কিছু নয়। শিক্ষাঙ্গণে ছাত্রসমাজের যখন কর্তব্য হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের চাপিয়ে দেওয়া বাণিজ্যচুক্তি, সামরিক চুক্তিসহ জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলা, তখন প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক ছাত্রসংগঠনসমূহ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিক্ষাঙ্গণে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, সেশনজট, বেকারত্ব, গবেষণার অবনতি ও শিক্ষার মানের ক্রমাবনতির প্রশ্নগুলোকে আড়াল করে তাদের দলীয় বলয়ে আবদ্ধ রেখে অপরাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দেশীয় দালাল শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতকে বাজারের পণ্যে পরিণত করার নীতি বাস্তবায়ন করছে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি প্রত্যাহার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিকীকরণ এবং বৈষম্যমূলক শিক্ষা নীতির ফলে শিক্ষা আজ শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের সন্তানদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পর্কহীন, মুখস্থনির্ভর ও জনবিচ্ছিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা বেকারত্বকে ভয়াবহ আকারে বিস্তৃত করছে। জনগণের মুক্তির উপযোগী গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে শাসকশ্রেণির প্রয়োজনঅনুযায়ী অনুগত জনশক্তি তৈরির শিক্ষা ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী লগ্নি পুঁজি ও দালাল পুঁজি তথা তাদের স্বার্থরক্ষক স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বার্থে পরিচালিত হয়ে আসছে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। আর তাদের প্রয়োজনেই শিক্ষা কারিকুলাম, পাঠদান ও পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয়ে থাকে। আর এই শিক্ষা শুধু আত্মমর্যাদাহীন দাস মানসিকতা সৃষ্টি করেনি, বরং উগ্রবাঙালি জাতীয়তাবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা নির্ভর জীবনবোধের জন্ম দিচ্ছে। যা সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের শোষণকে আড়াল করে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র জনতার মধ্যে বিভ্রান্তি-বিভক্তি সৃষ্টি করছে।
ব্রিটিশ আমল থেকে উপমহাদেশের ছাত্রসমাজ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকার প্রয়োজনে মা, মাটির স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে অদ্যাবধি বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমাদের দেশের উপর আধিপত্য, নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে যতগুলো সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে সকল সরকারই সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদারী করে তাদের স্বার্থ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। অন্যদিকে দেশের শ্রমিক-কৃষক-জনগণের উপর শোষণ-নিপীড়ন দিন দিন তীব্র হয়েছে। শিক্ষা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হলেও এটিকে বাণিজ্যিকীকরণ করায় শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সন্তানরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারপরও অনেক প্রতিকূলতা ও কষ্ট করে যারা পড়াশোনা করে শিক্ষা শেষে তাদের চাকুরির নিশ্চয়তা নেই। প্রতিবছরই শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক এই বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে বার বারই ছাত্রসমাজ আন্দোলন করেছে, কিন্তু যে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী তা পরিবর্তন করা যায়নি। বরং ছাত্রসমাজের এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করে সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্ত দালাল ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে বিএনপি'র নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন সরকার অথবা জামায়াত-এনসিপি'র নেতৃত্বে কথিত বিরোধীদল কেউই এই চুক্তির বিরোধীতা করেনি। বরং প্রতিপক্ষ চীন সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবেলায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যে রণনীতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন সরকার তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। মার্কিন পরিকল্পনায় সৌদি আরবকে সামনে রেখে গঠিত 'মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স এলায়েন্স' জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়ে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার তৎপরতা চালাচ্ছে। অথচ দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন উর্দ্ধগতিসহ গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যায় মানুষের নাভিশ্বাস হওয়ার জোগাড়। ছাত্রসমাজের কাছে আজ জরুরি কর্তব্য হয়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদের সাথে সম্পাদিত জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল এবং জনগণের জরুরি সমস্যায় সোচ্চার হওয়া। একই সাথে শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ন্যায়সঙ্গত দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলাও ছাত্রসমাজের কর্তব্য। ছাত্রসমাজকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিভীষিকা ও বাংলাদেশকে এই অন্যায়যুদ্ধে সম্পৃক্ত করতে নানা চুক্তি ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তাই আসুন, জাতীয় ছাত্রদলের পতাকাতলে সংগঠিত হয়ে ছাত্রআন্দোলনকে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালালপুঁজি বিরোধী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করে অগ্রসর করি এবং একটি জাতীয় গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করি।
বার্তা প্রেরক
মধুমঙ্গল বিশ্বাস
যুগ্ম-আহ্বায়ক
জাতীয় ছাত্রদল
যশোর জেলা কমিটি
০১৭-৪৬১৮-৪৬৯১