23/08/2025
তাং:২৩/০৮/২০২৫
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসক-শোষকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সর্বজনীন ও গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজিবিরোধী ছাত্ররাজনীতির ধারাকে অগ্রসর করুন।
আজ ২৩ আগস্ট ২০২৫ শনিবার জাতীয় ছাত্রদলের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে যশোর ও খুলনা জেলা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া কার্যালয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দিলিপ বিশ্বাস। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মধুমঙ্গল বিশ্বাস। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস। আরও বক্তব্য রাখেন, খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা: কে. পি. সরকার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস, জাতীয় ছাত্রদলের যশোর জেলা আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, সদস্য আতিকুর রহমান জিহাদ, খুলনা জেলা কমিটির সদস্য শিউলি আক্তার, অভয়নগর থানা যুগ্ম-আবায়ক সাইফুল ইসলাম ইমন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানা সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন প্রমুখ। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন যশোর জেলা যুগ্ম-আহবায়ক নাইস হাসান কাশেম।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এ বছর জাতীয় ছাত্রদলের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে। জাতীয় মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের স্লোগান নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২৩ আগষ্ট জাতীয় ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের উত্তরসূরী হিসেবে মোহাম্মদ সুলতান এবং শহীদ আসাদদের বিপ্লবী ধারার ছাত্ররাজনীতির উত্তরাধিকারী হিসেবে জাতীয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা হয়। গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা কায়েম করার জন্য প্রয়োজন শ্রমিক-কৃষক-সৈনি-কদের বিপ্লবী একনায়কত্বে পরিচালিত রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান। সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজিপতি- এই তিন শত্রুদের উচ্ছেদ ছাড়া এ ধরণের জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাই জাতীয় ছাত্রদল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই তিন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে জাতীয় মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। সংগঠনের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা এমন এক সময়ে উদযাপন করছি যখন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গী-রনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সাথে বিদেশী শক্তির কাছে চট্টগ্রামের বন্দর ইজারা দেওয়ার অপতৎপরতা ও মিয়ানমার সীমান্তে মানবিক করিডোর বা চ্যানেল প্রদানের নামে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার তৎপরতা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের গঠণতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিবছর ছাত্রসংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং আবাসিক হল থেকে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত করার বিধান রয়েছে। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ব্যাপারে সরাসরি অংশ নিতে পারেন। তাদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসু-বিধা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার কারণে বেশির ভাগ সময়ে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি ছিল না। কিন্তু বিগত সময়ে দেখা যায়, নির্বাচন হলেও প্রচলিত স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ছাত্ররা গণতান্ত্রিক উপায়ে তার প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ পায় না। সরকারের পছন্দনীয় ব্যক্তিদের দিয়ে সাজানো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের নির্দেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে নির্বাচনে কারচুপি ও প্রভাব সৃষ্টি করেছে। যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে শিক্ষার্থীদের উপর বিভিন্ন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ পেয়েছে। এবারও বর্তমানে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আকাংখার চেয়ে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মদদপুষ্ট ছাত্র নেতৃত্বদেরকে ছাত্র সংসদে নির্বাচিত করে সাম্রাজ্যবাদের দালাল ক্ষমতাসীন সরকারের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে উপমহাদেশের ছাত্রসমাজ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকার প্রয়োজনে মা, মাটির স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে অদ্যাবধি বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমাদের দেশের উপর আধিপত্য, নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে যতগুলো সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে সবগুলো সরকার সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদারী করে তাদের স্বার্থ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। অন্যদিকে দেশের শ্রমিক-কৃষক-জন-গণের উপর শোষণ-নিপীড়ন দিন দিন তীব্র হয়েছে। শিক্ষা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হলেও এটিকে বাণিজ্যিকীকরণ করায় শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সন্তানরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারপরও অনেক কষ্ট করে যারা পড়াশোনা করে শিক্ষা শেষে তাদের চাকুরির নিশ্চয়তা নেই। প্রতিবছরই শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক এই বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে বার বারই ছাত্রসমাজ আন্দোলন করেছে, কিন্তু যে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী তা পরিবর্তন করা যায় নি। বরং ছাত্রসমাজের এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করে সাম্রাজ্যবাদের আরেক দালাল ড. ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে। এই সরকার একদিকে সংস্কারের নামে এদেশ থেকে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও নয়া-ঔপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী ভারতের সকল ধরণের প্রভাব ও জন্মদাগ মুছে দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ ও পরিকল্পনা কার্যকর করতে দেশের জনগণকে সংস্কার, বিচার ও জাতীয় ঐক্য ইস্যুতে ব্যস্ত রাখছে, অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশী কোম্পানির কাছে ইজারা দেয়া ও করিডর প্রদানের নামে দেশকে সামাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা হচ্ছে। দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী হিসেবে ছাত্রসমাজকে যখন এই তৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নির্বাচনের আমেজ তুলে দিয়ে ছাত্রসমাজকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে দূরে রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে। একই সাথে ক্যাম্পাসগুলিতে সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্র-জাতীয়তাবাদের রাজনীতির আওয়াজ তুলে দিয়ে ছাত্রদেরকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার ষড়যন্ত্র করছে। অত্যন্ত সুকৌশলে ক্যাম্পাসগুলিতে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো একদিকে বিরাজনীতিকরণের পক্ষে সাফাই গাইছে, অন্যদিকে পরিচয় আড়াল করে প্রতিটা ক্যাম্পাসে তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আজ জরুরি হয়ে উঠেছে প্রগতিশীল ও সচেতন ছাত্রসমাজকে এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থেকে সাম্রাজ্যবাদের অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত জাতি জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমাদের দেশেও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন অগ্রসর করা। তাই আসুন, জাতীয় ছাত্রদলের পতাকাতলে সংগঠিত হয়ে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালালপুঁজি বিরোধী আন্দোলন অগ্রসর করি এবং একটি জাতীয় গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করি।
অভিনন্দনসহ
বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
আহবায়ক
জাতীয় ছাত্রদল
যশোর জেলা কমিটি
০১৭-৩১২৫-৬৭৯৭