01/10/2018
প্রকৃতি ও পাখি প্রেমীদের জন্য জন্য আশার সংবাদ; পশুপাখিদের জন্য জয়পুরহাটে গড়ে উঠছে নীড় ঃ
জয়পুরহাটের পুরানাপৈল ইউনিয়নের ছোট হেলকুন্ডাতে পাখির অবাধ বিচরণের জন্য গড়ে উঠছে পশু পাখির অভয়ারণ্য যার নাম নীড়, জেলা প্রশাসক ইকো গার্ডেন।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) Waresh Ansary Limon এর উদ্যোগে ছোট হেলকুন্ডা গ্রামের জনমানবহীন জায়গার নির্মিত ইকো গার্ডেনে পাখিদের জন্য আছে নিরাপদ আবাস স্থল, বিশ্রাম স্থল। তাদের প্রাকৃতিক খাদ্য শৃংখল যেন বজায় থাকে সেই প্রচেষ্টা করা হয়েছে।ভূমি অফিসারের এই উদ্যোগে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন পুরানাপৈল ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান Khorshed Alam Shaikot.
অভয়াশ্রমে যাবার পথটিও নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে এর জন্যে গ্রামের বিভিন্ন জমির মালিকের সাথে আলাপ করে তাদের জমির মাঝখান দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রায় ৭০০ মিটার এ গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ক্ষেতের ফসল পরিবহনের জন্য ব্যবস্থা হওয়ায় গ্রামবাসীও উপকৃত হয়েছেন।
প্রায় ৫০০ বছরের অশ্বথ বৃক্ষ আশ্রয় হয়েছে প্রায় ১৭ প্রজাতির হাজার খানেক পাখির। ছায়া সুশীতল সবুজ বট বৃক্ষটির নিচ দিয়েই মূল অভয়ারণ্যে যেতে হয়। প্রায় ২.৫ বিঘা আয়তনের পুকুর ও পুকুর সংলগ্ন আরও ছয় বিঘা সম্পত্তিতে নির্মীয়মান বনভূমিতে পাখি ছাড়াও সেখানে বসবাসরত বিলুপ্তপ্রায় প্রাণি যেমন শিয়াল, সরিসৃপ বিষাক্ত / নির্বীষ সাপ, গুই সাপ, কাঠবিড়াল যেন নির্বঘ্নে জীবনযাপন করতে পারে এবং সেখানে অবস্থানরত সকল প্রাণির খাদ্যশৃংখল যেন বিঘ্নিত না হয় তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াস চলছে ।প্রাথমিকভাবে, পশূ-পাখিদের খাবারের সংস্থান উপযোগী বনজ-ফলদ বৃক্ষরাজি রোপণ, পশুপাখির জন্য সুপেয় পানির উৎস বজায় রাখা, এবং জলজ প্রাণি / জলজ উদ্ভিদ, প্লাঙকটন সৃষ্টি ও বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ।
পাখিদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগত পাখিদের বিশ্রাম ও বসবাসের জন্য আগ্রহ সৃষ্টির জন্য পাখির বাসা, গোসলের স্থান, বিশ্রামের জায়গা ইত্যাদি তৈরি ও সৃষ্টি করা হচ্ছে ।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওয়ারেছ আনসারী লিমন বলেন, "একদিন আমি জয়পুরহাটে থাকবো না, কিন্তু এই আবাসস্থল যেন আজীবন নিরাপদ থাকে সে জন্য জয়পুরহাটবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। অভয়ারণ্য তৈরিতে সবার অবদান থাকলেই সেটা সম্ভব হবে।প্রকৃতিপ্রেমী প্রত্যেকেই যেন অন্তত একটি গাছ নিজের হাতে লাগানোর জন্য এগিয়ে আসেন, তার নিজের বা পরিচিতের কাছে বন্দি একজোড়া পাখি বা অন্য কোন বন্য প্রানী এই মুক্তাঞ্চলে অবমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।"
ফটো কার্টেসি- আফসানা ফেরদৌস
তথ্য কার্টেসি - রবিউল ইসলাম