10/03/2026
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সর্বমহল থেকে একযোগে পুলিশ হ*ত্যার বিচারের দাবি উঠলেও সেটা ইতিমধ্যে ধামাচাপা দিয়ে দেয়া হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হিসেবে মামলা, গ্রেফতার, ক্ষতিপূরণ বা বিচার কোনটাই তারা করবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সন্দেহে নির্যাতনের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী, পিতৃহীন রাহিদ খান পাভেলের মাকে ক্রমাগত চাপ, হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় এমন ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত মব ভায়োলেন্সকে 'বিচ্ছিন্ন' ঘটনা বলে অপরাধ হালকা করে দায় এড়ানো ও অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
মানসিক প্রতিবন্ধী, অসহায় এতিম তোফাজ্জলকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে, তবে সেখানে প্রধান অভিযুক্ত বাকের মজুমদারের মতো আসামিদের নাম বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৭ মার্চ, অবৈধ ইউনুস গং স্টাইলেই ধানমন্ডি বত্রিশ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিলো। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওবং সেই ভাষণ বাজানোর অপরাধে ৩ জন ঢাবি শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী মিথ্য মামলায় জেল হাজতে।
ইউনুস গং যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান ঠিক আগের মতোই আছে এবং থাকাটা সম্ভবত অস্বাভাবিক নয়। যেই জ*ঙ্গি-সন্ত্রা*সীদের ম্যাসাকার ও দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের ফসল হিসেবে বিএনপি সমঝোতা-ভাগাভাগির নির্বাচনে ক্ষমতায় বসেছে, তারা সেই অপরাধীদের বিচার করবে বা করার চেষ্টা করবে, সেটা আশা করছেন কিভাবে? কোন যুক্তিতে?
যে দল ক্ষমতায় থেকে ২১ আগস্ট ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার পরিকল্পনা করতে পারে, সেই দলকে দিয়ে যদি প্রত্যেক বা পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের কিংবা নিজেদের ভঙ্গুর, সমন্বয়হীন সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত না করে, জনবান্ধব, তরুণ নেতৃত্ব দিয়ে টপ টু বটম সংগঠন পুনর্গঠন না করে যদি দেশী-বিদেশী কারো দয়া দাক্ষিণ্য, অনুকম্পা দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অলীক স্বপ্ন কেউ দেখে থাকেন, তারা স্রেফ ভুল, বিভ্রান্তি ও বোকার স্বর্গে বাস করছেন।
আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ওই দেশটা জন্ম দিয়েছে।
গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ এদেশে রাজনৈতিকভাবে সর্বাবস্থায় প্রাসঙ্গিক। অধিক আশাবাদী বা হতাশ না হয়ে কেবল সকল স্তরে নিজেদের সমস্যা, দুর্বলতা, প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সমাধান প্রচেষ্টা ও স্টেপ বা স্টেপ ঘর ঘোছানোর কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।
বাংলাদেশের ও মানুষের অত্যাবশ্যক প্রয়োজনেই আওয়ামী লীগকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং সেটা দলের আদর্শিক ও পরীক্ষিত নেতাকর্মী, সমর্থকদের আন্তরিক কর্মযজ্ঞ, সাংগঠনিক দক্ষতার উপর পূর্ণ আস্থা-ভরসা রেখে পরিপূর্ণ সাংগঠনিক প্রস্তুতির মাধ্যমেই। অন্যকারো ভরসায় নয়, আওয়ামী লীগ স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হোক; জ্বলে উঠুক আপন শক্তিতে।
© Golam Rabbani ভাই