হেরার আলো পাঠাগার

হেরার আলো পাঠাগার ইসলামিক পাঠাগার

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
হেরার আলো পাঠাগার একটি ইসলামিক পাঠাগার। সমাজের সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে ছড়িয়ে দেবার প্রত্যয় নিয়ে 2012 সালের 05 ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে এই পাঠাগার। সীমিত পরিসরে হলেও এই পাঠাগারের বিভিন্ন কার্যক্রম এলাকার ধর্মপ্রিয় মুসলমানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই পাঠাগারের নিয়মিত কার্যক্রম: প্রতিদিন আছর নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বই পড়ার ব্যবস্থা, প্রতিদিন ফজরের

পর কিশোর যুবক ও বয়স্কদের জন্যে কুরআন শিক্ষার আয়োজন ইত্যাদি। এই বয়স্ক কুরআন শিক্ষার আসরে অংশ নিয়ে ইতিমধ্যেই কেউ কেউ কায়েদা থেকে শুরু করে এখন নিজে নিজেই কুরআন শরীফ পড়তে পারছে। এটা এই পাঠাগারের সফলতার পথে একটা মাইলফলক হিসেবেই আমরা মনে করি। আল্লাহ এই উদ্যোগকে কবুল করুন।
বিগত রমজানে এই পাঠাগারের পক্ষ থেকে ‘যাকাত ফিতরা ও শবেকদর’ নামে একটি লিফলেট প্রচার করা হয়েছিল। এতে এ সংক্রান্ত জরুরী কয়েকটি মাসয়ালা লেখা ছিল। আমাদের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও চালু থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

হেরার আলো পাঠাগার কর্তৃক আয়োজিত ঈদ পরবর্তী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ⚽🤍ঈদের আনন্দকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করে তুলতে হেরার আলো পাঠ...
23/03/2026

হেরার আলো পাঠাগার কর্তৃক আয়োজিত ঈদ পরবর্তী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ⚽🤍

ঈদের আনন্দকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করে তুলতে হেরার আলো পাঠাগার একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছিল। এই খেলায় অংশগ্রহণের জন্য কিছু সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিলঃ

১.কেউ হাফ প্যান্ট পরে খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না; অবশ্যই হাঁটু ঢাকে এমন পোশাক পরিধান করতে হবে।
২.খেলায় অংশগ্রহণের আগে সবাইকে আসরের নামাজ আদায় করতে হবে এবং খেলা শেষে সবাইকে একসাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে হবে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি—
আমরা চাইলে আমাদের প্রিয় খেলাধুলা ও আনন্দের মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে পারি, আবার একই সাথে সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করে সুন্নাহ মেনেও চলতে পারি।

ধর্মীয় দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও খেলাধুলার আনন্দ—সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল একটি সুন্দর ও শিক্ষণীয় আয়োজন। ⚽🤍

01/07/2025

মুহাররম মাসের ফজিলত ও আমল।

06/06/2025
🎉 আজকের অনুষ্ঠানের এক বিশেষ মুহূর্ত 🎉আজকের অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে আমরা আয়োজন করেছিলাম একটি কুইজ প্রতিযোগিতা।...
05/06/2025

🎉 আজকের অনুষ্ঠানের এক বিশেষ মুহূর্ত 🎉

আজকের অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে আমরা আয়োজন করেছিলাম একটি কুইজ প্রতিযোগিতা। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো!

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দশজনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সেই আনন্দঘন মুহূর্তটি ছিল সত্যিই স্মরণীয় ও গর্বের।

📸 আজকের কিছু বিশেষ মুহূর্ত“আলোকিত তরুণ্য, আলোকিত সমাজ”হেরার আলো পাঠাগার কর্তৃক আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানটি ছিল আমাদের জন্য এ...
05/06/2025

📸 আজকের কিছু বিশেষ মুহূর্ত
“আলোকিত তরুণ্য, আলোকিত সমাজ”

হেরার আলো পাঠাগার কর্তৃক আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানটি ছিল আমাদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানে যারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন কিংবা পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন—আপনাদের সকলের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

আমরা বিশ্বাস করি, আলোকিত তরুণরাই গড়ে তুলতে পারে একটি আলোকিত সমাজ।

আপনাদের সহযোগিতা ও উপস্থিতি আমাদের ভবিষ্যতের পথচলায় অনুপ্রেরণা যোগাবে।

🗓️ তারিখ: ০৫ জুন ২০২৫
📍 আয়োজন: হেরার আলো পাঠাগার

চলছে,,,,হেরার আলো পাঠাগার কতৃক আয়োজিত, আলোকিত তরুণ্য আলোকিত সমাজ অনুষ্ঠান।
05/06/2025

চলছে,,,,
হেরার আলো পাঠাগার কতৃক আয়োজিত,
আলোকিত তরুণ্য আলোকিত সমাজ অনুষ্ঠান।

হেরার আলো পাঠাগারের কার্যক্রমকে আরো সমৃদ্ধ এবং সফল করার উদ্দেশ্যে, আজ শুক্রবার ফজরের পর পাঠাগারের সদস্যদের নিয়ে একটি আলো...
04/04/2025

হেরার আলো পাঠাগারের কার্যক্রমকে আরো সমৃদ্ধ এবং সফল করার উদ্দেশ্যে, আজ শুক্রবার ফজরের পর পাঠাগারের সদস্যদের নিয়ে একটি আলোচনা সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এ আলোচনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে পাঠাগারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেই বিশেষ মুহুর্তের স্থিরচিত্র।

25/01/2023

এক আরব শাইখের জীবনের সত্য ঘটনা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তার বাড়ি। একবার তিনি নিজ প্রয়োজনে সৌদির পাশের কোন এক দেশে গিয়েছিলেন।

প-শ্চি-মা সংস্কৃতির অনুকরণে অবৈধ আমোদ ফূর্তির জন্য সেখানে স্বতন্ত্র ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাত্রিবেলায় শহরের হোটেলগুলোতে নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা, ম-দ্য-পান আর গানবাজনার মেলা বসত।

শাইখ বলেন, 'আমি নিজের কাজ শেষে রাত্রিযাপনের জন্য একটা ঘর খুঁজছিলাম। না জেনেই এরকম অ-শ্লী-ল-তা-পূর্ণ একটা হোটেলে প্রবেশ করলাম।ওখানে যা দেখেছি, সেই নি-কৃ-ষ্ট চিত্র আমার জীবনে আর দেখিনি।

আমাকে দেখেই এক ভদ্র মুসলমান কর্মচারী দৌড়ে আসল। সে বললো, 'শাইখ! এই যায়গা আপনার জন্য না। দয়া করে এখানে প্রবেশ করবেন না।'

'হোটেল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে শুরু করলাম।সারাদিনের ছোটাছুটিতে শরীর বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। কোথায় যাবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না।কিছুদূর হেঁটে একটা পার্ক দেখতে পেলাম। সামনে চলার মতন শক্তি অবশিষ্ট ছিল না। তাই পার্কের বেঞ্চের উপরেই শুয়ে পড়লাম।'

'যোহরের পর আমার ফ্লাইট ছিল। তাই ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে একটা ট্যাক্সি নিয়ে সোজা এয়ারপোর্টে চলে আসলাম। ভেতরে একপাশে নামাজঘর দেখে সেখানে গিয়ে ফজর আদায় করলাম। এরপর ক্লান্তি কাটাতে আবারও সেখানে ঘুমিয়ে পড়ি। একঘন্টা পর একটা কান্নার আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙল। চোখ খুলে দেখলাম, একটা ২৫-২৬ বছর বয়সী যুবক। নামাজে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। এরকম কান্নাভরা আবেগী নামাজ আমি আগেও দেখেছি, তাই বেশি কিছু না ভেবে আবার চোখ বন্ধ করলাম। যোহর পর্যন্ত বিশ্রামের পর যখন চোখ খুললাম, দেখলাম সেই যুবক তখনো সালাতে দাঁড়িয়ে কেঁদেই যাচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর আমাকে উঠতে দেখে ছেলেটা আমার কাছে আসলো। দেখে মনে হচ্ছিল, সে অনেক বেশী ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত আর দু'তিনদিন ধরে হয়ত ঘুমায় নি। আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বললো, 'শাইখ! আপনি কি ঘুমোতে পারেন?'

আমি বললাম, 'হ্যাঁ! পারি।'
সে বললো, 'আমি ঘুমোতে পারছি না শাইখ! তিনরাত তিনদিন ধরে পাগলের মত এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছি। কিছু খেতে পাচ্ছি না, ঘুমোতে পাচ্ছি না, জীবন উপভোগ করতে পাচ্ছি না। ঘরে আর ফিরতে চাই না।'

এদিকে যোহরের সালাতের সময় হয়ে এসেছিল। তাকে বললাম, 'আমরা যোহরের পর কথা বলবো'। এরপর আমরা দুজনে যোহর আদায় করলাম। সেখানে আর কেউই ছিল না।

এরপর তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'কি হয়েছে বলো?' সে বললো, 'আমি আহমদ (ছদ্মনাম)। আমি বিবাহিত।আমার সন্তানও আছে। আমি অনেক বিত্তশালী এবং দ্বীনদার পরিবারের সন্তান। আমরা সবাই উদ্যোক্তা। আমাদের কারও কাজ করার প্রয়োজন হয় না কেননা আমাদের ইনকাম যথেষ্ট। আমাদের কাছে সবকিছুই আছে। কর্মচারী, চাকর-বাকর, দামী গাড়ি, ভালো খাবার ,যা কিছু আপনি ভাবতে পারেন - তার সব আমাদের আছে।'

'কিন্তু একটা সময় আমি নিজের এই আয়েশের জীবন নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লাম। আমার মনে হলো, মানুষের জীবনে কি আর কিছুই নেই? আমার আরও কিছু ট্রাই করা উচিত। আমার সব আছে, কিন্তু আমি নতুন কিছু ট্রাই করতে চাই।'

আমার ভাইয়েরা, এটা মূলত শয়-তানের একটা প্ররোচনা। সে এরকম অবস্থায় মানুষকে এসে বলতে থাকে, 'কেন তুমি নিজের স্বাভাবিক জীবন থেকে একটু বের হয়ে পৃথিবীটা দেখো না?' স্বাভাবিক জীবন থেকে বেরিয়ে আলাদা সময় অতিবাহিত করায় খারাপ কিছু নেই। কিন্তু এরপরেই শয়-তান এসে বলে, 'কেন তুমি এমন কিছু করছ না যেটা কখনোই কর নি? ইসলাম বলেছে, এটা হালাল ওটা হারাম। তুমি তো এতদিন হালালের সীমারেখার মাঝেই থেকেছ, তাই হয়ত জীবনটা তেতো হয়ে গিয়েছে। একটু হারাম ট্রাই করে দেখ না কেন?'

'বড় কিছু না হউক একটু ছোটখাটো পাপ করে দেখো কেমন লাগে। তোমার চারপাশে কত ছেলে-মেয়ে একসাথে সময় কাটাচ্ছে। ঘুরতে যাচ্ছে, জীবনকে নিজেদের মত করে উপভোগ করছে, তুমিও তাদের মত একটু করে দেখো না? অত বেশী গভীরে যাবার দরকার নেই, তবে সামান্য হাসি মজা তো করাই যায়। আর যা পাপ হবে তার জন্য ওমরাহ করে নেবে, তাহলেই সব মুছে যাবে।'

আহমদ বলল, 'শয়-তানের এই প্রতারণার ফাঁদে আমি পা দিয়ে ফেললাম। আমার নতুন কিছু করার দৃঢ় ইচ্ছা জাগল। কিন্তু আমি তো পরিবারের সাথে থাকি। সবার সামনে নিজের ইচ্ছা পূরণের সুযোগ হবে না। তাই এমন কোনো স্থানে যাবার পরিকল্পনা করলাম, যেখানে আমাকে কেউ দেখবে না, কেউ বাধা দিবে না। এভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসার কথা বলে ঘর থেকে বের হলাম। আর এই দেশে আসলাম যেটা আমরা কথা বলছি।'

'শাইখ! আমি বড় কিছু করার কথা কখনো কল্পনাও করিনি। চেয়েছিলাম ছোটখাটো দু'একটা পাপ করে সাথে সাথেই আবার তাওবা করে নেব। কিভাবে শুরু করব তা বুঝে ওঠার আগেই একদল উ-ন্মা-দ-দের সাথে আমার সাক্ষাত হলো। এতদিন শুধু দূর থেকেই তাদের আনন্দ-উল্লাস দেখতাম। আজ সেই উল্লাস আরও কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা জাগল। তাই তাদেরকেই নিজের সঙ্গী বানালাম।'

'তাদের সাথে পা-পে-র নতুন এক জগতে প্রবেশ করলাম। তারা নারীদের সাথে মেলামেশা করছিলো, ম-দ পান করছিল, গানের তালে নিজেকে ভাসিয়ে দিচ্ছিল। আমি শুধু বসে বসে দেখছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে আমার ভেতরের উত্তেজনাও প্রবল হতে লাগল, কা-ম-না-রা সীমা ছাড়িয়ে যেতে লাগল। এর প্রভাবে যেটা এতদিন আমার কাছে বড় পাপ মনে হত, এখন তা ক্ষুদ্র মনে হতে লাগল। যা এতদিন নিকৃষ্ট মনে হত, এখন সেটা স্বাভাবিক হয়ে গেল। একটা সময়ে আমি পাপের প্রতি পুরোপুরি অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়লাম। দিন-রাত আমাকে নিয়ে তার আপন গতিতে ছুটছিল। কিন্তু ওয়াল্লাহি! আমি তখনো মদ স্পর্শ করিনি। আমার চারপাশে জু-য়ার আসর বসেছিল, আমি জু-য়া খেলিনি।'

'এরপর আমাদের মাঝে কিছু না-রী-র আগমন ঘটল। আমার বন্ধুরা তাদের সাথে দুষ্টুমি শুরু করল। তারাও এতে সায় দিচ্ছিল। আমিও তাদের সাথে যোগ দিলাম। আমাকেও তারা প্রতিউত্তর করছিল। আমার বন্ধুরা সেই নারীদের সাথে রাত্রি যাপন করছিল। আর হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় ফিরে আসছিল। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের এই অপ-কর্মের দৃশ্য দেখছিলাম।'

'একদিন আমার পাশে এক সুন্দরী নারী এসে বসলো। দেখার সাথেই তার চেহারার প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়ে গেলাম। তার সাথে কথাবার্তা শুরু করলাম। কিন্তু একপর্যায়ে আমার নফস তার কা-ম-না-র পূর্ণতা চাইতে লাগল।'

একটা বিষয় জানা দরকার। মানুষের মস্তিষ্কের ভালো-মন্দ নির্বাচনকারী অংশকে প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স বলা হয়। কিন্তু কোনো কারণে যদি এটা ব্লক হয়ে যায় তাহলে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন সে নিজের আবেগ আর অনুভূতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, মানুষের কাম উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তার প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স ব্লক হয়ে যায়।

আহমদ বললো, 'আমার প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স ব্লক হয়ে নফসের কামনাগুলো আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে লাগল। সেই মুহুর্তে আমার সাথে কি হচ্ছিল আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে আমি আর সেই নারী একটা ঘরে প্রবেশ করলাম।'

কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ যেমন বলেছেন,
"কোনো পুরুষ একজন মহিলার সাথে নির্জনের মিলিত হলে তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয় শয়-তান।" [সহিহ বুখারী : ৩০০৬]

'শয়-তান আমাদের দু'জনকে একলা পেয়ে উত্তেজিত করতে থাকল। এভাবে আমরা পরস্পরের প্রতি পুরোপুরি আসক্ত হয়ে আল্লাহর সীমারেখা ভেঙ্গে নিজের উপর জাহান্নাম অবধারিত করার মাধ্যমে নিজের বাসনার পূর্ণতা দিলাম।'

'কিন্তু কাম-নার সাময়িক সুখ শেষ হবার পর যখন উত্তেজনা প্রশমিত হলো আর ঈমান ফিরে আসলো, আমার ভেতরে অনুশোচনা আর অপরাধবোধ প্রবল যন্ত্রণা সৃষ্টি করল। পায়ের তলার মাটি সরে গিয়ে নিজেকে অসহায় অবস্থায় পেলাম। মনে হচ্ছিল, আমি মাটিতে পড়ে যাবো। নিজের প্রতি এত বেশী ঘৃ-ণা হচ্ছিল যে মনে হতে লাগল, 'আমি যদি কখনো দুনিয়াতেই না আসতাম'।

নিজেই নিজেকে বলতে লাগলাম, 'এটা আমি কি করলাম? আমার পরিবারের কি হবে? আমার স্ত্রী-সন্তানের কি হবে? আমার আখিরাতের কি হবে? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাকে এর জন্য কখনোই ক্ষমা করবেন না। আমি কিভাবে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকব?'

'আমি চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলাম। সেই হোটেলের দরজায় এসে দেখলাম আমাদের একজন সঙ্গী। সে মূলত একজন অ-বৈ-ধ নারী ব্যবসায়ী। অর্থের নিনিময়ে সে নারী এনে দিত। আর তার এই ব্যবসার আমি একটা ক্রেতা ছিলাম। হায়! সে যদি শুধু আমার অর্থ নিয়ে নিত। সে যদি আমাকে জানাত যে আমার সাথে কি করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমিতো যি-নার মত কবীরা গুনাহ করে ফেলেছি। এখন আমি কি করব?'

সেই লোকটি আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাকে দেখে বললো, 'কি সমস্যা?'
আমি বললাম, 'আমি তো যি-না করে ফেলেছি। তুমি কি জানো এর পরিণতি কি?'
আমার দিকে ম-দের বোতল বাড়িয়ে ধরে সে বললো, 'কোনো ব্যাপার নাহ। এটা একটু চেখে দেখো। তাহলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে।'
আহমদ বললো, 'এতক্ষণ তো আমি জান্নাতের স্ত্রী পাওয়ার অযোগ্য হয়েছিলাম, এখন তুমি আমাকে জান্নাতের শরাব পান করা থেকেও বঞ্চিত করতে চাচ্ছ?'
সে শয়-তানের সুরে তাকে বললো, 'আল্লাহ তো দয়ালু ক্ষমাশীল। চিন্তা কর না।'

সে ভুলে গিয়েছিল আল্লাহ তায়ালা কঠিন শা-স্তিদাতা।সে ভুলে গিয়েছিল জাহান্নাম কতটা ভ-য়া-ব-হ। সত্তর হাজার ফেরেশতা দিয়ে যাকে সামলে রাখতে হয় তার ভেতরটা কত বেশী ভ-য়া-ন-ক।

আহমদ বললো, 'এরপর আমি ধা-ক্কা দিয়ে তাকে দূরে ঠেলে দিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসলাম। কিন্তু কোথায় যাবো তা জানা ছিল না। গৃহহারা ব্যক্তির মত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগলাম। তারপর থেকে আর কিছু খেতে পাচ্ছি না, ঘুমাতে পাচ্ছি না। শুধু কান্না আসছে। নিজেকে একটা আবর্জনার স্তুপ মনে হচ্ছে। আমি এই জগতে থাকার যোগ্যই না। আমি পৃথিবীর সবচাইতে নি-কৃ-ষ্ট মানুষে পরিণত হয়েছি। আমি আল্লাহর ক্ষমারও যোগ্য না।'

শাইখ তার দিকে তাকালেন। তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছিলাম না তাকে এখন কি বলবো? আমি কেবল এইসময়ে ক্ষমার বিষয়ে শ্রেষ্ঠ আয়াতের কথা মনে করতে পারলাম। এরপর তা তিলাওয়াত করলাম,

قُلْ يَٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا۟ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
[সূরা আয যুমার, ৩৯ : ৫৩]

কিন্তু এটা শোনার পরেও আহমদের অনুশোচনা কমলো না। সে বললো, 'এটা সত্য যে আল্লাহ সকলকে ক্ষমা করেন। কিন্তু আমাকে ক্ষমা করবেন না। আমি ক্ষমার যোগ্য না। আমার চারপাশে আলিমদের অভাব ছিল না। আমি এমন স্থানে জন্মেছি যেটা ইসলামের মূল কেন্দ্র। যেখানে আল্লাহর ঘর আছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ শুয়ে আছেন। আমি বিবাহিত। আমার সন্তানও আছে। আমি জানি কোনটা হালাল আর কোনটা হারাম।তারপরেও আমি এটা করেছি। আমি ক্ষমার যোগ্য না।'

শাইখ বলেন, 'এরপর আমার ফ্লাইটের সময় হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি চলে আসি। আর আসার সময় তার নাম্বার নিয়ে এসেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, এরকম অনেককেই তো দেখেছি। দুই এক সপ্তাহ পর সে এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।' কিন্তু প্রায় এক মাস পর আমি তার ফোন পেলাম। সে বললো, 'আমি আপনার সাথে মসজিদে দেখা করতে চাই।'

'আহমদ যখন আমার কাছে আসলো তার মধ্যে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। আগের মত আর কান্নাকাটি করছিল না, চেহারায় কোনো বিষণ্ণতা ছিল না। কিন্তু তার মধ্যে একটা ভ-য়ং-কর ব্যাপার ছিল। আমি তার চেহারার দিকে তাকালাম। মনে হলো, সে পুরোপুরিভাবে শূন্য।'

আমাকে আরও আশ্চর্য করে দিয়ে সে বললো, 'শাইখ আমি আপনাকে হ্যালো বলার জন্যে কল দেইনি। আমি আপনাকে বিদায় জানাতে এসেছি।'
আমি বললাম, 'কেন? তুমি কোথায় যাচ্ছ?'
সে বললো, 'আমি নিজেকে সৌদি সরকারের নিকট সোপর্দ করে দেবো। যাতে তারা আমার অপরাধের জন্য আমাকে পা/থ/র নিক্ষেপের শাস্তি দেয়।'

'তার কথা শুনে আমি চমকে উঠলাম। রীতিমতো ভ-য় পেয়ে গেলাম। তাকে আটকাতে চেষ্টা করলাম। তাকে বললাম, তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছ? তোমার সন্তান আছে, স্ত্রী, পরিবার আছে। আর আল্লাহ তায়ালা তো কাউকে স্বেচ্ছায় নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে বলেন নি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। এর থেকে মুক্তির আরও অনেক পথ খোলা আছে। আল্লাহ অসীম ক্ষমাশীল।'

আহমদ বললো, 'আমার স্ত্রী এবং সন্তান আমাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না। আমি শাস্তির যোগ্য। আমাকে যেতে দিন।। আমি শুধু আপনাকে ধন্যবান জানাতে এসেছি। জাঝাকাল্লাহ! আপনি আমাকে সাহায্য করতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন।'

'আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না। এটা ওটা বলে বোঝাতে চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তারপরেও সে বুঝতে চাইছিল না। এরপর তার চলে যাবার মুহুর্তে আমি বললাম - আহমদ! শোনো, চলো আমরা এমন একজন আলিমের কাছে যাই যাকে তুমি এবং আমি দুজনেই সম্মান করি এবং যার উপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা তাকে তোমার ঘটনা বলবো। তিনি যদি তোমাকে মৃ-ত্যু-র মুখে যাবার ব্যাপারে সম্মতি দেন, তাহলে আমি নিজেই তোমাকে নিয়ে যাবো। আমি তার কাছে এই ব্যাপারে অঙ্গীকার নিলাম। কেননা তার পালিয়ে যাবার সম্ভাবনা ছিল।'

এরপর আমরা সেই বড় আলিমের কাছে গেলাম। আর তিনি আমাদেরকে বললেন, 'তার জন্য নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া বৈধ নয়।' কিন্তু আহমদ এতে সন্তুষ্ট হয় নি। সে ফিরে আসার পর বারবার সেই আলিমকে ফোন দিয়ে বলতে লাগল, 'শাইখ! আপনি আমাকে যা বলেছেন তার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন ওয়াল্লাহি! কেয়ামতের দিন আমি আল্লাহকে বলবো, আমি নিজেকে শা-স্তি-র জন্য সরকারের কাছে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এই আলিম আমাকে যেতে দেন নি।' শাইখ আশ্চর্য হয়ে বললেন, 'আমি তো ইলমের বাইরে কিছুই বলিনি।'

এর কিছুদিন পর আহমদ আবার আমাকে ফোন দিল।সে বললো, 'আমি আপনার সাথে মসজিদে দেখা করতে চাই'।
আমি বললাম, 'এবার কি হয়ছে?'
সে বললো, 'আমি হজ্জে যেতে চাই।'
আমি খুশি হয়ে বললাম, 'চলো তাহলে একসাথে যাই।'
কিন্তু সে না করে দিয়ে বললো, 'না না! আমি একাই যাবো।'
আমি ভাবলাম সে হয় নিজের কোনো পছন্দের গ্রুপের সাথে যাবে।

আমরা দু'জনে আলাদা আলাদা হজ্জ্ব গেলাম। হঠাৎ শয়-তানকে পাথর নিক্ষেপের স্থানে দূর থেকে তাকে দেখতে পেলাম। দেখা মাত্রই আমি 'আহমদ, আহমদ' বলে ডাকলাম। কিন্তু সে আমাকে দেখা মাত্রই দৌড়ে পালাল।

হজ্জ শেষে আমাদের দেখা হলে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'আমাকে দেখে পালিয়ে গেলে কেন?'
সে বলল, 'শাইখ! কেন আপনি আমার সাথে দেখা করবেন? আপনারা পবিত্র মানুষ। কেন আমার মত অপবিত্র মানুষকে সঙ্গী বানিয়ে নিজের হজ্জ নষ্ট করবেন। আমি তো তখন ইস্তেগফারে ব্যস্ত ছিলাম। আপনি এখনও কেন আমার সাথে দেখা করছেন? আমাকে একলা ছেড়ে দিন...!'

সে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, 'কিছুসময় আমি সকল হাজিদের দিকে তাকিয়ে ভাবি, তারা সকলেই কত পবিত্র। আর এই নুরানী কাফেলায় আমার মত নিকৃষ্ট সত্ত্বাও আছে। আমার জন্যেই হয়ত আজ কারও হজ্জ কবুল হবে না। কিন্তু আবার কখনো মনে হয়, যদি এই পবিত্র মানুষগুলোর সাথে থাকার কারণে আমিও ক্ষমা পেয়ে যাই।'

এইটুকু পবিত্রতা নিয়ে আরও কিছুসময় অতিবাহিত হলো। এতদিনে আহমদ কুরআনের হাফেজ হয়ে গেছে। সে এখন একদিন পরপর রোজা রাখে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে মসজিদে উপস্থিত থাকে। বেশী বেশী দান সদকা করে। সারাক্ষণ যিকিরে মগ্ন থাকে। নিজের প্রত্যেকটা কাজকে হিসেব কষে কষে আল্লাহর ইচ্ছার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। সে আর কখনোই এত বেশী খুশি হয়নি।

কিছু বছর পর ~

একদিন মদিনা থেকে একজন বড় আলিম বক্তব্য দেয়ার জন্য আসলেন। তিনি তার বক্তব্যের একপর্যায়ে একটা ঘটনা বললেন। তিনি বলেন, রাবী ইবনু খুসাইম রহিমাহুল্লাহ নামক এক নেককার তাবেয়ী ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিআল্লাহু এর প্রিয় ছাত্রদের একজন। তার পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব, নিষ্কলুষ অন্তর আর ইবাদাতের একনিষ্ঠতা দেখে ইবনু মাসউদ (রা) আফসোস করতেন আর বলতেন : "হে আবু ইয়াযিদ! যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে দেখতেন, তবে অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসতেন। আমি তোমাকে যতবার দেখেছি, আমার কোরআনে বর্ণিত বিনয়ীদের কথা মনে পড়েছে।" [সিফাতুস সাফওয়া : ২/৩৪]

একবার একদল লোক রাবী রহিমাহুল্লাহর পদস্খলনের জন্য চেষ্টা করল। তারা ১০০ দিনারের বিনিময়ে শহরের সবচাইতে সুন্দর নারীকে ভাড়া করল। আর তাকে বললো, 'তোমার রাবী ইবনু খুসাইমকে চু-ম্ব-ন করতে হবে।' সেই নারী বললো, 'একশ দিনারের বিনিময়ে সামান্য এইটুকু!'

সে রাবী রহিমাহুল্লাহর জন্য পথের একপাশে অপেক্ষা করছিল। মাগরিবের সালাত আদায় করে তিনি যখন বাড়ি ফিরছিলেন সে চুম্বনের উদ্দেশ্যে তার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে নিজের রূপ প্রদর্শন করল। রাবী রহিমাহুল্লাহ চিৎকার দিয়ে বললেন, 'হায়! যদি তুমি এক ঘন্টা পর মৃত্যুবরণ কর তাহলে কালকে তোমার এই রূপের কি অবস্থা হবে? তুমি আল্লাহকে কি জবাব দিবে? তিনি তোমাকে রূপ আর সৌন্দর্য দান করেছেন আর তুমি তা হারামের পথে ব্যবহার করছ।'

নিজের মৃত্যুর কথা শুনে সেই নারী এমনভাবে প্রভাবিত হলো যে, সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেল। এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলো এবং আখিরাতে মনোযোগী হলো। আর রাবী রহিমাহুল্লাহর সেই নসীহতের বদৌলতে একটা সময়ে সে আবিদাতুল কুফা বা কুফার ইবদতগুজার নারীতে পরিণত হলো।

এই ঘটনা শুনে লোকেদের মাঝ থেকে একজন যুবক চিৎকার করে কেঁদে উঠে বললো, 'রা'বীয়া ইবনু খুসাইম সেই নারীকে ফিরিয়ে দিয়েছে আর আমি তার সাথে যি-না-য় লিপ্ত হয়েছি।'

'আমরা বুঝতে পারলাম এটা আহমদ ছিল। কিন্তু আমি কিভাবে জানব সে এখানে আছে! পূর্বে জানলে শাইখকে এই গল্প বলতে বারণ করতাম।'

'সময়ের আরও কিছু অংশ চলে গেল। অনেকদিন আহমদকে দেখি না। একদিন আমি একজন বড় আলিমের সাক্ষাত লাভ করলাম। তিনি আগের সবার থেকে বেশী প্রজ্ঞাবান এবং অধিক ইলমের অধিকারী ছিলেন। আমি ভাবলাম এই শাইখকেও আহমদের ব্যাপারটা জানিয়ে দেখি। যদি এবার অন্তত সেই অসহায় যুবকের জন্য একটা সমাধান পাওয়া যায়।'

সেই আলিম সমস্ত ঘটনা শুনে আমাকে বললেন, 'শাইখ! এর জন্য তো কুরআনে কত সুন্দর একটা আয়াত রয়েছে। আপনি তার কাছে যান আর তাকে বলুন।'
'কোন আয়াত টা?'
'আপনার কি সূরা ফুরকানের সেই আয়াতের কথা মনে নেই? যেখানে আল্লাহ বলেছেন,

وَٱلَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا،
يُضَٰعَفْ لَهُ ٱلْعَذَابُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِۦ مُهَانًا،
إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَٰلِحًا فَأُو۟لَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمْ حَسَنَٰتٍۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا،

"আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ই-লাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নাফসকে হ/ত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হ/ত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না। আর যে তা করবে সে আযাবপ্রাপ্ত হবে।"

"কিয়ামতের দিন তার আযাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে।"

"তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা ফুরকান, ২৫ : ৬৮-৭০]

'আমি এটা শুনে খুশিতে পাগলের মত হয়ে গেলাম।আমার আর তর সইছে না। কতক্ষণে আহমদকে এই বিষয়ে জানাবো। এটা এখন পর্যন্ত আমার শোনা শ্রেষ্ঠ সমাধান। কেন এতদিন এটা আমার মনে ছিল না!'

'আমি সাথে সাথেই মসজিদে গেলাম। আর দেখলাম, আহমদ প্রতিদিনের মত মিম্বারের সামনে নত মস্তকে প্রার্থনারত। তাকে দেখে আমি নিজেকে আর সামলে রাখতে পারলাম না। তাকে ডাকলাম, 'আহমদ, আহমদ' এর পর আর কিছু না বলেই নিজের হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা আর আবেগ দিয়ে সূরের সর্বোত্র সুন্দর তরঙ্গে সেই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলাম।

আমার তিলাওয়াত শেষ হলে আহমদ লাফ দিয়ে উঠল। সে দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি তার হৃৎপিণ্ডের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তার ভেতরে যেন প্রশান্তির উত্তাল তরঙ্গ প্রবাহিত হচ্ছিল। সে আমার কপালে চুম্বন করল। একবার কাঁদছিল আবার হাসছিল। আমাকে বলল, 'শাইখ! আমি সমস্ত কুরআন হিফজ করেছি কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে, আমি এই আয়াত জীবনে প্রথমবার শুনলাম। কিভাবে আমি এই আয়াতটা দেখলাম না।'

সেদিন মাগরিবের সময়ে মসজিদের ঈমাম উপস্থিত ছিল না। তারা আহমদকে সালাতের জন্য এগিয়ে দিল। আর সে সূরা ফাতিহার পর সূরা ফুরকানের সেই আয়াতগুলোই তিলাওয়াত করতে থাকল। কিন্তু যখন'ই إِلَّا مَن تَابَ পর্যন্ত পৌঁছালো, ক্রন্দনের কারণে পুরোটা শেষ করতে পারল না। এভাবে দ্বিতীয় রাকাতেও সূরা ফাতিহার পর একই সূরা পাঠ করে একই স্থানে এসে কাঁদতে থাকল। এই আয়াত সে কখনোই শেষ করতে পারত না।

এরপর জীবন থেকে আরও কিছু মাস পেরিয়ে গেল। তখন রমজান চলছিল। হঠাৎ একদিন আমি আহমদের পিতার ফোন পেলাম। তিনি বললেন, 'দয়া করে দ্রুত বাসায় আসুন।'

আমি তাড়াতাড়ি আহমদের বাসায় পৌঁছালাম।তার পিতা দেখা মাত্রই আমাকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মত কাঁদতে লাগল। আমি তখনো বুঝতে পারছিলাম না কি হয়েছে। তিনি বললেন, 'আপনার প্রিয় বন্ধু আহমদ আপনাকে সালাম জানিয়েছে আর গতরাতে সে তার রবের কাছে ফিরে গিয়েছে।'

আমি বুঝতে পারছিলাম না কার জন্য কাঁদবো। আহমদ নাকি তার পিতা!

কিছুক্ষণ পর আমার সামনে আহমদের সাদা কাফনে মোড়ানো দেহ আনা হলো। তার মুখ ঢেকে রাখা ছিল।
আমি মুখের উপর থেকে কাপড় সরিয়ে দেয়ার সাথে সাথেই তার চেহারার নুর আমাকে বিস্মিত করল। এটা যেন জান্নাতী মানুষের চেহারা, এটা যেন প্রশান্তিময় জীবনের সূচনার চিহ্ন, এটা যেন নুরানী পবিত্রতার উজ্জ্বলতা। আমি তার জন্য দোয়া করলাম আর তার কপালে চুম্বন করলাম। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুক। আমিন।

এরপর তার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'ঘটনা কি বলুন তো?'
তিনি বলেন, 'সে অনেকদিন ধরেই কোনো সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আমাদের কাউকে তা জানায়নি। আজকে আমরা একত্রে আসর আদায় করেছি। আমি তাকে বললাম, বাবা! আজকে আমাদের সাথে ইফতার করবে চলো।'

কিন্তু সে বললো, 'আমার আজকে মসজিদে আরো কিছুক্ষণ থাকতে ইচ্ছে করছে। আমি একটু অন্যরকম অনুভব করছি।'

'তাই আমি তাকে ছেড়ে আসলাম। ইফতারের সময় তাকে আসতে না দেখে আমার ছোট ছেলেকে দিয়ে ডাকতে পাঠালাম। সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এসে বললো, 'বাবা! বাবা! আহমদ কথা বলছে না।'

'আমি দৌড়ে মসজিদে গেলাম আর তাকে মিম্বারের সিড়ির উপর পরে থাকতে দেখলাম। যেমনটা সে সবসময় করে। তখনো তার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা বাকি ছিল। আমি তার হাত থেকে কুরআন টা নিয়ে সরিয়ে রাখলাম।'

'সে আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছিল বলে মনে হলো, তাই আমি তার দিকে এগিয়ে কান বাড়িয়ে দিলাম। সে ধীর আওয়াজে বললো, 'শাইখকে আমার সালাম দিও, শাইখকে আমার সালাম দিও।' এজন্য আমি আপনাকে এই আমানত পৌঁছাতে ফোন করেছি।

কিন্তু শাইখ আরেকটা কথা। সে আমার কোলের উপর ছিল। আমরা এম্বুলেন্স ফোন করেছি। তার প্রশ্বাস ক্রমশই বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু এমন সময় হঠাৎ করেই তার কণ্ঠস্বর পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেল। একটা সুস্থ মানুষের মত করে স্পষ্টভাবে সুরলিত কন্ঠে সে কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগল,

وَٱلَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا، يُضَٰعَفْ لَهُ ٱلْعَذَابُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِۦ مُهَانًا ،إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَٰلِحًا فَأُو۟لَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمْ حَسَنَٰتٍۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

'সে এই আয়াতগুলো পুরোপুরি তিলাওয়াত করল। এমন মধুময় আওয়াজ আমি ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। আর এরপরেই তার আত্মা আখিরাতের দিকে ফিরে গেল।'

আহমদের পিতা জিজ্ঞেস করল, 'শাইখ! আমার ছেলের কি হয়েছিল?'
আমি আহমদকে কথা দিয়েছিলাম এটা প্রকাশ করব না। তাই বললাম, 'সে তার বন্ধুকে (ঈমান) হারিয়ে ফেলেছিল।'

~সংগ্রহীত

ঈদে নতুন টাকা কিনেছেন কখনো?সমাজে প্রচলিত একটি রিবার উদাহরনকুরআন হাদীসের যেখানে "রিবা" শব্দটি ব্যবহৃত হয় আমরা এর সরল অনুব...
01/05/2022

ঈদে নতুন টাকা কিনেছেন কখনো?

সমাজে প্রচলিত একটি রিবার উদাহরন

কুরআন হাদীসের যেখানে "রিবা" শব্দটি ব্যবহৃত হয় আমরা এর সরল অনুবাদ করি "সুদ"। আর সুদ অনুবাদ করার পরেই আমাদের মাথায় কাজ করে ঋণ দিয়ে সেখান থেকে সুবিধা নেয়া বা বাড়তি টাকা নেয়া। এছাড়া আর অন্য কোনো কিছুতে যে সুদ বা রিবা থাকতে পারে সেটা আমরা বেশির ভাগ মানুষই জানি না। "রিবা" শব্দের অনুবাদ তাই "সুদ" না করে "রিবা" পরিভাষাটিই ব্যবহার করা শ্রেয়।

ইসলামী অর্থনীতিতে রিবা শব্দটি কেবল মহাজন বা ব্যাংকের সুদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং রিবা বিষয়টি আরো অনেক বিস্তৃত। আমরা জানি আজকের এই পোস্টের পরে অনেকেই ধাক্কা খাবেন। অনেকেই আমাদেরকে ডিফেন্ড করতে আসবেন। বিভিন্ন যুক্তিতর্ক দিয়ে এ পোস্টের বিষয়বস্তুকে ভুল প্রমাণের ক্ষেত্রেও অগ্রগামী হবেন কেউ কেউ। যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর, তাই আগে থেকে একটু heads-up দিয়ে রাখলাম। আপনি আমার ভাই! আপনাকে রিবার বিষয়ে সতর্ক করা আমার দায়িত্ব! আমাদেরকে ভুল বুঝবেন না প্লিজ!

চলুন মূল আলোচনা শুরু করা যাক।

ঢাকার গুলিস্তান সহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় ঝুড়িতে করে নতুন টাকার বান্ডিল নিয়ে বিক্রেতাগণ বসে থাকেন। ঈদের সময় জমজমাট হয়ে ওঠে নতুন টাকার এই বাজার। যেখানে ১০ টাকার নোট দিয়ে ১০০০ টাকা মূল্যমানের চকচকে নতুন টাকা কিনতে হয় ১২০০ টাকায় (দাম কম-বেশি হতে পারে)। অর্থাৎ আমি ১০০০ টাকার মূল্যমানের নোটই পাব। কিন্তু ২০০ টাকা বেশি প্রদান করতে হবে। উক্ত লেনদেনটি ইসলামী অর্থনীতিতে "রিবা" হিসাবে গণ্য হবে।

আরেকটি ইউজ কেস দেখা যায় বাসের স্টাফদের মাঝে। তাদের ভাংতি টাকার দরকার হয়। সে সময় তারা ১০০ টাকা দিল বিক্রেতাকে। বিক্রেতা ফেরত দিল ৯৫ টাকা। যা ৯টি ১০ টাকার নোট ও ১ টি ৫ টাকার নোটের সমন্বয়। অর্থাৎ ১০০ টাকা ভাংতি করার জন্য ৫ টাকা বাট্টা দিতে হলো।

ইসলামী অর্থনীতিতে উভয়টিই রিবা এর অন্তর্ভুক্ত। এই দুটি লেনদেনকে যদি আমরা "সুদ" বলে অভিহিত করি। তাহলে আমরা মিলাতে পারব না। পাল্টা প্রশ্ন আসবেই এটা আবার সুদ হলো কী ভাবে? প্রচলিত অর্থনীতির সুদের সংজ্ঞার সাথে এর তো কোনো মিল নাই। এজন্যই লেখার শুরুতে বলে নিয়েছি রিবা শব্দের অনুবাদ সুদ করা হলে এর সঠিক অর্থ প্রকাশ পায় না। তাই রিবাকে আমরা "রিবা"-ই বলবো। প্রচলিত অর্থনীতিতে নতুন টাকা কেনাকে সুদ বলা না হলেও, ইসলামী অর্থনীতিতে উক্ত লেনদেনকে "রিবা" এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তাই ঈদের সময় সহ অন্যান্য সময় আমরা সালামী দেয়ার জন্য যারা এই লেনদেনটি করে থাকি। আল্লাহর ওয়াস্তে এর থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে সরাসরি ব্যাংক থেকে নতুন টাকা সংগ্রহ করুন। যেখানে আপনাকে বেশি অর্থ প্রদান করতে হবে না। সেটা সম্ভব না হলে শুধুমাত্র মনের প্রশান্তির জন্য আর বাচ্চাদের খুশির জন্য একটি হারাম কাজে জড়াবেন না। রিবার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তায়ালা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

উক্ত বিষয়টি বছরখানেক আগেও আমার জানা ছিল না। ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ে কাজ করেন এমন আলেমদের প্রতিষ্ঠান IFA Consultancy Ltd থেকে The Fiqh of Riba কোর্সের তৃতীয় লেকচার থেকে উপরের বিষয়টি প্রথম জানি। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে আপনার পাশের মাদরাসার ইফতা বিভাগে বা ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেমদের সাথে দেখা করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ তারা এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত বলতে পারবেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে অভিশপ্ত রিবা'র যাবতীয় লেনদেন থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

হেরার আলো পাঠাগারের পক্ষ থেকে অসহায় দরিদ্রের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণযারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছ...
01/05/2022

হেরার আলো পাঠাগারের পক্ষ থেকে অসহায় দরিদ্রের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

যারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি

সকলের দোয়া কাম্য।

30/04/2022
হাদীসের আলোকে সেরা নামাযমাওলানা শিব্বীর আহমদনামায- ইসলামী শরীয়তে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত। প্রতিদিনের নিয়...
28/12/2021

হাদীসের আলোকে সেরা নামায
মাওলানা শিব্বীর আহমদ

নামায- ইসলামী শরীয়তে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত। প্রতিদিনের নিয়মিত যে ফরজ-ওয়াজিব এবং সুন্নতে মুআক্কাদা নামায রয়েছে, এসব তো আমাদের জন্যে অবধারিত। এর কোনো বিকল্প নেই। এর বাইরে আছে নফল নামায। ফরযের পাশাপাশি নফল নামাযের কথাও পবিত্র কুরআন ও হাদীসে বারবার আলোচিত হয়েছে।

সকল ইবাদতের সেরা ইবাদত নামায। প্রশ্ন হল, এই নামায কীভাবে সেরা নামায হিসেবে পরিগণিত হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন-

طول القنوت.

দীর্ঘ ‘কুনূত’। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৫৬

এ ‘কুনূত’ শব্দ দিয়ে এখানে কী উদ্দেশ্য- এ বিষয়ে ইমাম নববী রাহ.-এর ভাষ্য হল, দীর্ঘ কুনূত মানে দীর্ঘ কিয়াম। দীর্ঘ সময় ধরে নামাযে দাঁড়িয়ে থাকা। আর দাঁড়িয়ে থাকা মানেই কুরআন তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর নির্দেশ-

یٰۤاَیُّهَا الْمُزَّمِّلُ، قُمِ الَّیْلَ اِلَّا قَلِیْلًا، نِّصْفَهٗۤ اَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِیْلًا، اَوْ زِدْ عَلَیْهِ وَ رَتِّلِ الْقُرْاٰنَ تَرْتِیْلًا.

হে কম্বলাবৃত! রাতে (নামাযে) দাঁড়িয়ে থাকো, কিছু অংশ ব্যতীত। অর্ধরাত কিংবা তার চেয়ে কিছু কম। অথবা তার চেয়ে কিছু বেশি। আর কুরআন তিলাওয়াত করো ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে। -সূরা মুযযাম্মিল (৭৩) : ১-৪

এ আদেশের বাস্তবায়ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে কীভাবে ঘটেছিল, এর একটি নমুনা আমরা লক্ষ করি হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা রা.-এর এ হাদীসে-

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন (দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে) তাঁর পা ফুলে যেত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহ তো আপনার আগের-পরের সবকিছু ক্ষমা করে দিয়েছেন! (এরপরও কেন আপনি এত কষ্ট করছেন?) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন-

أَفَلاَ أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا.

আমি কি তবে (আল্লাহ তাআলার) একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না! -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৮৩৬

আরেকটি উদাহরণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন রাতে নফল নামাযে দাঁড়ালেন। সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. তাঁর সঙ্গে নামাযে শরীক হলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায এতটাই দীর্ঘ করছিলেন, যার সঙ্গে পেরে না উঠে হযরত ইবনে মাসউদ রা. নামায ছেড়ে দিতে চাইলেন। তার বক্তব্য এমন-

صَلّيْتُ مَعَ النّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سَوْءٍ.

আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে এক রাতে নামায পড়ছিলাম। তিনি এত দীর্ঘ সময় নামাযে দাঁড়িয়ে ছিলেন, একপর্যায়ে আমি এক মন্দ চিন্তা করতে লাগলাম।

উপস্থিত ব্যক্তিরা জিজ্ঞেস করলেন : আপনি কী চিন্তা করেছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন-

هَمَمْتُ أَنْ أَقْعُدَ وَأَذَرَ النّبِيّ صلىالله عليه وسلم .

আমি চাইছিলাম, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে এ নামায ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ি! -সহীহ বুখারী, হাদীস ১১৩৫

হযরত ইবনে মাসউদ রা. সম্পর্কে যারা জানেন, তারা জানেন- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের প্রতি তিনি কতটা যত্নবান ছিলেন! নবী-পরিবারের সদস্য না হয়েও তিনি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে যতটা ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন, তা সাহাবায়ে কেরামের কাফেলার মধ্যেও বিরল। স্বাভাবিক কথা, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের নামাযের দীর্ঘতা সম্পর্কেও জেনে থাকবেন। কিন্তু সে ইবনে মাসউদ রা.-ই যখন নামায ছেড়ে দিতে চাইলেন, এতে সহজেই অনুমেয়- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সে রাতের নামায কতটা দীর্ঘ হয়েছিল!

আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের নফল নামায সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। উত্তরে তিনি বলেছিলেন-

يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَأَلْ عَنْ حُسْنِهِنّ وَطُولِهِنّ ثُمّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَأَلْ عَنْ حُسْنِهِنّ وَطُولِهِنّ ثُمّ يُصَلِّي ثَلاَثًا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে প্রথমে (দুই রাকাত করে) চার রাকাত নামায পড়তেন। এগুলোর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতার কথা তুমি জিজ্ঞেস করো না। এরপর আবার (দুই রাকাত করে) চার রাকাত পড়তেন। তুমি এগুলোর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতার কথাও জানতে চেয়ো না। এরপর তিন রাকাত (বিতির) পড়তেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১১৪৭

হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরের মানুষ। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এসব আমল তিনি নিয়মিত দেখে অভ্যস্ত। অথচ সেই আমলের কথা যখন তিনি বর্ণনা করেছেন, কতটা বিস্ময় তার কথায় ঝরে পড়ছে, ভাবা যায়- ‘সে রাকাতগুলোর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তুমি জানতে চেয়ো না!’

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইসলামের দাওয়াত নিয়ে এলেন তখন আহলে কিতাব, যারা পূর্ববর্তী কোনো আসমানী কিতাবের অনুসারী, এককথায় ইহুদী-খ্রিস্টান, তাদের কেউ কেউ সে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করল, কেউ আবার মনেপ্রাণে গ্রহণ করল সে দাওয়াত। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের কথাই শুধু নয়, তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছিল তাদের কিতাবে। যাদের মধ্যে সত্যসন্ধানী মানসিকতা ছিল, তারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে স্বীকার করল। এ শ্রেণির একটি পরিচয় মহান রাব্বুল আলামীন এভাবে দিয়েছেন-

مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ اُمَّةٌ قَآىِٕمَةٌ یَّتْلُوْنَ اٰیٰتِ اللهِ اٰنَآءَ الَّیْلِ وَ هُمْ یَسْجُدُوْنَ.

কিতাবীদের একটি দল এমন, যারা রাতের বিভিন্ন প্রহরে নামাযে দাঁড়িয়ে থেকে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১১৩

দীর্ঘ সময় নিয়ে নামায পড়া, নামাযে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াতে ডুবে থাকা- নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ তালীম গ্রহণ করেছেন সাহাবায়ে কেরাম। পরবর্তী কালেও এ ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়নি কখনো। যুগে যুগেই নেককার বুযুর্গ ব্যক্তিগণের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- রাতের বেলা লম্বা সময় তারা নামায পড়তেন। ইমাম তিরমিযী রাহ. হযরত উসমান ইবনে আফফান রা. সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাহ. সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন- তারা এক রাকাতে পুরো কুরআন খতম করতেন। (দ্র. জামে তিরমিযী, ২৯৪৬ নং হাদীসের আলোচনা)

তবে লক্ষণীয় বিষয় হল, হাদীসে যে দীর্ঘ সময় ধরে নামাযে দাঁড়িয়ে থাকাকে সর্বোত্তম নামায বলা হয়েছে, এর অর্থ এই নয়- কেবল নামাযের কিয়ামটুকুই দীর্ঘ হবে, আর রুকু-সিজদা ইত্যাদি সংক্ষিপ্ত হবে; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল ছিল এমন- তিনি যখন দীর্ঘক্ষণ নামাযে তিলাওয়াত করতেন, রুকু-সিজদাগুলোও দীর্ঘ করতেন। এভাবে তিনি পুরো নামাযের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতেন। একবারের ঘটনা। রাতের বেলা সাহাবী হযরত হুযাইফা রা. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে নামায পড়ছিলেন। হুযাইফা রা. নিজে এ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন-

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা বাকারা পড়তে শুরু করেছেন। আমি ভাবলাম, তিনি ১০০ আয়াত পড়ে রুকুতে যাবেন। ১০০ আয়াত শেষ করে তিনি আরও সামনে পড়তে লাগলেন। তখন ভাবলাম, তিনি হয়তো এক রাকাতেই সূরা বাকারা শেষ করবেন। সূরা বাকারা শেষ করার পর তিনি আরও পড়তে লাগলেন। এক সূরা। এরপর আরেক সূরা। তাঁর কুরআন তিলাওয়াত ছিল খুবই ধীরস্থির। তিলাওয়াতের মাঝে যখন তাসবীহ পাঠের কথা আসত, তিনি তাসবীহ পাঠ করতেন, যখন দুআ করার কোনো বিষয় আসত, তিনি দুআ করতেন, যখন কোনো কিছু থেকে আশ্রয় চাওয়ার প্রসঙ্গ আসত, তিনি তা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। এরপর সূরা বাকারা থেকে সূরা নিসা পর্যন্ত শেষ করার পর তিনি রুকুতে গেলেন। সেখানে রুকুর তাসবীহ পাঠ করলেন। তাঁর রুকুও ছিল তাঁর কিয়ামের প্রায় কাছাকাছি। এরপর দাঁড়ালেন। এবার দাঁড়ানো অবস্থায়ও রুকুর কাছাকাছি সময় কাটিয়ে দিলেন। এরপর সিজদায় গেলেন। সেখানে সিজদার তাসবীহ পাঠ করলেন। তাঁর সিজদাও ছিল দাঁড়িয়ে থাকার প্রায় কাছাকাছি সময় ধরে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৭২

এভাবে দীর্ঘ সময় নিয়ে কিয়াম, রুকু, কওমা, সিজদা আদায় করার ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে এই একটিই নয়। হাদীসের কিতাবে এমন বর্ণনা প্রচুর রয়েছে। এসব ঘটনা থেকে এ ভারসাম্যই প্রমাণিত হয়- নামাযের কিয়াম যখন দীর্ঘায়িত হবে, রুকু-সিজদাও দীর্ঘ হবে।

উল্লেখ্য, এখানে শুরুতে যে হাদীস উল্লেখ করেছি, তাতে যেমন দীর্ঘায়িত নামাযের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, আবার কোনো কোনো হাদীসের মর্ম এমন- সিজদা যত বেশি তত ভালো।

হযরত সাওবান রা.। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আজাদকৃত গোলাম। তার এক শিষ্য মা‘দান রাহ. তাকে বললেন, আমাকে আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমলের কথা বলে দিন। সাওবান রা. নীরব রইলেন। মা‘দান আবারও একই আবদার করলেন। সাওবান রা. এবারও নীরব। তিনি তৃতীয়বারের মতো একই আবদার করলে সাওবান রা. বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন-

عَلَيْكَ بِكَثْرَةِ السّجُودِ لِلهِ فَإِنّكَ لاَ تَسْجُدُ لِلهِ سَجْدَةً إِلاّ رَفَعَكَ اللهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطّ عَنْكَ بِهَا خَطِيئَةً.

তুমি অধিক পরিমাণে আল্লাহকে সিজদা করো। কেননা তুমি যখনই আল্লাহকে একটি সিজদা করবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার একটি পাপ মোচন করবেন।

মা‘দান বলেন, একই প্রশ্ন আমি আবুদ দারদা রা.-কেও করেছিলাম। তিনিও আমাকে একই উত্তর দিয়েছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৮৮

এ তো বলাবাহুল্য- সিজদার আধিক্যের জন্যে প্রয়োজন অধিক সংখ্যক রাকাত। আর রাকাতসংখ্যা বেশি হলে নামায কিছুটা সংক্ষিপ্ত হবে- এ-ও স্বাভাবিক। এ থেকে বোঝা যায়, রাকাতসংখ্যা কম হলেও দীর্ঘ কিয়াম দীর্ঘ সিজদাবিশিষ্ট নামায যেমন সেরা নামায, তেমনি কিয়াম-রুকু-সিজদা সংক্ষিপ্ত হলেও অধিক রাকাত নামায আর অধিক সিজদার পদ্ধতিটিও হাদীস শরীফে স্বীকৃত। অধিক রাকাতের আরও কয়েকটি হাদীস লক্ষ করুন-

হযরত উবাদা ইবনে সামিত রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْجُدُ لِلهِ سَجْدَةً إِلّا كَتَبَ اللهُ لَهُ بِهَا حَسَنَةً، وَمَحَا عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً، وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً، فَاسْتَكْثِرُوا مِنْ السّجُودِ.

কোনো বান্দা যখনই আল্লাহকে একটি সিজদা করে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্যে একটি নেকি লিখে দেন, তার একটি পাপ মিটিয়ে দেন এবং তার এক স্তর মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। তাই তোমরা বেশি পরিমাণে সিজদা করো। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৪২৪

মুসনাদে আহমাদের আরেকটি বর্ণনা অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। রবীআ আসলামী রা. নামের এক সাহাবী। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করতেন। রাতে এশার নামাযের পর যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে চলে যেতেন, তখনও তিনি প্রায় বসে থাকতেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজার বাইরে। যদি কোনো প্রয়োজনে তিনি আবার বেরিয়ে আসেন- এ অপেক্ষায়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে তিনি নিজেকে এভাবেই বিলিয়ে দিয়েছিলেন। এমন খেদমতের ফলে একদিন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, রবীআ, তুমি আমার কাছে কিছু চাও, আমি তোমাকে দেব। রবীআ বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একটু চিন্তা করে নিই। এরপর আপনাকে জানাব।’ তার ভাষ্য হল- এরপর আমি নিজে নিজে অনেক ভাবলাম। আমি দেখলাম, দুনিয়া শেষ হয়েই যাবে, এটা অস্থায়ী। আর এখানে আমার যে রিযিক আছে তা-ই আমার জন্যে যথেষ্ট এবং তা আমার কাছে চলেও আসবে। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমার আখেরাতের জন্যে কিছু চাইব। কারণ তিনি তো আল্লাহ তাআলার নিকট বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। এরপর আমি যখন তাঁর কাছে গেলাম, তিনি বললেন, কী করলে, রবীআ! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে আমার চাওয়া- আপনি আমার জন্যে আপনার প্রভুর কাছে সুপারিশ করে আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে দেবেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, একথা তোমাকে কে বলে দিয়েছে? আমি বললাম, না, আল্লাহর কসম, কেউ আমাকে বলে দেয়নি; বরং আপনি যখন আমাকে কিছু চাওয়ার কথা বলেছেন, আর আপনি তো আল্লাহর নিকট অনেক মর্যাদাশীল, তখন আমি নিজে নিজেই ভাবলাম; আমি দেখলাম, দুনিয়া অস্থায়ী, তা শেষ হয়ে যাবে। এখানে আমার যে রিযিক তা আমার কাছে আসবেই। তখনই আমি মনে মনে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমি আমার আখেরাতের জন্যে কিছু চাইব। একথা শুনে তিনি দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইলেন। এরপর বললেন-

إِنِّي فَاعِلٌ فَأَعِنِّي عَلَى نَفْسِكَ بِكَثْرَةِ السّجُودِ.

ঠিক আছে, আমি অবশ্যই তা করব। তবে তুমি আমাকে তোমার নিজের বিষয়ে অধিক সংখ্যক সিজদা দিয়ে সহযোগিতা করো। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬৫৭৯

উপরে এক হাদীসে সেরা নামাযের পরিচয়ে যে দীর্ঘ ‘কুনূতে’র কথা বলা হয়েছে, এর ব্যাখ্যায় হাদীসবিশারদগণ কেউ কেউ আবার নামাযের খুশু-খুযু অর্থাৎ বিনয় ও একাগ্রতার কথাও বলেছেন। একে আমরা সেরা নামাযের তৃতীয় ব্যাখ্যাও বলতে পারি। আবার উপরোক্ত দুই ব্যাখ্যার পরিপূরকও বলতে পারি। অর্থাৎ খুশু-খুযু যদি থাকে, তবে সে নামায সেরা হবেই- তা কমসংখ্যক রাকাতে দীর্ঘ নামায হোক, সংক্ষিপ্ত কিয়াম-রুকু-সিজদায় অধিকসংখ্যক রাকাত নামায হোক। পবিত্র কুরআনে কারীমে বলা হয়েছে-

قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ، الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ صَلَاتِهِمْ خٰشِعُوْنَ.

নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ; যারা তাদের নামাযে বিনয়ী। -সূরা মুমিনূন (২৩) : ১-২

এ ব্যাখ্যা ফরয-নফল সব নামাযের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নামাযে যদি বিনয় ও একাগ্রতা না থাকে, তবে সে নামায পড়ে কেউ হয়তো দায়িত্বমুক্ত হতে পারবে, কিন্তু নামাযের পরিপূর্ণ বরকত ও ফযীলত তার হাসিল হবে না। এমনকি যারা নামাযে থাকে অস্থিরচিত্ত, দ্রুততার সাথে রুকু-সিজদা আদায় করে, তাদের জন্যে হাদীস শরীফে উচ্চারিত হয়েছে কঠোর সতর্কবাণী। হযরত আবু আবদিল্লাহ আশআরী রাযিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

مَثَلُ الّذِي لا يُتِمّ رُكُوعَهُ ويَنْقُرُ فِي سُجُودِهِ، مَثَلُ الْجَائِعِ يَأْكُلُ التّمْرَةَ وَالتّمْرَتينِ لا يُغْنِيَانِ عَنْهُ شَيْئًا.

قال الهيثمي في مجمع الزوائد : رَوَاهُ الطّبَرَانِيّ فِي الْكَبِيرِ وَأَبُو يَعْلَى، وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ.

যে ব্যক্তি (নামায পড়ে ঠিকই, কিন্তু) রুকু ঠিকমত আদায় করে না এবং সিজদায় যেন ঠোকর দিয়ে উঠে যায়, তার দৃষ্টান্ত ঐ ক্ষুধার্ত ব্যক্তির ন্যায়, যে এক-দুইটি খেজুর খেয়ে উঠে গেল অথচ এই দুটো খেজুর তার কোনো কাজে আসবে না। -আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৩৭৪৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ২৭২৮

সহীহ মুসলিমের একটি হাদীস। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল-

أَىّ الصّلاَةِ أَفْضَلُ بَعْدَ الْمَكْتُوبَةِ؟

ফরয নামাযের পর সেরা নামায কোন্টি?

তিনি উত্তরে বললেন-

أَفْضَلُ الصّلاَةِ بَعْدَ الصّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ الصّلاَةُ فِى جَوْفِ اللّيْلِ.

ফরযের পর সেরা নামায হচ্ছে- গভীর রাতে আদায় করা নামায। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৩

শেষ রাতের নামাযের ফযীলত সম্পর্কেও অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। একটি হাদীস লক্ষ করুন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

يَنْزِلُ رَبّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلّ لَيْلَةٍ إِلَى السّمَاءِ الدّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللّيْلِ الآخِرُ، فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِى فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، وَمَنْ يَسْأَلُنِى فَأُعْطِيَهُ، وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِى فَأَغْفِرَ لَهُ.

আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতেই দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন, যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন। তিনি তখন বলতে থাকেন- কে আছে, আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে, আমার কাছে চাইবে? আমি তার চাওয়া পূরণ করব। কে আছে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৫৮

সেরা নামাযের পরিচয় উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি।

রাতের শেষ ভাগে যে নামায পড়া হয় তা অন্য সময়ের নামাযের তুলনায় অধিক ফযীলতপূর্ণ। আর শেষ রাতের এ নামায যদি হয় খুশু-খুযু ও বিনয়-একাগ্রতায় পরিপূর্ণ, দীর্ঘ কিয়াম-রুকু-সিজদা সহকারে, তবে তো তা সোনায় সোহাগা। নামায যার এমন হবে, সফলকাম সে হবেই। দুনিয়া-আখেরাতে সর্বত্র। এ সফলতা অনিবার্য।

তথ্যসূত্র : মাসিক আল কাউসার
(লিংক কমেন্টে)

Address

High School Road, Hasnabad
Hasnabad
1631

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হেরার আলো পাঠাগার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to হেরার আলো পাঠাগার:

Share

Category