21/05/2026
আট বছরের রামিসা আক্তার। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সকালে বড় বোনকে এগিয়ে দিতে গিয়েছিল। মা রান্নাঘরে। বাবা চাকরিতে। সতেরো বছর ধরে যেখানে বাস, প্রতিটি দরজা ছিল বিশ্বাসের। হঠাৎ রামিসা নেই।
মা ফ্ল্যাটের বাইরে দেখেন, রামিসার একটি জুতা পড়ে আছে। পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় টোকা—উত্তর নেই। শুধু এক অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা। পুলিশ এসে দরজা ভাঙে। শিশুটির শরীরের মূল অংশ খাটের নিচে, মাথা শৌচাগারে। ধর্ষণের পর হত্যা। অভিযুক্ত পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটে রিকশা মেকানিক ও তার স্ত্রী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার।
একজন বাবা সকালে মেয়েকে স্কুলের জন্য তৈরি করে দিয়েছিলেন। দুপুরে তিনি লাশ চিনতে পারেননি। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি একটি ধারা, একটি জাতীয় মহামারি।
আইনে শিশু ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ২০২৫ সালের সংশোধনীতে ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথাও আছে। আছে ঘোষণা, আছে কাগজ, আছে সিলমোহর। কিন্তু বাস্তব? বিশ্বে ভুক্তভোগীর মাত্র ১০ শতাংশ বিচার পান। বাংলাদেশে হার আরও কম। ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসেই অন্তত ৫৫টি শিশু ধর্ষণের ঘটনায় কোনো মামলাই দায়ের হয়নি। এই কাঠামোতে আইন কেবল কাগজে বেঁচে আছে।
দাবি পরিষ্কার:
- প্রতিটি মামলা ফাস্ট ট্র্যাক ট্রাইব্যুনালে, সর্বোচ্চ ত্রিশ দিনে রায়, ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত।
- মামলা প্রত্যাহারে চাপ দিলে দণ্ডনীয় অপরাধ।
- প্রতি বিল্ডিংয়ে নতুন ভাড়াটিয়ার পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক।
- প্রতি স্কুলে গুড টাচ ও ব্যাড টাচের নিয়মিত পাঠ।
- প্রতি থানায় নারী কর্মকর্তার শিশু সুরক্ষা ডেস্ক।
পাশের দরজার সতেরো বছরের পরিচিত প্রতিবেশী যখন আট বছরের শিশুকে এভাবে শেষ করে দিতে পারে, তখন বাবা-মা সন্তানকে কোথায় রাখবেন?
আপনার মেয়েও একটি রামিসা বয়সী ।যতদিন আইন কাগজে ঘুমিয়ে থাকবে, ততদিন আমাদের প্রতিটি সন্তান কারও না কারও শিকারের তালিকায়।
ছোট্ট রামিসার জন্য দোয়া—আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুন্দর বাগানে আশ্রয় দিন। আর এই নিষ্পাপ মেয়েটির রক্তে যেন বাংলাদেশের ঘুমিয়ে থাকা বিবেক ও আইন, দুইটাই সত্যি সত্যি জেগে উঠুক।
Unity for Universe Human Rights of Bangladesh Foundation
Amnesty International
International Human Rights Journalist Society
International Human Rights Organization
Nasir Uddin Nasir's Fan
PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়