23/03/2024
অনেকদিন পরে ছুটিতে বাসায় আসছে শিহাব। ইউনিট থেকে আসার সময় ব্যাচম্যানের সাথে বাজি ধরছে এবার ছুটিতে গিয়ে বিয়ের কাজটা সেরে ফেলবে। বাসা থেকে ও আব্বু আম্মু বার বার বলছিল বিয়ের জন্য কিন্তু কাজের এত চাপের ভিতরে বিয়ের কথা ভাবার সময়-ই হয়ে উঠেনি।আসার আগের দিন রাতে সিও স্যার বলছে, ইয়ং ম্যান এবার তাহলে ফরজ কাজটা সম্পন্ন করেই তবে ইউনিটে আসো।যাও পুরো ১ মাসের ছুটি মঞ্জুর করে দিলাম। ইনজয় মাই ইয়ং ম্যান। বেস্ট অব লাক"
শিহাব- থ্যাংক ইউ স্যার।
সবকিছু গুছিয়ে সকালের ট্রেনে শিহাব বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিকেল ৫ টা নাগাদ বাসায় পৌঁছে শিহাব। বাসার সবাই অনেক খুশি।
রাতে খাওয়ার সময় বাবা বলে, আমি বেশি দেরী করতে চাই না। আমরা আগামী কালই মেয়ে দেখতে যাবো।
শিহাব- আব্বু আমি তো আছিই। কালই তো আসলাম একটু সময় দাও।
বাবা- না, আমি মেয়ের বাসায় বলে দিছি।আমরা কালই যাচ্ছি।
শিহাব - আচ্ছা 🥹
পরদিন সকালে সবাই মিলে হাজির মেয়ে পক্ষের বাসায়। একটু পরে মেয়েকে আনা হলো। কিন্তু মেয়েকে দেখে শিহাবের মাথায় দিনে দুপুরে মেঘ ছাড়া ঠাডা পড়ার মতো অবস্থা। মানে বড়সড় একটা টাস্কি খেয়ে ফেলছে শিহাব। শেষমেষ এই সিনিয়র দজ্জাল মেয়েকে কে দেখাতে নিয়ে আসছে বাবা?
বাবার উপর বেশ রাগ হয় শিহাবের। কিন্তু কিছু করার নেই। দুনিয়ায় আল্লাহর পরে বাবাকেই যমের মতো ভয় পাই শিহাব।
মনে মনে অনেক কিছু ভাবছে। এমন সময় শিহাবের আম্মু বলে উঠলো, কিরে মেয়ে পছন্দ হয়েছে তোর? এমন হা করে তাকিয়ে কি দেখছিস? আমি জানতাম তোর পছন্দ হবে।
শিহাব- ইয়ে মানে হ্যাঁ হ্যাঁ (থতমত খেয়ে)
বাবা- তাহলে আজই আংটি বদল হবে। নে আংটি টা ওকে পরিয়ে দে।
শিহাব করুণ দৃষ্টিতে ওর বাবার দিকে তাকিয়ে থাকে।
শিহাব নওশিন এর দিকে একবার তাকিয়ে দেখে ওর মুখে পৈশাচিক হাসি।।
শিহাব এক প্রকার বাধ্য হয়েই আংটি পরিয়ে দেয় নওশিনকে। আংটি পরানোর সময় দুজনের চোখাচোখি হলে ঠাস করে চোখ টিপ মারে নওশিন।
শিহাব মনে মনে ভাবে, আব্বা আমার সর্বনাশের মাথায় বাড়ি দিয়ে দিছে রে।
আংটি বদল শেষে আগামী মাসের ১০ তারিখ বিয়ে দিন ঠিক করে বিদায় নেয় শিহাবেরা।
এখনও ঘোরের ভিতর আছে শিহাব। গাড়ির ভিতর শিহাবের বোন ওকে চিমটি কেটে বলে, ভাইয়া ভাবী কিন্তু জোশ। আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।
শিহাব- হু আর আমার বারোটা বাজছে (মনে মনে)
বাসায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে আপনাদের এই নওশিনের কাহিনী টা একটু বলি। নওশিন হলো শিহাবের ক্লাসের দিক দিয়ে ১ বছরের আর বয়সের দিক দিয়ে প্রায় দেড় বছরের বড়। কলেজে থাকাকালীন নওশিন শিহাবকে পছন্দ করতো। নওশিন অনেকবার বলেছিলও বটে কিন্তু শিহাব রাজি হয়নি।অনেক জ্বালাইছে কলেজে শিহাবকে।শিহাব একবার অধৈর্য হয়ে নওশিনকে অনেক অপমান করেছিল কলেজে সবার সামনে। সেদিন নওশিন বলেছিল, যদি আমি কখনো বিয়ে করি তবে তোকেই করবো মনে রাখিস।
এখন সবকিছু আস্তে আস্তে ক্লিয়ার হচ্ছে।
সবকিছু নওশিনের প্লান। ঐ কোনো ভাবে আব্বু আম্মুকে পটিয়ে ফুসলিয়ে আমার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই এটা করছে।
এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় পৌঁছে গেছি।
বিকেলে অনেকদিন পরে সেই চিরচেনা জায়গায় বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ব্যস্ত শিহাব।
মুজাহিদ- কিরে মামা শুনলাম তুই নাকি সেই নওশিনকে বিয়ে করছিস? হেহেহে ক্যাপ্টেন সাহেব চিপায় পড়ছোস মাম্মা। ঠেলা সামলা।
শিহাব- তোর মতো বন্ধু যার আছে তার শত্রুর দরকার নেই হ্লা।
মুজাহিদ- হেহেহে মামা তা পোলাপান কয়ডা নিবি ভাবছিস?😜
শিহাব- মোজো রাগাইস না আমারে। এমন জায়গায় কিক মারবো জীবনে বাপ ডাক শুনতে পারবি না। 😡😡
মুজাহিদ- 🤐🤐
আড্ডা শেষে রাতে বাসায় আসে শিহাব। খাওয়ার সময় সবাই মিলে শিহাবের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিচ্ছে।
শিহাব- কি হয়েছে তোমরা সবাই হাসো কেন😒
আম্মু- নওশিন অনেক ভালো মেয়ে, শিক্ষিত, সংসারী আর দেখতেও তো মাশাল্লাহ। ও তোকে পছন্দ করে। ভালোবাসে। ওর বাবা বিয়ের জন্য ছেলে দেখছিল তখন ও তোর কথা বলে ওর বাবাকে। আর ওর বাবা তোর বাবাকে বলে। তোকে ছাড়া অন্য কারো সাথে বিয়ে দিলে নাকি ও উল্টো পাল্টা কিছু করে ফেলবে। তাই এত তাড়াহুড়ো করেই বিয়েটা দিচ্ছি তোদের।
শিহাব- ওওহহ আচ্ছা এখন বুঝলাম ডালের ভিতর কালোর রহস্য। 🫡
খেয়ে ঘুমাতে যায় শিহাব।
রাত ১২ টা বেজে ২৬ মিনিট। ফোনে কল আসে। এত রাতে সিও স্যারের কল!!
কল রিসিভ করে, আসসালামু আলাইকুম স্যার!
ওপাশ থেকে (সিও স্যার)- ওয়ালাইকুমুস সালাম। শিহাব তোমার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আগামীকালের ভিতর ইউনিটে জয়েন করবে এবং আমাকে রিপোর্ট দিবে। ইট’স অ্যান ইমার্জেন্সি & সিক্রেট।
শিহাব- ওকে স্যার।
কল রেখে জামা কাপড় সব গুছিয়ে নেয় শিহাব। ভোরেই কাউকে না জানিয়ে লুকিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কারণ সামনাসামনি আসতে দিতো না কেউ। আম্মু বোন অনেক কান্নাকাটি করতো। তাই একটা চিঠি লিখে চলে আসছে।
বিকাল ৫ টা নাগাদ শিহাব ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে পৌঁছায়।
তারপর সিও স্যারের কাছে রিপোর্ট করে।
শিহাব- মে আই কাম ইন স্যার?
সিও স্যার: কাম ইন। (চিন্তিত স্বরে)
শিহাব: কি হয়েছে স্যার? আপনাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন আর এত আর্জেন্ট কল করলেন!
সিও স্যার: শিহাব তুমি তো জানোই পাহাড়ে দিন দিন সন্ত্রাসীদের দাপট বেড়েই চলেছে। তাছাড়া আমাদের অস্থায়ী ক্যাম্প গুলো তুলে নেওয়ার পর থেকে তারা বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে।চাঁদাবাজি, ডাকাতি, লুটপাট, খু'ন গুম ধ'র্ষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আগামী মাসের ৯ তারিখে সন্ত্রাসীরা বড় ধরণের একটা ডিল করার প্লান করছে। মাদক ও অস্ত্রের চালান বিনিময় করা হবে।
হেডকোয়ার্টার থেকে নির্দেশ আসছে যেভাবেই হোক সন্ত্রাসীদের এই চালান ধরতে হবে। আমি এই অপারেশনের দায়িত্ব তোমার উপর দিচ্ছি। যেভাবেই হোক সন্ত্রাসীদের ধরতে হবে। আমাদের হাতে আর সময় আছে ৫ দিন। আগামী ২ দিনের ভিতর তুমি অপারেশন প্লান রিপোর্ট জমা দিবে।
শিহাব: ওকে স্যার।
চলবে.....???
গল্প: অপেক্ষা
পর্ব: ০১
লেখায়: Shihab Hossain
ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।