02/06/2026
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সাদেক হোসেন খোকার নামাজের জানাজা হয়েছিল সংসদ ভবনে এবং শহীদ মিনারে সর্বস্তরের জনতাকে শ্রদ্ধা জানাতে রাখা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা খোকাকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সরকার যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে কুন্ঠিত হয়নি। জানাজায় তোফায়েল আহমেদকে দেখা যাচ্ছে। তোফায়েল আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সিক্রেট গ্রুপের একজন। ৬৯ গণঅভ্যুত্থানে তোফায়েল যখন পুরো পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের অবিসংবাদিত নেতা, যার আঙ্গুলের হেলনে পুরো বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ হেলে যেতো খোকা তখন কেউ নন। ঢাকার গেলিরা যোদ্ধা খোকাকে দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ তার প্রাপ্যটুকু দিয়েছে। শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয়ভাবে খোকাকে সম্মান জানিয়েছেন। সেই খোকার ছেলে ইশরাক, খোকা যার ডাকে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল সেই মুজিবের বাসভাবনই নয়, মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্র ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙতে বুলডোজার নিয়ে গিয়েছিল। সেই খোকার পার্টি আজ তোফায়েলকে শহীদ মিনারে স্থান দেয়নি এমনকি তার জানাজায় আগতদের লাঠিচার্জ করেছে।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা কুখ্যাত গোলাম আযমের জানাজা হতে দিয়েছে নির্বিঘ্নে। গোআ’র জানাজায় লোক সমাগত হতে দিয়েছে। সাঈদীকে প্যারোলে মুক্তি দিয়েছে। সবই করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তার জানাজায় লোক যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল রাতের আঁধারে বন্দুরের নলের সামনে কয়েকজন আত্মীয় দিয়ে জানাজা পড়ানো হয়। সেই ঘটনাকে এখন দেখানো হয় শেখ মুজিব কত অজনপ্রিয় ছিল। আর হাসিনা গোআ মারা যাবার পর শিবির ও বিএনপির কর্মীদের বাইতুল মোকাররমে শোডাউন দেখেও কিছু বলেনি। কারণ তিনি ফ্যাসিস্ট ছিলেন।
এখন যারা আছে তারা ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদ করে দ্বিতীয় স্বাধীনতা উদযাপন করছেন। ভালো। খুব ভালো।
ফ্যাসিস্টের শব্দ অর্থ কি বদলে যাচ্ছে? ফ্যাসিবাদই তো ভালো!
© সুষুপ্ত পাঠক
২ জুন, ২০২৬