06/10/2016
পূজা উপলক্ষ্যে মুশরিকদেরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন?
বাংলাদেশের হিন্দুদের মাঝে সবচাইতে বড় পূজা হচ্ছে দুর্গা পূজা। নাম শুনে বুঝা যায়, দুর্গা একটা মহিলার নাম। পূর্ব-পশ্চিম, মুশরিক যেখানের হোক, তাদের মাঝে সাধারণ একটা স্বভাব হচ্ছেঃ নারী পূজা করা।
মহান আল্লাহ বলেন, “তারা (মুশরিকরা) আল্লাহকে বাদ দিয়ে শুধু নারীর পূজা করে এবং বিদ্রোহী ও অবাধ্য শয়তানের পূজা করে।” সুরা নিসাঃ ১১৭।
উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন, “প্রত্যেকটা মূর্তির সাথে একটা করে নারী জ্বিন থাকে।” আহমাদঃ ২১২৬৯, সনদ হাসান, ইবনু কাসীর, তাফসীর সুরাহ নিসাঃ আয়াত-১১৭।
মক্বা বিজয়ের পরে রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদেশ অনুযায়ী খালিদ বিন ওয়ালিদ বিখ্যাত “উযযা” মূর্তি ধ্বংস করার সময় সেখান থেকে কালো কুচকুচে রঙ্গের, উস্কু-খুস্কু চুল বিশিষ্ট একটা নগ্ন নারী জ্বিন বের হয়ে আসে। তিনি সেই জিনকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে দ্বিখন্ডিত করে ফেলেন। নাসাঈ কুবরাঃ ১১৫৪৭, তাবাকাত ইবনু সা’দঃ ২/১৪৫-১৪৬।
কুরআনে আল্লাহ পাক ‘ফিতনাহ’ শব্দ দ্বারা কয়েকটি বিষয়কে বুঝিয়েছেনঃ
(১) পরীক্ষা (test, trail)
(২) আযাব বা শাস্তি punishment, torment)
(৩) শিরক (associating partner with Allah)
যেমন মহান আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
“ফিতনাহ মানুষ হত্যার চাইতে জঘন্য।”
সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১৯১।
এই আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে আবুল আলিয়া, মুজাহিদ, আল-হাসান, জাহহাক, ইকরিমা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, কাতাদাহ (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন), ক্বুরানের তাফসীরকারক হিসেবে প্রসিদ্ধ এই সমস্ত “তাবেয়ী”রা বলেছেন, এই ফিতনার অর্থ হচ্ছেঃ “শিরক”।
অর্থাৎ এই আয়াতের উদ্দিষ্ট অর্থ হচ্ছে, শিরকের পাপ মানুষ খুনের চাইতে নিকৃষ্ট।
সুতরাং, হিন্দুদের দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে যারা শুভেচ্ছা জানাবে, তাদের উৎসবে শরীক হবে, তারা খুনের চাইতে নিকৃষ্ট পাপকে সমর্থন জানালো।
আজকাল অনেক পূজা মন্ডপে হিন্দুদের চাইতে মুসলমানধারী অনেক মানুষ বেশি দেখা যায়। এইভাবে আস্তে আস্তে এরা এক সময় ‘ঈমান’ থেকে বের হয়ে ‘কুফুরীতে’ নিমজ্জিত হবে।
(১) কেয়ামতের পূর্বে মুসলিমরা মূর্তি পুজা করবেঃ
আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ ‘‘কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ ‘যুল-খালাসার’ পাশে দাওস গোত্রের মহিলারা কোমর দুলিয়ে নাচবে।’’
সহীহ বুখারীঃ ৭১১৬; সহীহ মুসলিমঃ ৭১৯০ (৫১/২৯০৬)।
নোটঃ যুল-খালাসাহ হল দাওস গোত্রের মূর্তি। ইয়ামানের যুলখালাস নামক স্থানে দাওস বংশের এই মূর্তি ছিল, কোন বর্ণনায় এই স্থানের নাম তাবালাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞতার যুগে তারা এই মূর্তির ইবাদত করতো, সেখানে তাওয়াফ (চক্কর) দেয়া হতো।
(২) মুসলিমদের কোনো কোনো বংশ মূর্তি পূজা আরম্ভ করবে আর কিছু সংখ্যক মুশরিকদের সাথে মিলে যাবেঃ
রাসুল (সাঃ) এর আযাদকৃত দাস সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘‘আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট ইমাম বা নেতাদেরকে ভয় করছি। অচিরেই আমার উম্মাতের কোনো কোনো গোত্র বা সম্প্রদায় প্রতিমা পূজায় লিপ্ত হবে, এবং আমার উম্মতের কতগুলো গোত্র মুশরিকদের সাথে যোগ দিবে।’’
সুনানে আবু দাউদঃ ৪২৫২; সুনানে ইবনু মাযাহঃ ৩৯৫২; শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানি (রহঃ) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
(৩) কেয়ামতের পূর্বে ‘লাত’ ও ‘উজ্জার’ পূজা এমনভাবে শুরু হবে যেইভাবে জাহেলিয়াতের সুময় (অন্ধকার যুগে) প্রচলিত ছিলঃ
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, ‘‘রাত ও দিন শেষ হবে না, যতক্ষন না লাত ও উযযা দেবতার পূজা আবার শুরু করা হবে।
এ কথা শুনে আমি (আয়িশায় রাঃ) বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন, ‘‘তিনি তাঁর রাসুলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে, সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।’’ [সুরা আত-তাওবাঃ৩৩]
এই আয়াত নাযিলের পর আমি (আয়িশাহ) তো মনে করেছিলাম যে, এ প্রতিশ্রুতি পূরন করা হবে।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ ‘‘তা অবশ্যই হবে। তবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন ততদিন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অতঃপর তিনি এক মনোরম বাতাস প্রেরন করবেন। ফলে যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে তাদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে। পরিশেষে যাদের মাঝে কোন কল্যাণ (অর্থাৎ, ঈমান) নেই তারাই শুধু বেঁচে থাকবে। অতঃপর তারা আবার পিতৃ-পুরুষদের ধর্মের (শিরকের) দিকে ফিরে যাবে।’’
সহীহ মুসলিমঃ ৭১৯১ (৫২/২৯০৭)।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে এবং আমাদের পরিবারকে প্রকাশ্য ও গোপন, নামে ও বেনামে সকল ধরনের মূর্তি পূজা এবং যাবতীয় শিরকি কর্মকাণ্ড থেকে হেফাযত করুন (আমিন)।