05/12/2021
গার্মেন্টস শিল্পের বেসিক প্রশ্ন...
প্রশ্ন – ১. গার্মেন্টস শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ পোশাক বা অ্যাপারেল।
প্রশ্ন – ২. বাংলাদেশের প্রথম গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর নাম কি এবং কত সালে চালু হয়?
উত্তরঃ রিয়াজ গার্মেন্টস, ১৯৬০ সালে ঢাকার উর্দু রোডে।
প্রশ্ন – ৩. ক্লদিং টেকনোলোজির সংজ্ঞা দাও।
উত্তরঃ পোশাকের সাথে সম্পর্কযুক্ত যে কোন প্রযুক্তির প্রয়োগ বা ব্যবহার এবং তদসম্পর্কিত যাবতীয় কলাকৌশলকেই ক্লদিং টেকনোলোজি বা পোশাক প্রযুক্তি বলে।
প্রশ্ন – ৪. বাংলাদেশ মোট আয়ের শতকরা কত ভাগ পোশাক রপ্তানি করে অর্জন করে?
উত্তরঃ প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ।
প্রশ্ন – ৫. গার্মেন্টস শিল্পে মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা কত?
উত্তরঃ প্রায় শতকরা ৯০ ভাগই নারী শ্রমিক।
প্রশ্ন – ৬. বিশ্ব বাজারে এবং বাংলাদেশে গার্মেন্টস ক্যাটাগরির সংখ্যা কত?
উত্তরঃ বিশ্ব বাজারে মোট ১২৫ টি এবং বাংলাদেশ আমেরিকায় ২০ টি ক্যাটাগরি পোশাক সরবরাহ করে।
প্রশ্ন – ৭. গার্মেন্টস উৎপাদন প্রণালীর বিভিন্ন ধাপ বা সেকশনের নাম লিখ।
উত্তরঃ কাটিং সেকশন, সুইং সেকশন, ফিনিশিং সেকশন ইত্যাদি।
প্রশ্ন – ৮. কাটিং সেকশনের কাজ কি?
উত্তরঃ প্যাটার্ন অনুযায়ী কাপড় কাটাই হল কাটিং সেকশনের কাজ।
প্রশ্ন – ৯. সুইং সেকশনের কাজ কি?
উত্তরঃ কাটিং সেকশন থেকে খিন্ডিত কাপড়কে সেলাই মেশিনের সাহায্যে সেলাই করাই হল সুইং সেকশনের কাজ।
প্রশ্ন – ১০. ফিনিশিং সেকশনের কাজ কি?
উত্তরঃ সুইং সেকশন হতে সংগৃহীত কাপড়কে বায়ারের অর্ডার অনুযায়ী ফিনিশিং ম্যাটারিয়ালস প্রয়োগ, আয়রনিং, ফোল্ডিং, প্যাকিং এবং কার্টুন করে রপ্তানিযোগ্য করাই হল ফিনিশিং সেকশনের কাজ।
প্রশ্ন – ১১. যান্ত্রিক সেলাই মেশিন কে আবিষ্কার করেন?
উত্তরঃ চার্লস ফ্রেডরিক ১৭৫৫ সালে যান্ত্রিক সেলাই মেশিন আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন – ১২. টেইলরিং প্রণালির সংজ্ঞা দাও।
উত্তরঃ কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য তার শরীরের মাপ নিয়ে হ্যান্ড কাচি দ্বারা কাপড় কেটে সেলাই মেশিন দ্বারা সেলাই করে পোশাক তৈরি করাকে টেইলরিং বলা হয়।
প্রশ্ন – ১৩. ইন্ডাস্টিয়াল পদ্ধতির পোশাক তৈরি বলতে কি বুঝ?
উত্তরঃ পুরুষ, মহিলা, বালক বা বালিকার দেহের আদর্শ মাপ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ডিজাইনের এবং বিভিন্ন সাইজের হাজার হাজার পিস গার্মেন্টস তৈরি করাকে ইন্ডাস্টিয়াল পদ্ধতির পোশাক তৈরি করা বলে।
প্রশ্ন – ১৪. ইন্ডাস্টিয়াল পদ্ধতিতে একটি পোশাক তৈরি করতে কত সময় লাগে?
উত্তরঃ প্রায় ১ মিনিট থেকে ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
প্রশ্ন – ১৫. ডেনিম কোন শ্রেণীর কাপড়?
উত্তরঃ সাধারণত ২/১ বা ৩/১ ওয়ার্প ফেসড টুইল কাপড়।
প্রশ্ন – ১৬. গেবার্ডিন কোন শ্রেনীর কাপড়?
উত্তরঃ এটি ২/২ ওয়ার্প ফেসড টুইল কাপড়।
প্রশ্ন – ১৭. গার্মেন্টস ক্লথ কাকে বলে?
উত্তরঃ পোশাক তৈরির জন্য যে নির্দিষ্ট গুনাগুনের কাপড় ব্যবহৃত হয় তাকে গার্মেন্টস ক্লথ বলে।
প্রশ্ন – ১৮. জিন্স কাপড় বলতে কি বুঝ?
উত্তরঃ এটি সাধারণত ওয়ার্প ফেসড টুইল কাপড় যা কার্ডেড কটন সুতা দ্বারা তৈরি।
প্রশ্ন – ১৯. লেবেলে কি কি তথ্য দেওয়া থাকে?
উত্তরঃ পোশাকের সাইজ, আঁশের ধরন, পরিচর্যা বিষয়ক, কোন দেশের তৈরি এবং কোন কোম্পানির তৈরি।
প্রশ্ন – ২০. প্রধান লেবেলে কি লেখা থাকে?
উত্তরঃ কোম্পানির নাম ও দেশের নাম।
প্রশ্ন – ২১. সাব লেবেলগুলোর নাম লিখ।
উত্তরঃ সাইজ লেবেল, ফেয়ার লেবেল, মুল্য লেবেল, কম্পোজিশন লেবেল।
প্রশ্ন – ২২. আগুন প্রতিরোধক পোশাকে ব্যবহারের জন্য কি ধরনের সুতা ব্যবহৃত হয়?
উত্তরঃ অ্যারামাইড থ্রেড।
প্রশ্ন – ২৩. ট্রিমিংস শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ ট্রিমিংস শব্দের অর্থ উপকরণ। যেমন – জিপার, লেবেল, সুতা, বোতাম, লাইনিং ইন্টারলাইনিং ইত্যাদি।
প্রশ্ন – ২৪. লেবেলের সংজ্ঞা দাও।
পোশাকের সাথে লাগানো উপাদান, যাতে বিভিন্ন প্রকার তথ্য (পোশাকের সাইজ, আঁশের ধরন, পরিচর্যা বিষয়ক, কোন দেশের তৈরি এবং কোন কোম্পানির তৈরি ইত্যাদি) সংযুক্ত থাকে, তাকে লেবেল বলে।
প্রশ্ন – ২৫. মোটিফ কাকে বলে?
উত্তরঃ পোশাকের সৌন্দর্য ব্রিদ্ধির উদ্দেশ্যে পোশাকের বাইরের দিকে যে অতিরিক্ত বিশেষ অংশ লাগানো থাকে, তাকে মোটিফ বলে।
প্রশ্ন – ২৬. মনোফিলামেন্ট সুতা কাকে বলে?
উত্তরঃ একটিমাত্র ফিলামেন্ট দ্বারা গঠিত সুতাকে মনোফিলামেন্ট সুতা বলে।
প্রশ্ন – ২৭. প্যাটার্ন এর সংজ্ঞা দাও।
উত্তরঃ একটি পোশাকের প্রত্যেকটি অংশের অবিকল প্রতিরূপ শক্ত সমতল কাগজের বোর্ডে নির্ডিষ্ট মাপে নকশা তৈরি করাকে প্যাটার্ন বলে।
প্রশ্ন – ২৮. প্যাটার্ন প্রধানত কত প্রকার?
উত্তরঃ দুই প্রকার। যথাঃ ক. স্যাম্পল প্যাটার্ন, খ. প্রোডাকশন প্যাটার্ন।
প্রশ্ন – ২৯. স্যাম্পল প্যাটার্ন কাকে বলে?
উত্তরঃ যে প্যাটার্ন অনুযায়ী স্যাম্পল বা নমুনা কাটা হয়, তাকে স্যাম্পল প্যাটার্ন বলে।
প্রশ্ন – ৩০. প্রোডাকশন প্যাটার্ন কাকে বলে?
উত্তরঃ যে প্যাটার্ন অনুযায়ী গার্মেন্টস শিল্পে শত শত পিস পোশাক তৈরি করা হয়, তাকে প্রোডাকশন প্যাটার্ন বলে।
প্রশ্ন – ৩১. পোশাক শিল্পে কতভাবে প্যাটার্ন তৈরি করা হয়?
উত্তরঃ দুইভাবে। যথাঃ ক. ব্লক প্যাটার্ন, খ. গার্মেন্টস প্যাটার্ন।
প্রশ্ন – ৩২. ব্লক প্যাটার্ন বা বেসিক প্যাটার্ন কাকে বলে?
উত্তরঃ ব্লক প্যাটার্ন বা বেসিক প্যাটার্ন বলতে মূল প্যাটার্নকে বুঝায়, যা একটি নির্দিষ্ট শারীরিক গঠনের সাথে মানানসই।
প্রশ্ন – ৩৩. নমুনা পোশাক বলতে কি বুঝ?
উত্তরঃ প্রতিটি স্টাইলের উৎপাদনের পূর্বে উক্ত স্টাইলের একটি নমুনা তৈরি করা হয়, যাকে নমুনা পোশাক বলে।
প্রশ্ন – ৩৪. অনুমোদিত বা অ্যাপ্রুভাল নমুনা কি?
উত্তরঃ ক্রেতার প্রদত্ত প্রাথমিক পর্যায়ে যে নমুনা তৈরি করা হয় তাকে অনুমোদিত বা অ্যাপ্রুভাল নমুনা বলে।
প্রশ্ন – ৩৫. প্রোডাকশন স্যাম্পল কাকে বলে?
উত্তরঃ উৎপাদন চলাকালীন অবস্থায় ক্রেতা কিছু উৎপাদিত দ্রব্য (পোশাক) সংগ্রহ করে থাকেন। যা থেকে তিনি বুঝতে চেষ্টা করেন তার অর্ডার দেওয়া মালামালের গুণগত মাণ ঠিক আছে কি না।
প্রশ্ন – ৩৬. ফ্যাশন শো স্যাম্পল কাকে বলে?
উত্তরঃ যে স্যাম্পল নিয়ে ক্রেতা বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে ফ্যাশন শো করে থাকেন তাকে ফ্যাশন শো স্যাম্পল বলে।
প্রশ্ন – ৩৭. কাপড় বিছানোর সংজ্ঞা দাও।
উত্তরঃ একাধিক পোশাকের কাপড় একবারে কাটার জন্য উৎপাদনের পরিকল্পনা এবং মার্কারের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অনুযায়ী নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে স্তর আকারে কাপড় সাজানোর প্রক্রিয়াকে কাপড় বিছানো বলে।
প্রশ্ন – ৩৮. নিটেড কাপড় বিছানোর কত ঘন্টা পর কাটা হয়?
উত্তরঃ ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা পর।
প্রশ্ন – ৩৯. কাপড়ের লে তৈরি করা হয় কেন?
উত্তরঃ কাপড় বাচানোর জন্য ও পোশাক প্রতি কাপড় কাটার সময় বাচানোর জন্য।
প্রশ্ন – ৪০. সোজা লে বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ একই প্রকার লে এর মধ্যে কাপড়ের প্রতিটি প্লাই মার্কারের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী পূর্ণ দৈর্ঘ্যে বিছানো হয়।
প্রশ্ন – ৪১. ওয়ান পিস বেন্ডেড কলার কাকে বলে?
উত্তরঃ যে কলার ব্যান্ড এক পিস কাপড় দ্বারা তৈরি হয় তাকে ওয়ান পিস বেন্ডেড কলার বলে।
প্রশ্ন – ৪২. স্পোর্টস ওপেন রাউন্ডেড কলার কাকে বলে?
উত্তরঃ ব্যান্ড ছাড়া শুধু কলার যদি গলাত বিছানো থাকে, তবে তাকে স্পোর্টস ওপেন রাউন্ডেড কলার বলে।
প্রশ্ন – ৪৩. সেলাই সুতার সাইজ বা কাউন্টকে কি বলে?
উত্তরঃ টিকিট নাম্বার।
প্রশ্ন – ৪৪. সেলাই সুতার মধ্যে কি ধরনের ফিনিশিং মেটারিয়ালস ব্যবহার করা হয়?
উত্তরঃ লুব্রিক্যান্ট।
প্রশ্ন – ৪৫. সুতার মেট্রিক নাম্বার ৮০/২ হলে, টিকিট নাম্বার কত?
উত্তরঃ ১২০।
প্রশ্ন – ৪৬. ফেব্রিক লে বলতে কি বুঝ?
উত্তরঃ কাপড় বিছানোর পর কাপড়ের স্তরসমূহ যে আকার ধারণ করে তাকে ফেব্রিক লে বলে।
প্রশ্ন – ৪৭. কাপড়ের লে তৈরির মৌলিক লে শর্ত কয়টি?
উত্তরঃ ৩ টি।
প্রশ্ন – ৪৮. কাপড়ের মোড়ক বলতে কি বুঝ?
উত্তরঃ খোলা অবস্থায় কাপড়কে স্তরে স্তরে সাজানোকে কাপড়ের মোড়ক বলে।
প্রশ্ন – ৪৯. প্লাই বলতে কি বুঝ?
উত্তরঃ ফেব্রিক লে এর মধ্যে একটি কাপড়কে প্লাই বলে।
প্রশ্ন – ৫০. স্প্লাইসের অপর নাম কি?
উত্তরঃ ওভারল্যাপিং।
প্রশ্ন – ৫১. স্প্লাইস কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ দুই প্রকার। যথাঃ ক. সরলরেখা স্প্লাইস, খ. ইন্টারলক স্প্লাইস।
প্রশ্ন – ৫২. স্প্লাইসের কারণ কি?
উত্তরঃ ক. কাপড়ের মধ্যে কোন ধরনের দাগ থাকলে।
খ. কাপড় ছেঁড়া বা বা ছিদ্রযুক্ত হলে।
গ. কাপড়ের রোলের কাপড় শেষ হয়ে গেলে নতুন রোল সংযুক্ত করতে হয়, যার ফলে স্প্লাইস করার প্রয়োজন হয়।
প্রশ্ন – ৫৩. কাপড়া কাটা কাকে বলে।
উত্তরঃ কাপড় বিছানোর পর নাইফ দ্বারা পোশাকের বিভিন্ন অংশ কাটাকে কাপড় কাটা বলে।
প্রশ্ন – ৫৪. কাপড় কাটার শর্তাবলি কি কি?
উত্তরঃ ক. কাটার সূক্ষ্মতা, খ. সুন্দর কর্তিত প্রান্ত, গ. পোড়া ও গলনহীন প্রান্ত, ঘ. কাপড়ের লে ধারক, ঙ. সামঞ্জস্যপূর্ন কাটা।
প্রশ্ন – ৫৫. রাউন্ড নাইফ মেশিনের আর.পি.এম ও ব্লেডের উচ