11/07/2026
রাজশাহী কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল মতিনের গল্প যেন স্কটল্যান্ডের কিংবদন্তি রাজা রবার্ট দ্য ব্রুস-এর সেই অদম্য অধ্যবসায়ের কাহিনিরই আধুনিক প্রতিফলন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, টানা ছয়বার পরাজয়ের পর একটি মাকড়সাকে বারবার জাল বুনতে চেষ্টা করতে দেখে নতুন করে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন রবার্ট দ্য ব্রুস। সেই অনুপ্রেরণায় তিনি আবার লড়াইয়ে ফিরে যান এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় অর্জন করেন। আব্দুল মতিনের দীর্ঘ বিসিএস যাত্রাও যেন একই বার্তা বহন করে—ব্যর্থতা শেষ নয়, বরং নতুন করে শুরু করার প্রেরণা।
২০১৯ সালের শেষ দিকে বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। ৪৪তম বিসিএসে প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েন। ৪৫তম বিসিএসে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত গিয়েও চূড়ান্ত সুপারিশ পাননি। বিশেষ বিসিএসেও সফলতা আসেনি। প্রতিটি ব্যর্থতা তাকে মানসিকভাবে আঘাত করলেও তিনি স্বপ্ন ছেড়ে দেননি। বরং নিজের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রায় সাত বছরের নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজশাহী কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মতিন বর্তমানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। দুর্গম চরাঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতে করতেই তিনি বিসিএসের প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পড়েছেন, আবার সুযোগ পেলেই লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা করেছেন। চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেও লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যাননি।
তার এই সাফল্য শুধু একটি ক্যাডার অর্জনের গল্প নয়; এটি ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং অবিচল পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। রবার্ট দ্য ব্রুস যেমন পরাজয়কে সাফল্যের সোপানে পরিণত করেছিলেন, তেমনি আব্দুল মতিনও বারবার ব্যর্থতার পর অবশেষে নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছেছেন। তার এই যাত্রা আগামী দিনের বিসিএসপ্রত্যাশীদের জন্য নিঃসন্দেহে এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণার গল্প।