27/04/2015
দয়া করে বুঝে পড়বেনঃ- ইসলামী সংগঠণের প্রয়োজনীয়তা কি রাজনৈতিক কারণেই ??একটি ইসলামী সংগঠণের মৌলিক কাজ হচ্ছে বিপ্লবের উপযোগী লোক তৈরি করা যারা নিজেদের আদর্শ প্রচার করেই খ্যান্ত হবে না, সাথে সাথে জগতের সকল মতাদর্শের ওপর নিজ আদর্শকে কার্যত বিজয়ীর বেশে দেখার চেষ্টা করবে। সফল হওয়া আর না হওয়ার চিন্তা করা তার কাজ নয়। সফলতার বিষয়ে তাকে কোন প্রশ্ন করা হবে না, তেমনি ব্যর্থতার জন্যও তাকে পাকরাও করা হবে না।হাশরের ময়দানে মানুষকে যে বিষয়ের ওপর পাকরাও করা হবে সেটা হলো সে তার আদর্শের পক্ষে শুধুমাত্র মৌখিক অবস্থান নিয়েই শান্ত ছিলো নাকি সেই আদর্শের বিপরিত সকল মতাদর্শের বিপরিত মেরতে অবস্থান নিয়ে নিজ আদর্শের ঝান্ডাকে বিজয়ের বেশে দেখার স্বপ্ন আমরণ লালন করেছিলো।কোরআন অধ্যায়ন করলে স্পষ্ট জানা যায় যে, সকল আম্বিয়াদের (আ) আসল কাজও সেটােই ছিলো। সর্বশেষ নবী হিসেবে আমাদের প্রিয় নবীর (স) আসল মিশন সম্পর্কে জানার জন্য আমরা কোরআনের(সূরা আস-সফ এর ৯ নং আয়াত) নিমোক্ত আয়াতটির দিকে তাকাতে পারি-هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ-তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত এবং ‘দীনে হক’ দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে তিনি এ দীনকে অন্য সকল দীনের ওপর বিজয়ী করেন, চাই তা মুশরিকদের কাছে যতই অসহনীয় হোক না কেন।এটা হচ্ছে নবীর (স) কাজ বা নবী ওয়ালা কাজ। এটাই আমার আপনার ঈমানী জিম্মাদারী।আপনি যে জীবন ব্যবস্থার ওপর ঈমান এনেছেন তাকে ছেড়ে দিয়ে অন্য কোন জীবন বিধানের আনুগত্য করা এক ধরণের কপটতা। যদি এরকম হয় যে, একান্ত বাধ্য হয়েই সেই দ্বীনের ওপর রয়েছে বা তাদের নিয়ন্ত্রনে কাজ করছেন কিন্তু মনের গহিনে কেবল একটি চিন্তা ফিকিরই প্রাধান্য দিচ্ছেন কিভাবে এই জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করা যায়। তাহলে নিশ্চিতরুপে আশা করা যায় যে, আপনি ক্ষমার যোগ্য হবেন। কিন্তু ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীনের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে ভাবনাহীন ভাবে জীবন পরিচালণা করার পরে আল্লাহ পাকের কাছে এমন ওজর পেশ করার কোন সুযোগ থাকে না যে, আপনি ইচ্ছা থাকা সত্তেও আল্লাহ দ্বীনের আনুগত্য করতে পারেননি। আল্লাহর দ্বীনকেই আপনি একমাত্র বিশুদ্ধ দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন এমন দাবি করার সুযোগও তখন হয়তো থাকবে না। বর্তমানে বিভিন্ন যুক্তি, আবেগী দলিল দিয়ে হয়তো দায়িত্ব্য ও কর্তব্য থেকে পালিয়ে বাচঁবেন কিন্তু পরকালে এর কোন সঠিক জবাব আপনি দিতে পারবেন না। বতৃমানে দ্বীনের এমন করুণ পরিণতি দেখে চুপ থাকার কৈফিয়ত না দিয়ে তখন এক চুল পরিমাণও নড়তে পারবেন না। আখেরাতের ওপর যাদের দৃঢ় ঈমান আছে, তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারেন।আল্লাহ আমাদেরকে সত্য বুঝার এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুক। আমীন!!!আমীন!!! আমীন!!! (অপু ভাইয়ের লিখা থেকে)