02/01/2014
আশার চেয়ে শঙ্কা নিয়েই শুরু
হচ্ছে আরেকটি বছর।
বিদায়ী বছরজুড়েই সারাদেশের
মতো ফেনীর রাজনৈতিক অঙ্গনও
ছিল উত্তাল। বিশেষ করে বছরের
শেষ দিকে নানা অঘটন
জনমনে উদ্বেগ-
উৎকন্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে। মহাজোট
সরকারের ৫ বছরের শেষ
বছরটিতে ঘটে যাওয়া সহিংসতা অন্য
৪ বছরের রাজনৈতিক
‘সহাবস্থান’কে ম্লান করে দিয়েছে।
বিগত বছরে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড,
অগ্নিসংযোগ, গাড়ী ভাংচুর, হামলা,
মামলা-গ্রেফতার হয়েছে রেকর্ড
পরিমান। বিশেষ করে এত
‘রাজনৈতিক’ মামলা ও গ্রেফতার
নিকট অতীতে আর
হয়নি বলে অভিজ্ঞদের মত। পুলিশের
অতি উৎসাহী কর্মকর্তারা কারাবন্ধী নেতাদেরও
বিভিন্ন সময় মামলার
আসামী করেছেন। তবে রাজনৈতিক
নেতাকর্মীদের চেয়ে নিরীহ লোকজনই
হয়রানির শিকার হয়েছেন বেশি।
‘অজ্ঞাত আসামী’র নামে আটক
করে দুই হাতে টাকা কামিয়েছে অসাধু
পুলিশ কর্মকর্তারা। এছাড়া অন্তত
৪ টি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড হয়েছে এ
বছরে। এদের মধ্যে দু’জনই প্রাণ
হারান পুলিশের গুলিতে।
অপরদিকে শহরের আদালত
পাড়া এলাকায় নির্মাণ সুপার
মার্কেট, এসএসকে সড়কের
মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক
ও জামায়াত অফিস আগুন
দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় এক সময়ের
সন্ত্রাস কবলিত
ফেনীবাসীকে পুরনো সহিংসতার
স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ২৫
অক্টোবর থেকে অবৈধ অস্ত্রের
ব্যবহার ও প্রদর্শন পুরো জেলায়
একদিকে আতংক অন্যদিকে রক্তপাত
বেড়ে যায়। উদ্বুত
পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক
সহিংসতা বন্ধ
করে ফেনীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ
বজায় রাখতে রাজনৈতিক দল সমূহ,
পেশাজীবী সংগঠন ও প্রশাসনের
সাথে পৃথক বৈঠক
করে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি।
এটি সর্বমহলে প্রশংসিত হলেও
জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তিত
পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাপট বদলে যায়।
এদিকে রাজনৈতিক দল সমূহের
মধ্যে সরকারী দল আওয়ামীলীগ
বছরের শেষ দিকে সিরিজ
কর্মসূচী পালন করে কেবল নিজেদের
আধিপত্যই জানান
দেয়নি বরং বিরোধী দলকেও
নানাভাবে কোনঠাসায় রেখেছে।
অন্যদিকে বিএনপি ও
সহযোগি সংগঠনের
অবস্থা কেটেছে এলোমেলোভাবে।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ
জেলার তিনটি আসনে দলীয় সংসদ
সদস্য থাকলেও চলমান আন্দোলন-
সংগ্রামে সমন্বয়হীনতার
কারনে উল্লেখ করার
মতো তৎপরতা দেখাতে পারেননি নেতারা।
অবশ্য এক্ষেত্রে তারা সরকারী দল ও
প্রশাসনের দমন-
পীড়নকে দায়ী করেন। তবে ১৮ দলের
অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর
ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির
বছরজুড়ে ছিল তৎপর।
এক্ষেত্রে সরকারী দল ও
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল
টার্গেট হয় আলোচিত এ সংগঠনের
নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে দশম জাতীয় সংসদ
নির্বাচনকে ঘিরে ফেনীতেও ঘটে যায়
নানা নাটকীয়তা। দলীয় মনোনয়ন
না চেয়ে তিন আসনে স্বতন্ত্র
প্রার্থী হয়ে তিনবারের সংসদ সদস্য
জয়নাল হাজারী চমক দেখালেও
শেষতক গ্যাস বিল বকেয়া আর
সমর্থনকারী জাল স্বাক্ষরের
অভিযোগে তার
তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল হয়।
এতে ফেনী-২
আসনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ
সম্পাদক ও পৌর মেয়র নিজাম
উদ্দিন হাজারী এবং ফেনী-১
আসনে জাসদ নেত্রী শিরিন
আখতারকে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত
ঘোষনা করা হয়। ফেনী-৩
আসনে গতবারের প্রার্থী যুবলীগ
নেতা আবুল বাশারকে ফের মনোনয়ন
দিয়েও শেষ মুহুর্তে জাতীয়
পার্টিকে ছেড়ে দেয়ায়
তাকে সরিয়ে নেয় দলের হাই-কমান্ড।
তবে আওয়ামীলীগের
বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী রহিম
উল্যাহ স্বতন্ত্র
প্রার্থী হয়ে জাতীয়
পার্টি প্রার্থী রিন্টু আনোয়ারের
একতরফা জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলার অন্য দুই আসনে ভোট
না থাকায় সোনাগাজী-দাগনভূঞার এ
আসনেও নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের
আগ্রহের বদলে আতংকই
তাড়া করছে। ঘটনাবহুল ২০১৩ সাল
বিদায় নিলেও উদ্বেগ-উৎকন্ঠা নিয়েই
শুরু হল ২০১৪ সাল।
-ট্রাঙ্ক রোড,ফেনী