26/12/2025
ফরিদপুর জিলা স্কুল এই অঞ্চলের সর্বপ্রাচীন ও সর্বঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। লটারি সিস্টেম চালু হওয়ার আগের সময়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী কঠোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এখানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে। এই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আজ দেশ–বিদেশে নানা ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত, যা নিজেই এই প্রতিষ্ঠানের মান ও ঐতিহ্যের প্রমাণ।
জিলা স্কুল আর সাধারণ সরকারি স্কুলের মূল পার্থক্য হলো, উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার ক্ষেত্রে উপমহাদেশে জিলা স্কুলই ছিল প্রথম ধারণা ও প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশে যে ১৪টি জিলা স্কুল রয়েছে, ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার আলো প্রথম প্রবেশ করে। একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে ভাবলে স্পষ্ট হয়, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা ঐতিহ্যবাহী এবং শিক্ষা বিস্তারে তাদের অবদান কত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
আজ ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের শেষাংশে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা কেবল একটি অনুষ্ঠানে আঘাত নয়, এটি দেশের শীর্ষ শিক্ষার এক বাতিঘরের ওপর আঘাত। জিলা স্কুলের ছেলেরা পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিলেও প্রশ্ন থেকেই যায়, কারা এবং কেন এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটাতে চায়। নিঃসন্দেহে এরা সেই মানুষ, যাদের ঘরে এখনো শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি। আমাদের সবচেয়ে বড় আফসোস, এত ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অঞ্চলেও এখনো এমন শিক্ষাহীন মানুষের অস্তিত্ব রয়েছে।
তবুও আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের আয়োজন ছিল সফল, এবং যা হয়েছে তা ফরিদপুর তো বটেই, দেশের স্কুল পর্যায়ের ইতিহাসেও অনন্য। তবে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা ব্যক্তিগতভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাবো, যেন স্কুলের ছাত্রদের পাশাপাশি বাইরের এই শিক্ষাবঞ্চিত মানুষদের ঘরেও শিক্ষার আলো পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এক্ষেত্রে অবশ্যই ফান্ডের প্রয়োজন হবে। কিন্তু চিন্তার কোনো কারণ নেই! জিলা স্কুলের এলামনাইরা দেশ ও বিশ্বের নানা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থান করছেন। তারা নিশ্চয়ই জেলার এই শিক্ষাবঞ্চিত মানুষদের শিক্ষিত করে তুলতে এগিয়ে আসবেন।
পরিশেষে বলা যায়, যখন সবার ঘরে শিক্ষা পৌঁছায় না, তখন শিক্ষাহীনদের কাছ থেকে শিক্ষিতদের প্রতি আঘাত ও ঈর্ষা আসতেই পারে। তাই আমরা বিচলিত নই। আমরা এই অঞ্চলের শিক্ষার ধারক ও বাহক। আমাদের একটাই চাওয়া, একটি শিক্ষিত ফরিদপুর, একটি শিক্ষিত দেশ।
ধন্যবাদ।