08/05/2026
সূরা লাহাব (Surah Lahab) পবিত্র কুরআনের ১১১তম সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ এবং এতে ৫টি আয়াত রয়েছে। এই সূরায় মহানবী (সা.)-এর কট্টর শত্রু আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। তাদের ধন-সম্পদ বা উপার্জন জাহান্নামের আগুন থেকে তাদের রক্ষা করতে পারবে না—এটাই এই সূরার মূল অর্থ ।
بّتَبَّتۡ یَدَاۤ اَبِیۡ لَہَبٍ وَّتَبَّ ؕ ١ مَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُ مَالُہٗ وَمَا کَسَبَ ؕ ٢ سَیَصۡلٰی نَارًا ذَاتَ لَہَبٍ ۚۖ ٣ وَّامۡرَاَتُہٗ ؕ حَمَّالَۃَ الۡحَطَبِ ۚ ٤ فِیۡ جِیۡدِہَا حَبۡلٌ مِّنۡ مَّسَدٍ
সূরা লাহাব বাংলা উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ (অনুবাদ):
১. তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিঁওয়া তাব্ব।
_ আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে।
২. মা-আগনা 'আনহু মা-লুহূওয়ামা-কাছাব।
_ কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।
৩. ছাইয়াসলা-না-রান যা-তা লাহাব।
_ সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে।
৪. ওয়ামরাআতুহূ, হাম্মা-লাতাল হাত্বাব।
_ এবং তার স্ত্রীও, যে আগুনের ইন্ধন (লাকড়ি) বহন করে।
৫. ফী জীদিহা-হাবলুম মিম মাছাদ।
_ তার গলদেশে খর্জুর বৃক্ষের পাকানো রশি।
মূল শিক্ষা: কুফর ও ইসলাম বিরোধিতার শাস্তি ভয়াবহ। পার্থিব ক্ষমতা বা সম্পদ আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচাতে পারে না।
সূরা লাহাবের শানে নুযুল:
আল্লাহ তায়ালা যখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এই আয়াত নাজিল করলেন- (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) ‘আর আপনি আপনার গোত্রের নিকটাত্মীয়দেরকে ভীতি প্রদর্শন করুন।’ (সূরা আশ-শু'আরা, আয়াত, ২১৪) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফা পর্বতে আরোহণ করে কোরাইশ গোত্রের লোকদের ডাক দিলেন।
ডাক শুনে কোরাইশ গোত্র পর্বতের পাদদেশে একত্রিত হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যদি আমি বলি যে, একটি শত্রুদল ক্রমশই এগিয়ে আসছে এবং সকাল বিকাল যে কোনো সময় তোমাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়বে, তবে তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করবে কি?
সবাই একবাক্যে বলে উঠল, হ্যাঁ, অবশ্যই বিশ্বাস করব। এরপর তিনি বললেন, আমি (শিরক ও কুফরের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত) এক ভীষণ আজাব সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করছি। এ কথা শুনে আবু লাহাব বলল, ধ্বংস হও তুমি, এজন্যেই কি আমাদেরকে একত্রিত করেছ? একথা বলে সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পাথর মারতে উদ্যত হল।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা লাহাব অবতীর্ণ হয়। (বুখারি, হাদিস, ৪৯৭১, ৪৯৭২, মুসলিম, হাদিস, ২০৮)