অবস্থান:
দোয়ারাবাজার উপজেলার উত্তরে ভারতের চেরাপুঞ্জি, মেঘালয় রাজ্য। পূর্বে ছাতক উপজেলা, দক্ষিণ ও পশ্চিমে সুনামগঞ্জ জেলা। সুনামগঞ্জ থেকে দোয়ারাবাযারের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিঃমিঃ । সিলেট থেকে প্রায় ৬৫ কিঃমিঃ। দোয়ারাবাজার সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে হওয়ায় সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ নেই। ভারত সীমান্তের কাছে হওয়ায় খুব শীত পড়ে এখানে।
ইউনিয়ন পরিষদ:
দোয়ারাবাজার ইউনিয়ন
মান্নারগাঁও ইউনিয়ন
পাণ্ডারগাঁও ইউনিয়ন
দোহালিয়া ইউনিয়ন
লক্ষীপুর ইউনিয়ন
বোগলাবাজার ইউনিয়ন এবং
সুরমা ইউনিয়ন
ইতিহাস:
দোয়ারাবাজার নামটা এসেছে মূলত উপজেলার বাজারটি দুইবার স্থানান্তর করা থেকে। সুরমা নদীর নদীভাঙনের ফলে বাজারটিকে দুইবার স্থানান্তর করতে হয় যা সিলেটি "দুই আরা" বা দুই বার থেকে দুয়ারা বা দোয়ারা শব্দটি এসেছে। এই উপজেলা ১৯৮৫ সালে ছাতক উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়। বর্তমানে নতুন তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে মোট ইউনিয়ন নয়টি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার ইতিহাস এবং ছাতক উপজেলার ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ছাতকের ইতিহাস পাঠ করলেই এই উপজেলার ইতিহাসেরও পাঠ নেওয়া হয়ে যায়।
দর্শনীয় স্থান:
১। বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ যা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৫ নাম্বার সেক্টরের সাবসেক্টর। এখানে রয়েছে একটি কবরস্থান যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী বীর সন্তানেরা । বাঁশতলার প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোমুগ্ধকর । উত্তরে ভারতের সীমান্তবর্তী সবুজ পাহাড় আর পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সর্পিল নদী যে কারো মনে দাগ কাটবে ।
২। জুমগাওঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে পরিচিত জুমগাও বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ এর সামান্য পশ্চিমে অবস্থিত একটি জনপদ যা সম্পুর্ণভাবে পাহাড়ের উপর গড়ে ঊঠেছে । গারো নৃগোষ্ঠীর মাধ্যমেয় সেখানে জনবসতি শুরু হয় । সাম্প্রতিক সময়ে এই স্থানটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে ।
৩। কাজল হাওরঃ দোয়ারাবাজার সদরের একেবারেই গা ঘেষে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন কাজল হাওর । এর স্বচ্ছ কাজল বর্ণের ছলছল জলের দুর্বার আকর্ষন যে কাউকে মোহময় করে তুলবে । বর্ষায় এর জলরাশি প্রবল শক্তিতে আছড়ে পড়ে উপজেলা সদরের উত্তর পশিম অংশে আর শীতকালে হয়ে উঠে ফসলের চাদরে আবৃত ভূসর্গ ।
৪। পান্ডারখালের বাধঃ কৃত্রিমভাবে তৈরি এ বাঁধটি যে কারো নজর কাড়বে। দোয়ারাবাজার সদর ও পান্ডারগাও ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগকারী এই বাঁধটি পান্ডারখালকে দুইভাগে বিভিক্ত করে নিজের বুকে গড়ে তোলেছে সবুজের ছায়াঘেরা নান্দনিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ।
বিবিধ:
বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের প্রাণের জনপদ দোয়ারাবাজার যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হয়ে আসছে । এই অঞ্চলের মানুষজন অত্যন্ত সামাজিক ও বন্ধুসুলভ কিন্তু যথার্থ ঐক্যের অভাবে যোগাযোগ, শিক্ষা ও অবকাঠামোগতভাবে মারাত্বকভাবে পিছিয়ে পড়া এক জনপদ। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দী পাড় হয়ে গেলেও এর উপজেলা সদর এখনো দেশের মূল ভূখন্ডের সাথে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হতে পারে নাই । এছাড়া উপজেলার আভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক । উপজেলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যাক সুন্দর এই জনপদ; এই প্রত্যাশা সকলের ।