21/01/2019
দিনাজপুরে মেলার নামে সর্বনাশা র্যাফল ড্র
প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকা লেনদেন
দিনাজপুর প্রতিনিধি
২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০
দিনাজপুর সদর উপজেলার গোয়ালহাট পশু মেলায় র্যাফল ড্রর নামে চালানো হচ্ছে জুয়ার মঞ্চ।
দিনাজপুরের সদর উপজেলার গোয়ালহাট পশু মেলায় র্যাফল ড্রর নামে সর্বনাশা জুয়া চলছে। মাইকে প্রচারণা ছাড়াও কেবল টিভির তিনটি চ্যানেলে তা সরাসরি সম্প্রচার চালানো হচ্ছে। মেলায় বসানো হয়েছে প্রজেক্টর। প্রতিদিন শতাধিক ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক ও পাঁচটি পিকআপে করে দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
আকর্ষণীয় ও দামি পুরস্কার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে টিকিট। এসব টিকিট কিনে ব্যবসায়ী, তরুণ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। এসব বন্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
দৈনিক মন মাতানো র্যাফল ড্রর কুপন সংগ্রহ করে দেখা যায়, র্যাফল ড্রর নামে চলছে টিকিট বাণিজ্য। যার মূল্য রাখা হচ্ছে ২০ টাকা। এক ব্যক্তি একটি থেকে হাজারটি টিকিটও কিনছে। এই ২০ টাকার টিকিটে শুক্রবার রাতে একটি মাইক্রোবাস, পাঁচটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল, আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকারসহ ৫৭টি আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ফলে এতে আসক্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে বলে জানিয়েছে একাধিক অভিভাবক।
গত শুক্রবার রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় দৈনিক মন মাতানো র্যাফল ড্রর লোভনীয় পুরস্কারগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। রাত ১০টার পর টিকিটভর্তি দেড় শতাধিক ড্রাম মেলায় আনা হয়। এরপর শুরু হয় র্যাফল ড্রর নামে জুয়া। রাত ১১টার পর যখন ড্র শুরু হয়, তখন মেলায় হাজার হাজার মানুষের ভিড়।
গত ৭ জানুয়ারি উদ্বোধন হয়ে এখন পর্যন্ত মেলা চলছে। গত শুক্রবার দৈনিক মন মাতানো র্যাফল ড্রর প্রথম পুরস্কার মাইক্রোবাস পান দিনাজপুর শহরের পুলহাটের মইনুল ইসলাম। তিনি ছেলে মার্জুকুলের নামে টিকিট কিনেছিলেন। এ সময় তিনি মেলায় উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে মাইকে র্যাফল ড্রর ধারাভাষ্যকার প্রথম পুরস্কার পাওয়া টিকিটে দেওয়া মোবাইল নম্বরে মইনুল ইসলামকে কল দেন। তাঁর অনুভূতি জানতে চান। একপর্যায়ে ধারাভাষ্যকার সিরাজ পুরস্কার পাওয়া মইনুল ইসলামকে বলেন, ‘জোরে বলেন তো, মাথাই নষ্ট মামা।’ মইনুল ইসলামও মুঠোফোনে জোরে চিৎকার করে বলেন, ‘মাথাই নষ্ট মামা।’ একইভাবে যারা স্বর্ণালংকার ও মোটরসাইকেলগুলো পেয়েছে তাদেরও এ কথা বলতে শোনা যায়। ইদানীং বাক্যটি দিনাজপুরের শহরবাসীর স্লোগানে পরিণত হয়েছে।
জেলা শহরের রিকশাচালক নাজিম উদ্দিন জানান, দিনে ৩০০ টাকা আয় করেন তিনি। এর মধ্যে ১০০ টাকা দিয়ে কয়েক দিন টিকিট কিনেছেন তিনি। বাকি টাকায় কষ্ট করে চারজনের সংসার চালান। তিনি জানান, প্রতিদিন টিকিট কেনায় কিছুদিন ঠিকমতো সংসার চালাতে পারেননি। এ নিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে জানা যায়, মেলা কমিটির সভাপতি অসুস্থ। তিনি এ নিয়ে কথা বলতে পারবেন না। অন্যদিকে মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকারকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহবুবুল আলম বলেন, এ ধরনের মেলার অনুমোদন তাঁর দপ্তর থেকে দেওয়া হয়নি।
দিনাজপুরের সদর উপজেলার গোয়ালহাট পশু মেলায় র্যাফল ড্রর নামে সর্বনাশা জুয়া চলছে। মাইকে প্রচারণা ছাড়াও কেবল