15/04/2020
ডেট: 05.03.20
টাইম: রাত 9.30 মি.
এস আর ট্রাভেলস
দিনাজপুর টু ঢাকা ।
পড়াশোনা কতটুকু হয়েছে বোঝার উপায় খুব একটা ছিলোনা সেদিন । সারাদিনের চাকরি( অফিস )শেষ করে রাতের বাসে ঢাকা যেতে হচ্ছিল।শুক্রবার বুয়েটে একটা পরীক্ষা ছিলো। নব্বই মিনিটের পরীক্ষা দিতেই এতো কস্ট করে যেতে হচ্ছিল।অবশ্য পরীক্ষা দিয়ে আবার শুক্রবারই ফিরতে হয়েছিল।কিছু করার ছিলো না ছুটি পাইনি আর শনিবার সকালে অফিস ছিলো। দিনাজপুর টু ঢাকা 85% টাইম এস আর প্লাসে জার্নি করেছি কারন তারা টাইম মেইন টেইন করে বেশ ভালো। শুক্রবার সকাল 9.00 টায় পরীক্ষা ছিলো তাই ভেবেছিলাম বৃহস্পতিবার রাতে গেলেই হল।নরমালি এই বাস সকাল 7.00 (+/- 30 মি)টায় পৌছায়। সেই ভাবনায় সহধর্মিনী ( উনিও পরীক্ষার্থী) কে নিয়ে রওনা দিয়েছিলাম।
রাতে বাস ছাড়ার সময় বউ একবার বলল দেখবেন সময় মত যেন পৌছাতে পারি। আমি বললাম ইনশাআল্লাহ্। সব ঠিক চলছিলো। কানে হেড ফোন লাগিয়ে গান শুনতে লাগলাম ।বিভিন্ন ধরণের গান।হিন্দি> বাংলা>ইংরেজি এই প্যাটার্নে। কখন যে হাল্কা তন্দ্রা এসে গেল বুঝতে পারিনি একদম। সারাদিন দৌড়া দৌড়ির হালকা অবসাদ বলা যায়।
হাল্কা একটা ধাক্কায় তন্দ্রা কাটে গেলো। সময় রাত 11.45 মি । বাস থেমে আছে দেখে নিচে নেমে গাইডকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে। বললেন স্যার একটা টায়ারে লিক্ আছে 25 মি লাগবে। অগত্যা দিনাজপুরের এই নবাবগঞ্জ এলাকায় গভীর রাতে অপেক্ষা করা। ঘন্টাখানেক পর বউ নেমে এলো সিট থেকে। নেমেই জিজ্ঞেস আর কতক্ষণ। গাইড এবারো বললেন এইতো স্যার আর 25 মি। মনে হচ্ছিল সমস্যা শুধু টায়ারে লিক না আরো বেশি কিছু। এদিকে কাল পরীক্ষা আমাদের। হতাশা বাড়ছে। এক দিকে বউ শুরু করল এক বছর পরপর এক একটা পরীক্ষা তাও দিতে পারব না? আগের বাসের টিকেট কেন কাটলেন না? এক বছরের পরিশ্রম এইভাবে মাটি হবে? গার্ডিয়ানদের কি জবাব দেবো?আমাদের কপাল এতো খারাপ? আপনার নেয়া সব সিদ্ধান্ত ঠিক হলেও আজকের টা কি ঠিক?....অন্যদিকে বাসা থেকেও ফোন আসছে হাজার জিজ্ঞেসা ......কোথায়? কেনো?কখন ছাড়বে? আমাদের কথাতো শুননা ,বলেছিলাম আগে রওনা দিতে ব্লা ব্লা ব্লা ....আমার করার কিছু ছিলো না ।এর মধ্যে আরও এক ঘণ্টা কেটে গেছে।গাইডকে বললাম ভাই আর কতক্ষণ? গাইড মিষ্টি হেসে এইতো স্যার আর 25 মি ।
রাত 2.45 মি।
আমাদের সব স্বপ্ন আশা ভরশা শেষ। আর সকাল নয়টার পরীক্ষা দেয়া হবেনা। কি করা আর? ইতিমধ্যে বাসা থেকে ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দিয়েছি। বউকে বললাম আবার সামনের বছর পরীক্ষা দিও, সৃষ্টিকর্তাই জানেন কি হবে সামনে। বউ ইতিমধ্যে সাইলেন্ট মোডে চলে গেছে। গাইড কে জিজ্ঞেস করলাম ভাই আমার তো এক বছরের পরিশ্রম শেষ, আপনার আর কতক্ষণ? আবার একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন চলেন যাই।
ফুড ভিলেজে পৌছালাম ভোর 4.45 মি।নেমে ড্রাইভার সাহেব কে বললাম আমার অনেক লস হয়ে গেল ভাই। কি বিষয়াদি সব শুনে উনি বললেন ওহ এই ব্যাপার ? আপনি কাল পরীক্ষা দিবেন ।
ঘুম ভেঙে দেখি সকাল 8.30 মি গাবতলী মাজার রোড।
কেমনে কিভাবে পৌছালাম জানিনা। বউকে বললাম চল পরীক্ষা দেই।
বউ এবার রিংগিং মোডে গেলো।
বললো চলেন ।