13/02/2026
নির্বাচনের প্রেডিকশন দেওয়ার আগে কিছু ডট মিলায়ে দেই। নাইলে প্রেডিকশন অ্যাকিউরেট লাগবে না।
১।
হাদি ছিলেন মাফিয়া বাহিনীর জন্যে সিস্টেমেটিক রিস্ক। হাদিকে নাই করাটা দুই মাসের একক কোনো প্ল্যান ছিলো না। বিচ্ছিন্ন ঘটনাও না। এইটা ছিলো - এলিট রিস্ক এলিমিনেশন।
অনেক লম্বা ছকের একটা অংশ ছিলো হাদির শহীদি। এই ছকের শুরু হয়- হাসনাত-সার্জিস যখন লীগ পুনর্বাসনের প্রপোজাল রিজেক্ট করে এবং হাসনাত ডিপ্লোমেটিক প্রোটোকল ভেঙে সেই প্রস্তাব প্রকাশ করে দেয় জনসম্মুখে- তারপর থেকে।
২।
ম্যাডাম মারা গেছেন এই খবর পেয়েছি এভারকেয়ার হাসপাতলের এক স্টাফ থেকে, যে ছিলে ফ্রেন্ডস অব ফ্রেন্ড। এটা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে- যে বলেছিলো আরও আগেই মারা গেছেন। আমি বিশ্বাস করিনি। তবে ধরে নিয়েছি ম্যাডামকে বাঁচায়া রাখা হইছে লাইফ সাপোর্টে। সাপোর্ট সরালেই মৃত্যু- এমনটা হইতে পারে।
অর্থাৎ আনঅফিসিয়াল ডেথ।
২৯ নভেম্বর তারেক যে স্ট্যাটাস দেয়- "দেশে আসাটা তার একার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না"- এটা সম্ভবত ম্যাডামের মৃত্যুর নিশ্চয়তা বুঝেই।
কারণ, খালেদার মৃত্যু হলে, তারেকের ফেরাটা আরও রিস্কি হয়ে ওঠে। বরং মাইনাসের প্ল্যানও হতে পারে। খালেদা জিয়ার শারীরিক উপস্থিতি ছিল তারেকের ফলব্যক লেজিটিমিসি। ফলে, ম্যাডাম না থাকলে - তারেক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার দূর্বলতা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।
এই আলাপ থেকে বুঝা যায়- সেই মুহূর্তে তারেক আর ডিসিশন মেকার না। বরং পাওয়ার ট্রান্সফার ভেহিকল।
তখন তার দেশে ফেরা নির্ভর করে দেশী-বিদেশী কয়েকটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইচ্ছার ওপর। তারেক না থাকলে যারা সুবিধাভোগী হবে তারা এবং যাদের প্রেসাক্রিপশনে দল চলবে তারাই তারেকের আসাকে ঠেকায়া দিতো।
কিন্তু তারেক বিহীন বিএনপি জাশির বিপক্ষে খুবই ভালনারেবল। এতে জাশির ক্ষমতায় আসার চান্স শতভাগ। এই রিস্ক ক্যালকুলেট করে, ওইসব গ্ৰুপ তারেককে আনতে সম্মত হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের শর্তে।
৩।
গোপন রাষ্ট্র বলে আমরা যাদেরকে বুঝি- ওরা মূলত বাঙাল মাফিয়া। এই মাফিয়ার সঙ্গে জাশির আপস হবার পসিবিলিটি নাই। জাশিকে মাফিয়ার ভিনদেশি গডফাদাররা কলিজা কেটে খাওয়ালেও বিশ্বাস করে না। ফলে-১৭ বছরের চেইন অব ক্রাইম থেকে বাঁচার কোনো স্ট্রেইট রুট নাই।
কিন্তু বিকল্প এসকেইপ রুট তো দরকার।
সেই রুট হইছে তারেক।
বিনিময়ে তারেক পাবে ফেরার সুযোগ, ফুল প্রটেকশন, ক্ষমতায় বসার নিশ্চয়তা।
৪।
তারেকের প্রাণনাশের হুমকি ছিলো। দেশে আসা রিস্কি। এদিকে ম্যাডামও নাই। ফলে ঝুঁকি আরও বেশি হবার কথা। কিন্তু তারেক ফিরেছে।
প্রত্যাবর্তনের পরের ঘটনাবলি খেয়াল করলে, মূলত সেই থ্রেটের সঙ্গে আপোস করেই ফিরেছে বলাটা বেশ সঙ্গত লাগে।
কিচ্ছু করার নাই আশলে। কম্প্রোমাইজ না হলে, প্রধানমন্ত্রীত্ত্ব দূর কি বাত- মায়ের চেহারা দেখতো পেতো কিনা- সন্দেহ জাগে।
অর্থাৎ মাফিয়ারা এতোই শক্তিশালী যে- ইউনুস যেখানে বাধ্য হয়েছে মাথা নোয়াতে- তারেক ইজ নাথিং।
দ্যাটস হাউ তারেক গট ব্যাক টু বাংলাদেশ।
৪।
আপসের ফলাফল কী?
ট্রানজিশনাল ফিগার সেক্রালাইজেশন-
হুয়ান লিন্জের লেজিটিমিসি ক্রাইসিস্ তত্ত্ব অনুযায়ী- ক্ষমতা বদলের সময় রাষ্ট্র একটি "ইনেভিটেবল লিডার" তৈরি করে- যার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা মানেই স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।
মানে, তারেক ফিগারকে অস্বাভাবিকভাবে পবিত্র বানানো হইছে, যাতে তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন করাই "অপরাধ" হিশেবে প্রতিফলিত হয়।
তার সমালোচনা অস্বাভাবিক ফিল হইতে থাকে।
মিডিয়া ন্যারেটিভ, জনপ্রিয় উপাধি এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী ব্যবহার করে জনগণের কাছে তাকে অনিবার্য হিশেবে উপস্থাপন করা হইছে।
মেসেজ ওয়াজ ক্লিয়ার- ইফ ইট'স নট হিম, দেন হুঁ দ্যা হেল ইজ ইট?
এ উপস্থাপনার উদ্দেশ্য ব্যক্তিকে জনপ্রিয় করা না। বরং ক্ষমতা স্থানান্তরকে স্বাভাবিক এবং অপরিহার্য হিশেবে প্রতিষ্ঠা করা।
তারেককে চমৎকার প্রতীকী মর্যাদা দিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলা হয়েছে- যা মূলত তার নিজস্ব অর্জন না।
রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানে এটিকে বলা হয় 'লেজিটিমিসি ইঞ্জিনিয়ারিং।'
সেই উপস্থাপনের নমুনা হইলো-
- অভূতপূর্বভাবে কঠোর ও বহুস্তরীয় নিরাপত্তা!
খেয়াল করে দেখেন-
দেশে নামার পরে বিমানবন্দর থেকে বাসস্থান- RAB, পুলিশের স্বরাঙ্কন ইউনিট, কিলোমিটার পরপর চেক পোস্ট, রাস্তা ব্লক, ড্রোন নজরদারি, DGFI, NSI, CID-এর যৌথ টিম তার চারপাশে ৩৬০° নজরদারি ও থ্রেট ইন্টেলিজেন্স!!
এইটা কিরে ভাই?
এইটা ছিলে এসকেইপ রুটের বিনিময়ে দেওয়া সার্ভিস প্রতিজ্ঞার একটা দুর্দান্ত নমুনা।
- মিডিয়া জুড়ে হাইপ।
"তারেকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন (নেলসন- লেনিনের সঙ্গে তুলনা, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো রাজকীয় ফেরা, এলেন-দেখলেন- জয় করলেন, "বাংলার লুথার কিং"-মানে আর কিছু বাকি নাই!
সিরিয়াসলি?
একটা কারণ দেখান- যার ফলে তারেককে লুথার কিং উপাধি দেওয়া যাইতে পারে।
শো মি জাস্ট অ্যা সিঙ্গেল রিজন!
এমনকি তারেককে ১০% উপাধি দেওয়া ডেইলি স্টার ও প্রথমআলো পর্যন্ত চাপলুশিতে নেমে যেতে বাধ্য হয়েছে - যা খুবই অস্বাভাবিক!
- ভাবি প্রধানমন্ত্রী হাইপ।
মিডিয়া থেকে রাষ্ট্র, কমিশন থেকে ইন্টালিজেন্স- অনেকেই তারেকের সাক্ষাতের বিনিময়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। বাঙালির যেই নেচার- এইটাকে অনুগত্যে প্রকাশ করার বিউরোক্র্যাটিক অ্যালাইনমেন্ট বলা যায়।
এনিহাউ, সেই সব সাক্ষাৎ নানাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এইটা মূলত তাদেরকে এক্সপোজ করা।
অর্থাৎ তারেকের বাইরে অন্য কেউ ক্ষমতায় এলে, এসব লোকজনের ক্রেডিবিলিটি থাকবে না আর। এজ এ রেজাল্ট - তারেককে ক্ষমতায় আনতে, যা কিছু দরকার- নৈতিক- অনৈতিক এরা সেটাতে জড়াবে।
অতএব, এই পাওয়ার রিকনফিগারেশনের পুরো সেটাপ হচ্ছে তারেককে প্রধানমন্ত্রীত্ব দেওয়া।
তারমানে কি বিএনপি ভোটে জিতবে না?
জিতবে। কিন্তু, জয়টা সংখ্যাগোরিষ্ঠ হওয়া লাগবে। যাতে অ্যাবসুলিউট পাওয়ার থাকে। এর বাইরেও হাসিনার পতনের মতো এক্সিডেন্টাল কিছু ঘটে যায় যদি - সেই ঝুঁকি মাফিয়ারা নিতে পারবে না।
সুতরাং বিএনপিই ক্ষমতায় আসতে হবে এবং তা যেকোনো উপায়ে নিশ্চিত করলেও যাতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না থাকে- সেই সিস্টেমেটিক সেটাপ দেওয়া হয়েছে- যার সর্বশেষ সংযোজন হইলো-
- ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)কে নির্বাচণে ভলেন্টিয়ার হিশেবে নিয়োগ বাতিল।
- ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ডিভাইস নিষিদ্ধ।
এগুলো কারচুপির ক্লাসিক কৌশল না। এগুলো হইলো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারার সক্ষমতা ধ্বংস করা। কারণ আধুনিক হাইব্রিড রেজিমে নির্বাচন জেতা মুখ্য না। মুখ্য হইলো কনটেস্টবিলিটি ডিস্ট্রাকশন।
সেই ডিস্ট্রাকটসনের একটা ক্লাসিক উদাহরণ হইলো- তারেকের প্রতিদ্বন্দ্বির কাটছাঁট আর্মি বিদ্বেষ ফুটেজ ভাইরাল করা।
৫।
এখন প্রশ্ন হইলো- এই সেটাপ কি ইউনুস দেখছে না বা মানছে কেনো?
কারণ ইউনুসের পক্ষে মাফিয়াতন্ত্রের সঙ্গে পেরে উঠা সম্ভব না। ইউনুস রাজনৈতিক না। অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। প্রশাসনে তার প্রভাব নাই। সে খেলতে পারবে না চাইলেও। খেলতে গেলে দেশ ছারখার হবে। ইউনুস তা চায় না।
এবং মাফিয়ারা ইউনুস-সহ অন্যদের "লীগের ভয়" দেখিয়ে, নিজস্ব সেটাপকে মানতে বাধ্য করাতে পারছে।
ফলে, ইউনুসকে মেনে নিতে হচ্ছে।
অর্থাৎ বিএনপির ক্ষমতায় আসাটা এখন আর শুধু মাফিয়ার এসকেইপ রুটে সীমাবদ্ধ না। ইউনুসের "অনিচ্ছাকৃত সম্মতি" আছে এবং ইউনুস সেই সম্মতি দিয়েছে কতগুলো স্ট্রাকচারাল রিফর্ম ও লং-টার্ম মাস্টারপ্ল্যানধর্মী প্রজেকটের বিনিময়ে- যেগুলো বিএনপিকে ক্যারি অন করতে হবে।
যেমন-ব্যাংকিং, রাজস্ব, IMF প্যাকেজ, রিজিওনাল কানেকটিভিটি, রিফর্ম কমিশন, সোশ্যাল ফাইন্যান্স-এই লেয়ারগুলোতে যে ভিত্তি রেখে যাচ্ছে, সেগুলোর ফলাফল আসবে পরবর্তী দশক জুড়ে।
দেখবেন- আগামী দশকে বাংলাদেশে একটা অর্থনৈতিক জোয়ার বইবে। এটাই ইউনুসের আপসের সেটাপ।
অর্থাৎ সংঘাত এড়িয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এলিট সোসাইটি, মাফিয়া ও বিএনপির সঙ্গে ইউনুসের এই অপ্রমাণিত কিন্তু স্পষ্ট সেটাপ।
তো এই সেটাপ তো ভালোই। অসুবিধে কী?
অসুবিধে হইলো- দুইটা
(ক)
উন্নতি বলতে আপনারা যে, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, জিডিপি গ্রোথ বুঝেন,আশলে তা না।
উন্নতি করা আর সেই উন্নতিকে এনজয় করতে পারা এক জিনিস না। ঋণ করে বা চুরি করেই হোক- হাসিনা কম উন্নতি করেনি। কিন্তু, আপনারা কী তা উপভোগ করতে পেরেছেন?
পারেন নাই।
হাদি বলছিলেন - " অগাস্টের পর একদিন হাসতে হাসতে রাস্তায় হাঁটছি। ভাবতেই ভালো লাগছে- মন খুলে কথা বলব, কিন্তু কেউ হুট করে এসে গু ম করবে না। এই স্বাধীনতার সুখটাই উন্নতি।"
আর, কোনো উন্নতি টিকে থাকে না যদি বিচারব্যবস্থা আপস করে। কারণ, অপরাধী পার পাবার সুযোগ থাকলে- উন্নতি এলিটের হস্তগত হয়। অতএব, আগে বিচার ব্যবস্থা টেকসই হতে হবে। তারপর উন্নতি।
এখন, এই মাফিয়াতন্ত্র আরোপিত ক্ষমতার সেটাপ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিনিময়ে ইউনুসের বিচারিক সংস্কৃতির আপস- স্বল্পমেয়াদে প্রবৃদ্ধি আনতে পারে হয়তো।
কিন্তু হান্টিংটনের ভাষায়- দীর্ঘমেয়াদে এটি rule of law erosion institutionalize করে।
ইউনুসকে আমি এজন্য গাইল্যাই।
বিচারিক সিস্টেম আল্লাহ প্রদত্ত। এটা অত্যাবশ্যক। যত বড় উন্নতিই হোক- ন্যায়বিচারের বিনিময়ে আপস হইতে পারে না। বিচার লাগবেই।
দ্বিতীয় সমস্যা হইলো-
সেই একই মাফিয়াতন্ত্রই টিকে গেলো অবশেষে- যা-হাদির মন খুলে কথা বলতে পারার সুখকে দীর্ঘস্থায়ী হইতে দিলো না।
আমার লাল জুলাই ব্যর্থতার বেদনায় নীলই যদি হবে- এতো প্রাণ ঝরিয়ে কী ফল পেলাম?
এই যে সেটাপ একটার পর একটা-
কল্পনা করেন, হাদি বেঁচে থাকলে, এই সেটাপ কতটা ডিস্টার্ব হইতো।
ট্রাস্ট মি- এইসব ম্যানজেড ট্রাঞ্জিশন দেখলে আরও আগেই সর্বব্যপি আন্দোলনের ডাক দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে ফেলতেন। ইউনুস-সহ সমস্ত গং পেরেশানিতে পড়তো।
কারণ, রাজনীতি অসচেতন, প্রান্তিক জনগণকেও নিরঙ্কুশভাবে প্রভাবিত করার দুর্দান্ত সম্মোহনি ক্ষমতা ছেলেটার ছিলো!
ওরা বুঝতে পেরেছিলো- সবাইকে কিনতে পাবে, আপস করাতে পারবে, ভয় দেখাতে পারবে, ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে- কিন্তু হাদিকে না।
হাদি ওয়াজ ডিফেরেন্ট।
শুধু আলাপে না ; বিচক্ষণতায়ও।
সুতরাং এই ছেলে মাফিয়াতন্ত্রের জন্যে রিস্কি। তার খু/ন হওয়া অনিবার্য।
সেই অনিবার্যতাকে স্বাভাবিকরণের প্রথম স্টেপ ছিলো- হাদির গু-লিবিদ্ধ হবার দিন তারেকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘোষণা! যদিও চাপা দিতে পারেনি আমাদের জন্যে।
নাইলে বিচার আবার হইতো না! ছোঁহ!
এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে, এডভান্স টেকনোলজির যুগে- এরকম একটা হাই প্রোফাইল কেইসের পুরো ঘটনা জানা যাবে না -ইটস ইম্পসিবল!
কিন্তু, বিচার করতে গেলে মাফিয়াতন্ত্র ফেঁসে যায়। বিএনপির অনেকেই ফেঁসে যায় (লিখেছি আগে)। ওরা ফাঁসলে দেশকে ফাঁসায়। একজন হাদির জন্যে কেউই এসব ফাঁসাফাসি চায় না।
ফুটনোট-
২০০৭-৮ সালের সেটাপগুলো দেইখেন। লীগকে ক্ষমতায় আনতে জনমতকে প্রভাবিত করতে সত্য মিথ্যা মিলিয়ে, মিডিয়ায় যে হাইপ এবং নির্বাচনী আসন বন্টন- এগুলোও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর অংশ। যার ফলে বিএনপি ভোট প্রায় ৩৩% - কিন্তু আসন পায় ৩০টি!!
ওই টাইপের সেটাপ এখনো বিদ্যমান।
এগুলো প্রমাণের বিষয় না।
পলিটিকাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর বিষয়।
উপসংহার-
তো যখন ক্ষমতা 'ভোটে' না - বরং সেটাপে নির্ধারিত হয়- তখন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে খুব বেশি সাসপেন্স থাকে না।
সুতরাং বিএনপির ২১০-২৩০ আসন পাওয়া স্বাভাবিক। না পেলেই বরং অস্বাভাবিক লাগবে।
কিন্তু আপনারা যারা জাশিকে ভোট দেবার সংকল্প নিয়েছেন, হতাশ হবার কিছু নাই। দেন। কারণ এইটা এখন আর হারা- জেতার ইলেকশন না।
এইটা হইলো মাফিয়ার+এলিট+বহিঃশক্তির কনসেন্সাস ভাঙার ইলেকশন।
আপনি তো এখন আর ক্ষমতা নিতে ভোট দিবেন না।
দিবেন - ক্ষমতাকে অস্বস্তিতে ফেলতে।
এই ভোট জনগণের আত্মসম্মানের পরীক্ষা।
উপরন্তু,
যদি ভার্সিটির নির্বাচনের মতো নীরব ভোট বিপ্লব ঘটে-তো পুরো পাওয়ার সেটাপ আর "ইনেভিটেবল" থাকবে না। ভাঙতে বাধ্য হবে।
তখন জাতীয় সরকার শুধু বিকল্প না, প্রয়োজন হয়ে উঠবে।
আমরা জাতীয় সরকারের দিকে এই নির্বাচন ঠেলে দিতে পারলে- আমাদের জুলাই জিতে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এটা আমাদের সিটের লড়াই না- লেজিটিমিসির লড়াই।
আর ইতিহাসে শেষ কথা কখনো মাফিয়ারা লেখে না। লেখে সেই মানুষগুলো- যারা জানে, হার নিশ্চিত হলেও প্রশ্ন তোলা অপরাধ না।
আমি বিশ্বাস করি - আপনারা তা জানতে পেরেছেন এবং সবাইকে জানাবেন।
আমাদের লড়াই কোনো দলের পক্ষে- বিপক্ষে না।
আমাদের লড়াই মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
আমাদের লড়াই জুলাইয়ের স্বপ্ন- নতুন বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে।
Sahab