আলোর সন্ধানে

আলোর সন্ধানে মহত্ত্ব স্পর্শ করার আরেকটি সিঁড়ি হল? Maruf Ahmed Tanin

ম্যাজিস্ট্রেট হবার পর দুর্ভাগ্যবসত বেশ কয়েকজন শিশু ধর্ষকের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেয়ার সুযোগ হয়েছে। শিশু মানে শ...
07/03/2026

ম্যাজিস্ট্রেট হবার পর দুর্ভাগ্যবসত বেশ কয়েকজন শিশু ধর্ষকের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেয়ার সুযোগ হয়েছে। শিশু মানে শুধু কন্যা শিশু না, ছেলে শিশুও আছে। সেখানে ১৩ মাসের শিশু থেকে ১৪ বছরের শিশু পর্যন্ত।

আসামীরা দেখতে ভিন্ন মানুষ হলেও প্রত্যেকের মধ্যে স্বভাবগত অস্বাভাবিক কিছু মিল পেয়েছি। তারা প্রত্যেকেই তাদের অপরাধের বিষয়ে নির্লিপ্ত, লজ্জাহীন, হাস্যোজ্জ্বল, অনুতাপ ও অনুশোচনাহীন। কি অবলীলায় তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করছে।

যখন আমি ১৩ মাসের শিশু ধর্ষনকারীর জবানবন্দী নিলাম তাকে কৌতুহলবসত জিজ্ঞাস করলাম তার পরিবারে কে কে আছে। সে জানালো ২ মাস আগে সে বিয়ে করেছে। ধর্ষনের সময় স্ত্রী দূরের রান্নাঘরে রান্না করছিলো। জিজ্ঞাস করলাম বাচ্চা কি খালি গায়ে ছিলো? সে উত্তর করলো না। জামা, প্যান্ট পরা ছিলো। হঠাৎ শিশুটিকে দেখে তার মাথা কাজ করেনি।
ছেলে শিশুর ধর্ষনকারীর জবানবন্দীও একই ছিলো। সে ছিলো শিশুটির দাদার বন্ধু। ছেলেটিকে নিয়ে পাশের জমি থেকে বাড়ি যাচ্ছিলো। পথে এক বাশঝাড় দেখে তারা মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি আসে।

এসব দেখে আমার নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। আমার বাচ্চার বিষয়ে আমি কাউকে বিশ্বাস করিনা। দয়া করে আপনিও আপনার বাচ্চার বিষয়ে কাউকে বিশ্বাস করবেন না।
কেউনা মানে কেউনা।

শিশুধর্ষকরা মানুষ না। তারা মানুষের রুপে ইবলিশের বংশধর।

কার্টেসি- একজন বিচারকের পোস্ট

02/03/2026

মন খারাপ? ১ মিনিট এই ভিডিও দেখুন ❤️
বাংলাদেশের আসল সৌন্দর্য এখানেই 🌾🇧🇩

01/03/2026

আজকেত শিশু আগামীর সম্পদ!

ইরান বোধহয় " মইরা যামু, তবু এর শেষ দেইখা ছাড়মু ' পণ নিয়া যু্*দ্ধে নামছে । হিজরায়েল আক্র*ম*ণ করছে ইরানে । ইরানের গোয়েন্দা...
01/03/2026

ইরান বোধহয় " মইরা যামু, তবু এর শেষ দেইখা ছাড়মু ' পণ নিয়া যু্*দ্ধে নামছে ।

হিজরায়েল আক্র*ম*ণ করছে ইরানে ।

ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিগুলোতে হাম*লা চালাইছে ।

যুদ্ধ নিশ্চিত হবে জেনেই ইরান প্রস্তুতি নিয়া রাখছে ।
পাল্টা আক্র*ম*ণ করছে ।

হাইফাসহ হিজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সবগুলো এলাকায় রেড সাইরেন বাজছে ।

কিছু সূত্র দাবি করছে , ইরানের অনেকগুলা মিসাইল হিজরায়েল অবধি পৌঁছাইতে পারে নাই ।

ইন্টারসেপ্ট করা হয়েছে ।

কে করেছে ?

আরেকটা মুসলিম দেশ জর্ডান ।

বাহরাইনেও আমেরিকার ঘাঁটি থেকে হিজরায়েলকে পর্যাপ্ত সাহায্য করা হচ্ছে ।

সেই বাহরাইনে এবার মিসাইল ছুঁড়তে দেখা গেছে ইরানরে । বাহরাইনে বো*মা আ*ঘাতের ভিডিও ঘুরতেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ।

ইরান আবার জর্ডানে হামলা চালাইছে ।

এমনকি কাতারের দোহাতেও হামলা চালাইছে দেখলাম ' war Monitor', middle east spectators ' এর গ্রুপগুলাতে ।

আল জাজিরাও ছবি প্রকাশ করছে ।

তাইলে ধইরা নেওয়া যায় , ইরান সোজাসাপটা সংকেত দিছে , তোমাদের গোলামী আর সহ্য করা যাচ্ছে না ।

আপনি যদি মধ্যপ্রাচ্যের এনালিস্ট গুলা দেখেন ,

ইরান এক হিজরায়েলের মুখোমুখি দাঁড়ানোর মতো শক্তি রাখে না , যেহেতু তাদের ব্যাকাপ আমেরিকা ।

অথচ সেই ইরানই এবার মধ্যপ্রাচ্যের বেঈমানগুলারেও এক হাত দেইখা নেওয়ার হিম্মত নিয়া দাঁড়াইছে ।

গত বছরে সর্বশেষ যুদ্ধেও আমরা দেখেছি ,

শুধুমাত্র হিজরায়েলের সাথে যুদ্ধেই ইরানেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশি , গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বং*স হয়েছে বেশি । সিভিলিয়ান মারা গেছে বেশি ।

তবু ইরানরে দিনের পর দিন হুমকি দিয়া মাথা নোয়াইতে পারে নাই লাল চুলের পাগলা ডেরাম্প ।

সৌদির মতো পরাশক্তি যখন আমেরিকার দাস হিসেবে নিজের স্বীকার কইরা নিছে ,

পাকিস্তানের মতো পা*রমাণবিক শক্তিধর দেশ যখন আমেরিকার পা চাটছে ,

পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের খনির দেশগুলো যখন বুক চিরে আমেরিকারে শুইতে দিছে ,

তখন এই একটা জাতি , ইরান , মাথা তুইলা দাঁড়াইয়া থাকছে ।

দেইখা মনে হইতেছে না ওদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে , বরং দেইখা মনে হইতেছে দেয়াল ওদের বুকে জন্ম নিয়া নিছে ।

পৃথিবীর কোথাও কাউরে যদি আত্মমর্যাদার গল্প শোনাইতে চান , কোন জাতি যদি স্বজাতিরে শিখাইতে চায় ,

"আত্নমর্যাদা হারানোর চাইতে মৃত্যু শ্রেয় , "

তাহলে তাকে সরাসরি ইরানের গল্প বলা শুরু করেন ।

এই আধুনিক বিশ্বের অভিধানে এর চেয়ে নিখুঁত সত্য আর নেই!

27/02/2026

বাস্তব জীবন! ইহাই সত্য

শহুরে রাস্তার সোডিয়াম লাইট,দুর্ধর্ষ বাস্তবতায় যেন এক চিলতে আলোদিয়ে মিটমিট করে জ্বলছে জোনাকির মত—আমার সাথে যেন তার অবিশ্ব...
27/02/2026

শহুরে রাস্তার সোডিয়াম লাইট,
দুর্ধর্ষ বাস্তবতায় যেন এক চিলতে আলো
দিয়ে মিটমিট করে জ্বলছে জোনাকির মত—
আমার সাথে যেন তার অবিশ্বাস্য মিল!

নিভে যেতে চেয়েও নিভে না,
অন্ধকারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ,
কেউ খেয়াল না করলেও
নিজের মতো করে আলো ছড়িয়ে যায় অবিরাম।

হয়তো আমিও তেমনই—
ক্লান্ত, তবু থামি না,
ভাঙা স্বপ্নের মাঝেও
একটু করে বেঁচে থাকার আলো জ্বালাই প্রতিদিন।

#আলোর_সন্ধানে

ছবিতে যাঁদের দেখছেন,,, তাঁরা সবাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাজিন,,, দূরের কাজিন না,,, আপন চাচাতো,,, খালাতো, ফুফাতো ভাই,,...
27/02/2026

ছবিতে যাঁদের দেখছেন,,, তাঁরা সবাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাজিন,,, দূরের কাজিন না,,, আপন চাচাতো,,, খালাতো, ফুফাতো ভাই,,, তাঁদের সবাইকে চিনেন??? 🤔

চাচাতো ভাই- ফজলে করিম চৌধুরী,,, রাউজানের সাবেক এমপি(আওয়ামী লীগ),,, ফুফাতো ভাই- সাবের হোসেন চৌধুরী,,, সাবেক মন্ত্রী (আওয়ামী লীগ),,, খালাতো ভাই- সালমান এফ রহমান,,, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (আওয়ামী লীগ)।।🙂

খালাতো ভাই- সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন,,, সাবেক প্রধান বিচারপতি (দেশের ১৪ তম প্রধান বিচারপতি),,, খালাতো ভাই- বিচারপতি মাইনুর রেজা চৌধুরী,,, সাবেক প্রধান বিচারপতি(দেশের ১২তম প্রধান বিচারপতি)।।।🙂

এতো গেলো কাজিন,,, পরিবারে বেশ বড় বড় পজিশনের লোক অনেক আছে তাঁদের,,, উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের পরিচয় দিচ্ছি,,, ফজলুল কাদের চৌধুরী- পাকিস্তানের স্পিকার,,, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা,,, একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী- পূর্ব পাকিস্তান,,, প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা,,, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর চাচা,,, গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী- জাতীয় পার্টির এমপি ছিলেন,,, এখন বিএনপি থেকে এমপি,,, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই।।।🙂

ফজলুর রহমান- পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী,,, সালমান এফ রহমানের পিতা,,, এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর খালু,,, হুম্মাম কাদের চৌধুরী- বর্তমানে বিএনপির এমপি,,, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে,,, রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়াও,,, আরো অনেক বড় বড় ব্যক্তি আছেন তাঁদের পরিবারে,,, সেগুলো আপাতত থাক,,, সবার জন্য শুভকামনা।।। 😀

লিখা- জুনায়েদ হোসেন

মা বললো, তোর শশুর কল দিয়েছিল। কালই তোর ডিভোর্স হবে। বললাম, বাবা জানে? " তোর বাবার কাছেই কল দিয়েছে। সবকিছু শুনে সেই তখন থ...
27/02/2026

মা বললো, তোর শশুর কল দিয়েছিল। কালই তোর ডিভোর্স হবে।
বললাম, বাবা জানে?

" তোর বাবার কাছেই কল দিয়েছে। সবকিছু শুনে সেই তখন থেকে বসে আছে। "

" মন খারাপ করার কি দরকার মা? সুখের আশায় তো বিয়ে দিলে, সুখ কপালে নাই তাই বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। মেনে নিতে হবে মা। "

" অবন্তী? "

" বলো মা! "

" তোর বাবা বারবার বলছে যে মেয়েটার জীবন নিজেদের হাতে নষ্ট করলাম। "

" ছি মা, এসব কি ধরনের কথা? আগামীকাল কি হবে আজ সেটা আমরা জানি না সেজন্যই পৃথিবী অনেক সুন্দর। "

মা আরো কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রইল। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল। আমার বেশ ঠান্ডা লাগতে শুরু করেছে। আমি জানালা দিয়ে একটুও সরে দাড়ালাম না।

পরদিন আমি ও ছোট চাচা মিলে উপজেলা কাজি অফিসে গেলাম। আমার শশুর ও স্বামী দুজনেই এসেছে। সবকিছু বন্দোবস্ত করা ছিল, একটা সিগনেচার দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে সাত মাসের সংসার সমাপ্তি হলো।

বাড়িতে ফিরে জানতে পারলাম বাবা সকাল থেকে অসুস্থ হয়ে গেছে। অধিক শোকে নিজেকে তিনি অপরাধী ভেবে অসুস্থ হয়ে গেলেন। বাবার সেই অসুস্থতা আর সুস্থ হলো না। সেদিন রাতেই বাবা স্ট্রোক করলেন।

পনের দিনের মধ্যে বাবার চিকিৎসার জন্য প্রায় দু লাখ টাকা শেষ হয়ে গেল। বাবার সারাজীবনের সঞ্চয় এই টাকা ছিল। না না ভুল কথা, আমার বিয়ের সময় তিনি দেড় লাখ টাকা খরচ করেছিল।

আরো পনেরদিন পেরিয়ে গেল। সংসার যেন প্রায় অচল হয়ে গেল। এতবড় সংসার, তার উপর বাবা অসুস্থ। মা রাতদিন কান্না করেন, আমি ডিভোর্সের পর থেকে কথাবার্তা কারো সঙ্গে বলতাম না। মাঝে মাঝে বাবা যখন হাহুতাশ করতেন তখন তাকে দু একটা কথা বলতাম।

অবশেষে গ্রাম ছেড়ে শহরে যাবার পরিকল্পনা করতে লাগলাম। কিন্তু আমার তেমন কোনো পরিচিত মানুষ নেই। অবশেষে রাবুর কথা মনে পড়ে গেল। ক্লাস টেনে পড়ার সময় রাবুর বিয়ে হয়ে গেছে। সে তার স্বামী শশুর শাশুড়ীর সঙ্গে ঢাকা শহরে থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তার কোনো মোবাইল নাম্বার নেই আমার কাছে।

পরদিন সকালে উঠে রাবুদের বাড়িতে গেলাম। রাবুর মা আমাকে দেখে খুশি হলেন। তারপর কেন বিচ্ছেদ হলো ইত্যাদি প্রশ্ন করতে লাগলো। আমি রাবুর নাম্বার নিয়ে চলে এলাম। কল দিয়ে নিজের বিপদের কথা বললাম।
রাবু বললো,
" দু একদিনের মধ্যে ঢাকা চলে আয়। চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে চিন্তা করিস না অবন্তী। মানুষের জন্য পৃথিবীতে সমস্যা আবার মানুষই সেগুলো সমাধান করে। হোঁচট খেয়ে রাস্তায় যতক্ষণ পড়ে থাকবি ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তাকিয়ে থাকবে। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াবি তত তাড়াতাড়ি উপহাস থেকে বাঁচবি। হাঁটতে না পারলেও অন্তত উঠে দাঁড়িয়ে থাকবি, তবুও কাউকে বুঝতে দিবি না তুই আহত।! "

দুই হাজার টাকা ধার করে মা-বাবার কাছে বিদায় নিয়ে দ্বিতীয় রমজানের দিন ঢাকা রওনা দিলাম।

★★

দুদিন হলো আমি ঢাকায় রাবুর বাসায় এসেছি।
ইফতারের সময় পানির জগটা আমি হাতে নিতেই হাত ফসকে পড়ে গেল। সব খাবারগুলো একসঙ্গে পানিতে ভিজে গেল। এটা আমার বান্ধবীর বাসা। একটা চাকরির জন্য দুদিন আগে গ্রাম থেকে এই বাসায় এসেছি।

আমি মাথা নিচু করে সবকিছু গোছাতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। আমার বান্ধবী রান্নাঘর থেকে দৌড়ে এসে কি বলবে বুঝতে পারছিল না। ওর স্বামী, শশুর শাশুড়ী সবাই তাকিয়ে আছে।

সবকিছু পরিষ্কার করে আমরা ইফতার করলাম। আমাকে কেউ কিছু বলেনি। কিন্তু নামাজের পরে আমার বান্ধবী রাবু কে চুপিসারে কিছু বলবে এটা নিশ্চিত।

গ্রাম থেকে যখন এসেছিলাম তখনই রাবু আমাকে বলেছিল,

" শহরে থাকার যায়গা দেবার বড্ড অভাব রে অবন্তী। তুই বিপদে পড়েছিস তাই না করতে পারি না। নাহলে আমি আমার এখানে কোনভাবেই আনতাম না। "

নামাজ পড়ে রাবু আমাকে নিয়ে বের হয়ে গেল। রাস্তায় নেমে জিজ্ঞেস করলাম,

" কোথায় যাচ্ছি আমরা? "

" তোর চাকরির জন্য কথা বলতে। "

" কিন্তু এই রাতের বেলা কেন? এখন কি কোনো অফিস খোলা পাওয়া যাবে নাকি? "

" তোকে টগর ভাইয়ের কাছে নিয়ে যাবো। "

" টগর কে? "

" এতো প্রশ্ন করিস কেন অবন্তী? "

" যার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি তার সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারবো না? "

" টগর ভাই আমার পরিচিত, খুব ভালো মানুষ। তাকে বললে যেকোনো একটা ব্যবস্থা করতে পারবেন। "

" তিনি কি চাকরি করে নাকি বিজনেস? "

" কি করে জানি না, তবে চাকরি জোগাড় করা তার কাছে খুব সহজ ব্যাপার। "

" গুন্ডা নাকি? "

রাবু আমার এই প্রশ্নের জবাব দিল না। চুপচাপ রিক্সার মধ্যে বসে রইল। আমাদের দুই বান্ধবীকে নিয়ে রিক্সা এগিয়ে যেতে লাগলো।

★★★

লোকটাকে দেখে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। দেখতে ভালো হলেও চেহারার মধ্যে একটা বখাটে ছেলেদের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায়। এরকম একটা লোকের কাছে এখন চাকরির জন্য কথা বলতে হবে। চাকরিটা খুব দরকার আমার কিন্তু তাই বলে এমন লোকের কাছে অনুরোধ করবো?

" নাম কি তোমার? "

রাবু বললো, " তোকে জিজ্ঞেস করেছে। "

আশ্চর্য, ছেলেটা আমাকে তুমি করে বলছে কেন? সামান্য ভদ্রতা বজায় রেখে মানুষ আপনি করে তো বলতে পারে। আমার প্রচুর রাগ উঠে গেল। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,

" অবন্তী। "

" চাকরির বাজার আজকাল খুব খারাপ। মনে হয় ইদের আগে কোনো ব্যবস্থা হবে না। "

রাবু বললো,
" অনেক বিপদে পড়েছে টগর ভাই। ওর বাবা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে গেছে। ওরা চার বোন, অবন্তী সবার বড় তাই ওর কাঁধে দায়িত্ব। একটা কিছু ব্যবস্থা করতে হবে নাহলে সম্পুর্ণ পরিবার কষ্টে থাকবে। "

" কি ধরনের চাকরি দরকার? "

আমি বললাম,
" যেকোনো চাকরি হলেই চলবে। "

" রান্না করতে পারো? "

" পারি! "

" আমার পরিচিত এক বড়ভাইয়ের বাসায় দুবেলা রান্না করার জন্য এক রাধুনি দরকার। তুমি কি চাকরিটা করতে পারবে? "

রাগ এবার মাথা খারাপ করে দিল। আমি তাকে বললাম,
" মেয়েদের দেখলে কি ফাজলামো করতে ইচ্ছে করে সবসময়? "

" তুমিই তো বললে যেকোনো চাকরি হলেই চলবে তাই এরকম অফার দিলাম। "

রাবু বললো,
" করোনার জন্য অনার্স শেষ হয়নি। অবন্তী খুব ভালো ছাত্রী টগর ভাই। আপনি যেকোনো একটা অফিসে ওর চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। "

" ঠিক আছে কালকে সকালে উঠে এখানে তাকে পাঠিয়ে দিও। তোমার বান্ধবী তাই কিছু একটা তো করা দরকার। কিন্তু যে রাগ দেখাচ্ছে সেরকম রাগ মেয়েদের পক্ষে ঠিক না! "

" কিছু মনে করবেন না টগর ভাই। "

" ঠিক আছে এখন যাও তাহলে। আর আবারও বলছি, মেয়ে মানুষের এতো রাগ ঠিক না। কেমন যেন প্রকৃতির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মনে হয়। "

এতক্ষণ রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। আমি আর রাবু হাঁটা শুরু করলাম, কিন্তু রাবু আবার গেল ছেলেটার কাছে।

" টগর ভাই! "

" আবার কি? "

" দুই হাজার টাকা দিতে পারবেন? ওর বাড়িতে টাকা পাঠাতে হবে, বাড়ির অবস্থা বেশি ভালো না। বেতন পেলে তখন দিয়ে দেবে। "

" এখনো চাকরি হলো না আর বেতনের নাম করে টাকা ধার শুরু হয়ে গেল? "

" টাকাটা নাহয় আমাকে ধার দিলেন। আমি পরে দিয়ে দেবো টগর ভাই। "

" রাকিবকে আমার কথা বলে নিয়ে যেও। "

" ধন্যবাদ টগর ভাই। "

আমরা এবার রিক্সার কাছে গেলাম। হঠাৎ করে রাবু আবার চলে গেল। আমি একটু দাঁড়িয়ে থেকে আমিও সঙ্গে গেলাম।
রাবু বললো,

" টগর ভাই? "

" আজকের রাতটা তোর বাসায় থাকুক, আমি কালকে দিনের মধ্যে থাকার ব্যবস্থা করে দেবো। স্কুলের গলিতে একটা মেয়েদের মেস আছে। "

" কীভাবে বুঝলেন আমি থাকার জন্য বলবো? "

" এটা বুঝতে গোয়েন্দা হতে হবে নাকি? তোদের বাসার পরিস্থিতি তো আমি জানি। তাছাড়া তুই একদম বিপদে না পড়লে কোনদিন আমাকে স্মরণ করিস না আমি জানি। চাকরির ব্যবস্থা হয়ে গেলে থাকার স্থান দরকার , এতটুকু বোঝার মতো জ্ঞান তো আছে নাকি? "

★★★

সকাল বেলা রাবু নিজেই আমাকে নিয়ে বাসা থেকে বের হলো। বাসা থেকে বের হয়ে আমরা দেখি টগর ভাই বাসার সামনে একটা দোকানে বসে আছে। আমাদের দেখে তিনি বেরিয়ে এলেন।

টগর ভাই তার বাইক নিয়ে আমাকে বললো,
" গতকাল রাতে আপনাকে সরাসরি তুমি করে বলার জন্য দুঃখিত। উঠুন। "

" মানে? আমি কি আপনার সঙ্গে বাইকে করে যাবো? "

" হ্যাঁ, কোনো সমস্যা? "

আমি রাবুর দিকে তাকালাম, রাবু চোখের ইশারা করলো। যার অর্থ ' কোনো সমস্যা নেই বস। '

বাইকে চড়ার অভ্যাস ছিল না। মিনিট দশেক যাবার পরে হঠাৎ চোখের সামনে সবকিছু ঘুরতে লাগলো। আমি হাত দিয়ে টগর ভাইকে খামচে ধরে বললাম,

" টগর ভাই দাঁড়ান। "

" কি হয়েছে? "

এমন সময় আরেকটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে গেল। বাম দিকের একটা লোকাল বাস হুট করে মোড় নিল। দুই সেকেন্ডের মধ্যে আমরা ছিটকে পড়ে গেলাম রাস্তার পাশে। তারপর আর কিছু মনে নেই আমার।

★★

" আমি তো ভেবেছিলাম আপনি অবিবাহিতা। আপনার বিয়ে হয়েছিল এটা বুঝতেই পারিনি। "

ঘাড় ফিরিয়ে দেখি আমার পাশে বসে আছে টগর ভাই। আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি। আমার পাশে টগর ভাই প্রশ্নটা করেছে।

" আপনি যে অন্তঃসত্ত্বা সেটা তো জানতাম না। এরকম অবস্থায় সাবধানে থাকতে হয়। আগে যদি বলতেন তাহলে আপনাকে সিএনজি ঠিক করে নিয়ে যেতাম। নাহলে সাবধানে বাইক চালাতাম, পেটে সন্তান নিয়ে এরকম জার্নি ঠিক হলো না। "

আমি অবাক হয়ে রইলাম। বেশ কিছুদিন ধরে আমারও এরকম কিছু মনে হচ্ছে। কিন্তু সন্তানের বিষয়টা আমি নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাহলে টগর ভাই জানলো কীভাবে? রাবুকেও আমি এ ব্যাপারে কিছু বলিনি।

আমি বললাম,
" কীভাবে জানলেন যে আমার পেটে সন্তান? "

" ডাক্তার বললো। আমি তারপর রাবুর কাছে কল দিলাম। রাবু তখন বললো যে আপনার নাকি বিয়ে হয়েছিল, সম্প্রতি ডিভোর্স হয়েছে। "

আমি আর কিছু বললাম না। চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলাম। টগর ভাই বললো,

" আমি একটু বাইরে যাচ্ছি, দশ মিনিট পরে ফিরে আসবো। আপনি থাকেন। "

এ কথারও কোনো জবাব দিলাম না। চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে ভালো লাগছে, টগর ভাই বের হয়ে গেছে বোঝা যাচ্ছে।

পাঁচ মিনিটের মধ্যে সশব্দে কেবিনের দরজা খুলে গেল। আমি চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি চারজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। একজন কানে মোবাইল ধরে আছে, সে বললো,

" এই মেয়ে, তোমার নাম অবন্তী? "

আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললাম। এদের কাউকে চিনতে পারি নাই। লোকটা তার মোবাইলে কাকে যেন বললো,

" পাওয়া গেছে স্যার, এখানেই শেষ করে দেবো নাকি হাত-পা বেঁধে তুলে নিয়ে আসবো? "

আমার কলিজা কেঁপে উঠল। লোকটা মোবাইল পকেটে রেখে তার সঙ্গের আরেকজনকে বললো,

" একে নিয়ে যেতে হবে, হাত-পা বেঁধে ফেল। "

#চলবে....

রিপোস্ট করা হয়েছে।
সম্পুর্ণ গল্প পেইজে পোস্ট করা আছে।
পিন পোস্টে চেক করলেই পেয়ে যাবেন।

গল্প:- সেদিন ছিল পূর্ণিমা।
পর্ব:- এক (০১)
লেখা:- মো: সাইফুল ইসলাম।

ছবি- সংগ্রহীত।

শুধুমাত্র মেয়ে ডাক্তার হওয়ার কারণে আজ বাইচ্চা গেলাম । নাহলে আজ খবরই ছিল আমার । ঘটনা খুলে বলি -ইদের লম্বা বন্ধ পাওয়ায় আ...
25/02/2026

শুধুমাত্র মেয়ে ডাক্তার হওয়ার কারণে আজ বাইচ্চা গেলাম । নাহলে আজ খবরই ছিল আমার । ঘটনা খুলে বলি -

ইদের লম্বা বন্ধ পাওয়ায় আজ চেম্বারে বেশ ভীড় ছিল । আমি একবার আল্ট্রা তে বসা আরেকবার রোগী দেখা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি ।
বাসা থেকে একবার বড় কন্যা একবার ছোট কন্যা ফোন দিচ্ছে । সবার ছুটি হয় তোমার কেন এখনো ছুটি হয় না ?
কথা তো সত্যই । সবার ছুটি হয় ডাক্তারদের কেন হয় না ?
কোনরকম ওদের আম জাম বুঝিয়ে ফোন রাখলাম । এর মধ্যে ইর্মাজেন্সি থেকে ফোন করে একজন রোগী পাঠালেন আমার কাছে আল্ট্রার জন্য ।
খুব ইর্মাজেন্সি , রিপোর্ট করে এখনি পাঠাতে হবে ।

রোগীনি আসলেন । তীব্র পেট ব্যথা । ব্যথার কারণে তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছেন না ।
ইর্মাজেন্সি থেকে তাকে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেয়া হয়েছে । কিন্তু রোগীর লোকজনের ভাষ্যমতে ব্যথা তো কমেই নাই বরং বাড়ছে ।
এবার রোগীনির দিকে তাকালাম । বয়স কত আর হবে ? ৪২ বা ৪৫ বছর বড়জোর ।
কিন্তু দেখতে আরো বেশি লাগে ।তার পরণে একটা পুরানো সুতির শাড়ি । তাও এক প্যাঁচ দিয়ে কোনরকমে পরা ।

গ্রামের মানুষ , কাজ কর্ম নিয়েই থাকেন সবসময় । নিজের দিকে তাকানোর অত সময় কই তাঁদের ?
রোগীনিকে জিজ্ঞেস করলাম - কখন থেকে ব্যথা আপনার ?
বহু কষ্টে উত্তর দিলেন - ২ দিন ধরে । আইজ সকাল থেকে বেশি ।
সাথে আসা একজন জানালেন - তার ছোট পোলার বিয়া ইদের পরের দিন । বাড়ির সব কাম কাজ করতে করতে আর ঠিকমত না খাইয়া পেটে ব্যথা হইছে ।

আমি আর কথা বাড়ালাম না । সিস্টারকে বললাম আল্ট্রারুমে নিয়ে রেডি করতে ।
আল্ট্রার বেডে শোয়াতেই পেটের সাইজ দেখে আমি মুখ ফসকে বলে ফেললাম - ইনি তো প্রেগন্যান্ট ।

রোগীনি তো পারলে আমারে কাঁচা খেয়ে ফেলে । সাথে আসা এটেন্ডডেন্ট রাও । ধমকের সুরে বলতে লাগলেন -
আপনি পাগল হৈছেন ? কয়দিন আগে মেয়ের ঘরের নাতীন বিয়া দিলাম । ৩ পোলার ঘরে নাতি - নাতনী আছে আমার । সবার ছোট পোলার বিয়া ইদের পরের দিন । এহন কোন থিকা বাইচ্চা অইব ?

রোগীর এটেনডেন্ট প্রায় মারমুখী । বলতে লাগলেন - বয়স অইয়া গেছে কত…। ১ বছর ধরে শরীর খারাপ অয় না ..বন্ধ অইয়া গেছে গা ।আর হে কয় বাচ্চা অইব । পেট টা আগে থেকেই বড় তার । চর্বি জমছে ঐগুলা !

আমি কোন কথা না বাড়িয়ে ডরে ডরে আল্ট্রা করার প্রোবটা হাতে নিলাম ।হুম .. যা ভাবছি তাই ।
একদম ফুল টার্ম …

পেশেন্ট ব্যথায় এসির মধ্যে ঘেমে নেয়ে অস্থির ।
উনার পেটে বাচ্চা এটা এখন কোন সাহসে মুখ দিয়ে বলব সেটা ভেবে ভেবে আমিও ঘেমে অস্থির !

অনেক সাহস সঞ্চয় করে কোনমতে বললাম - এই যে দেখেন আপনার পেটে বাচ্চা …..

এই কথা শুনে রোগী তড়াক করে উঠে বসে পড়ল ..সংগে সংগে পানি ভেংগে বেড ভিজে গেল ! বাচ্চার মাথা বের হয়ে গেছে ..

আল্ট্রার বেডে এখন আমার বেবি ডেলিভারি করাতে হবে । কিচ্ছু করার নাই । অভিজ্ঞ সিস্টার দ্রুত আমাকে দুই জোড়া গ্লাভস দিল ।
এক জোড়াই ঠিকমত পরতে পারলাম কি পারলাম না বেবি প্রায় চলে এসেছে ।
রোগীর অভিজ্ঞ এটেনডেন্ট দের দিকে যে একটু তাকিয়ে দেখব সে সময়ও নাই । উনারা লজ্জিত মুখে বের হয়ে গেলেন আল্ট্রারুম থেকে ।

কোনরকম প্রস্তুতি ছাড়া আল্ট্রা বেডে বেবি ডেলিভারির মত ঘটনা আমার জীবনে এটাই প্রথম ।প্রস্তুতি বলতে ডেলিভারি করতে যে সমস্ত প্রস্তুতি লাগে সেসব আর কি !

রুমের বাইরে রোগীনির স্বামী , যে পুত্রের বিবাহ সে , বিবাহ উপলক্ষ্যে আসা মেয়ে ,মেয়ের জামাই , নাতীন সহ আরো অনেকে অপেক্ষমাণ ।সবাই একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছেন নি:শব্দে ।

শেষমেষ রোগীনি একজন রেডিমেড পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন ।
পুরো সময়টাতে তার দু চোখ জুড়ে ছিল অবিশ্বাস ! চোখের ভাষার যদি অনুবাদ করি সেটা এমন হবে - “ এইডা কোথ্থে আইলো “??

আমার দিকে তিনি এখনো অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছেন । তখনি মনে হল - ভাগ্যিস আমি লেডি ডাক্তার !

পুরুষ ডাক্তার হলে এতক্ষনে তিনি হয়তো বলেই ফেলতেন - এইডা ডাক্তারের বাচ্চা ….🙊!

06/01/2026

স্বপ্নের ফ্ল্যাট কিনতে
ভরসাযোগ্য ডেভেলপার খুঁজছেন?

তাহলে আপনার জন্য
সঠিক সিদ্ধান্ত—
দেশ বাংলা হাউজিং ✔

🔹 আধুনিক ডিজাইন
🔹 মজবুত নির্মাণ
🔹 সময়মতো হস্তান্তর

কারণ আমরা বিশ্বাস করি—
ভালো কাজই সবচেয়ে বড় পরিচয়।


#দেশ_বাংলা_হাউজিং





Address

Gulsan
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আলোর সন্ধানে posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to আলোর সন্ধানে:

Share

Category