24/05/2026
২৪ মে ২০২৬
বছরজুড়ে “নজরুল বর্ষ” উদযাপনের প্রতিশ্রুতিতে পর্দা নামলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে । আজ রোববার ২৪ মে ২০২৬ বিকেলে জাতীয় পর্যায়ে চলা ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি’ আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে। এ দিনের পরিবেশনায় ছিলো কবির কালজয়ী সৃষ্টিকর্ম নিয়ে গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশনা।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমবেত নজরুল সংগীত “মধুকর মঞ্জুরী” পরিবেশন করে সরকারী সঙ্গীত কলেজ। এরপর ছন্দা চক্রবর্তী পরিবেশন করে “আমার কোন কূলে আজ ভিড়লো তরী”। এরপর আবৃত্তি পরিবেশন করে ফারজানা এ্যালী। সমবেত নৃত্য “পদ্মার ঢেউরে” পরিবেশন করে নৃত্যনন্দন । নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন শর্মিলা বন্দোপাধ্যায়। এরপর একক সঙ্গীত ”এ কোন মায়ায় ফেলিলে আমায়” পরিবেশন করেন মোনালীন আজাদ।
কয়েকটি নজরুল পরিবেশনার পরই শুরু হয় আলোচনা পর্ব। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। বক্তব্যে তিনি বলেন- “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ এর মে মাস থেকে ২০২৭ এর মে মাস পর্যন্ত নজরুল বর্ষ ঘোষনা করেছেন। এই বছরব্যাপী আমরা নানা রকম কর্মসূচী পালন করবো সারা দেশে। আমাদের দেশের শিশু, কিশোর এবং তরুন প্রজন্মদের কাছে নজরুল যে প্রাসঙ্গিক, তার পরিচিতি এবং সামগ্রিক কর্মকান্ড তুলে ধরবো। সংগীতের এমন কোন শাখা নেই যেখানে নজরুল যাননি। নজরুলের উচ্চাঙ্গ সংগীত, শ্যামা সংগীত, কীত্তন, প্রেমের গান এবং বিদ্রোহের গান সব কিছু মিলিয়ে নজরুল যুগ- শ্রেষ্ঠ কবি। শুধু নজরুল নয় সবদিকেই আমাদের সংস্কৃতিকে, জাতীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে সামনে তুলে আনতে চাই “
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব কানিজ মওলা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর আবহ্বায়ক জনাব হেলাল খান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। তিনি বলেন -"নজরুল বর্ষ জুড়ে আমরা নজরুলের নাটক, তার গান, কবিতা, নৃত্য, বাশিঁ এবং তাঁর সকল সৃষ্টি কর্মকে উদযাপন করবো।
সারা বাংলাদেশ থেকে নজরুল প্রতিভা অন্বেষণ করার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন "সকল বিভাগ থেকে সেরা ১০ আমরা নির্বাচন করবো।আমাদের জাতীয় জীবনে নজরুলের যে প্রভাব, যে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন করতে চাই তার মূল দর্শন আমরা নজরুলের কাছ থেকে পেয়েছি। তিনি কৃষক, শ্রমিক, মজুর সকলের কবি। শুধুমাত্র অভিজাত শ্রেণির কবি নজরুল নন।"
এরপর আবার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।২য় পর্বে শুরুতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ সমবেত নৃত্য ‘শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে’ পরিবেশন করেন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মাহবুবা আখন্দ মিনু । ‘কামাল পাশা’ এর সাথে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক সংগঠন, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন কবিরুল ইসলাম রতন। এরপর নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন পারভীন সুলতানা। সমবেত সংগীত ‘বল্ নাহি ভয় নাহি ভয়’ পরিবেশন করেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউট-এর শিল্পীবৃন্দ। সমবেত নৃত্য ‘রাঙামাটির পথে লো’ পরিবেশন করে নুপুরধ্বনি এর শিল্পীবৃন্দ, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন নুসাইবা রহমান এবং ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ পরিবেশন করেন নান্দনিক নৃত্য সংগঠন, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন নীলুফার আহমেদ পাপড়ি।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন ফারজানা এ্যালী এবং এনামুল হক জুয়েল। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী অলোক সেন ও পান্না দত্ত। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ এর পরিচালনায় রেওয়াজ পারফরমার্স স্কুল-এর নৃত্যশিল্পীবৃন্দ ‘মম মায়াময় স্বপনে’ গানের সাথে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ ‘নারী’ কবিতার সাথে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। জাতীয় কবি রচিত ‘কামাল পাশা (অংশ বিশেষ)’ কবিতা আবৃত্তি করেন সীমা ইসলাম। পরপর দুটি নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী বর্ণালী সরকার ও বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ইয়াকুব আলী খান। নৃত্যশিল্পী মুফাসসাল আলিফ এর পরিচালনায় সমবেত নৃত্য ‘মোরা ঝঞ্জার মত উদ্যাম’ পরিবেশন করেন এ্যলিফিয়া ডান্স এটেলিয়ার শিল্পীবৃন্দ।
সবশেষে বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটার মঞ্চায়ন করে নাটক ‘বনের মেয়ে পাখি’। এছাড়া দেশের সকল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় কবির স্মরণে আলোচনা ও তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে নানান অনুষ্ঠানমালা পরিবেশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানমালা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে (shilpakalachannel)-এ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে।