19/05/2026
“শেখ মুজিব ঘোড়ার ডিম
জাতির পিতা ইব্রাহিম”
আজ জুলাই আন্দোলনের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহিমের জন্মদিন।
শহীদের বিস্তারিত জীবনী:
শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিম ২০১৮ সালের ১৯ মে সোমবার ঢাকার দক্ষিণখান থানার পশ্চিম মোল্লারটেক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কবির হোসাইন বেসরকারি মোবাইল রিটেইলার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং মাতা রোকেয়া বেগম একজন গৃহিণী। পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে শহীদের পিতা জনাব কবির হোসাইন পশ্চিম মোল্লারটেকে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি ফ্লাটে বসবাস করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে শহীদ জাবির সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। শহীদ জাবিরের বড় বোন জুমাইনা কবির নেহা এবং বড় ভাই জুহায়ের মাহতাব আবদুল্লাহ উভয়ই লেখাপড়া করছেন। শহীদ জাবির কেসি মডেল স্কুল ও কলেজ-এর ইংরেজি ভার্সনের নার্সারীতে অধ্যয়নরত মেধাবী ছাত্র ছিলেন।
শিশু জাবির শান্ত স্বভাবের ছিলেন, খেলনার জন্য কখনো কান্নাকাটি করতেন না বরং বাসায় ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে হ্যান্ড ক্রাফট ও খেলনা বানাতে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। জাবির সৎ, ধার্মিক ও নামাজী শিশু ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই আর্মি অফিসার হবার স্বপ্ন দেখতেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
বৈষম্যবিরোধী তথা কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিশু জাবির শুরু থেকেই আন্দোলনে অংশ নিতে পিড়াপীড়ি করতো, বারবার বলত “আম্মু আমি আন্দোলনে যাব।” আন্দোলনের শুরু থেকেই পুলিশ বাহিনী ও স্বৈরাচারী সরকারের ক্যা-ডা-র বাহিনী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর নির্বিচারে অত্যা*চার চালাতে থাকে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মৃ*ত্যু*র ঘটনাগুলো জাবিরের পরিবার সহ্য করতে পারছিল না। জাবিবের মা সিদ্ধান্ত নেন পরিবারে সবাই মিলে শিক্ষার্থীদের লং মার্চে অংশ নেবেন। কিছুক্ষণ পর জানতে পারেন স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভাroতে পালিয়ে গিয়েছে। রাস্তায় স্বৈরাচারী সরকার পতন ও স্বাধীনতার আনন্দে সবাই বিজয় মিছিল বের করে।
মিছিল দেখতে জাবির এর মা শিশু জাবিরকে সঙ্গে নিতে চাননি। কিন্তু শিশু জাবির এর জেদ এর কাছে হার মেনে অনেকটা বাধ্য হয়েই জাবিরকে নিয়ে উত্তরায় জসীমউদ্দীন সড়কে মিছিল দেখতে যান। বিজয় মিছিল হচ্ছে এ খবর জানিয়ে জাবিবের মা সন্তানদের বাবাকেও ফোনে জসীমউদ্দীন সড়কে আসতে বলেন। জাবির এর বাবাও সেখানে আসেন। এক পর্যায়ে জাবিরকে নিয়ে বাসায় ফিরে যেতে চাইলে আরও কিছুক্ষণ থাকার বায়না করে সে। ঐদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জসীমউদ্দীন সড়কে বিজয় মিছিল দেখতে আরও গিয়েছিলেন জাবির এর চাচা আইনজীবি নাজমুল হোসেন।
তিনি বলেন ৫ আগস্ট বিকালে উত্তরা পূর্ব থানা ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশও পাল্টা গু*লি বর্ষণ শুরু করে।"
জাবির এর মা জানান, ৪.৩০ এর সময় ৪নং সেক্টর এব বাইতুস সালাম মাদ্রাসার গেইট থেকে স্বৈরাচারী সরকারের উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ এপিবিএন অফিসের দিক থেকে তাদের দিকে গু*লি ছুড়তে শুরু করে। তখন জাবিরের বাবা-মা শিশু জাবির এর হাত ধরে সামনের দিকে দৌড় দেন। দৌড়াতে গিয়ে রাস্তায় জাবির পড়ে যায়। তখনো জাবিরের হাত ধরে ছিলো ওর বাবা, দৌড়ে এসে দেখেন রাস্তায় র*ক্তা*ক্ত অবস্থার পড়ে আছে জাবির। ওর উরুতে গু*লি লেগেছে, র*ক্তে প্যান্টসহ শরীর ভেসে যাচ্ছে।
র*ক্তা*ক্ত জাবিরকে কোলে করে দ্রুতই কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসক র*ক্ত দিতে বলেন। র*ক্ত জোগাড় হলেও ক্রস ম্যাচের অভাবে ৫ আগস্ট, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে মাত্র ৬ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন শহীদ জাবির।
৪ নং সেক্টর সংলগ্ন কবরস্থানে শহীদ জাবির ইব্রাহিমকে দাফন করা হয়।
শহীদ শিশু জাবির এর গর্বিত মা-
শহীদের গর্বিত মা তার আদরের কলিজার টুকরোকে হারিয়ে মর্মাহত। আল্লাহর কাছে জান্নাত লাভের জন্য দু'আ করেন।
শহীদ জাবির এর মা বলেন,“ওর বাবা ওকে র*ক্তা*ক্ত অবস্থায় কোলে নিয়ে দৌড়াতে লাগলেন। পরে আমি জাবিরকে কোলে তুলে নেই। কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও জাবিরকে বাঁচাতে পারিনি।”
কুরআনের আয়াত
তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও সন্তুষ্টি লাভ করবে এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাত। (সুরা আল-ইমরান ৩:১৫)
হাদীস শরীফ
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হতে চায়, আল্লাহ তাকে শহীদের সাওয়াব দেন।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৮)