06/05/2026
নেত্রকোনায় শিশুর প্রেগন্যান্সি নিয়ে যা চলছে, হয়তো সত্য না হয় মিথ্যা। সত্য হলে বিচার হোক। কিন্তু যদি মিথ্যা হয়, তাহলে আমানুল্লাহ সাগরের ইজ্জত আব্রু, পরিবারিক বিপর্যয়ের দায়ভার কে নিবে?
মনে রাখবেন- ঘটনার পিছনেও ঘটনা থাকে। তাই সকল তথ্য ও প্রমাণাদি না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষারোপ বা তোষামোদ করা আদৌ উচিত নয়।
গত এপ্রিলে ফেনীর পরশুরামে ১৪ বছরের শিশু রুবিনার ঘটনা মনে আছে তো সবার?আপন ভাই মোর্শেদ ছোট বোনকে ধর্ষণ করে এক হতদরিদ্র ইমামকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ১ মাস জেল কাটিয়েছিল। শুধু তাই নয়, মেয়ের মৌখিক স্বীকারোক্তির উপর নির্ভর করে গ্রামবাসী সেই ইমামকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিল। তারপর যা ঘটার তাই ঘটলো। বাচ্চা জন্মের পর ডিএনএ টেস্টে উঠে আসলো ভয়ংকর তথ্য। সেই ইমামের ডিএনএ-র সাথে কোন মিল নেই। ধর্ষিতার আপন ভাইয়ের ডিএনএ-র সাথে বাচ্চার মিল। অর্থ্যাৎ ধর্ষিতার আপন ভাই নিজেই ধর্ষক। নিজে বাঁচতে মসজিদের এক নিরীহ ইমামকে ফাঁসিয়েছে এই জানোয়ারটি।
মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ১মাস কারাভোগের পর সেই ইমাম এখন মুক্ত। কিন্তু সামাজিক ও আর্থিকভাবে তার বাস্তবতা এখন বিপর্যস্ত।
নোয়াখালীতেও কয়েক মাস আগে এমন ঘটনা ঘটে। মেয়ের বাবা প্রবাসী। চাচার সাথে মায়ের পরকিয়া দেখে ফেলার পর মেয়েকে মেরে ফেলে। এর পর সেই মেয়ের লাশ রাতের আঁধারে রেখে আসে মসজিদের দু তলায়। তারপর হুজুগে জাতি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে আধমরা বানিয়ে পুলিশে দিলো। দীর্ঘ দের বছর পুলিশ তদন্ত করে বের করে মৃত্যুর পেছনে মেয়ের চাচা ও মা দায়ী। নিজেরা বাঁচতে লাশ মসজিদে রেখে এসেছে।
শুধু এই দুই ঘটনাই নয়। এমন অসংখ্য ঘটনা আছে, যেখানে নিজেরা বাঁচতে হুজুরদের ফাঁসিয়ে দেয়। তাদেরকে ফাঁসানো সহজ। কারন এদেশে একটা নাস্তিকমার্কা বস্তাপচা প্রজন্ম আছে, যারা সার্বক্ষণিক হুজুরদের দোষ খুঁজতে থাকে। মাদ্রাসা মসজিদ সহ্য করতে পারে না।
মসজিদ মাদ্রাসা বা হুজুরদের নামে কিছু পাইলেই তারা বিরিয়ানি পেয়ে যায়। কোন তথ্য উপাত্ত ছাড়াই ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকেসহ সকল হুজুরদের তুলোধুনো করতে।
আর আমরা হুজুগে জাতির দলেরা তাদের মিথ্যা সংবাদগুলো বিশ্বাস করে নিজেরাও প্রচার করতে থাকি।
তাই সকলের প্রতি আহ্বান রইলো- সঠিক প্রমাণ ছাড়া শুধু মৌখিক দাবির উপর নির্ভরশীল হয়ে কারো জীবন নষ্ট করবেন না। আগে প্রমাণিত হোক, তারপর না হয় শাস্তি দিন।