22/08/2024
বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য আমাদের যেকোন ভাবেই হোক কোন না কোন সাহায্য করা উচিত। কী করা যেতে পারে ? আমাদের মনে রাখতে হবে এই উদ্ধার কাজে 'আবেগ' নিশ্চয়ই লাগবে তবে 'উদ্ধার কৌশল প্রশিক্ষণ' অনেক বেশি জরুরী। উদ্ধারের দুটো ভাগ। পানিবন্দী মানুষগুলোকে উদ্ধার করা এবং তারপর আশ্রয়কেন্দ্রে তাঁদেরকে খাদ্য ও অন্যান্য সাহায্য দেয়া।
১/ উত্তেজনাবশত বন্যা দুর্গত এলাকায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকদের নাম, ফোন নম্বর শেয়ার না করাই ভাল, সবাই এই নম্বরগুলোতে লাগাতার ফোন করতে থাকলে প্রায় কেউই কানেকশন পাবেন না, আর পেলেও সকলের সাথে কথা বলতে বলতে উদ্ধার কাজ করতে পারবেন না এবং তাঁদের ফোন এর চার্জ শেষ হয়ে যাবে। এই সময়ে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এই মাত্র পাওয়া খবর এই বলে (collected ) এমন সব সংবাদ কিংবা লিংক শেয়ার করবেন না তাতে হিতে বিপরীত হবে।
২/ যদি আমাদের দূর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য প্রশিক্ষণ থাকে তবে উদ্ধারকারী দল এর সাথে যোগ দিতে পারলে ভালো হবে । তাঁদের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করা যেতে পারে। কেননা দূর্যোগ এলাকা হয়তো আমাদের অধিকাংশরই পরিচিত না।
৩/ প্রশিক্ষিত না হলে কিংবা অপরিচিত জায়গায় উদ্ধারকারী যাঁরা শুধু আবেগ নিয়ে যাবেন তাঁরাই আবার অনেক বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে এবং এদের বাঁচাতে গিয়ে সমস্যা আরও বড় হবে। সাহায্য করার নামে আমি, আপনি অচেনা অজানা জায়গায় ঝাপিয়ে পড়লে উদ্ধারকারী দলের সমস্যা হতে পারে ।
৪ / আমার মনে হয় আমাদের আর্থিক সাহায্য নিয়ে প্রস্তুত থাকা উচিত। যেটা দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা যাবে। এবং দূর্যোগ পরবর্তী সময়ে পুনর্বাসনেও কাজে লাগবে।
৫/ সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশ কিংবা কোন স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন যাঁরা এলাকাগুলোগুলো চেনেন এবং উদ্ধার অভিযান চালাতে জানেন, উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন তাঁদের সাথে কথা বলে তাঁদের অর্থ কিংবা ভলান্টিয়ার লাগলে তাঁদের সেই সাহায্য করা যেতে পারে।
৬/ হেলিকপ্টার, নৌকা, স্পিড বোট এসব ভাড়ার জন্য খুঁজতে থাকলে সেটা অপ্রতুল হয়ে যাবে এবং যদি পেয়েও যান সেটা নিয়ে কোথায় যাবেন সেটা নিশ্চিত হবেন কী করে? চিন্তা করুন আমার বা আপনার মত লক্ষ মানুষ বাসে কিংবা নৌকা কিংবা সর্বোচ্চসংখ্যক হেলিকপ্টার নিয়ে সেখানে গেলে কী অবস্থা হবে?
৭/ আবারো অনুরোধ করছি 'আমার সাথে কে কে যাবেন', 'নৌকা পেয়ে গেছি', 'স্পিড বোট ভাড়া করেছি' ইত্যাদি লিখে মানুষজন নিয়ে সেখানে রওনা দেয়া অনুচিত হবে, প্রাণঘাতী হতে পারে আপনার কিংবা উদ্ধারকর্মীর।
৮/ আশা করছি প্রধান গণমাধ্যমগুলো সঠিক তথ্য সরবরাহ করবে। এতে করে মানুষজন প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারবে। ফেইসবুক এর খবরের উপর আস্থা রেখে দৌড়াবেন না প্লিজ।
৯/ অনাবশ্যক ফেসবুকে অতিরিক্ত ভয়াল সংবাদ, 'সংগৃহীত, 'এই মাত্র পাওয়া','আমার এক আত্মীয় লিখেছেন' এই সব না ছড়ানোই উচিত হবে । এতে করে মানুষের টেনশন বাড়তে পারে , বিবেকবান, স্পর্শকাতর মানুষ অসুস্থ বোধ করতে পারে ।
১১/ কোন পরিকল্পনা ছাড়া ফেইসবুক পরামর্শ অনুযায়ী পানি শোধন ট্যাবলেট, মিনারেল ওয়াটার, চিড়া মুড়ি গুড়, চাল-ডাল-লবন-তেল, আটা-ময়দা-সুজি , দিয়াশলাই এসব দল বেঁধে কেনা শুরু করলে আমাদের বাজারের অবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে যাবার সম্ভাবনা অবাক বেশি। এসব কেনার আগে জানায় এসব দিয়ে কী করেন, কোথায় পৌঁছাবেন, কিভাবে পৌঁছাবেন ইত্যাদি।
১২/ কোথাও টাকা পাঠানোর আগে দয়া করে খোঁজ নিন তারা কেমন করে কী করছে। বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের নাম দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তারা কোথাও বন্যা দূর্গতদের সাহায্য চাচ্ছে কী না সেটা দেখে টাকা পাঠালে ভালো হয়।
১৩/ আমাদের দায়ীত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা কী ডিরেকশান দেন, সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড এর উদ্ধার কর্মীগণ এবং সেখানকার স্থানীয় উদ্ধারকর্মীগণ কী সাহায্য চান সেটার অপেক্ষা করা ভাল হবে।
১৪/ বন্যাত্রাণে সকল অর্থ প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলেই জমা দেয়া উচিত হবে। সমন্বিত ত্রাণ কর্মসূচি অপচয় ও দুর্নীতি রোধ করবে।
নিশ্চয়ই মানুষের মিলিত চেষ্টায় এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এই দূর্যোগ থেকে আমাদের মুক্তি হবে। আমরা মানুষের জন্য।
[এই পরামর্শ গুলো পড়ার পর প্রথম কাজ আমাকে যাচ্ছেতাই গালি দিতে পারেন। কেননা এই লেখাটি পপুলার 'আমি যাচ্ছি, আপনিও আসুন এই ধারার বিপরীত ]