17/03/2026
... বা ট পা র মহিলাকে আমি যখন প্রথম কল দিয়ে বলি— আপনার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিবো! আপনি বিন্দুমাত্র চিন্তা নিয়েন না! তখন মহিলা এমনভাবে কথা বলতেছিলো যে, মনে হবে কিছুক্ষণের মধ্যেই উনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন! আমি বললাম, আপনার বোধহয় অনেক কষ্ট হচ্ছে! কষ্ট হলে থাক, আমি সরাসরি এসে আপনার সাথে বিস্তারিত শুনবো!
তারপর হুট করেই উনি কিছুটা সুস্থ্য হয়ে গেলেন! বলতেছে, না ভাইয়া থাক! কষ্ট করে আসবেন! ফোনেই কথা বলা যাবে!
— আপনার তো একটা কিডনি একেবারেই নষ্ট?
: জ্বি ভাইয়া!
— আরেকটা নষ্ট হবার পথে?
: জ্বি ভাইয়া!
— শেষবার কবে ডাক্তার দেখায়ছিলেন?
: ২০২৪ সালে!
— এখন চলে ২০২৬! এই ২ বছর আপনি বিনা চিকিৎসায় ছিলেন? আপনার সাময়িক ছবি দেখে তো আপনাকে অসুস্থ মনে হয় না!
: ভাইয়া, ছবি দেখে কী আর মনের অবস্থা বোঝা যায়?
— না, তা হয়তো যায় না! কিন্তু আন্দাজ করা যায় আপনি মারাত্মক ভাবে অসুস্থ না!
: না, ভাইয়া! আমি অনেক অসুস্থ!
— আপনি নাকি টিকটিক করেন?
: টিকটক কে করে না ভাইয়া? এটা কি অপরাধ?
উনারে বললাম, আপনার মেডিক্যাল পেপার্স দেন! আমি যাচাই-বাছাই করবো! তারপর আপনাকে সহায়তা করবো! উনি এবার কিছুটা উত্তেজিত হয়ে গেলেন! বলতেছেন, আমি আমার মেডিক্যাল পেপার্স আপনাকে দিবো ক্যান? আপনার দরকার পড়লে আমার সাথে দেখা করে দেখে যান!
তারপর বললাম, বাসার ঠিকানা দেন? উনি বলতেছেন, বাসার ঠিকানা আপনাকে দিবো ক্যান? আপনি মাদ্রাসার সামনে বা ওমুক স্কুলের সামনে এসে আমারে কল দেন! আমি আসবো!
প্রথমে দেখা করতে ইচ্ছুক ছিলেন না! কিন্তু পরে আবার দেখা করতে চায়ছেন! তবে বাসার ঠিকানা দেয়া যাবে না! মাদ্রাসা কিম্বা ওমুক স্কুলের সামনে এসে দেখা করতে হবে!
তারপর বললাম, এখন পর্যন্ত কতো ফান্ড আসছে? এবার তিনি পারেন নাই শুধু আমাকে গালাগাল দিতে! বলতেছেন, আপনে কে? আপনার পরিচয় কী? আপনার কাছে আমি হিসাব দিতে বাধ্য?
আমি শুধু বললাম, না, আপনি বাধ্য না! আমি শুধু জানতে চাইছি আপনার ছেলের জন্য কতো আসছে! আরো কতো পেলে আপনি সন্তুষ্ট? উনি বলতেছেন, যা পাবার পাইছি! ছেলের জন্য আর দরকার নাই! তারপর হুট করেই বলে বসলেন, এখন কি টাকাগুলো আপনাকে দিয়ে দিতে হবে?
মানে, কী অবস্থা! সে আমার থেকে অনলাইনে সহায়তা নিবে! কিন্তু অনলাইনে মেডিক্যাল পেপার্স দিবে না! সে বাসার ঠিকানা দিবে না! কিন্তু অমুক-তমুক জায়গায় দেখা করবে! এক সময় দেখা গেছে, উনি প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে আমার নম্বর ব্লক করে দিছে!
যা হোক, একেবারে শুরুতে আমার খটকা লাগছিলো চিঠিটা দেখে! মানে চিঠির আদানপ্রদানের ব্যাপারটা নিয়ে! মহিলা এমনভাবে ব্যাপার উপস্থাপন করছিলো যে, যে-কেউ ধরেই নিবে কারো না কারো মাধ্যমে হয়তো উনার ছেলে চিঠিটা পৌঁছে দিছে!
কিন্তু, না! চিঠি উনার ছেলে স্বয়ং উনার হাতেই দিছে! মানে মায়ের সাথে ছেলের দেখা হয়ছে! ছেলে মুখে কিছু বলতেছে না! বলতেছে চিঠির মাধ্যমে! কী হাস্যকর!
.. এসমস্ত টিকটকার আর ভাইরালের নেশায় মত্ত মহিলারা প্রতিনিয়ত মানুষের আবেগকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলে! এদের জন্যই প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষজন ঠিকঠাক সহায়তা পায় না! কিছুদিন আগে দেখলাম বরিশালের এক ভাইরাল ভিক্ষুক ছেলেরে! মানুষজন এখন ঐ পোলার সাথে সেলফি নিয়ে সহায়তা দেয়! চিন্তা করেন, আমরা কোন যুগে বসবাস করতেছি!