26/09/2014
স্যান্ডেল/writer:শাম্মী তুলতুল
রুমের বাইরে থেকে স্যান্ডেল উধাও। প্রতিদিনকার মতো ঝন্টুর ছোট চাচীর চিৎকার চ্যাচামেচি। সকাল বেলা ঘড়ির এলার্ম আর দরকার পড়েনা। চাচীর চিৎকারে সবার ঘুম ভাঙে।
ঝন্টুর দাদী খুবই বিরক্ত হন এতে। বৃদ্ধ মানুষ, অসুস্থ শরীর। আজো তিনি লাঠি হাতে তেড়ে উঠোনে আসলেন। যেখানে ঝন্টু বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল। দাদীকে দেখে ঝন্টু ভয় পেয়ে গেল।
বলল, দাদী কি হয়েছে?
দাদী বলল- ‘নিজেকে শুধরাবি নাকি তোর বাবাকে সব জানিয়ে ঘরের সবাইকে উদ্ধার করবো। নয়তো জেল স্কুলে পাঠিয়ে দিবো ।’
ঝন্টু মাথা চুলকায় আর ভাবে। কিন্তু কিছু বুঝতে না পেরে সে আবার খেলায় মনোযোগ দিলো। খেলা শেষ, দুপুর গড়াল। দুপুর বেলা ঝন্টু খেতে বসলো।
এমন সময় মা এসে বললেন, ‘এই শয়তান ভালো করে খেয়ে নে, আমাকে উদ্ধার কর। পারলে আমার মাথাটাও খা। জীবনটা পানসে করে দিলো। হতচ্ছাড়া, সারাদিন হৈ চৈ করে ঘুরে বেড়ানো আর ধেই ধেই করে নেচে মানুষকে ক্ষ্যাপানো।’ ঝন্টু আবার মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভাবল, কি ব্যাপার মায়ের মেজাজ আজ একেবারে আকাশে।
সন্ধ্যার সময় ঝন্টু পড়তে বসলো স্যারের কাছে। ‘তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে….’ পড়তে পড়তে এক সময় স্যার ঝন্টুকে বললেন- ‘একই রকম কষ্ট বার বার বাড়ির মানুষকে দিতে কি এমন মজা পাও শুনি? বাড়ির সবাই তোমার ওপর চটে আছে।’ ঝন্টু বলল, ‘কেন স্যার’?
স্যারের জবাব- ‘না জানার ভান করোনা । যাও কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকো কিছুক্ষণ।’
বোকা বোকা চেহারায় ফ্যাল ফ্যাল করে স্যারের দিকে তাকিয়ে রইলো ঝন্টু। মনে মনে ভাবলো, দোষ না করেও শাস্তি। ঝন্টু সারাদিন আর কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করলো না। মন খারাপ করে বারন্দায় বসে আকাশ দেখছিল আর ভাবছিল সারাদিনের যত কথা।
সারাদিন সবার কি হলো? ঝন্টু আবারও মাথা চুলকায় আর অংক কষে।
এমন সময় মন্টু এসে ঝন্টুকে দিলো একটা ধাক্কা। ‘কি ঝন্টু ভাইয়া সারাদিন সবার কেমন বকুনি খেলে’?
ঝন্টু বলল- মানে?
মন্টু বলল, ‘মানে হচ্ছে প্রতিদিন তুমি আমার স্যান্ডেল লুকিয়ে আমাকে কাঁদাও। আজ আমি লুকিয়ে তোমাকে সারাদিন বকুনি খাওয়ালাম। কেমন লাগলো ভাইয়া’?
ঝন্টু মাথায় হাত দিয়ে বলল, ‘আরে তুই এতো চালাক হলি কবে থেকে’? বাড়ির সবাই মন্টুর কাণ্ড শুনে হা……।