11/07/2022
বাবা ১৯৮৫ তে বুয়েটে চান্স পেয়েও ভর্তি হতে পারেনি, কিন্তু ছেলে এবার বুয়েটে || বাবার স্বপ্ন পূরন! ❤️
" আমার বাবা জনাব নুর উদ্দিন মোঃ জাহাঙ্গীর। আজ থেকে ৩৮ বছর আগে ১৯৮৪ সালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তারা ছিলেন ৫ ভাই, ৬ বোন। আর্থিক অবস্থাও খুব একটা সচ্ছল ছিলো না। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি,কৃষিকাজ ইত্যাদি করতেই হতো। মেট্রিক ও ইন্টারে গ্রাম থেকে একমাত্র স্টুডেন্ট হিসেবে ফার্স্ট ডিভিশন পেয়েছিলেন। বুয়েটে পড়ার স্বপ্ন ছিলো, তাই ইন্টার শেষে ঢাকায় এসে চাচার বাসায় থেকে বুয়েটের আ্যডমিশন পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে আবার গ্রামে ফিরে যান।
কিছুদিন পরে যখন বুয়েটের রেজাল্ট দেয়া হয়, তখন আব্বুর চাচা (যার বাসায় থেকে বাবা এক্সাম দিয়েছিলেন) আমার দাদাভাইকে একটা চিঠি পাঠান। চিঠিতে কি লেখা ছিলো এক্স্যাক্টলি জানি না,
তবে চিঠিটার সারাংশ ছিলো অনেকটা এইরকম- "ভাই, আপনার ছেলে বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে চান্স পেয়েছে, কিন্তু আপনাদের পরিবারের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে তাকে ঢাকায় রেখে বুয়েটে পড়ানো, পড়াশোনার খরচ দেয়া এবং একই সাথে আপনার পরিবার চালানো আপনার পক্ষে সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। তাই আমার মনে হয়, এই রেজাল্টের কথা তাকে না জানানোই ভালো হবে।"
সেটা দেখে আমার দাদাভাই আব্বুকে আর ওই চিঠি বা রেজাল্ট সম্পর্কে কিছু জানান নাই। সময়ের সাথে সাথে সবাই সব ভুলে গেলো, বাবাও রেজাল্টের কথা ভুলে গেলেন। অনেকদিন পরে বাবা দাদাভাইর ট্রাংকে ওই চিঠিটা খুঁজে পায়। কিন্তু ততদিনে বুয়েটে ভর্তি হওয়ার সময় পার হয়ে গিয়েছে। আর ফ্যামিলির কথা চিন্তা করে বাবার নিজেরও বুয়েটে পড়ার ইচ্ছা আর আগের মতো ছিলো না।
এরপর আরো অনেক অনেক বছর কেটে গিয়েছে। আমার দাদা এখন আর বেঁচে নেই (আল্লাহ উনাকে বেহেশত নসিব করুক)। আমার বাবা বর্তমানে নোয়াখালী জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ফ্যামিলির আর্থিক অবস্থার কারণে আমার বাবা বুয়েটে চান্স পেয়েও পড়ার সুযোগ পান নি, আজ উনার ছেলে হয়ে আমি বুয়েটে চান্স পেয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছি!
আমি মনে করি,শুধু মেধা বা পরিশ্রম থাকলেই হয় না,সাথে আল্লাহর রহমত থাকা লাগে। তাই আমি সবসময় আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ!"
সদ্য প্রকাশিত বুয়েট রেজাল্টে ১২২ তম হয়ে সিএসইতে চান্স পেয়েছে আহনাফ হাসান! ধন্যবাদ আহনাফ তোমার এই অসাধারণ গল্পটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য!
অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা নিও! ❤️