Muhammad Najmul Hasan

Muhammad Najmul Hasan সাংবাদিকতা, সাহিত্যচর্চা, সমাজকর্ম ছাড়াও মানবিক আইনজীবী হওয়ার পথে নিরন্তর ছুটে চলা...

সি এর সাধারণ থেকে অসাধারণ মানুষ হয়ে ওঠার কাহিনী!১৩ মে সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বেইজিং পৌঁছালেন, তখন...
19/05/2026

সি এর সাধারণ থেকে অসাধারণ মানুষ হয়ে ওঠার কাহিনী!

১৩ মে সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বেইজিং পৌঁছালেন, তখন গ্রেট হলের সামনে অপেক্ষা করছিলেন শান্ত, স্থির, আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। তিনি সি চিন পিং। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সর্বোচ্চ নেতা। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, দেশের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনীর প্রধান—একই সঙ্গে তিনটি পদের অধিকারী।

কিন্তু এ পরিচয়গুলোর আগে আরেকটি পরিচয় আছে, যেটি না জানলে সি চিন পিংকে বোঝা যায় না। তিনি এমন একজন, যাঁর বাবাকে দল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, পরিবার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আগুনে। সেসব পার হয়ে, একটি গুহাগ্রামে তিন বছর কাটিয়ে, চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ হয়ে উঠেছেন তিনি।

রাজকীয় শৈশব

১৯৫৩ সালের ১৫ জুন বেইজিংয়ে জন্ম হয় সি চিন পিংয়ের। বাবা সি চুং সুন ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম নায়ক, ঐতিহাসিক লংমার্চের (১৯৩৪-৩৫ সাল) যোদ্ধা এবং মাও সে-তুংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা। সি যখন জন্মালেন, বাবা তখন চীনের প্রচারমন্ত্রী, পরে উপ-প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পরিবারটি উঠে এল রাজধানী বেইজিংয়ের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক ও প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ঝংনানহাইয়ে—‘নিষিদ্ধ নগরের’ পাশে কমিউনিস্ট নেতাদের সুরক্ষিত বাসভূমিতে।

সির ছোটবেলা কেটেছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্যে। ঘরের বাইরে দেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে; ভেতরে তাঁদের জন্য বাবুর্চি, আয়া, গাড়িচালক, রাশিয়ার তৈরি গাড়ি, টেলিফোন আর বিশেষ খাবারের সরবরাহ। তবু বাবা চেষ্টা করতেন সন্তানদের বিলাসিতা থেকে দূরে রাখতে। এমনকি ছেলেকে বোনদের পুরোনো জামাকাপড় ও জুতা পরাতেন। তবে রং বদলে দিতেন, যেন দেখতে মেয়েদের মতো না লাগে।

পাঁচ বছর বয়সে সি ভর্তি হলেন বিখ্যাত আগস্ট ফার্স্ট স্কুলে; কমিউনিস্ট সামরিক বিজয়ের দিনটির নামে যার নাম। কিং রাজবংশের এক রাজকুমারের পুরোনো প্রাসাদে স্কুলটির অবস্থান। বেইজিংয়ের ‘নেতাদের দোলনা’ নামেও পরিচিত ছিল স্কুলটি। এখানে ছিল এক রাজকীয় পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা সবাই উঁচু কর্মকর্তাদের সন্তান। তারা একই আবাসনে থাকত, একই অবকাশকেন্দ্রে গ্রীষ্ম কাটাত এবং মনে করত, দেশ পরিচালনার অধিকার তাদের জন্মগত।

ভেঙে পড়ল সুরক্ষিত অবস্থা

১৯৬২ সাল। সির বাবা চুং সুনের বয়স তখন ৪৯। একটি উপন্যাসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে তাঁকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হলো। পাঠানো হলো কারাগারেও। পরিবারকে বের করে দেওয়া হলো ঝংনানহাই কমপ্লেক্স থেকে। ৯ বছরের সি চিন পিং হঠাৎ আবিষ্কার করলেন, পৃথিবীটা আর আগের মতো নেই।

এক বন্ধু পরে সিকে বলেছিলেন সেই সময়ের কথা, ‘তুমি এমন একটা পরিবেশে বড় হয়েছ, যেখানে সব কিছু দেওয়া হতো। হঠাৎ সব কেড়ে নিয়ে শীতের মধ্যে নগ্ন করে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হলো।’ যে ছেলেরা তাদের বাবাদের ক্ষমতার কারণে গর্বিত ছিল, পরে তারাই লাইব্রেরি থেকে লুকিয়ে বই চুরি করত, কারণ পড়ার বই ছাড়া সান্ত্বনা আর কীই–বা ছিল।

১৯৬৬ সাল। মাও সে–তুং সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘোষণা করলেন। এবার শুধু বাবা নয়, পুরো সি পরিবারকে শাস্তি দেওয়া হলো ‘বাবার পাপের’ জন্য। মা কি সিনকে পাঠানো হলো গ্রামের শ্রম শিবিরে। সির স্কুলে পড়া বন্ধ হয়ে গেল। রেড গার্ডরা (মাও সে-তুংয়ের আহ্বানে গড়ে ওঠা উগ্র তরুণ আধা সামরিক দল) তাঁদের বাড়িতে হানা দিল, লুটপাট করল।

সি চিন পিং ছিলেন রেড গার্ডের চোখে দ্বিতীয় শ্রেণির। না পারতেন রেড গার্ডে যোগ দিতে, না পারতেন নিরাপদে থাকতে। আর ঠিক সেই অস্থির সময় তাঁর সৎবোন হেপিং সামরিক একাডেমিতে আত্মহত্যা করলেন।

গুহায় ৩ বছর: ‘ভাঙা মানুষের’ নতুন জন্ম

১৯৬৯ সাল। ১৫ বছরের সি চিন পিং ১৪ জন কিশোরের সঙ্গে ট্রেনে উঠলেন। গন্তব্য শানসি প্রদেশের ইয়ানআন অঞ্চলের লিয়াংজিয়াহ গ্রাম। ট্রেনে সবাই কাঁদছিল। সি পরে বলেছিলেন, ‘সবাই কাঁদছিল, কিন্তু আমি হাসছিলাম। বেইজিংয়ে থাকলে বাঁচতাম কি না, জানতাম না।’ টানা তিন দিনের যাত্রা শেষে ট্রেন, ট্রাক ও হেঁটে পৌঁছালেন সেই গ্রামে। কিন্তু এ গ্রাম ছিল দারিদ্র্যে জর্জরিত।

গ্রামে ছিল হলুদ বর্ণের পাহাড় ও হলুদ মাটির মধ্যে ছোট এক জনবসতি। মানুষ থাকত পাহাড়ের গায়ে কাদামাটি দিয়ে দেয়াল তোলা গুহায়। ইট বিছানো কাং–এ (ইট ও মাটি দিয়ে তৈরি উঁচু মঞ্চ বিশেষ) ঘুম, রাতে খাবার হিসেবে মিলেট (জোয়ার জাতীয় শস্য) ও কাঁচা শস্যের জাউ, বালতিতে শৌচাগার। প্রথমেই সারা শরীর ছারপোকার কামড়ে ক্ষত হয়ে গেল সির। কিশোর সির চেয়ে বয়সে বড় একজন কৃষক শি ইউজিং (২৫) বলেছিলেন, ‘সে আমাদের মতোই কষ্ট পেয়েছে।’

শুরুতে ওই পরিবেশে সির মানিয়ে নেওয়াটা কঠিন ছিল। মাঠে কাজ করতে গিয়ে অন্যদের চেয়ে কম কাজ করতে পারলেন। কাজের ভার কমাতে ধূমপান শুরু করলেন। কারণ, সেখানে ধূমপায়ী ব্যক্তিকে কেউ বাধা দিতেন না। তিন মাস পর সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে বেইজিং চলে গেলেন। কিন্তু সেখানে গ্রেপ্তার হলেন। ছয় মাস শ্রম শিবিরে কাটালেন।

কিন্তু ফিরে এলেন সেই লিয়াংজিয়াহ গ্রামে। শানসি প্রদেশে মোট সাত বছর কাটান সি। এর মধ্যে তিন বছর ছিলেন এ গুহা গ্রামেই। ফিরে আসার পর ধীরে ধীরে গ্রামটির মানুষের সঙ্গে মিশে গেলেন। শতাধিক কেজি ওজনের গমের বস্তা কাঁধে নিয়ে পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হাঁটলেন। সেচের নালা খুঁড়লেন, বাঁধ তৈরি করলেন, রাস্তা মেরামত করলেন। আর রাতে কেরোসিনের আলোয় পড়তেন মোটা বই, মেষ চরাতে চরাতেও হাতে থাকত বই।

২০০১ সালে চীনের পত্রিকায় দেওয়া একটি বিরল সাক্ষাৎকারে সি বলেছিলেন, ‘আমি বেশির ভাগ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট সহ্য করেছি। পাথরে শাণ দিলে ছুরি ধারালো হয়। মানুষ পরিশুদ্ধ হয় কষ্টের মধ্য দিয়ে। পরে যখনই সমস্যায় পড়েছি, ভেবেছি সেই দিনগুলোর কথা। তারপর কোনো কিছুই কঠিন মনে হয়নি।’

১০ বারের চেষ্টা: পার্টিতে যোগ দেওয়ার অদম্য লড়াই

গুহায় বসবাসের মধ্যেই সি কমিউনিস্ট ইয়ুথ লিগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা শুরু করলেন। কিন্তু বারবার প্রত্যাখ্যাত হলেন। কারণ, একটাই—বাবার রাজনৈতিক পরিচয়। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের হিসাবে সাতবার, অন্য সূত্রে আটবার প্রত্যাখ্যানের পর অবশেষে লিগে সুযোগ পাওয়া গেল। এদিকে পার্টিতে (চীনা কমিউনিস্ট পার্টি/সিসিপি) যোগ দেওয়াও সহজ ছিল না। সেই চেষ্টায় প্রত্যাখ্যাত হন নয়বার; দশম চেষ্টায় ১৯৭৪ সালে পার্টির সদস্যপদ পান।

এরপর আর হাল ছাড়েননি। গ্রামে নেতৃত্বের গুণ প্রমাণ করতে শুরু করলেন। গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ হলে সির কাছে আসত মানুষ। এক বাসিন্দা লু নেংঝং নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে ঝামেলা হলে সি বলতেন, “দুদিন পরে এসো।” তত দিনে সমস্যা নিজেই মিটে যেত।’

১৯৭৫ সালে সি চিন পিং গ্রাম পার্টি শাখার সম্পাদক হলেন এবং বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেন।

সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় পড়ার পর সি বেছে নিলেন প্রদেশীয় রাজনীতি। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সি তাঁর বাবার অধীনে কাজ করা গেং বিয়াওয়ের সচিব হিসেবে কাজ করলেন। সিসিপির ওই সময়ের প্রভাবশালী নেতা গেং ছিলেন একই সঙ্গে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের মহাসচিব।

১৯৮২ সালে স্থানীয় পার্টি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করা সি পরের দুই দশক বিভিন্ন প্রদেশে দায়িত্ব পালন এবং বাবার মতোই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে নাম করলেন।

ফুজিয়ান, ঝেজিয়াং ও সাংহাইয়ে দায়িত্ব পালন করলেন পর্যায়ক্রমে। ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনঝু শহরের ব্যবসায়ীরা সিকে মনে রেখেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগের সমর্থক একজন পার্টির নেতা হিসেবে। ব্যবসায়ী ঝু দেওয়েন বলেছিলেন, ‘সি বেসরকারি ব্যবসার পক্ষে কথা বললেন, বললেন এটি অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ। তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবসা সমান সুযোগে প্রতিযোগিতা করতে পারে।’

২০০২ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণ সদস্য হলেন সি। এটিই ছিল জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ। এরপর ধাপে ধাপে দলের ভেতরে অবস্থান পাকা করলেন। ২০০৭ সালে পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জায়গা পেলেন; যা ছিল দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার বৃত্তে প্রবেশ। পাঁচ বছর পর, ২০১২ সালে নির্বাচিত হলেন ক্ষমতাসীন সিসিপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে—চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদের পদে, সঙ্গে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে।

পরের বছর, ২০১৩ সালের ১৪ মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সি চিন পিং। চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) ওই দিন তাঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনুমোদন দেয়।

বৈপরীত্যের মানুষ: সিকে বোঝা কঠিন কেন

বিবিসির একজন সাংবাদিক সি চিন পিংকে বর্ণনা করেছিলেন ‘সম্পূর্ণ বৈপরীত্যের মানুষ’ হিসেবে। তিনি একদিকে কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকার, অন্যদিকে সেই পার্টির শিকার। তিনি গ্রামের দরিদ্র মানুষের সঙ্গে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন, আবার তাঁর একমাত্র মেয়ে পড়েছেন হার্ভার্ডে—ভুয়া পরিচয়ে (নিজের পরিচয় লুকানোর স্বার্থে)।

সি চিন পিং বিদেশি সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হন, অথচ মার্কিন চলচ্চিত্র ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’, ‘দ্য ডিপার্টেড’, ‘দ্য গডফাদার’ পছন্দ করেন বলে জানা যায়।

একবার বিদেশ সফরে গিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছিলেন সি চিন পিং। বলেছিলেন, ‘পেটভর্তি খেয়ে যাদের আর কিছু করার নেই, তারা আঙুল তুলে আমাদের সমালোচনা করে। কিন্তু আমরা বিপ্লব রপ্তানি করি না, ক্ষুধা বা দারিদ্র্যও রপ্তানি করি না, তোমাদের জন্য ঝামেলাও তৈরি করি না। তাহলে আর কী চাও?’

সি চিন পিংয়ের রাজনৈতিক দর্শন বুঝতে হলে তাঁর বাবার কাছে ফিরতে হয়। সি চুং সুন ছিলেন এমন এক বিরল নেতা, যিনি মতাদর্শের চেয়ে বাস্তববাদকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে—উইঘুর থেকে তিব্বতি—মিলনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ১৯৭৬ সালে মাওয়ের মৃত্যুর পর পুনর্বাসিত হলেন এবং ১৯৮০-এর দশকে কমিউনিস্ট চীনে মুক্তবাজার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রবর্তক হলেন।

সিকে বাবা বলেছিলেন, ‘যা-ই হোক, পার্টির প্রতি বিশ্বস্ত থেকো।’ ছেলে সেই নির্দেশ মেনে চলেছেন। বাবার বাস্তববাদী, মধ্যপন্থী চিন্তা তিনি জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করেছেন। তৈরি করেছেন ‘সি চিন পিং চিন্তাধারা’। অনেকে মনে করেন, মাও চিন্তার সমতুল্য একটি রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গুহা এখন তীর্থস্থান, ইতিহাস হয়ে ওঠার রাজনীতি

লিয়াংজিয়াহ এখন আর শুধু একটি দরিদ্র গ্রাম নয়। এটি পরিণত হয়েছে চীনের অন্যতম জনপ্রিয় ‘দেশপ্রেমিক শিক্ষাকেন্দ্রে’। লাখ লাখ মানুষ তীর্থযাত্রীর মতো সেই গুহা দেখতে যান, যেখানে সি কাটিয়েছিলেন তিনটি বছর।

নিউইয়র্ক টাইমসের ক্রিস বাকলি লিখেছেন, ‘মাওয়ের জন্মস্থান শাওশান যেমন একসময় ‘‘লাল প্রহরী’’দের তীর্থ ছিল, লিয়াংজিয়াহ তেমনই হয়ে উঠেছে সি যুগের আইকনিক স্থান।’

পরিশেষে বলতে হয়, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ের গ্রেট হলে সি চিন পিংয়ের সামনে বসলেন, দুজনের মধ্যে কথা হলো ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি, বাণিজ্য, তাইওয়ান নিয়ে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় দুই পরাশক্তির দুই নেতা আলোচনার টেবিলে। কিন্তু একটু গভীরে গেলে দেখা যায়, একদিকে আছেন একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, যিনি ক্ষমতায় এসেছেন নির্বাচনে; অন্যদিকে একজন ক্যারিশম্যাটিক মানুষ, যাঁর রাজনৈতিক শিক্ষা হয়েছে কারাগারে, শ্রম শিবিরে ও হলদে পাহাড়ি গুহায়।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির চীন বিশেষজ্ঞ ফেং চংই বলেছেন, ‘সি চিন পিং দেখাতে চান যে তিনি শুধু পার্টির নেতা নন, তিনি চীনের জন্য একজন আধ্যাত্মিক দ্রষ্টা, একজন সাহসী ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।’ আর এ দৃষ্টিভঙ্গির শিকড় সেই গুহাতে।

যে পার্টি যে–ই বাবাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেই পার্টির সর্বোচ্চ নেতাই হলেন ছেলে। এটি শুধু ব্যক্তিগত বিজয়ের গল্প নয়, এটি এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির গল্প, যেখানে টিকে থাকাই সবচেয়ে বড় প্রতিভা। সি চিন পিং সেই প্রতিভার অন্যতম সেরা উদাহরণ। গুহা থেকে গ্রেট হল—এই দীর্ঘ যাত্রা এখনো শেষ হয়নি।

{তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস}

অ্যামেরিকার প্রতিনিধি দল চীন ছাড়ার আগে, মানে ঠিক প্লেনে উঠার আগে চীনের দেয়া উপহারগুলো রানওয়েতে থাকা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে ...
16/05/2026

অ্যামেরিকার প্রতিনিধি দল চীন ছাড়ার আগে, মানে ঠিক প্লেনে উঠার আগে চীনের দেয়া উপহারগুলো রানওয়েতে থাকা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে গেছে এবং এই কাজটা তাঁরা প্রকাশ্যেই করেছে। উপহারের মাঝে মূলত ছিল বিভিন্ন রকম চাইনিজ সুভ্যেনির (মানে স্মারক), এমনকি চকলেটও ছিল। কেন ফেলে দিয়েছে জানেন?

ওরা মনে করেছে এইসব উপহারের মাঝে চাইনিজরা ট্র্যাকিং ডিভাইস রেখে দিয়েছে হয়ত। চাইনিজ কতৃপক্ষ হয়ত গোপনে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং অন্যদের কথা বার্তা ট্র্যাক করতে পারে। যদিও অ্যামেরিকা বলছে- এটা একটা নিরাপত্তা প্রটোকল। কিন্তু হোয়াইট হাউজে চাকরি করে; এমন যারা ট্রাম্পের সাথে এই সফরে ছিল; তাঁরা বলেছে

- White House staff and members of the traveling press were instructed to discard Chinese-issued materials before boarding

অর্থাৎ হোয়াইট হাউসের কর্মীরা এবং সফরসঙ্গী সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের বিমানটিতে ওঠার আগে চীনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া সামগ্রীগুলো ফেলে দিতে আগে থেকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এবার চিন্তা করেন সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকানদের অবস্থা। এরা কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। এরা দিন-রাত বলে বেড়ায়

- আমাদের মত উন্নত প্রযুক্তি পৃথিবীর আর কারও নাই।

আবার ভয়ে চীনের দেয়া উপহার ফেলে দিয়ে যাচ্ছে! কেন বাপু, তোমাদের প্রযুক্তি যদি এতই উন্নত হয়; এই উপহারগুলো তো বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই ব্যাগে রাখা হয়েছিল। তোমরা নিজেদের প্রযুক্তি দিয়ে চেক করতে পারলা না- সেখানে কোন ট্র্যাকিং ডিভাইস আছে কিনা? এর মানে বুঝতে পারছেন তো?

অ্যামেরিকানরাও জানে - চীনের কাছে এমন প্রযুক্তি আছে; যেটা অ্যামেরিকার কাছে নাই। কিন্তু স্বীকার করে না। এখন দেখছি অ্যামেরিকান সংবাদ মাধ্যমগুলো বলেছে

- এটা আসলে চীনকে অপমান করার জন্য নয়; মূলত প্রটোকল মানার জন্যই করা হয়েছে।

এদিকে চীনের সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে

- তাহলে আগে থেকেই বললেই তো পারতো।

মানে অ্যামেরিকা কোন ভাবেই চীনকে আটকাতে পারছে এবং পারবে না। এটা অ্যামেরিকানরাও জানে। আমি আপনাদের একটা পরিসংখ্যান দেই। জটিল বিষয়। তবে সবাই যাতে বুঝতে পারেন; তাই সহজ করে বুঝিয়ে বলছি।

২০০১ সালে অ্যামেরিকার নমিনাল জিডিপি (মানে মোট দেশীয় উৎপাদন) ছিল

- প্রায় ১০.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আর চীনের কত ছিল জানেন?

- মাত্র ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থাৎ ২৫ বছর আগে চীনের দেশজ উৎপাদন অ্যামেরিকার ধারে কাছেও ছিল না। আর এখন, মানে ২০২৬ সালে এসে কত হয়েছে জানেন?

- প্রায় ৩২–৩৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আর চীনের কত জানেন?

- প্রায় ২১–২২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

চীন কিন্তু এখনও দেশজ উৎপাদনে অ্যামেরিকা থেকে কিছুটা পিছিয়ে আছে। কিন্তু কতটা এগিয়েছে বুঝতে পারছেন?

এই ২৫ বছরে চীনের জিডিপি বেড়েছে ১৬ থেকে ১৭ গুণ। আর অ্যামেরিকার বেড়েছে মাত্র ৩ গুণ। অর্থাৎ এভাবে যদি আগাতে থাকে; তাহলে আর মাত্র ৭/৮ বছরের মাঝে চীন অ্যামেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে। এটা তো বললাম দেশজ উৎপাদন (নমিনালের) ব্যাপার।

কিন্তু চীন এর মাঝেই ক্রয় ক্ষমতায় ( PPP) অ্যামেরিকাকে ছাড়িয়ে পৃথিবীর এক নাম্বার দেশ হয়ে গেছে। ২০২৬ সালে চীন আর অ্যামেরিকার ক্রয় ক্ষমতা কত জানেন?

চীনের হচ্ছে- প্রায় ৪৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলার

অ্যামেরিকার হচ্ছে- প্রায় ৩২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার

অর্থাৎ চীনের ক্রয় ক্ষমতা অ্যামেরিকার চাইতে এখন ৩৭ ভাগ বেশি। এই হচ্ছে বর্তমান অবস্থা। অথচ ট্রাম্প আর সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকার হাব-ভাব দেখলে মনে হয়- মাটিতে পা পড়ছে না।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করছে- ট্রাম্প নাকি ইরান আবার হামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গতকাল যেমনটা লিখেছিলাম- যে কোন সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার সময় সাম্রাজ্যবাদীরা এলোমেলো আচরণ করে। এই দেশ-ওই দেশ আক্রমণ করে বেড়ায়। দখল করার চেষ্টা করে।

ট্রাম্প আর অ্যামেরিকার অবস্থাও এখন ঠিক সেই রকম। চীনের কাছে পাত্তা না পেয়ে এখন কী করবে বুঝতে পারছে না। তবে এটা বলাই যায়- অ্যামেরিকার সাম্রাজ্য এখন পতনের পর্যায়ে আছে।

- It is no longer a question of whether it will happen. The only question now is when it will happen and how fast it will happen.

মানে বিষয়টা হচ্ছে- অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের পতন হবে কি হবে না; এটা এখন আর কোন প্রশ্ন না। এটাই হবেই এবং সেই পথেই ওরা আছে। প্রশ্নটা হচ্ছে- কখন এবং কত তাড়াতাড়ি হবে।

---Aminul Islam

জন্মদিনের পার্টিতে কয়েকজন বন্ধুকে দাওয়াত দিলেন, আর সেখানে হাজার হাজার অচেনা মানুষ হাজির হয়ে পুরো এলাকায় দাঙ্গা বাঁধিয়ে দ...
16/05/2026

জন্মদিনের পার্টিতে কয়েকজন বন্ধুকে দাওয়াত দিলেন, আর সেখানে হাজার হাজার অচেনা মানুষ হাজির হয়ে পুরো এলাকায় দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিল!

২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের ছোট্ট শহর হারেনে ঠিক এমন একটি ঘটনাই ঘটেছিল। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী ফেসবুকে তার জন্মদিনের ইভেন্টটি 'প্রাইভেট' করতে ভুলে যায়। ফলে এই সাধারণ একটি দাওয়াত ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভয়ে সেই কিশোরী নিজের বাড়ি ছেড়েই পালিয়ে যায়।

পার্টি বাতিল করে পুলিশ সবাইকে সেখানে যেতে নিষেধ করলেও, প্রায় ৩ হাজার উচ্ছৃঙ্খল যুবক হারেন শহরে জড়ো হয়। হলিউডের 'প্রজেক্ট এক্স' নামের একটি সিনেমার অনুকরণে অনেকেই বিশেষ টি-শার্ট পরে এই জমায়েতে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু উন্মত্ত জনতা পুলিশের ওপর বোতল, ফুলের টব, পাথর এবং এমনকি সাইকেল ছুঁড়ে মারতে শুরু করে, যার ফলে পুরো শহরে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এই দাঙ্গায় দোকানপাট লুটপাট করা হয়, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং রাস্তার সাইনপোস্ট ও ল্যাম্পপোস্ট ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হন এবং পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে এই ধ্বংসযজ্ঞের পর শহরটি পুনরায় পরিষ্কার করার জন্য ফেসবুকেই "প্রজেক্ট ক্লিন-এক্স হারেন" নামে নতুন আরেকটি পেজ খোলা হয়। খুব দ্রুতই সেখানে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ যুক্ত হয়ে শহরটি পরিষ্কারের এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে সমর্থন জানায়।

-- Khairul Alom Fardush

নক্ষত্রের বিদায়!শত বছরে মিরসরাইতে এমন মানুষ জন্মাবে বলে মনে হয়না।মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জান্নাত কামনা করি।
13/05/2026

নক্ষত্রের বিদায়!
শত বছরে মিরসরাইতে এমন মানুষ জন্মাবে বলে মনে হয়না।
মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জান্নাত কামনা করি।

সাধারণ একটা পেন্সিল দিয়ে আমাদের জীবনের পাঁচটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা- ১.ধারালো হতে হলে মাঝে মাঝে কষ্ট পেতে হয় নিজেকে কাটতে ...
13/05/2026

সাধারণ একটা পেন্সিল দিয়ে আমাদের জীবনের পাঁচটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা-

১.ধারালো হতে হলে মাঝে মাঝে কষ্ট পেতে হয় নিজেকে কাটতে হয়। মানুষকেও বড় হতে হলে স্ট্রাগল, ক্রিটিসিজম, রিজেকশন এসবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কষ্ট অনেক সময় শার্প করে।

২. পেন্সিলের সাথে eraser থাকে। জীবনে ভুল হওয়া খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু ভুল স্বীকার করে ঠিক করার ক্ষমতাই হলো আসল ম‍্যাটুইরিটি।

৩.পেন্সিলের মূল্য তার বাইরের কাঠে নয়, ভেতরের লেখার ক্ষমতায়। মানুষের ক্ষেত্রেও বাহ্যিক সাজ নয়, তার চরিত্র, জ্ঞান, ডিসিপ্লিন, আত্মবিশ্বাস, বিনয়ী আচরণ- এগুলোই আসল।

৪. পেন্সিল দিয়ে লিখতে হলে একটু pressure না দিলে দাগ পড়ে না। জীবনে প্রেশার, দায়িত্ব আর চ‍্যালেন্জ না থাকলে ভিতরের শক্তিটা বোঝা যায় না।

৫. পেন্সিল যত লিখে, তত ছোট হয় কিন্তু তার লেখা থেকে যায়। জীবনের আসল সাফল্য হলো নিজের সময়, জ্ঞান, ভালোবাসা দিয়ে অন্যের জীবনে পজিটিভ কিছু রেখে যাওয়া।

পেন্সিল ছোট জিনিস, কিন্তু তার থেকে শিক্ষাটা অনেক বড়।

©️Shafia Shama

মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভাগ্য যেন হঠাৎ করেই বদলে গিয়েছিল এক ব্রিটিশ তরুণের। পেশায় ছিলেন ময়লা সংগ্রহকারী। কিন্তু লটারিতে প্রায় ...
13/05/2026

মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভাগ্য যেন হঠাৎ করেই বদলে গিয়েছিল এক ব্রিটিশ তরুণের। পেশায় ছিলেন ময়লা সংগ্রহকারী। কিন্তু লটারিতে প্রায় ১ কোটি পাউন্ড জেতার পর রাতারাতি তিনি হয়ে ওঠেন আলোচিত কোটিপতি।

চারদিকে তখন বিলাসী জীবনের ঝলক। দামি গাড়ি, পার্টি, জুয়া আর মাদকের পেছনে অবাধে টাকা খরচ করতে শুরু করেন তিনি। অর্থ যেন তার কাছে হয়ে উঠেছিল হাতের ময়লা!

কিন্তু সেই স্বপ্নের জীবন বেশিদিন টেকেনি।

অতিরিক্ত খরচ, মাদকাসক্তি এবং লাগামহীন জীবনযাপনের কারণে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায় পুরো অর্থ। মাত্র ৮ বছরের মধ্যেই তিনি আবার ফিরে যান পুরনো জীবনে- ময়লা সংগ্রহের কাজেই!

একসময় যিনি কোটি টাকার মালিক ছিলেন, তাকেই আবার দেখা যায় সাধারণ শ্রমিকের পোশাকে রাস্তায় কাজ করতে।

এই ঘটনা পরবর্তীতে ব্রিটেনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই একে হঠাৎ পাওয়া সম্পদ সামলাতে না পারার করুণ উদাহরণ হিসেবে দেখেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন ভোগ-বিলাস সেই জীবনকেই খুব দ্রুত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

(১) কারিনা কায়সারের লিভার বিকল হওয়া নিয়ে এক ডাক্তার ছেলের ভিডিও দেখলাম। ছেলেটি বলছে, ❝হেপাটাইটিস A এবং E তো মানুষের পায়খ...
10/05/2026

(১) কারিনা কায়সারের লিভার বিকল হওয়া নিয়ে এক ডাক্তার ছেলের ভিডিও দেখলাম।

ছেলেটি বলছে, ❝হেপাটাইটিস A এবং E তো মানুষের পায়খানার জীবাণু। যা দূষিত খাবার বা দূষিত পানির মাধ্যমে শরীরে ঢুঁকে। কারিনা কায়সারের মতো এলিট শ্রেণীর মানুষের শরীরে সেই জীবাণু কীভাবে প্রবেশ করলো?❞

ঠিক ১ মাস আগে কারিনা কায়সারের ফুচকা স্ট্রিটফুড খাওয়ার ভিডিও জুড়ে দিয়ে ডাক্তার ছেলেটি বললো, ❝এই সমস্ত স্ট্রিটফুডের মাধ্যমেই হেপাটাইটিস A এবং E মতো প্রাণঘাতী লিভার বিকল হওয়া ভাইরাস প্রবেশ করে। এটিই হয়তো হয়েছে।❞

(২) ঢাকা শহরে প্রতিটি বাসার পানির লাইন মূলত ড্রেনের ভেতর দিয়ে লম্বা পাইপ দিয়ে আসে। আর এই ড্রেনে পুরো শহরের মানুষের পায়খানা বা মলমূত্রের জীবাণুর কিলবিল করে।

ড্রেনের জীবাণু পানির পাইপের ফুটো দিয়ে হোক বা যেকোনভাবেই...এই লাইনের পানি সরাসরি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টারিং করে খেতে হয়।

আমি যতজন ফুচকা/ভেলপুরি বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করেছি, মামা! টকের পানিটা কী ফুটানো। এদের জবাবটা কী ছিলো শুনেন -

❝আরেহ মামা! একদম পরিষ্কার লাইনের পানি। আমার পরিবারও খায়।❞

❝মামা। ফুটন্ত পানি দিয়ে যদি টক বানাই। তাহলে বেশীক্ষণ থাকে না। নষ্ট হয়ে যায়। সেজন্য কাঁচা পানি দিয়ে টক বানাই।❞

❝১০-১৫ টা পরিবার মিলে দুই চুলা ব্যবহার করি। পানি ফুটানোর টাইম কই?❞

❝মাসে কত গ্যালোন পানি লাগবো বুঝতাছেন? কয়টা সিলিন্ডার লাগবো?❞

(৩) তো এই হচ্ছে আমাদের শখের ফুচকাওয়ালা মামাদের কাছে নিজের এবং তাঁর কাস্টমারদের জীবনের মূল্য। পানি ফুটাবে। সেটা করার সময় তাদের নেই।

আমরা জানি এদের অধিকাংশই ঢাকা শহরে বস্তিতে বাস করে। একসাথে ২০-৩০ পরিবার। এদের স্যানিটেশন, পানি ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

টয়লেটের এক বদনা ব্যবহার করে শতাধিক মানুষ। এরা পায়খানা করেও সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া প্রয়োজন মনে করে না।

দুষিত হাত ও পানি দিয়ে ময়দা গুলিয়ে ফুকচা/ভেলপুরি বানায়। কাঁচা পানি দিয়ে বানায় টক।

প্রতিটি স্কুল কলেজের বাইরে ফুচকা-ভেলপুরি, শরবত ওয়ালাদের সরব উপস্থিতি। আর সেই খাবার আমরা, আমাদের সন্তানেরা মজা করে খাই।

বিদেশ থেকে কোন মেহমান এলেই আমরা ভ্লগারেরা ধরে নিয়ে যাই ভেলপুরি, ফুচকা টেস্ট করাতে। তাদেরকে বলি, এগুলোই বাংলাদেশের বেস্ট স্ট্রিট ফুড! প্যাথেটিক!

প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান একবার বুলগেরিয়া গিয়েছিলেন। উসমানীয়রা পাঁচশত বছর বুলগেরিয়া শাসন করেছে। কিন্তু বুলগেরিয়ানরা সেই ইতি...
07/05/2026

প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান একবার বুলগেরিয়া গিয়েছিলেন। উসমানীয়রা পাঁচশত বছর বুলগেরিয়া শাসন করেছে। কিন্তু বুলগেরিয়ানরা সেই ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়।

প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান বুলগেরিয়ায় গিয়ে বিভিন্ন আর্কাইভে অনুসন্ধান করে দেখেন দেশটির সাহিত্য-রচনা থেকে ঐ পাঁচশ' বছরের ইতিহাস গায়েব।

তিনি তখন গাইডকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের এই পাঁচশ' বছর কোথায় গেল?

জবাব আসল, 'পাঁচশ বছর আমরা সংহার করেছি।'

সৈয়দ আলী আহসান তখন বললেন, সে তো মারাত্মক কথা, কিন্তু আপনাদের খাদ্যে, স্বভাবে, আপনাদের ভাষায়-এসব কিছুতে তো উসমানীয় তুর্কিরা বিদ্যমান রয়েছে, সেটা আপনারা খেয়াল করেন না!'

জবাবে সেই বুলগেরিয়ান গাইড বললেন, 'কীরকম!'

প্রফেসর সাহেব তখন বলেন, 'আপনারা কাবাব বলেন, আপনারা হালুয়া বলেন, এগুলো তো তুর্কি শব্দ।'

এরপর প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান তার গাইডকে বলেন, তোমরা ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করেছ, কিন্তু তোমাদের ভাষায়, তোমাদের খাবারে, স্বভাবে ও তোমাদের আচরণে ওসমানীয় তুর্কিদের সাক্ষর এখনও বেঁচে আছে।

বুলগেরিয়ায় যে দোকানের সামনে সাইনবোর্ডে লেখা আছে 'হালুয়া'। ভিতরে গিয়ে দেখবেন সত্যিই তারা আশ্চর্য স্বাদের হালুয়া তৈরি করে। আবার অনেক হালুয়ার দোকানের পাশেই মসজিদ ও কবরস্তান। সেখানে বহু আল্লাহর অলির কবর রয়েছে।

সুতরাং ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না।

ভারতবর্ষে মুসলিমরা এসেছে। মুসলিমরা এ দেশ শাসন করেছে, এ ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।
ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তির উত্থান হওয়ায় তারা মুসলমানদের মুছে ফেলতে চায়।

তারা মুঘলদের মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু তাদের নেতা নরেন্দ্র মোদী স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ দেন মুঘল সম্রাট শাহজাহানের তৈরি লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে।

চাইলেই খাবারের টেবিল থেকে বিরিয়ানি, পোলাও, কাবাব, কোরমা কিংবা পেস্তা, কিসমিসের মতো জিনিসগুলো মুছে ফেলতে পারবে না।

ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে রঙ দেওয়া যায়, কিন্তু সমাজের ভেতরে গেঁথে থাকা কয়েক শতকের প্রভাব মুছে ফেলা বাস্তবে সম্ভব না।

Collected from ইতিহাসের পাঠশালা- Center of Historical Knowledge

🤔
05/05/2026

🤔

আহা ভালোবাসা —নি/হত কাস্টমস কর্মকর্তাকে শেষ বারের মতো আলিঙ্গনে রেখেছেন স্ত্রী উর্মী!সোর্স: রাকিব চৌধুরী (সাংবাদিক)
27/04/2026

আহা ভালোবাসা —
নি/হত কাস্টমস কর্মকর্তাকে শেষ বারের মতো আলিঙ্গনে রেখেছেন স্ত্রী উর্মী!

সোর্স: রাকিব চৌধুরী (সাংবাদিক)

Address

Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Muhammad Najmul Hasan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Muhammad Najmul Hasan:

Share

Category