বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৮৫ সালের ১০ই জানুয়ারি গঠিত হয়। দলটি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গোলাম আজমের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত গণআদালত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে গড়ে ওঠা ৯২'র আন্দোলন, জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন', ওসমানী উদ্যানের গাছ রক্ষা আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুননাহার হলে পুলিশী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্
দোলন, ফুলবাড়ির উন্মুক্ত কয়লা খনি বিরোধী আন্দোলন, টিপাইমুখ বাধ বিরোধী আন্দোলন, ওয়ান ইলেভেনের ২০-২২ আগষ্টের ছাত্র আন্দোলন, ২০১৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক সান্ধ্য কোর্স ও বর্ধিত বেতন-ফি বিরোধী আন্দোলন, কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের আন্দোলন, 'টিকফা' চুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্বমুলক ভুমিকা পালন করে।
জাতীয় পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা, সকলের জন্য ঘুষ তদবির ও দুর্নীতিমুক্ত চাকরির দাবি ও ফ্যাসিবাদের পতনের লক্ষ্যে দুর্বার ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক নিয়ে ২০২২ সালের ৩০ ও ৩১ মার্চ দুই দিনব্যাপী ত্রয়োদশ (১৩তম)কেন্দ্রীয় সম্মেলনে মশিউর রহমান খান রিচার্ড'কে সভাপতি ও সৈকত আরিফ'কে সাধারণ সম্পাদক করে ২৩সদস্য বিশিষ্ট বর্তমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি নির্বাচন করা হয়।
সংগঠনটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে 'শিক্ষা, সাম্য, সংগ্রাম, প্রগতি'। বাংলাদেশে মাতৃভাষায় এক ধারায় বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছে ছাত্র ফেডারেশন। ছাত্র ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দাবি-
ভয়মুক্ত নিরাপদ গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস চাই।
শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চাই।
মাতৃভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, মাদ্রাসা মাধ্যম নামক বিভিন্ন বৈষম্যমূলক ধারা অব্যাহত থাকায় সামাজিক বৈষম্য ও বিভাজন বাড়ছে। একঘেয়ে পাঠদান কেন্দ্রিক সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তন করে অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা এখন সময়ের দাবি। আমরা বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বহুদিন ধরেই মাতৃভাষায় একইধারার অংশগ্রহণমূলক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি করে আসছি।
ছাত্র-তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব হু হু করে বাড়ছে। অথচ এই বিশাল কর্মশক্তিকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজে লাগানোর নেই কোনো পরিকল্পনা ও উদ্যোগ। উপরন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল, চিনিকলসহ সরকারি কল-কারখানা বন্ধ করা হচ্ছে। দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা না করে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকদের ব্যাপকহারে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাই, শিক্ষা শেষে যোগ্যতানুসারে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
মৃত্যু ফাঁদ নয়, নিরাপদ সড়ক চাই। সড়কে সীমাহীন চাঁদাবাজি, দুর্নীতির কারণে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে সেটা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে প্রতিদিন মানুষ মরবে! প্রতিদিন তাজা রক্ত ঝরবে! প্রতিদিন স্বপ্ন হত্যা হতে থাকবে! লাশের মিছিল বেড়েই চলবে!
সুতরাং, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ৯ দফা বাস্তবায়নসহ টেকসই পরিকল্পনা করে সড়ককে গণবান্ধব ও নিরাপদ করতে হবে।
আমরা মনে করি, শাসকগোষ্ঠী আপনা থেকে কোনো গণতান্ত্রিক ও ছাত্রবান্ধব নীতি পদ্ধতি ব্যবস্থা চালু করবে না। ছাত্রসমাজের লড়াকু আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল যে কোনো দাবি ও অধিকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব, ইতিহাস আমাদের তাই শিক্ষা দেয়। সুতরাং, ছাত্রসমাজের প্রাণের দাবিগুলো কার্যকর করতে হলে অবশ্যই দেশপ্রেমিক বিপ্লবী ধারার ছাত্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর এজন্য বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন আপসহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী বন্ধুরা, ছাত্র ফেডারেশন এমন একটা পাঠশালা যেখানে আপনার চিন্তা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার বিকাশ সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি এই অচলাবস্থা ভাঙবেই। পরিবর্তন আসবেই।