26/04/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ২৪/০৪/২০২৬ শোকসভা সভা অনুষ্ঠিত
আজ ২৪/০৪/২০২৬ শুক্রবার বিকাল ৪ টায় খুলনা জেলার দৌলতপুর শহীদ মিনার চত্বরে সাম্রাজ্যবাদ সামান্তবাদ আমলা দালাল পুঁজি উচ্ছেদ করে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার নিরবিচ্ছিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের নিবেদিত প্রাণ,দৃঢ়, সাহসী , নীতিনিষ্ট,প্রখর ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী, বিজ্ঞানমনস্ক, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য আপসহীন কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) ' র শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।সভাপতিত্ব করেন শোকসভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট খুলনা জেলার সংগ্ৰামী সভাপতি এম এম আবুল হোসেন এবং পরিচালনা করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক নীরব সরকার। প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা চৌধুরী আশিকুল আলম, বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা প্রকাশ দত্ত।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শোকসভা আয়োজক কমিটির সদস্য ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস,সহ-সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী, খুলনা সদরের সভাপতি বাহারুল ইসলাম বাহার,বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি খুলনা জেলার সভাপতি গিয়াস উদ্দিন গিয়াস, সহ-সভাপতি বিমল কৃষ্ণ বৈরাগী, ওয়াহাব শেখ,সাধারণ সম্পাদক নিবিড় কান্তি বিশ্বাস মিঠু, যুগ্ম সম্পাদক মাস্টার সমির বাড়ই, আড়ংঘাটা থানা কমিটির সভাপতি দিবাকর মন্ডল,বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ খুলনা জেলার সভাপতি নাজিউর রহমান নজরুল, দিঘলিয়া উপজেলার সভাপতি শের আলী, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা জেলার সভাপতি মাস্টার হাসান মুন্সি, প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) 'র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী ও শোকসভা আয়োজক জাতীয় কমিটির সদস্য গরীবের ডাক্তার নামে খ্যাত গণমানুষের অভিজ্ঞ ডাক্তার খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ কেপি সরকার সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন ১৯৬৮-৬৯ গণ আন্দোলন ও গণ অভ্যুত্থানের আগে ভারতের নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রভাব পড়ে এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে।ফলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পড়াশোনা বাদ দিয়ে কমরেড আব্দুর রউফ যুক্ত হন কমিউনিস্ট আন্দোলনে।১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কমরেড আব্দুর রউফ মেরুদন্ডে গুলিবিদ্ধ হন।এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় প্যারালাইজড হয়ে স্ট্রেচারে করে পার্টি বাহিনীর সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে চলাচল করেন। পক্ষাঘাতগ্রস্ততার কাছে হার না মেনে এই বিপ্লবী নতুন উদ্যমে জীবন সংগ্রাম ও রাজনৈতিক সংগ্ৰাম করেছেন আমৃত্যু। তিনি চেয়েছিলেন শ্রেণিবিভক্ত সমাজ ভেঙে বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে।
সাম্রাজ্যবাদ এদেশে তার শোষণ-লুন্ঠন বজায় রাখার জন্য এবং শ্রমিক -কৃষক - জনগণ যাতে তাদের দুঃখ -দুর্দশা, সমস্যা -সংকটের মূল কারণ উপলব্ধি করে জেগে উঠে শ্রেণিসংগ্রাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক সংগ্ৰাম তথা বিদ্রোহ -বিপ্লবের পথে এগোতে না পারে সে জন্য সাম্রাজ্যবাদী দাসত্বমূলক পরনির্ভরশীল চিন্তা -চেতনা,উগ্ৰজাতীয়তাবাদ; ব্যক্তিচিন্তা-ব্যক্তিস্বার্থ, আমি -আমিত্ব, আত্মপ্রতিষ্ঠা; মাদকাসক্তি, যৌন উচ্ছৃঙ্খলতা, পর্নোগ্রাফি, সন্ত্রাস, নারীবাদ, ভোগসর্বস্বতা, অশ্লীলতা ইত্যাদির সাথে সাথে রাজনৈতিক লক্ষ্যে ধর্মের ব্যবহার, সাম্প্রদায়িকতা ও গোষ্ঠীবাদ,ভাববাদ, কুসংস্কার, অদৃষ্টবাদ ইত্যাদি পশ্চাৎপদ চিন্তা -ভাবনা, ধ্যান -ধারণা লালন করে চলেছে। সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালরা যুব সম্প্রদায়কে অবক্ষয়ের পথে ঠেলে দেওয়ার জন্য সামগ্ৰিক পরিকল্পনা কার্যকর করে চলেছে।যুব সম্প্রদায়ের অংশ হিসাবে ছাত্রসমাজ যাতে বিপ্লবী রাজনৈতিক সচেতনতা, দেশপ্রেম, প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী চিন্তা চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগ্ৰামে অবতীর্ণ হতে না পারে সে জন্য তাদের উপর প্রতিক্রিয়াশীল গণবিরোধী, বৈষম্যমূলক, অবৈজ্ঞানিক শিক্ষানীতি, বৃত্তি ও গবেষণার নামে মেধাপাচার ও আত্মপ্রতিষ্ঠার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।তাই বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব তথা বিশ্ব বিপ্লবের অংশ হিসেবে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে এদেশের সাম্রাজ্যবাদ সামান্তবাদ ও আমলা দালাল পুঁজিবিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করার লক্ষ্যে অগ্ৰসর হতে হবে। প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) 'র অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার দীপ্ত শপথ নিয়ে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে আজকের শোকসভা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।